অপরাধের মাত্রা বাড়ার সাথে সাথে পাল্টাচ্ছে কিশোর অপরাধের ধরণ। মূল্যবোধের অবক্ষয় ও আকাশ সংস্কৃতিই মুখ্য কারণ।সরকারের উচিত- দেশের এই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে যুগপৎ উদ্যোগ গ্রহণ করা।

সংখ্যা: ২৮০তম সংখ্যা | বিভাগ:

রাজধানীসহ দেশের শহরাঞ্চলে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে কিশোর অপরাধীরা। গড়ে তোলা হয়েছে এলাকাভিত্তিক কিশোর গ্যাং। স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরোনোর আগেই কিশোরদের একটা অংশের বেপরোয়া আচরণ এখন পাড়া-মহল্লায় আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদক সেবন, মেয়েদের উত্ত্যক্ত, খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ও দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ প্রায় সব ধরনের অপরাধেই জড়িয়ে পড়ছে তারা। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকায় র‌্যাবের কঠোর অভিযানে দুই শতাধিক কিশোর অপরাধীকে আটক হওয়ার পর কয়েক মাস নিষ্ক্রিয় ছিল কিশোর গ্যাংগুলোর সদস্যরা। পরবর্তীতে তারা আবার বেপরোয়া হয়ে ওঠে নানা অপরাধে জড়াচ্ছে তারা। সিনিয়র-জুনিয়রের মতো তুচ্ছ কারণে বিভিন্ন জায়গায় ঘটছে খুনোখুনি। এলাকার এক শ্রেণির রাজনৈতিক বড় ভাইরা কিশোর অপরাধীদের আর্থিকসহ নানাভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সূত্র জানায়, রাজধানীতেই ৬২টি কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব পেয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে ৪০টির বেশি গ্রুপ এ মুহূর্তে সক্রিয় আছে। প্রতিটি গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ১০ থেকে ১৫ জন। এদের বয়স ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। উত্তরা, ধানমন্ডি, তেজগাঁও, কাফরুল, মোহাম্মদপুর, তুরাগ, নিউমার্কেট ও গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেশি। সারা দেশে কিশোর গ্যাংয়ের সংখ্যা সহস্রাধিক।

উল্লেখ্য, গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে রাজধানী ঢাকায় মোট কিশোর অপরাধের মামলা ছিল তিন হাজার ৫০১টি। ২০০১ থেকে পরবর্তী ১০ বছরে একই ধরনের মামলা চার হাজার ৮৮২টি। আর গত ১০ বছরে মামলার সংখ্যা ব্যাপক বেড়ে গেছে। যার সঠিক কোনো সংখ্যা জানা যায়নি। পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে গড়ে প্রতি বছর ২০০০ শিশু-কিশোরকে নানা অপরাধে আটক করা হয়।

বস্তুত, দেশের সিলেবাসে পবিত্র দ্বীন ইসলাম বর্জন করে নাস্তিক্যবাদ প্রবেশ করানো, শিথিল পারিবারিক বন্ধন, সন্তানের প্রতি বাবা-মার কর্তব্য এবং দায়িত্বে অবহেলা, সরকারিভাবে সম্মানিত ইসলামী মূল্যবোধকে উপেক্ষা করা, সামাজিক অবক্ষয়, স্বল্প বয়সে স্মার্টফোনসহ উন্নত প্রযুক্তি উপকরণের নাগাল পাওয়া, সঙ্গদোষ ইত্যাদি কারণে কিশোর অপরাধী বাড়ছে। এছাড়া কিশোরদের হাতে পর্যাপ্ত টাকা দেয়া, কোনো ধরনের অনুশাসন না করেই সব আবদার পূরণ করা এবং সন্তান কী করছে সে বিষয় পর্যবেক্ষণ না করায় অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। সেইসাথে এক গবেষণায় জানা গেছে, কয়েকটি কারণে কিশোররা বিপথে চলে যাচ্ছে। যার মধ্যে- এক. সিলেবাসে সম্মানিত ইসলামী শিক্ষা না থাকা, দুই. সরকারিভাবে সম্মানিত ইসলামী মূল্যবোধকে উপেক্ষা করা, তিন. পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয়। চার. আকাশ সংস্কৃতি। এবং পাঁচ. মিডিয়ায় দেখানো নৃসংশতা।

