আল হাদ্বির ওয়ান নাযির, মুত্ত্বলা’ আলাল গইব, হায়াতুন্ নবী, উস্ওয়াতুন হাসানাহ্, রঊফুর রহীম, রহমাতুল্লিল আলামীন, ছাহিবু ক্বাবা ক্বাওসাইনী আও আদনা, ক্বয়িদুল মুরসালীন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কায়িনাতের সর্বত্র হাযির-নাযির

সংখ্যা: ২৮৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

اِنَّــاۤ اَرْسَلْنٰكَ شَاهِدًا وَّمُبَشِّرًا وَّنَذِيْــرًا

অর্থ: “(আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) নিশ্চয়ই আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি, সৃষ্টি মুবারক করেছি শাহিদ অর্থাৎ সাক্ষ্যদাতা, উপস্থিত, হাযির-নাযির হিসেবে, সুসংবাদদানকারী এবং সতর্ককারীরূপে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ফাত্হ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৮)

আলোচ্য সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখিত شَاهِدٌ (শাহিদ) শব্দ মুবারক উনার অর্থ মুবারকই হচ্ছেন ‘হাযির-নাযির’। সুবহানাল্লাহ! যেমন- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশুদ্ধ হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিদায় হজ্জের সময় খুৎবা মুবারক উনার শেষে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করেছেন,

فَـلْـيُـبَلِّغِ الشَّاهِدُ الغَائِبَ

অর্থ: “আপনারা যাঁরা এখানে হাযির বা উপস্থিত রয়েছেন, যাঁরা গায়েব বা অনুপস্থিত উনাদেরকে (আমার নছীহত মুবারকগুলো) পৌঁছিয়ে দিবেন।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, তিরমিযী শরীফ)

আর এটা দিবালোকের ন্যায় অত্যন্ত সুস্পষ্ট যে, আলোচ্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখিত شَاهِدٌ (শাহিদ) শব্দ মুবারক উনার অর্থ হচ্ছে হাযির। সুবহানাল্লাহ!

شَاهِدٌ (শাহিদ) শব্দ মুবারক উনার অর্থ মুবারকই যে ‘হাযির-নাযির’ এ বিষয়টি লুগাত বা অভিধান দ্বারাও প্রমাণিত।

আর এটা সকলের জানা রয়েছে যে, যিনি হাযির বা উপস্থিত তিনি নাযির বা প্রত্যক্ষকারী, প্রত্যক্ষদশীর্। অর্থাৎ যিনি হাযির তিনিই নাযির আবার যিনি নাযির তিনিই হাযির। সুবহানাল্লাহ!

বি: দ্র: এ বিষয়ে দলীলভিত্তিক বিস্তারিত জানার জন্য মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার ২৬৫ তম সংখ্যা পাঠ করুন।

সুতরাং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে কায়িনাতের সর্বত্র হাযির-নাযির এবং কোনো সময় ও স্থান উনার সম্মানিত উপস্থিতি মুবারক থেকে খালি নয়। এই বিষয়টি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার দ্বারাই চির অকাট্যভাবে প্রমাণিত। সুবহানাল্লাহ!

এছাড়াও এ সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ جُرَىٍّ جَابِـرِ بْنِ سُلَـيْمٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ اَتَــيْتُ الْمَدِيْــنَةَ فَـرَاَيْتُ رَجُلًا يَّصْدُرُ النَّاسُ عَنْ رَاْيِهٖ لَا يَـقُوْلُ شَيْـئًا اِلَّا صَدَرُوْا عَـنْهُ قُـلْتُ مَنْ  هٰذَا قَالُوْا  هٰذَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ قُـلْتُ عَلَـيْكَ السَّلَامُ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّتَــيْـنِ قَالَ لَا تَـقُلْ عَلَـيْكَ السَّلَامُ فَاِنَّ عَلَـيْكَ السَّلَامُ تَـحِيَّةُ الْمَيِّتِ قُلْ اَلسَّلَامُ عَلَـيْكَ قُـلْتُ اَنْتَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اَنَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ اَلَّذِىْ اِذَا اَصَابَكَ ضُرٌّ فَدَعَوْتَهٗ كَشَفَهٗ عَـنْكَ وَاِنْ اَصَابَكَ عَامُ سَنَةٍ فَدَعَوْتَهٗ اَنْـبَـتَـهَا لَكَ وَاِذَا كُنْتَ بِاَرْضٍ قَـفْرٍ اَوْ فَلَاةٍ فَضَلَّتْ رَاحِلَــتُكَ فَدَعَوْتَهٗ رَدَّهَا عَلَـيْكَ

