গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার চারিত্রিক গুণাবলীর কয়েকটি দিক
সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদে যামান, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে, পিতা-মাতা, পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততি, পৃথিবীর সবার চেয়ে সর্বাপেক্ষা বেশি মুহব্বত করতেন। এমনকি নিজের জানের চেয়েও বেশী মুহব্বত করতেন। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার পূর্ণ পাবন্দ ছিলেন তিনি। পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার খিলাফ কোন কাজ বা আমল করতেন না। খাওয়া-দাওয়া, চলা-ফেরা, লেন-দেন, কথা-বার্তা, ইবাদত-বন্দেগী, যিকির-ফিকির, মুরাকাবা-মুশাহাদার প্রতিটি ক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিপূর্ণ ইতায়াতকারী ছিলেন।
পাশাপাশি স্বীয় শায়েখ হযরত খাজা উছমান হারূনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে প্রাণাধিক মুহব্বত করতেন। শায়েখ উনার আদেশ-নির্দেশ মুবারক পরিপূর্ণরুপে পালনে সদা সর্বদা তৎপর ছিলেন। শায়েখের কোন বিষয়ে কখনো চু-চেরা ক্বীল-ক্বাল করেননি। এমনকি অন্তরেও তা উদয় হয়নি। সুবহানাল্লাহ!
সর্বদা সম্মানিত শায়েখ উনার খিদমতের আঞ্জাম দিতেন। শায়েখের খিদমতকে সবকিছুর উপর প্রাধান্য দিতেন। তিনি উনার শায়েখের প্রতি যে আদব-প্রদর্শন করেছেন তা ইতিহাসখ্যাত বা মাশহূর। তা মা’রিফাত-মুহব্বত তালাশী সকল সালিক বা মুরীদের জন্য অনুসরণীয়-অনুকরণীয়রূপে ক্বিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
উনার চারিত্রিক গুণাবলী দেখে উনার সম্মানিত শায়েখ হযরত খাজা উছমানী হারূনী রহমতুল্লাহি আলাইহি অভিভূত হতেন। তাই উনাকে অত্যধিক মুহব্বত করতেন। উনাকে বেশীক্ষণ না দেখলে থাকতে পারতেন না। তিনি প্রায়ই অন্যদেরকে বলতেন, “আমার মুঈনুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মাহবূব।” আমি উনাকে আমার মুরীদগণের মধ্যে পেয়ে গর্বিত। সুবহানাল্লাহ! (খাজা গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পূর্ণাঙ্গ জীবনী-২৫৪)
সুলত্বানুল হিন্দ, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সালাম আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রগামী ছিলেন। সবাইকে আগে সালাম দিতেন। বড়দেরকে সম্মান করতেন, ছোটদেরকে ¯েœহ করা ছিল উনার বিশেষ গুণ। সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলতেন। উনার পবিত্র ছোহবত মুবারকে আসলে সকলেই দুঃখ কষ্ট ভুলে যেতেন। গরীব ও অভাবগ্রস্থদেরকে বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগিতা করতেন। দানশীলতা ছিলো উনার অন্যতম বিশেষ গুণ। শায়খুল মাশায়িখ হযরত কুতুবুদ্দীন বখতিয়ার কাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি সুদীর্ঘকাল উনার পবিত্র ছোহবত মুবারকে ছিলাম। আমি কখনো দেখিনি যে, কেউ উনার দরবার শরীফ থেকে খালি হাতে ফিরে গেছে। সবাইকে তিনি মুক্ত হস্তে দান করতেন। (ছালিকুছ ছালিকীন-২/২১৩)
ক্ষুধার্তকে খাদ্য খাওয়াতেন। বিধবাদের খোঁজ খবর নিতেন। অসহায়দেরকে সহায়তা করতেন। অত্যাচারিত ব্যক্তিদেরকে অত্যাচারের কবল হতে মুক্ত করতেন। সবসময় নিজের উপর অন্যকে প্রাধান্য দিতেন। রিয়াদ্বত-মাশাক্কাতে তিনি ছিলেন এক অনন্য ও অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। তিনি নফ্সকে এমনভাবে পরাজিত করেছিলেন যে, কোন দিন উনার নফস মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারেনি। তিনি সবসময় অজুসহ থাকতেন। তবে পবিত্র সুন্নতের দিকে খেয়াল করে কখনো কখনো কিছুক্ষণের জন্য অজুবিহীন থাকতেন।
তিনি দীর্ঘদিন পবিত্র ইশার অযু দ্বারা ফজরের নামায আদায় করেছেন। তিনি সামা শরীফ তথা হামদ, না’ত ও কাছীদা শরীফ শুনতে পছন্দ করতেন। তার কারণে প্রায় সময়ই সামা শরীফের মাহফিলের আয়োজন করতেন। সুবহানাল্লাহ! (হযরত খাজা গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পূর্ণাঙ্গ জীবনী-২৫৪)