বর্তমানে কিশোর সমাজের একটি বড় অংশ কাল্পনিক ভিডিও গেমসের অতিভক্তে পরিণত হয়েছে। ভিডিও গেমে গ্রুপ বানিয়ে মারামারি করছে। হার-জিত নিয়ে উত্তেজিত হচ্ছে। ঘরের মধ্যে বসে বা দোকানে গিয়ে ভিডিও গেম খেলছে। কম্পিউটার বা নোটবুক নিয়ে সারাদিন ইন্টারনেটে ঘাটাঘাটি করছে। ফলে তাদের মধ্যে সহনশীলতা একেবারেই কমে যাচ্ছে। অল্প বয়সেই তারা হিং¯্র হয়ে উঠছে। কোনো ধরনের বিরোধিতাই তারা সহ্য করতে পারে না। নানা নামে তারা গ্যাং পার্টি তৈরি করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করছে। একই এলাকায় বিভিন্ন গ্যাং পার্টির মধ্যে প্রায়ই ঘটছে সংঘর্ষ ও খুনোখুনি। গ্যাং পার্টির অনেক সদস্য মাদক সেবন, ব্যবসা, ছিনতাই ও বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালাচ্ছে। এতে সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। রাজধানীকেন্দ্রিক শহুরে জীবনে কৈশোর ও তারুণ্যে ভয়ঙ্কর কালো ছাপ ফেলছে গ্যাং পার্টি।

অন্যদিকে বাংলাদেশে ভারতীয়সহ পশ্চিমা বিভিন্ন টিভি সিরিয়াল বাংলায় অথবা হিন্দিতে ডাবিং হয়ে প্রবেশ করেছে। সেসব সিরিয়ালে হিংস্রতা, সন্ত্রাসবাদ ও আধিপত্যবাদকে ব্যাপকভাবে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। মানুষকে তুচ্ছ কারণে হত্যা করা সেসব সিরিয়ালে স্বাভাবিকভাবে দেখানো হয়েছে। আর বর্তমান সমাজের কিশোরদের স্বভাবই হচ্ছে অপরকে অনুসরণ করা। বিদেশী ডাবিংকৃত সিরিয়ালগুলোকে দেখে কিশোররা এক ধরনের এ্যাডভেঞ্চার অনুভব করে। আর বর্তমান যুগে ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ার কারণে দেশের ৭৭% স্কুলপড়ুয়া শিশু-কিশোর নিজেদের বা বন্ধুদের মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাদের জন্য ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ দৃশ্য দেখে সময় নষ্ট করছে। বিশৃঙ্খল নাস্তিক্যবাদী শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত অপব্যবহার তাদের বিভ্রান্ত করছে।

বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে অশ্লীল হারাম সিনেমা, বিজ্ঞাপন চিত্র, ফ্যাশন শো’র নামে টেলিভিশনে প্রদর্শিত অশ্লীল অনুষ্ঠানমালা আবেগপ্রবণ কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে প্রবল উত্তেজনা ও মানসিক চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে বিপথগামী করে তুলছে।

প্রযুক্তির বিকাশ সুনামির আকারে আছড়ে পড়ছে। এই প্লাবনের অগ্রভাগে রয়েছে অশ্লীলতার ডাস্টবিন। এই জোয়ারের ময়লা লেপ্টে যাচ্ছে আমাদের দেশের কিশোর সমাজের মধ্যে। একশ্রেণীর বিকৃত মানসিকতার লোক পশ্চিমা টিভি সিরিয়াগুলো এদেশে আমদানি করছে। কিন্তু রাষ্ট্র এগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো রাষ্ট্র অনুকূল্য প্রদান করছে।

