মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রতি যুগে যুগে হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে প্রেরণ করেছেন মানব জাতিসহ কুল কায়িনাতবাসীকে সম্মানিত হিদায়েত ও নছীহত মুবারক দানের লক্ষ্যে। উনারা প্রতি যুগে যুগে মাখলুকাতকে সার্বিক দিক দিয়ে সম্মানিত হিদায়েত ও নছীহত মুবারক দান করেছেন। বিশেষ করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাক্বীক্বী শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক এবং উনার সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক যথাযথভাবে প্রকাশ করেছেন এবং উম্মাহকে শিক্ষা মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পর অসংখ্য অগণিত সম্মানিত হাদী বা হিদায়েত দানকারী উনাদেরকে যমীনে প্রেরণ করেছেন যাতে করে উনারাও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাক্বীক্বী শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক এবং উনার সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক যথাযথভাবে প্রচার প্রসার করতে পারেন এবং মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অর্থাৎ পরিপূর্ণরূপে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে পূনরুজ্জীবিত করেন। সুবহানাল্লাহ!
সেই হাদী বা হিদায়েতদানকারী উনাদের মধ্যে যারা বিশেষ ব্যক্তিত্ব এবং মূল উনাদেরকে বলা হয় মহাসম্মানিত মুজাদ্দিদ। উনাদের সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করা হয়েছে-
إنَّ اللَّهَ يَبْعَثُ لِهذِه الْأمَّةِ عَلى رَأْسِ كُلِّ مِائَةِ سَنَةٍ مَنْ يُجَدِّدُ لَهَا دِيْنَهَا
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনি সৃষ্টিকুলের মাঝে প্রতি হিজরী শতাব্দির শুরুতে এমন একজন বিশেষ ব্যক্তিত্ব উনাকে প্রেরণ করেন যিনি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার তাজদীদ বা সংস্কার করে থাকেন। (পবিত্র আবূ দাউদ শরীফ)
অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে প্রতি হিজরী শতাব্দিতে একজন করে মহান ব্যক্তিত্ব উনার আগমন ঘটে যিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রেখে যাওয়া সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে তাজদীদ বা সংস্কার করেন। আর যিনি এই সম্মানিত তাজদীদ বা সংস্কার করেন উনাকে বলা হয় মুজাদ্দিদ।
এ যাবৎ অনেক মুজাদ্দিদ উনারা অতিবাহিত হয়েছেন। কিন্তু আফসুস ও পরিতাপের বিষয় হলো মুসলিম উম্মাহ উনাদের সঠিক কদর করতে সক্ষম হয়নি। উনাদের সুনির্দিষ্ট তালিকা সংরক্ষণ করতে পারেনি। যদিও বা কেউ কেউ মুজাদ্দিদ উনাদের তালিকা প্রকাশ করেছেন কিন্তু তা ছহীহ নয়। কেননা, দেখা যায়, যারা তালিকা প্রকাশ করেছেন তারা নিজেদের সিলসিলা অনুযায়ী কিংবা নিজেদের মত অনুযায়ী তা প্রকাশ করেছেন। আসলে কোন কোন ব্যক্তিত্ব মুজাদ্দিদ হিসেবে দুনিয়ার জমীনে তাশরীফ এনেছেন উনাদের মূল তালিকা বের করা খুবই দুঃস্কর।
এমনি যুগসন্ধিক্ষণে যিনি সমস্ত মুজাদ্দিদগণ উনাদের সাইয়্যিদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ মুবারক এনে মুজাদ্দিদগণ উনাদের ছহীহ তালিকাটি প্রকাশ করে কুল কায়িনাতবাসীকে জানিয়ে দিয়েছেন। নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো-
