সব প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। যিনি অন্য সব ধর্মের উপর ইসলামকে প্রাধান্য দিয়েছেন। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দরূদ ও সালাম, যাঁর উছীলায় ইসলাম পরিপূর্ণ হয়েছে।
কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “দ্বীনের উপর কোন জবরদস্তি নেই।” হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “তোমরা দ্বীন নিয়ে বাড়াবাড়ি করোনা। কেননা এটা অতীতের অনেক জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে।” ইসলাম এই আদর্শের লালন এবং বিকাশ সাধন করলেও তথাকথিত উন্নত বিশ্ব তথা পাশ্চাত্য বুদ্ধিজীবিরা সুযোগ পেলেই, মুসলিম জাতির প্রতি- জোর করে দ্বীনপ্রচারের অভিযোগ হানে, ভাবখানা এই যে, তদীয় ধর্ম প্রচার ওআগ্রাসনের ব্যাপারে তারা বড়ই নির্লিপ্ত, কিন্তু বর্তমান ঘটনা প্রবাহ এই দাবীর অসারতা প্রমাণ করেছে।
বলাবাহুল্য তথাকথিত উন্নত বিশ্ব দাবীদারদের মাঝে, মূখ্যত খ্রিস্টান এবং নেপথ্যে ইহুদী জাতির বাস। প্রসঙ্গতঃ ইহুদীদেরকে কুরআন শরীফ উনার ভাষায় মুসলমানদের প্রধান শত্রু বলে চিহ্নিত করা হলেও খ্রিস্টানরাও কম যায়না।
সম্প্রতি মার্কিন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও পেন্টাগনে বোমা হামলার প্রেক্ষিতে মার্কিনীরা প্রথমে শত্রু পক্ষ হিসাবে প্রচার করতে চেয়েছিলো গোটা মুসলিম বিশ্বকেই নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনের ঘটনার কয়েক ঘন্টার মধে সিয়াটলে ও কানাডায় মন্ট্রিয়েল মসজিদ অপবিত্র করা হয়। শিকাগোতে মুসলিম বিরোধী শোভাযাত্রা বের করা হয়। আমেরিকার বহু অঙ্গরাজ্যে মুসলমানদের জান-মালের উপর আঘাত হানা হয়। একই দৃশ্যের বড়ই উৎসাহী দেখা যায়। প্রথমে তিনি একে ক্রুসেড বলে ঘোষণা দেন। কিন্তু এই প্রচারণার ফলে গুরুতর সঙ্কট দেখা দিতে পারে তার ভয়ে সুর পাল্টাতে বাধ্য হন এবং তথাকথিত মুসলিম সন্ত্রাসবাদের সাথে দ্বীন ইসলাম ও শান্তি প্রিয় মুসলমানদের কোন সম্পর্ক নেই এ কথাও আপাতভাবে প্রচার করেন।
পাশাপাশি দেখানো হয় ব্রিটিশ প্রধান মন্ত্রী কুরআন শরীফ উনার একটি কপি সাথে রাখেন। ক্তিু তারপরেও রেশ থেকে যায়। মুসলিম হামলাকে শানিত করার জন্য বাইবেল থেকে সংগ্রহ করে এ অভিযানের নাম রাখা হয় ‘অপারেশন ইনফিনিট জাষ্টিস।’ বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনিই ইনফিনিট জাষ্টিস বা চুড়ান্ত ইনসাফ করতে পারেন। সমালোচনার তোপে অবশেষে বাদ্য হয়েই পরিবর্তন করে এ মিশনের নাম রাখা হয় অপারেশন “এনডিওরিং ফ্রিডম” বা “অটল মুক্তির অভিযান।”
বলাবাহুল্য প্রতিবাদের তোড়ে পরিবর্তন করলেও হামলার অজুহাত খোজার অব্যাহত প্রক্রিয়া মূলতঃ সা¤্রাজ্যবাদী আমেরিকার মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাব তথা খ্রীষ্ট ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা বা আগ্রাসনের চিত্রটিই প্রতিভাত করে। দ্বীন ইসলাম নিয়ে এই খ্রীষ্ট আমেরিকা যে কি নির্মম রসিকতা করতে পারে “অপারেশন ডেজার্ট ষ্ট্রম” নামে ইরাকের উপর আক্রমণ পক্রিয়া তার প্রমাণ। দেখা গেছে মার্কিন সৈন্যরা যুদ্ধবিমানে যে ক্ষেপনাস্ত্র বোঝাই করছে সেগুলোতে লেখা, “আহমেদকে বিদায় জানাও” “শুভ রমজান,” মহান আল্লাহ পাক উনাকে হাই বলো।” কিন্তু এরপরেও সা¤্রাজ্যবাদী আমেরিকার বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বে কার্যত প্রতিবাদের ঝড় উঠেনি।