চীনে কিশোর অপরাধীর সংখ্যা খুবই কম। কারণ তারা প্রাধান্য দিচ্ছে শিশুর মধ্যে নৈতিকতাবোধ সৃষ্টিতে। পর্যবেক্ষকমহল মনে করেন, যতদিন পর্যন্ত আমাদের দেশে কিশোর প্রজন্মের মধ্যে সম্মানিত ইসলামী মূল্যবোধ সম্পর্কিত সত্যিকার শিক্ষা এবং নীতি-নৈতিকতার প্রসার ঘটানো যাবে না, ততদিন পর্যন্ত দেশে কিশোর অপরাধী তৈরি হতেই থাকবে। আর নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধ তৈরির ক্ষেত্রে যুগান্তকারী এবং একমাত্র পথ হলো পবিত্র দ্বীন ইসলাম। কারণ বর্তমান নিয়ন্ত্রণহীন সমাজ থেকে কোনোভাবেই নৈতিকতাপূর্ণ সঠিক চরিত্র গঠন সম্ভব নয়। আজকের বাংলাদেশের তরুণ ও কিশোর সমাজ পবিত্র দ্বীন ইসলাম থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। আর এর পেছনে অর্ধেক দায়ী তার পরিবার। আর পুরো দায়ী সরকার। এসব কিশোররা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবার কোনোদিক থেকে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার আদর্শ শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে না। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার ইতিহাসে কিশোর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের আদর্শ মুবারক আজকের কিশোর সমাজের জানা নেই, অনুসরণ নেই। ফলে দিকবিভ্রান্ত হচ্ছে তারা।

তাই সরকারের উচিত, দেশে কিশোর সন্ত্রাস নির্মূল করতে এবং দেশের কিশোরদের একটি সুস্থ ও নৈতিকতাসম্পন্ন প্রজন্ম হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ পারিবারিক এবং রাষ্ট্রায় পর্যায়ে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার আদর্শ ও নীতি-নৈতিকতার প্রচার ও প্রসার ঘটানো। অন্যদিকে দেশ থেকে ভারতীয়সহ পশ্চিমা সিরিয়ালগুলোসহ হিংস্রতা, সন্ত্রাসবাদ ও আধিপত্যবাদমূলক অপসংস্কৃতি এদেশ থেকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূলের জন্য আইন প্রণয়ন করা।

-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান, ঢাকা।

 

মুজাদ্দিদে আ’যম, ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মহাসম্মানিত হযরত মুরশিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত- সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আইনী কার্যক্রম ঐতিহাসিক এক অভূতপূর্ব আজিমুশ্বান তাজদীদ মুবারক (৪)

এনজিওগুলোর ক্ষুদ্রঋণের ফাঁদে প্রান্তিক ও গ্রামীণ এলাকার কোটি কোটি মানুষ সর্বস্বান্ত। ঋণের কিস্তির চাপে একের পর এক ঘটছে আত্মহত্যার ঘটনা। ‘ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র বিমোচন নয়, বরং দারিদ্রতা লালন করছে।’ এনজিগুলোর বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ চায় দেশের ৩০ কোটি মানুষ।

অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় খেলাপি ঋণ এখন ৩ লাখ কোটি টাকা। ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো তাদের দেয়া হচ্ছে সুযোগ সুবিধা। ব্যাংকের টাকা জনগণের টাকা। দেশের মালিক জনগণ। সরকার জনগণের টাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারেনা।

৭ বছরেও হয়নি পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নীতিমালা। প্রতিনিয়ত ঘটছে সন্তান কর্তৃক অসহায় পিতা-মাতাকে নির্যাতনের ঘটনা। দেশে বাড়ছে পশ্চিমা ‘ওল্ডহোম’ সংস্কৃতি।শুধু নীতিমালা বাস্তবায়নেই নয় বরং দ্বীন ইসলাম উনার আদর্শ প্রচার-প্রসারেই রয়েছে এর সুষ্ঠ সমাধান।

বছরের পর বছর ধরে ভারতীয় পঁচা-গলা গোশত ঢুকছে দেশের বাজারে। মহাক্ষতিগ্রস্ত দেশের গোশত ব্যবসায়ীরা; পাশাপাশি চরম হুমকিতে দেশের জনস্বাস্থ্য। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের নীরব দর্শকের ভূমিকা সমালোচক মহলের কাছে মীর জাফরের অবস্থানের মতই প্রতিভাত হচ্ছে।