আপনাদের মতামত: মাসিক আল বাইয়্যিনাত উনার প্রতিটি বিভাগের ন্যায় আপনাদের মতামত বিভাগও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিছক আলোচনা বা সমালোচনার স্থল এটি নয়। তবে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও পবিত্র ক্বিয়াস উনাদের দলীল-নির্ভর আল বাইয়্যিনাত উনার ফতওয়া, সুওয়াল-জাওয়াব তথা হক্ব লিখনীর কারণে উলামায়ে ‘সূ’দের মুখোশ উন্মোচিত হয়। এতদ্বপ্রেক্ষিতে তাদের পত্র-পত্রিকায়, আল বাইয়্যিনাত উনার বিরুদ্ধে যে অন্যায়, অসত্য, ডাহা মিথ্যা বক্তব্য পত্রস্থ হয় এবং তারা যে প্রোপাগান্ডা করে তারই প্রতিক্রিয়ারূপে, আল বাইয়্যিনাত উনার সম্মানিত পাঠক সমাজ আল বাইয়্যিনাত বিরোধীদের সেসব অপবাদ ও অপপ্রচারণার দাঁতভাঙ্গা জবাব সম্বলিত দলীলভিত্তিক অনেক মতামত পাঠিয়ে থাকেন। স্থান সঙ্কুলানহেতু কেবল গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় মতামতই সংক্ষিপ্তাকারে স্থান পায়। এসব মতামত পাঠক তথা লিখকের নিজস্ব। -এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

সংখ্যা: ২৮২তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুজাদ্দিদে আযম, ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মহাসম্মানিত হযরত মুরশিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত- সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আইনী কার্যক্রম ঐতিহাসিক এক অভূতপূর্ব আজিমুশ্বান তাজদীদ মুবারক (৬)

 

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে পাওয়া যাবে ইহুদী ও মুশরিকদেরকে।” (পবিত্র সূরা মায়িদাহ শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ৮২)

অর্থাৎ ইহুদী, নাসারা, হিন্দু, বৌদ্ধসহ সমস্ত কাফির, বেদ্বীন, বদদ্বীনরা মুসলমানদের চিরশত্রু। তারা ছলে, বলে, কৌশলে মুসলমানদের জাহিরী-বাতিনী তথা সর্বোত ক্ষতি সাধনে তৎপর। যার বাস্তবতা দেখতে পাই আমাদের দেশেও। এদেশ থেকে ইসলামী অনুশাসন, তাহযীব-তামাদ্দুন উঠিয়ে দিয়ে মুসলমানদেরকে কোনঠাসা করার লক্ষ্যে এই কাফির গোষ্ঠী কখনো মিডিয়াকে, কখনো শাসক শ্রেণীকে এবং কখনো আদালতকে ব্যবহার করে তাদের স্বার্থ উদ্ধার করে যাচ্ছে। এমনকি শাসক শ্রেণী কোন বিষয়ে সম্মত না হলে, আনুগত্যতা না দেখালে তাদের পরিবর্তনেও সা¤্রাজ্যবাদীরা দেশের আদালতকে ব্যবহার করছে।

বর্তমান সময়ের যিনি সম্মানিত ইমাম ও মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, রাজারবাগ শরীফ উনার মহাসম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলাহ্ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি কাফির-মুশরিক এবং সাম্রাজ্যবাদীদের এইসব অপকৌশল সম্পর্কে পরিপূর্ণভাবে অবগত। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের স্বার্থ বিরোধী কাফির ও মুনাফিকদের যাবতীয় ষড়যন্ত্র ও কূট কৌশল নস্যাৎ করে সত্যিকার অর্থেই ইসলামী অনুশাসন প্রতিষ্ঠায় বহুমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন। সেগুলোর অন্যতম “আইনী প্রক্রিয়া কার্যক্রম”। সুবহানাল্লাহ।

এই প্রক্রিয়াটি যেমনি ব্যয়বহুল তেমনি কষ্টসাধ্য। কেননা আইনী কার্যক্রম চালানোর জন্য একদিকে প্রয়োজন কোটি কোটি টাকা। অপর দিকে প্রয়োজন দক্ষ এবং ইসলামী অনুশাসন উপলব্ধিকারী আইনীজিবী ও লোকবল। কিন্তু যেহেতু সাইয়্যিদুনা হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি পরিপূর্ণভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, ফলে মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার দ্বারা সকল অসাধ্য কাজও সম্পূর্ণ করিয়ে নিচ্ছেন।

পাঠকের উপলব্ধির স্বার্থে নীচে বিশেষ কিছু আইনী কার্যক্রমের তালিকা ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হল। এখান থেকে অনেক বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে সফলতা অর্জিত হয়েছে এবং অন্য অনেক বিষয়ে কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। তম্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিষয় নি¤েœ তুলে ধরা হলো। (ধারাবাহিক)

(৭৯)     আন্তর্জাতিক সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র নিয়ে  মিথ্যা, বিভ্রান্তিমূলক ও মানহানিকর সংবাদ প্রচার করায় সিলেটের বিয়ানীবাজার নিউজ ২৪ ডট কম ও ফেসবুকে এবি টিভি চ্যানেলের সম্পাদক-প্রকাশককে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