প্রথম শতাব্দি: প্রথম হিজরী শতাব্দি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের যামানা। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বর্ণনা অনুযায়ী নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানা অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের যামানার পর থেকে মুজাদ্দিদ আগমনের ধারা শুরু হয়েছে। তাই দ্বিতীয় শতাব্দি হচ্ছে মুজাদ্দিদ আগমনের যামানা বা যুগ।
দ্বিতীয় শতাব্দির মুজাদ্দিদ: মুজাদ্দিদে যামান সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি।
বিলাদত শরীফ: পবিত্র ৪ঠা শা’বান শরীফ, ৮০ হিজরী।
বিছাল শরীফ: পবিত্র ১লা শা’বান শরীফ, ১৫০ হিজরী।
তৃতীয় শতাব্দির মুজাদ্দিদ: মুজাদ্দিদে যামান হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমাতুল্লাহি আলাইহি।
বিলাদত শরীফ: ২০শে রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৬৪ হিজরী
বিছাল শরীফ: ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ, জুমু’আহ শরীফ, ২৪১ হিজরী
চতুর্থ শতাব্দির মুজাদ্দিদ: মুজাদ্দিদে যামান হযরত আবুল মানছূর মাতুরিদী রহমতুল্লাহি আলাইহি ।
বিলাদত শরীফ: ২৭০ হিজরী
বিছাল শরীফ: ৩৩৩ হিজরী
পঞ্চম শতাব্দির মুজাদ্দিদ: মুজাদ্দিদে যামান হযরত ইমাম আবূ হামীদ মুহম্মদ গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
বিলাদত শরীফ: পবিত্র ২৪শে শাওওয়াল শরীফ, ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার), ৪৫০ হিজরী
বিছাল শরীফ: পবিত্র ১৪ই জুমাদাল উখরা শরীফ, ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার), ৫০৫ হিজরী
ষষ্ঠ শতাব্দির মুজাদ্দিদ: মুজাদ্দিদে যামান ইমাম গাউছূল আ’যম হযরত মুহিউদ্দীন আব্দুল ক্বাদীর জিলানী বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি।
বিলাদত শরীফ: পবিত্র ১লা রমাদ্বান শরীফ, ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার), ৪৭১ হিজরী।
বিছাল শরীফ: পবিত্র ১১ই রবীউছ ছানী শরীফ, ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার), ৫৬১ হিজরী।
সপ্তম শতাব্দির মুজাদ্দিদ: মুজাদ্দিদে যামান ইমাম সুলত্বানুল হিন্দ গরীবে নেওয়াজ হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী আযমেরী সান্জেরী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
বিলাদত শরীফ: পবিত্র ১৪ই রজবুল হারাম শরীফ, ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার), ৫৩৬ হিজরী।
বিছাল শরীফ: পবিত্র ৬ই রজবুল হারাম শরীফ, ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার), ৬৩৩ হিজরী
অষ্টম শতাব্দির মুজাদ্দিদ: মুজাদ্দিদে যামান ইমাম মাহবূবে ইলাহী হযরত খাজা নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি।
বিলাদত শরীফ: পবিত্র ২৭শে ছফর শরীফ, ইয়াওমুস সাবত (শনিবার), ৬৩৬ হিজরী
বিছাল শরীফ: পবিত্র ১৮ই রবীউছ ছানী শরীফ, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার), ৭২৫ হিজরী
নবম শতাব্দির মুজাদ্দিদ: মুজাদ্দিদে যামান হযরত ইমাম খাজা বাহাউদ্দীন নকশ্বন্দ বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
বিলাদত শরীফ: পবিত্র ১৪ই মুহররমুল হারাম শরীফ, ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফ (শুক্রবার), ৭১৮ হিজরী
বিছাল শরীফ: পবিত্র ৩রা রবীউল আউওয়াল শরীফ, লাইলাতুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার), ৮০৮ হিজরী
দশম শতাব্দির মুজাদ্দিদ: মুজাদ্দিদে যামান হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
বিলাদত শরীফ: পবিত্র ১লা রজবুল হারাম শরীফ, ইয়াওমুল আহাদ (রবিবার), ৮৪৯ হিজরী
বিছাল শরীফ: পবিত্র ১৯শে জুমাদাল ঊলা শরীফ, ইয়াওমুল জুমু’আহ শরীফ (শুক্রবার), ৯১১ হিজরী
