আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবার কীভাবে হয়- কওমী, খারিজীদের এ জিহালতি প্রশ্নের উত্তর কুরআন-সুন্নাহর অকাট্য দলীল ছাড়াও বাংলা সাহিত্য এবং শাসক ইতিহাসেও অজস্র। বাদশাহ আলমগীর এক্ষেত্রে অগ্রগণ্য

সংখ্যা: ১৯৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, ক্বাইয়্যুমুয যামান, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, সুলতানুল ওয়ায়িজীন, গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, হাবীবুল্লাহ, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার অকল্পনীয় ও অবিশ্বাস্য বিরোধিতা করতে গিয়ে খারিজী-জামাতী-ওহাবীরা শুধু উনার লক্ববসমূহের নামেই অপপ্রচার করে নাই, মিথ্যা প্রপাগান্ডা করে নাই; এমনকি তিনি যে যামানার লক্ষ্যস্থল আওলাদে রসূল তার বিরোধিতা করতে গিয়ে তারা এমনও বলেছে যে, পৃথিবীতে কোনো আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নেই। আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিল না। নাঊযুবিল্লাহ!

অথচ কুরআন-সুন্নাহর দলীল ছাড়াও, ইমাম, মুজতাহিদ, আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ইতিহাস তথা ইসলামের ইতিহাস ছাড়াও কী সাহিত্য অথবা কী দেশ শাসনের ইতিহাস- তা থেকেও অনেক অনেক প্রমাণ পাওয়া যায় যে, যুগে যুগে আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন এবং উনারা শুধু সমাজেই শ্রদ্ধা ও উঁচু আসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন না। খোদ প্রতাপশালী রাজা-বাদশাহরাও উনাদেরকে গভীর সম্মান জানিয়ে নিজেদের সম্মানিত বোধ করতেন।

বাংলা সাহিত্যের সপ্তদশ শতকের মুসলিম কবি আলাওল লিখেছেন, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বংশধর আওলাদে রসূল তথা সৈয়দগণ ছিলেন সমাজের লোকদের মধ্যে নেতৃস্থানীয়। (আলাওল- সপ্তপয়কর)

সেকালের সামাজিক জীবনের আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মর্যাদা সম্পর্কে লোকের ধারণা আলাওলের লেখায় প্রকাশ পেয়েছে। এতে দেখা যায় যে, আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা লোক চোখে উচ্চ সামাজিক মর্যাদায় সমাসীন ছিলেন এবং উনার সমাজের নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন। এই অভিমতের সমর্থন অন্যান্য কবিদের বর্ণনায় পাওয়া যায়। এমনকি সম-সাময়িক হিন্দু কবি-সাহিত্যেকরাও

অকুণ্ঠচিত্তে তা স্বীকার করেছেন।

শিকারী রাজা কালকেতু কর্তৃক নির্মিত গুজরাট নগরে বসতি স্থাপনকারী মুসলমানদের কথা বলতে গিয়ে মুকুন্দরাম আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কথা প্রথম উল্লেখ করেছেন, পরে উলামায়ে কিরাম ও কাজিদের বর্ণনা দিয়েছেন। (মুকুন্দরাম- চ-ীকাব্য)

ঐতিহাসিক ড. এম. এ রহিম তার ‘বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস’ গ্রন্থে লিখেছেন, মুসলিম শাসকগণ সৈয়দ বা আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের উচ্চ মর্যাদা দান করেছেন এবং সম্মানস্বরূপ সৈয়দ বা আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে ভূমি ও বৃত্তি মঞ্জুর করেছেন।

এক্ষেত্রে বাদশাহ আলমগীর অগ্রগণ্য ছিলেন। উদাহরণস্বরূপ কয়েকটি দৃষ্টান্তের উল্লেখ করা যেতে পারে।

একবার শাহজাদা আযম জনৈক মনসবদার সৈয়দ লালের বিরুদ্ধে ধর্মবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ আনেন এবং সম্রাট আলমগীরের নিকট প্রার্থনা জানান যে, সেই মনসবদারের জায়গির বাতিল করে তাকে প্রদান করা হোক।