অর্থ: “হযরত আবূ জুরাই জাবির ইবনে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ আসলাম। তখন আমি দেখতে পেলাম যে, একজন মহাসম্মানিত ব্যক্তিত্ব মুবারক উনার তা’লীম-তালকীন মুবারক, ওয়ায-নছীহত মুবারক অনুযায়ী মানুষ চলে থাকেন। তিনি যাই বলেন, যা আদেশ-নির্দেশ মুবারক করেন সকলে হুবহু সেটাই আমল করেন। সুবহানাল্লাহ! আমি বললাম, তিনি কোন মহাসম্মানিত ব্যক্তিত্ব মুবারক? উনারা বললেন, (তিনি হচ্ছেন) মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। আমি ‘আলাইকাস সালাম’ ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! দুই বার বললাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনি ‘আলাইকাস সালাম’ বলবেন না, ‘আলাইকাস সালাম’ মৃত ব্যক্তিদের সম্বোধন। আপনি বলুন, ‘আস সালামু আলাইকা’। আমি (আস সালামু আলাইকা বললাম। তারপর) বললাম, আপনি কি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম? তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, (হঁ্যা;) আমি ঐ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তুমি কোন বিপদে-আপদে, দুঃখ-দুর্দশায় পতিত হও তখন তুমি উনার নিকট দো‘আ করলে তিনি তোমার বিপদ-আপদ, দুঃখ-দূর্দশা দূর করে দেন। সুবহানাল্লাহ! যখন তোমার জমিনে ফসল হয় না, দূর্ভিক্ষ দেখা দেয়, তখন তুমি উনার নিকট দো‘আ করলে তিনি তোমার জমিতে ফসল ফলিয়ে দেন, দূর্ভিক্ষ দূর করে দেন। সুবহানাল্লাহ! যখন তুমি কোন জনমানবহীন শূন্য স্থানে, (খাল-বিল, নদী-নালা, সমুদ্রে,) নির্জন প্রান্তরে, মরুভূমিতে অথবা বনে, ঝোপ-ঝার, জঙ্গলে থাকো আর তোমার বাহন হারিয়ে যায় বা বাহন না থাকে, তখন তুমি উনার নিকট দো‘আ করলে তিনি তোমার বাহন ফিরিয়ে দেন, বাহনের ব্যাবস্থা করে দেন।” সুবহানাল্লাহ! (আবূ দাউদ শরীফ, আল কুনা’ ওয়াল আসমা’ ১/৫৫, আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী ১০/২৩৬, মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ ৪/১৩৪৪, জামী‘উল উছূল ১১/৭৪৬ ইত্যাদি)

উপরোক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফসহ আরো অসংখ্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশুদ্ধ হাদীছ শরীফ দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কায়িনাতের সর্বত্র হাযির-নাযির এবং কোনো সময় ও স্থান উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উপস্থিতি মুবারক থেকে খালি নয়। যার কারণে কোনো উম্মত যদি জনমানবহীন শূন্য স্থানে, (খাল-বিল, নদী-নালা, সমুদ্রে,) নির্জন প্রান্তরে, মরুভূমিতে অথবা বনে, ঝোপ-ঝার, জঙ্গলে যেখানেই থাকে আর তার বাহন হারিয়ে যায় বা বাহন না থাকে, তখন সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট দো‘আ করলে তিনি উক্ত উম্মতের বাহন ফিরিয়ে দেন, বাহনের ব্যবস্থা করে দেন, কোনো বিপদ পড়লে বিপদ থেকে উদ্ধার করে দেন। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদাহ্ মুবারক হলো- মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ইলিম মুবারক ও সম্মানিত কুদরত মুবারক দ্বারা সর্বত্র হাযির-নাযির। জাত হিসেবে নয়। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইলিম মুবারক ও মু’জিযা শরীফ উনাদের মাধ্যমে অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার প্রদত্ত ক্ষমতা মুবারক-এ আর ছিফত হিসেবে সম্মানিত নূর মুবারক ও সম্মানিত রহমত মুবারক হিসেবে কায়িনাতের সর্বত্র হাযির-নাযির এবং জাত হিসেবে যেকোনো সময়, যেকোনো স্থানে স্ব-শরীর মুবারক অর্থাৎ হাক্বীক্বী ছূরত মুবারক-এ বা মেছালী ছূরত মুবারক-এ হাযির ও নাযির হতে পারেন। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের ব্যাখ্যায় আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা উনাদের লিখিত কিতাব মুবারকসমূহে এ বিষয়ে বিভিন্ন বর্ণনা মুবারক উল্লেখ করেছেন। যেমন, হযরত আলী নূরুদ্দীন ইবনে বুরহানুদ্দীন হালাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,

