আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে সিকিমে অবৈধ বাঁধ নির্মাণ ও পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ সেচ প্রকল্প চালু করে বাংলাদেশকে তিস্তার পানি থেকে বঞ্চিত করছে ভারত। হুমকির মুখে পড়েছে তিস্তা নির্ভর কৃষি ব্যবস্থা। সরকারের উচিত- নতজানু পররাষ্ট্রনীতি বর্জন করে ভারতের এই পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি প্রয়োগ করা।

সংখ্যা: ২৭২তম সংখ্যা | বিভাগ:

গত ২০ জানুয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ভারত বিভিন্ন বাঁধের সৃষ্টি করে তিস্তার ন্যায্য পানি থেকে বাংলাদেশকে বঞ্চিত করছে।  ভারতের সিকিম থেকে পশ্চিমবঙ্গের গজলডোবা পর্যন্ত অন্তত ১৪টি বাঁধে আটকা পড়ে থাকে তিস্তার পানিপ্রবাহ। তিস্তা নদী হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়ে সিকিম এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে বাংলাদেশের যমুনা নদীতে এসে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক নদী তিস্তার উপর শুধু সিকিমেই তৈরি হয়েছে ৫টি বৃহদাকার ড্যাম। এগুলো হলো, চুংথান্ড ড্যাম, টিনটেক ড্যাম, সেরওয়ানি ড্যাম, রিয়াং ড্যাম ও কালিঝোরা ড্যাম। এছাড়াও বর্তমানে চলমান প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে, লোয়ার লাগিয়াপ, রামমাম-২, রণজিৎ-৩, তিস্তা-৫ এবং রঙ্গিচু। এগুলো সবই পানি-বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। সিকিমে আরো ৪টি এ ধরনের প্রকল্পের প্রস্তাব সরকারের হাতে রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন থাকলেও ভারত অবৈধ ও আন্তর্জাতিক নীতির তোয়াক্কা না করে এসব ড্যাম ও বাঁধের সৃষ্টি করে বাংলাদেশকে তিস্তার পানি থেকে বঞ্চিত করছে।

উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে জয়েন্ট কমিটি অব এক্সপার্টের সভায় বাংলাদেশ নদীর পানি ভাগাভাগির একটি সার্বিক রূপরেখা প্রদান করে। এতে বাংলাদেশ ব্রহ্মপুত্র নদের ৭৫ শতাংশ এবং তিস্তাসহ আটটি নদীর পানির ৫০ শতাংশ পানি দাবি করে। পরে বাংলাদেশ নির্দিষ্টভাবে ২০ শতাংশ পানি তিস্তার নাব্যতার জন্য রেখে দিয়ে বাকি ৮০ শতাংশ সমান ভাগে ভাগ করার প্রস্তাব দেয়। ভারত এটি মেনে নেয়নি। ভারতের কোন কোন মহল থেকে এ সময় ভারতের অধিক পরিমাণ কৃষিভূমি ইতোমধ্যে সেচ সুবিধা ব্যবহার করছে- এই যুক্তিতে তিস্তার সিংহভাগ পানি দাবি করে। সেইসাথে সরকারও তাদের এই অনৈতিক দাবী ও জোরপূর্বক তিস্তার পানি সরিয়ে নেয়ার কোনো বিরোধীতা না করায় দীর্ঘদিন থেকে তিস্তার পানিবঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ।

অন্যদিকে, তিস্তার পানি দিয়ে একের পর এক প্রকল্প তৈরী করছে ভারত। তিস্তাকেন্দ্রিক বেশ কয়েকটি ক্যানেল প্রকল্প করা হয়েছে, যেগুলো দিয়ে নিয়মিত পানি সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে তিস্তা-মহানন্দা লিংক ক্যানেলের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৭৩ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া হচ্ছে। মহানন্দা প্রধান ক্যানেলের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৭১ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া হচ্ছে। ডাউক নগর প্রধান ক্যানেলের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৯৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া হচ্ছে। নাগর টাঙ্গন প্রধান খালের মাধ্যমে বছরে ১ লাখ ১৬ হাজার হেক্টরের বেশী জমিতে সেচ দেয়া হচ্ছে। তিস্তা-জলঢাকা প্রধান ক্যানেলের মাধ্যমে ৫৮ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে সেচ দেয়া হচ্ছে।

এদিকে তিস্তার পানি না দিয়ে মমতা বিকল্প প্রস্তাব দেয়ায় প্রতীয়মান হয় যে, তিস্তা নিয়ে তার কোনো সদিচ্ছা নেই। সুতরাং তিস্তা চুক্তি আদৌ হবে কিনা সংশয় দেখা দিয়েছে। সে এও বলেছে, আপনাদের তো পানি চাই তাহলে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে (তোরষা, ধানসিঁড়ি, ধরলা) যে নদীগুলো ঢুকেছে সেগুলোর পানি বণ্টনে উভয় দেশের জরিপ কার্যক্রম চালিয়ে নিষ্পত্তি করতে আমার কোনো আপত্তি নেই। প্রশ্ন হলো, যে ক’টি নদীর কথা সে বলেছে সেগুলোর উপর তো কোনো বাঁধই নেই। তবে বণ্টনের কথা আসছে কেন? আসলে মমতা বিকল্প প্রস্তাব দিয়ে এক ধরনের ধোঁকা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।