একাদশ শতাব্দির মুজাদ্দিদ: মুজাদ্দিদে যামান ইমামে রব্বানী মাহবুবে সুবহানী হযরত আহমদ ফারূক্বী সিরহিন্দি মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি
বিলাদত শরীফ: পবিত্র ১৪ই শাওওয়াল শরীফ, লাইলাতুস সাবত (শনিবার), ৯৭১ হিজরী
বিছাল শরীফ: পবিত্র ২৮শে ছফর শরীফ, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার), ১০৩৪ হিজরী
দ্বাদশ শতাব্দির মুজাদ্দিদ: মুজাদ্দিদে যামান হযরত ইমাম শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি
বিলাদত শরীফ: পবিত্র ১৪ই শাওওয়াল শরীফ, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার), ১১১৪ হিজরী
বিছাল শরীফ: পবিত্র ২৯শে মুহররমুল হারাম শরীফ, ১১৭৬ হিজরী
ত্রয়োদশ শতাব্দির মুজাদ্দিদ: মুজাদ্দিদে যামান হযরত ইমাম সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি
বিলাদত শরীফ: পবিত্র ৬ই ছফর শরীফ, ইছনাইনিল আযীম শরীফ, ১২০১ হিজরী
বিছাল শরীফ: পবিত্র ২৪শে যিলক্বদ শরীফ, ইয়াওমুল জুমু’আহ শরীফ, ১২৪৬ হিজরী
চতুর্দশ শতাব্দির মুজাদ্দিদ: মুজাদ্দিদে যামান হযরত ইমাম আবূ বকর ছিদ্দীক্বী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি
বিলাদত শরীফ: পবিত্র ২৮শে রবীউল আউওয়াল শরীফ, ইয়াওমুস সাবত, ১২৬৩ হিজরী
বিছাল শরীফ: পবিত্র ২৫শে মুহররমুল হারাম শরীফ, ইয়াওমুল জুমু’আহ শরীফ, ১৩৫৮ হিজরী
পঞ্চদশ শতাব্দির সম্মানিত মুজাদ্দিদ
খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুল খূলাফা, আবুল খুলাফা, আস্ সাফ্ফাহ, সাইয়্যিদুনা ইমাম সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম। আল-হাসানী, ওয়াল হুসাইনী, ওয়াল কুরাইশী, আল ক্বাদিরী, ওয়াল চিশতী, ওয়ান নাক্বশবন্দী, ওয়াল মুজাদ্দিদী, ওয়াল মুহম্মদী, ওয়াল উম্মিইয়্যী। রাজারবাগ শরীফ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
মহাসম্মানিত বিলাদত শরীফ: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ, সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ ইয়াওমুল জুমু’আহ শরীফ।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
مَنْ مَاتَ ولَمْ يَعْرِفْ اِمَامَ زَمَانِه مَاتَ مَيْتَةَ الْجَاهِلِيَّة
অর্থ: যে ব্যক্তি যামানার ইমাম উনাকে না চিনে মারা গেলো সে আইয়্যামে জাহিলিয়াতের ন্যয় মৃত্যু বরণ করলো। নাউযুবিল্লাহ! (পবিত্র মুসলিম শরীফ)
তাই সকলের জন্য ফরয হলো যামানার ইমাম অর্থাৎ মুজাদ্দিদ উনাদেরকে চিনা এবং উনাদের হাতে বাইয়াত হয়ে হাক্বীক্বীভাবে ইতায়াত ও আনুগত্য করা।
সুতরাং সে ধারাবাহিকতার ভিত্তিতে সকলের জন্য ফরয-ওয়াজিব হলো বর্তমান যামানার যিনি মূল লক্ষ্যস্থল, সম্মানিত মুজাদ্দিদ, যিনি সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নূরানী নূরুদ দারাজাত মুবারক এসে বাইয়াত গ্রহণ করে উনার হাক্বীক্বী মুহব্বত-মা’রিফাত, নিছবত ও কুরবত মুবারক হাছিল করা। অন্যথায় হালাকী ছাড়া কোন উপায় নেই।
পরিশেষে মহান আল্লাহ পাক উনার পাক দরবার শরীফে এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের পাক দরবার শরীফে ফরিয়াদ উনারা যেন আমাদের ও সকল মুসলিম উম্মাহকে হাক্বীক্বীভাবে বর্তমান যামানার মহান মুজাদ্দিদ, যিনি সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম রাজারাবাগ শরীফ, ঢাকা উনাকে চিনার-জানার এবং উনার শান-মান মুবারক ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কায়িনাত মাঝে প্রচার-প্রসার করার তৌফিক দান করেন। আমীন!
-মুহম্মদ হুসাইন নাফে’