হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২৬৩) বিশুদ্ধ নিয়ত এবং তার ফযীলত ও গুরুত্ব (৭)

সংখ্যা: ৩০৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

নিয়তের দুটি দিক। (১) বিশুদ্ধ নিয়ত: মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার সম্মানিত হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রেযামন্দি সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল। (২) অশুদ্ধ নিয়ত: দুনিয়াবী নাম-ধাম, যশ-খ্যাতি, প্রভাব-প্রতিপত্তি হাছিল। যে ব্যক্তি যা হাছিলের নিয়ত করতঃ কোশেশ (চেষ্টা) করবে সে ব্যক্তি সেটাই হাছিল করতে পারবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদেরকে সেটাই দান করবেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

مَنْ كَانَ يُرِيْدُ حَرْثَ الْاٰخِرَةِ نَزِدْ لَهٗ فِي حَرْثِهٖ ۖ وَمَنْ كَانَ يُرِيْدُ حَرْثَ الدُّنْـيَا نُؤْتِهٖ مِنْـهَا وَمَا لَهٗ فِي الْاٰخِرَةِ مِنْ نَّصِيْبٍ

অর্থ: যে ব্যক্তি আখিরাতে ফসল তথা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক হাছিলের নিয়ত করে আমি তার জন্য সেই ফসল তথা নিয়ামত বৃদ্ধি করে দেই। আর যে ব্যক্তি দুনিয়াবী ফসল তথা সম্পদ-সম্মান হাছিলের ইরাদা বা নিয়ত করে আমি দুনিয়াবী ফসল তথা সম্পদ-সম্মান থেকে কিছুটা দিয়ে থাকি। আর আখিরাতে তার কোন অংশ থাকে না। নাউযুবিল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা শূরা শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২০)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,“প্রত্যেক ব্যক্তিই যা নিয়ত করে সেটাই পায়।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)

নিয়তবিহীন আমল বা কাজ করা পশুত্ব স্বভাব। পশুরা নিয়ত ছাড়া কাজ করে থাকে। কিছু মানুষ আছে যারা নিয়ত বা উদ্দেশ্যবিহীন কাজ করে ইহকাল ও পরকাল উভয়কালে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অথচ এরূপ নিয়ত বা উদ্দেশ্যবিহীন কাজের কারণেও পরকালে তারা মুয়াখাজা বা পাকড়াও হবে। সেজন্য তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-“মহাবিচারের দিন মানুষকে তার দুনিয়াবী জিন্দেগীর প্রত্যেকটি কাজের জন্য জিজ্ঞাসা করা হবে। এমনকি চোখে কেন সুরমা দিয়েছে? একটি মাটির ঢেলা হাতে নিয়ে কেন নাড়াচাড়া করেছে, অপর ভাইয়ের কাপড়ে কেন হাত লাগিয়েছে ইত্যাদি সামান্য সামান্য ব্যাপার সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করা হবে।”

বিশুদ্ধ নিয়ত দ্বারা মুবাহ কাজের যেমন অনেক নেকী ও কল্যাণ, মর্যাদা লাভ করা যায়। তেমনি বদ নিয়তের কারণে মুবাহ কাজ করলেও অনেক কঠিন গোনাহে গোনাহগার হতে হয়।

উল্লেখ্য যে, যে কাজ করার জন্য সম্মানিত শরীয়তে কোন নির্দেশ করা হয়নি, আবার নিষেধও করা হয়নি, এমন কার্যই মুবাহ। এমন কার্য নিয়ত বা উদ্দেশ্যভেদে পাপ ও পূণ্য হয়ে থাকে। যেমন- সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নত কাজ। পবিত্র জুমুয়ার দিন সুগন্ধি ব্যবহার করে কেউ নিজের ধন-সম্পদের ফখর করতে পারে। নিজের শারীরিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিলাসিতার বাহার দেখাতে পারে। অথবা আরো খারাপ মতলব তথা সৌখিনতা ও রসিকতা প্রদর্শন কিংবা পর নারী আকৃষ্টতার মত জঘন্যতম ইচ্ছা পোষণ করতে পারে। তখন সেই কাজটি গোনাহের কারণ হয়ে দাঁড়ালো।

পক্ষান্তরে সেই সুগন্ধি ব্যবহারে নিয়ত যদি ছহীহ বা বিশুদ্ধ হয়, অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার সম্মানিত হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি রেযামন্দির উদ্দেশ্যে হয়। পবিত্র জুমুয়ার দিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সুগন্ধি বা আতর ব্যবহার করেছেন। তিনি পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা পছন্দ করেন। তাই সুগন্ধি ব্যবহার করে তখন তা নেকীর কারণ হবে।

বিশুদ্ধ বা খালিছ নিয়তে যত কাজই করার নিয়ত করবেন তত কাজেরই নেকী লাভ করবেন। যদি কেউ মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার সম্মানিত হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি রেযামন্দি হাছিলের জন্য এক খণ্ড জমি দান করত পবিত্র মসজিদ, পবিত্র মাদরাসা, ইয়াতীমখানা, পবিত্র সুন্নত প্রচার কেন্দ্র ইত্যাদি প্রতিষ্ঠার নিয়ত করে তাহলে সে সবগুলোই প্রতিষ্ঠার ছাওয়াব লাভ করবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তার উপর সন্তুষ্ট হবেন। সুবহানাল্লাহ!

 

 

ফিক্বহুল হাদীস ওয়াল আছার পীর সাহেব ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (৩৩)

ফিক্বহুল হাদীস ওয়াল আছার পীর সাহেব ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (৩৪)

ফিক্বহুল হাদীস ওয়াল আছার পীর ছাহেব ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (৩৫)

ফিক্বহুল হাদীস ওয়াল আছার পীর ছাহেব ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (৩৬)

ফিক্বহুল হাদীস ওয়াল আছার পীর ছাহেব ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (৩৭)