কারণ পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চল থেকে তোরষা ছাড়া পানিঢাকা ও রায়ডাক নদী বাংলাদেশে বয়ে এসেছে। কিন্তু খুব বেশি দূর না এসেই সেগুলো বিভিন্ন নদীতে মিশে যাওয়ায় তিনটি নদীর অববাহিকা ছোট। এই কারণে এগুলো বাংলাদেশে কোনো গুরুত্বপূর্ণ নদী হিসেবেই বিবেচিত হয় না। তিস্তার অববাহিকা কিন্তু অনেক বড়। আর এই অববাহিকায় দ্বিতীয় কোনো বড় নদী না থাকায় তিস্তার পানির কোনো বিকল্প নেই। তোরষা, পানিঢাকা বা রায়ডাকে যদি ভারত বাড়তি পানি দেয়, তাতেও তিস্তা অববাহিকার দুর্দশা ঘুচবে না।

দেশের বিশেষজ্ঞমহলের মতে, সিকিমে তিস্তার প্রবাহকে আটকানো হচ্ছে অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের অবশিষ্ট পানি থেকেও বাংলাদেশকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। অর্থাৎ একপ্রকার খবরদারী করে ভারত বাংলাদেশের প্রতি পানি আগ্রাসন চালাচ্ছে। যার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই সরকারের।

প্রসঙ্গত, ভারত যেভাবে বাংলাদেশকে তিস্তার পানি থেকে অবৈধভাবে বঞ্চিত করছে এরকম নজীর বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে কোথাও নেই। সবদেশেই প্রতিবেশী দেশের সাথে নদীসহ সব বিষয় নিয়ে মীমাংসাপূর্ণ আইন বলবৎ রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের বন্ধুরাষ্ট্র দাবি করলেও ভারত আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে নদীর স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করে নদীতে বাঁধ দিয়ে, নদীর পানি প্রত্যাহার করে শুকিয়ে মারছে নদীগুলোকে। সেই সঙ্গে শুকিয়ে মারছে বাংলাদেশে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে।

তিস্তা চুক্তি না হওয়ায় বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল দিন দিন মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে, মঙ্গাপীড়িত জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যের যাঁতাকলে হচ্ছে পিষ্ট। তিস্তা নদী ৩৬৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। এর মধ্যে ভারতে প্রবাহিত হয় ২৪৯ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশে ১১৭ কিলোমিটার। তিস্তার আওতায় মোট সেচ এলাকার পরিমাণ ১৯ লাখ ৬৩ হাজার হেক্টর জমি (বাংলাদেশে ৭ লাখ ৪৯ হাজার হেক্টর এবং ভারতে ১২ লাখ ১৪ হাজার হেক্টর)। বাঁধ দিয়ে তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন করে ভারত তার অংশের ১২ লাখ ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে ঠিকই সেচ দিচ্ছে; অথচ পানি পাচ্ছে না বাংলাদেশ। এ কারণে হুমকিতে রয়েছে ৭ লাখ ৪৯ হাজার হেক্টর জমির সেচ সুবিধা। তিস্তায় পানি না থাকায় করুণ দশার কথা বারবার ভারতকে জানিয়েছে বাংলাদেশ; কিন্তু তারা কর্ণপাত করছে না। তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার উপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের তিস্তাপাড়ের লাখো কৃষকের জীবন-মরণ।

এ কথা ঐতিহাসিকভাবে সত্য যে, ভারত কোনো সময়ই বাংলাদেশের বন্ধুরাষ্ট্র থাকেনি এবং সামনে থাকবেও না। কারন মহান আল্লাহ পাক উনার ঘোষণা মতে, বিধর্মীরা কোনো সময়ই মুসলমানদের বন্ধু হতে পারে না। তাই বাংলাদেশ সরকারের উচিত- তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভারতের ধোঁকাবাজির বিপরীতে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি বর্জন করে দেশপ্রেমে উজ্জিবিত হয়ে ভারতের উপর সর্বপ্রকার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। ভারতকে যেসব ট্রানজিট দেয়া হয়েছে বাংলাদেশে সেগুলো বাতিল করা, ভারতের সাথে বাণিজ্যিক ও কূটনীতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা। তিস্তা নিয়ে ভারতের ধূর্তামীর প্রতিবাদে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করা।

মুহম্মদ মাহবুবুর রহমান, ঢাকা।

প্রসঙ্গ: ইসরাইলি পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। ইসরাইলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধসহ কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা মুসলিম বিশ্বের এখন ফরযের উপর ফরয।

সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে বাজেটের ১১ শতাংশ। প্রত্যেক বছর বাজেটের আকার বাড়লেও এর সুফল পাচ্ছে না দেশ ও দেশের জনগণ। জনগণের উচিত সরকারকে বাধ্য করা- ঋণের ধারা থেকে সরে এসে অভ্যন্তরীণ অর্থ-সম্পদের দিকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটকে গণমুখী করার জন্য।

বাংলাদেশে জিএমও ফুড প্রচলনের সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে-২

পর্যবেক্ষক ও সমালোচক মহলের মতে- ভারতের কাছে দেশের স্বার্থ বিলিয়ে দেয়ার নিকৃষ্টতম উদাহরণ রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। মাত্র ১৫ ভাগ বিনিয়োগ করে ভারত মালিকানা পাবে ৫০ ভাগ। আর ধ্বংস হবে এদেশের সুন্দরবন। সুন্দরবনকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে (২)

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতোই রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ভয়াবহ। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে কিন্তু রূপপুর অজ্ঞতার আঁধারেই রয়ে গেছে? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়টি বিশেষভাবে আমলে নিতে হবে। প্রয়োজনে সচেতন জনগণকেই প্রতিহত করতে হবে (২)