বরং এটা এখন ওপেন সিক্রেট যে, বিশ্বের অধিকাংশ দেশে বিশেষতঃ মুসলিম বিশ্বের সরকার গঠন, পরিচালনা এবং পরিবর্তনে আমেরিকাই সব কলকাঠি নাড়ায়।
উল্লেখ গত ৫৬ বছর ধরে আমেরিকা ছলে বলে কৌশলে মুসলিম বিশ্বের উপর নানাভাবে নিপীড়ন চালাচ্ছে এবং অন্যায় আধিপত্য বিরাজ করে চলছে। ৫৪ বছর আগে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল প্রতিষ্ঠা করে ফিলিস্তিনীদেরকে তাদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে ৮৪০ কোটি ডলারের আর্থিক অনুদান ও ৩শ কোটি ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম প্রদান করে।
উল্লেখ করা যেতে পারে মার্কিন হামলায় প্রত্যক্ষভাবে লাভবান হয়েছে ইসরাইল। ইসরাইল এখন অধিকৃত আরব ভূখ-সমূহে ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের তীব্রতাকে শতগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন ইসরাইলে সেনাবাহিনী স্বায়ত্ত্বশাসিত ফিলিস্তিন এলাকাসমূহে উচ্ছেমত হামলা চালাচ্ছে। কিন্তু বিশ্ব তথা মিডিয়ার দৃষ্টি এখন সঙ্গতকারণেই অন্যদিকে অবস্থাদষ্টে মনে হয় এরকম একটা সুযোগই খুজছিল ইসরাইল তথা ইহুদী গং। যুক্তিসঙ্গত কারণেই তাই অভিজ্ঞমহল মনে করেন যে, মার্কিন হামলার পেছনে মুসলিম সস্ত্রাসবাদ দায়ী নয়, দায়ী ওই ইহুদী এবং তাদের নীলনকশা।
সূত্রে প্রকাশ, ইহুদীরা অনেক আগে থেকেই তৎপর রেখেছে, একশ বছর এবং দুশ বছর মেয়াদী, ইসলাম ও মুসলমান নিশ্চিহ্ন করণের প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কেবল কৌশলগত আক্রমনই নয় বরং ইহুদীরা ক্ষেত্র বিশেষে মাদরাসা তৈরি করে এবং বিশেষতঃ সিলসিলা বিশেষের মাদরাসার সিলেবাসে ওদের কুটকৌশলগত সিলেবাস তথা আক্বীদা ঢুকিয়ে, ফিৎনা তৈরি করে মুসলমানদের ছহীহ আক্বীদা, সুন্নতের আমল, রূহানী শক্তি তথা ঈমানী চেতনাকে বিভ্রান্ত করছে।
এ ধারাবাহিকতায় আমরা দেখছি আলিম নামধারীদেরও ছবি তুলতে লংমার্চ করতে, হরতাল করতে, মৌলবাদ দাবী করতে, ব্লাসফেমী আইন চাইতে, ইসলামের নার্মে গণতন্ত্র তথা নির্বাচন করতে।
দৃশ্যতঃ আজকে নামধারী আলিমদের নেতৃত্বে আমেরিকা বিরোধী আন্দোলনের আয়োজনে প্রচেষ্টা দেখা যায়। কিন্তু বস্তুতঃ তাদের এই আন্দোলন নিতান্তই নিস্ফলা। কারণ এটা কেবলই মৌসুমী, লোক দেখানো এবং ব্যার্থতার পরিক্রমা।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে হাবীব আপনি কখনও ইহুদী-নাছারাকে আপনার বন্ধুরূপে গ্রহণ করবেনা।” কিন্তু আমাদের ব্যবসায়ী আলিমদের দেখা যায় যে, তারা দৃশ্যতঃ ইহুদী খ্রিস্টান তথা ইসরাইল, আমেরিকা বিরোধী আস্ফালন করলেও কার্যতঃ তাদেরই আদর্শ তথা কর্মসূচী পালন করে। আর এ কারণেই মূলতঃ সমগ্র মুসলিম বিশ্বের উপর ইহুদী-খ্রিস্টানদের এত আধিপত্য ও আগ্রাসন। যে কারণে বলা হয়েছে, মুসলিম জাতি যখন কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ উনাদের থেকে দূরে সাে রযাবে তখনই মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের উপর বিদেশী শত্রু চাপিয়ে দেন। হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “আমি তোমাদের জন্য দুটো জিনিষ রেখে যাচ্ছি, কুরআন শরীফ, সুন্নাহ শরীফ উনাদের যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তা আকড়িয়ে ধরবে ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা কামিয়াব থাকবে। যখনই তোমরা তা থেকে বিচ্যুত হবে তখনই লাঞ্ছিত ও পদদলিত হবে।”
মূলতঃ এই হাদীছ শরীফ উনাদের আমলের জন্য চাই রূহানী কুয়ত। আর যামানার মুজাদ্দিদের ছোহবতের মধ্যেই সে কুয়ত প্রাপ্ত ও কামিয়াবী সম্ভব। (আমীন)