(৮০)     ‘রোজার মধ্যে করোনাভাইরাসের টিকা নিলে রোজা ভঙ্গ হবে না’ মর্মে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দেওয়া বিবৃতি তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রত্যাহার চেয়ে ফাউন্ডেশনের ডিজি ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মাদ মুশফিকুর রহমানকে নোটিশ ডিমান্ডিং জাস্টিস পাঠানো হয়েছে।

(৮১)     ভারতে শিয়া ওয়াকফ বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াসিম নামক এক ইসলামবিদ্বেষী কর্তৃক পবিত্র কুরআন শরীফ উনার ২৬টি আয়াত শরীফের ওপর  জঘন্য মিথ্যাচার তুলে পরিবর্তনের আবেদন জানিয়ে গত ১১ মার্চ’২১ দেশটির সুপ্রিম কোর্টে রিট করায় উক্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতের হাইকমিশনে ও ভারতের  সংশ্লিষ্ট দফতরে মেমোরেন্ডাম অপ প্রটেস্ট (প্রতিবাদ স্বারক লিপি) প্রদান করা হয়।

(৮২)     করোনা মহামারী নয়, ছোয়াচেও নয় ইস্যুতে আল মুতমাইন্নাহ মা ও শিশু হাসপাতালকে বন্ধ রাখার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের  পাঠানো নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

তাদের পাঠানো নোটিশের বৈধতা নিয়ে রুল জারী করা হয় ও আমাদের পাঠানো জবাবকে আমলে নিয়ে তা বাস্তবায়ন করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেয়া হয়।

(৮৩)     অগ্নিউপাসক ও হিন্দুদের জাতিগত অনুষ্ঠান কথিত ‘সাকরাইন’ নিয়ে দেশের বিভিন্নস্থানে আতশবাজি, ফানুস উড়ানো ও ডিজে পার্টির নামে যে বিশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি হয় তা বন্ধ করার দাবিতে ডিএসসিসি মেয়র বরারব আইনী নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

(৮৪)     স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এমন ঢালাওভাবে মাস্ক পরিধানের অবৈধ নির্দেশনার জন্য  স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

(৮৫)     “মেয়েদের জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হওয়ার একটি কারণ হলো বাল্যবিবাহ” এমন কুফরী মন্তব্যের কারণে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক শাহাব এনাম খানকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

(৮৬)     বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু সম্বন্ধে মিথ্যা ও মনগড়া তথ্য প্রদান করায় বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক, প্রকাশক ও লেখককে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।

(৮৭)     স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর সাড়ে ৩ লাখ লোক কুকুরের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। যার ফলে বেওয়ারিশ কুকুর নিধনের মাধ্যমে কুকুরের উপদ্রব থেকে দেশের নাগরিকদেরকে সুরক্ষা প্রসঙ্গে সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, মেয়র, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ও মেয়র, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনকে নোটিশ ডিমান্ডিং জাষ্টিজ পাঠানো হয়েছে।

ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র করার অধিকার চেয়ে নির্বাচন কমিশন ও আইন সচিবকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মহাসম্মানিত হযরত মুরশিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত- সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আইনী কার্যক্রম ঐতিহাসিক এক অভূতপূর্ব আজিমুশ্বান তাজদীদ মুবারক (৪)

অপরাধের মাত্রা বাড়ার সাথে সাথে পাল্টাচ্ছে কিশোর অপরাধের ধরণ। মূল্যবোধের অবক্ষয় ও আকাশ সংস্কৃতিই মুখ্য কারণ।সরকারের উচিত- দেশের এই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে যুগপৎ উদ্যোগ গ্রহণ করা।

এনজিওগুলোর ক্ষুদ্রঋণের ফাঁদে প্রান্তিক ও গ্রামীণ এলাকার কোটি কোটি মানুষ সর্বস্বান্ত। ঋণের কিস্তির চাপে একের পর এক ঘটছে আত্মহত্যার ঘটনা। ‘ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র বিমোচন নয়, বরং দারিদ্রতা লালন করছে।’ এনজিগুলোর বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ চায় দেশের ৩০ কোটি মানুষ।

অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় খেলাপি ঋণ এখন ৩ লাখ কোটি টাকা। ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো তাদের দেয়া হচ্ছে সুযোগ সুবিধা। ব্যাংকের টাকা জনগণের টাকা। দেশের মালিক জনগণ। সরকার জনগণের টাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারেনা।

৭ বছরেও হয়নি পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নীতিমালা। প্রতিনিয়ত ঘটছে সন্তান কর্তৃক অসহায় পিতা-মাতাকে নির্যাতনের ঘটনা। দেশে বাড়ছে পশ্চিমা ‘ওল্ডহোম’ সংস্কৃতি।শুধু নীতিমালা বাস্তবায়নেই নয় বরং দ্বীন ইসলাম উনার আদর্শ প্রচার-প্রসারেই রয়েছে এর সুষ্ঠ সমাধান।