এর উত্তরে সম্রাট লেখেন ‘অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ করার এটা খুবই হাস্যকর ও অভিনব পন্থা যে, যে দায়িত্ব মুহতাসিবের (নৈতিক বিষয়ের প্রধান কর্মচারী) তা তুমি অধিকার করেছ। তিন পুরুষব্যাপী জায়গির ভোগ দখলকারীর জায়গির কেঁড়ে নেওয়া দূরের কথা, এক পুরুষ ব্যাপী ভোগ দখলকারীর জায়গির পরিবর্তন করাও অসম্ভব। কেবলমাত্র অন্য একজনের কথায় কারো জায়গির পরিবর্তিত হয় না। আমার ভৃত্য অনুচর বিধায়, এই সন্তান ও সৈয়দ লাল সমপর্যায়ের; বরং পরবর্তী জন আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হওয়ার জন্য হাজার গুণ উপরে।’ সৈয়দ লালের ধর্মবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধান করার জন্যে সম্রাট ‘মুহতাসিব’কে লিখতে সদর-ই-সুদূরকে নির্দেশ দেন।

সম্রাট আলমগীরের রাজত্বকালে আব্দুল্লাহ খান ও হোসেন আলী ভ্রাতৃদ্বয় মারাঠাদের বিতাড়িত করে সাম্রাজের প্রতি তাঁদের বিশিষ্ট সেবার পরিচয় দেন। অতঃপর জুলফিকার খান তাদের পদোন্নতির সুপারিশ করেন। এর উত্তরে সম্রাট যা লেখেন তা থেকে নবীদের নবী, রসূলদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বংশধর আওলাদে রসূল তথা সৈয়দগণের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধার প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি লেখেন, কল্যাণের উৎসস্থল ‘আওলাদে রসূল’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এটা এজন্য যে, আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামগণ উনারা বংশগতভাবে কল্যাণের মালিক, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সম্পর্কযুক্ত। তাই সমগ্র সমাজের জীবনব্যাপী তাদের প্রচেষ্টা চালানো উচিত। তিনি সম্মানসূচক পোশাক-পরিচ্ছদ ও অন্যান্য উপহার সামগ্রী দিয়ে সৈয়দ ভ্রাতৃদ্বয়কে ভূষিত করার নির্দেশ দান করেন। সম্রাট জুলফিকার খানকে লেখেন, ‘নবীদের নবী, রসূলদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বংশধর আওলাদে রসূল তথা সৈয়দগণের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন আমাদের ধর্মের একটি অঙ্গ। শুধু তাই নয়, এবং বংশের প্রতি শত্রুতার ভাব পোষণ করা নরকে প্রবেশের সামিল এবং এতে আল্লাহর গজব ডেকে আনা হয়। (আহকাম-ই-আলমগিরী)

মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান, ঢাকা।

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৬৭

ভ্রান্ত ওহাবী মতবাদ প্রচারের নেপথ্যে-১৬

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-৩৫

বাতিল ফিরক্বা ওহাবীদের অখ্যাত মুখপত্র আল কাওসারের মিথ্যাচারিতার জবাব-২৫ হাদীছ জালিয়াতী, ইবারত কারচুপি ও কিতাব নকল করা ওহাবীদেরই জন্মগত বদ অভ্যাস ওহাবী ফিরক্বাসহ সবগুলো বাতিল ফিরক্বা ইহুদী-নাছারাদের আবিষ্কার! তাদের এক নম্বর দালাল

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ‘সংবিধানের প্রস্তাবনা’, ‘মৌলিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ ‘জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা’ এবং ‘জাতীয় সংস্কৃতি’ শীর্ষক অনুচ্ছেদের সাথে- থার্টি ফার্স্ট নাইট তথা ভ্যালেন্টাইন ডে পালন সরাসরি সাংঘর্ষিক ও সংঘাতপূর্ণ’। পাশাপাশি মোঘল সংস্কৃতির দান পহেলা বৈশাখ পালনও প্রশ্নবিদ্ধ।সংবিধানের বহু গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ স্পর্শকাতর অনুচ্ছেদের প্রেক্ষিতে ৯৫ ভাগ মুসলমানের এদেশে কোনভাবেই থার্টি ফার্স্ট নাইট ও ভ্যালেন্টাইন ডে পালিত হতে পারে না।পারেনা গরিবের রক্ত চোষক ব্র্যাকের ফজলে আবেদও ‘নাইট’ খেতাব গ্রহণ করতে। পারেনা তার  নামের সাথে ‘স্যার’ যুক্ত হতে। পাশাপাশি মোঘল সংস্কৃতির দান পহেলা বৈশাখ পালনও প্রশ্নবিদ্ধ।