قُـلْتُ وَاَمَّا كَلَامُنَا وَالَّذِىْ نَـقُوْلُهٗ اِنْ شَاءَ اللهُ تَـعَالـٰى اِنَّ الْاَمْرَ كَمَا قَالَهُ الْـجَلَالُ السُّيُـوْطِـىُّ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَـيْهِ وَاَخَصُّ مِنْ ذٰلِكَ اَنَّ الَّذِىْ اَرَاهُ اَنَّ جَسَدَهُ الشَّرِيْفَ لَا يـَخْلُوْ مِنْهُ زَمَانٌ وَّلَا مَكَانٌ وَّلَا مَـحَلٌّ وَّلَا اِمْكَانٌ وَّلَا عَرْشٌ وَّلَا لَوْحٌ وَّلَا كُرْسِـىٌّ وَّلَا قَـلَمٌ وَّلَا بَـحْرٌ وَّلَا بَــرٌّ وَّلَا سَهْلٌ وَّلَا وَعْـرٌ وَّلَا بَــرْزَخٌ وَّلَا قَــبْـرٌ كَمَا اَشَرْنَا اِلَـيْهِ اَيْضًا. وَاَنَّهُ امْتَلَاَ الْكَوْنُ الْاَعْلـٰى بِهٖ كَاِمْتِلَاءِ الْكَوْنِ الْاَسْفَلِ بِهٖ وَكَاِمْتِلَاءِ قَــبْـرِهٖ بِهٖ فَـتَجِدُهٗ مُقِيْمًا فِـىْ قَــبْـرِهٖ طَائِفًا حَوْلَ الْـبَــيْتِ قَائِمًاۢ بَـيْـنَ يَـدَىْ رَبِّهٖ لِاَدَاءِ الْـخِدْمَةِ تَامَّ الْاِنْبِسَاطِ بِـاِقَامَتِهٖ فِـىْ دَرَجَةِ الْوَسِيْـلَةِ اَلَا تَـرٰى اَنَّ الرَّائِــيْـنَ لَهٗ يَـقَظَةً اَوْ مَنَامًا فِـىْ اَقْصَى الْـمَغْرِبِ يُـوَافِقُوْنَ فِـىْ ذٰلِكَ الرَّائِـــيْـنَ لَهٗ كَذٰلِكَ فِـىْ تِلْكَ السَّاعَةِ بِعَـيْـنِهَا فِـىْ اَقْصَى الْـمَشْرِقِ فَمَتٰـى كَانَ كَذٰلِكَ مَنَامًا كَانَ فِـىْ عَالَـمِ الْـخَـيَالِ وَالْـمِثَالِ وَمَـتٰـى كَانَ يَــقَظَـةً كَانَ بِصِفَتَـىِ الْـجَمَالِ وَالْاِجْلَالِ وَعَلـٰى غَايَـةِ الْكَمَالِ كَمَا قَالَ الْقَائِلُ- لَـيْسَ عَلَى اللهِ بـِمُسْتَــنْـكَرٍ.. اَنْ يَّـجْمَعَ الْعَالَـمَ فِـىْ وَاحِدٖ

অর্থ: “আমি বলি, আমার যে বক্তব্য ইনশাআল্লাহ আমি তা ব্যক্ত করছি- নিশ্চয়ই আমার কথাও হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অনুরূপ। তবে উনার কথার উপর আমার বিশেষ বক্তব্য এই যে- আমি এটা দেখতে পাচ্ছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মুজাসসাম মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জিসম মুবারক) থেকে কোনো সময় ও স্থান, কোনো আশ্রয় ও স্থিতি, সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক ও সম্মানিত লাওহ মুবারক, সম্মানিত কুরসী মুবারক ও সম্মানিত কলম মুবারক, পানি ও স্থল, যমীন ও আসমান, বারজাখ ও কবর কোন কিছুই খালি নেই। সুবহানাল্লাহ! এ বিষয়ের দিকে আমি আগেই ইশারা করেছি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ উনাকে দিয়ে যেরূপ পরিপূর্ণ, নিশ্চয়ই ঠিক একইভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দিয়ে পরিপূর্ণ আছে সৃষ্টির সর্বোচ্চভাগ ও সর্বনিম্নভাগ। সুবহানাল্লাহ! আপনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ-এ অবস্থানকারীরূপে যেমন পাবেন, অনুরূপ পাবেন সম্মানিত বাইতুল্লাহ শরীফ উনার চারিদিকে তাওয়াফকারীরূপে, তেমনি পাবেন আবার মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মুখে ছানা-ছিফত মুবারক করা অবস্থায় উপস্থিত থাকতে, আবার সম্মানিত দরজায়ে উসীলা মুবারক-এ পরিপূর্ণ সন্তুষ্টি মুবারক উনার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র অবস্থান মুবারক করতে। সুবহানাল্লাহ! আপনি কি একথা জানেন না যে, ঠিক একই সময়ে একই সাথে পৃথিবীর সুদূর পশ্চিমপ্রান্তের কতক লোক এবং সুদূর পূর্বপ্রান্তের কতক লোক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নে অথবা জাগ্রত অবস্থায় দেখে থাকেন? সুবহানাল্লাহ! স্বপ্নের দ্বারা এরূপ হলে আলমে খেয়াল ও আলমে মেছালের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। আর জাগ্রত অবস্থায় হলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জামালী এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জালালী সিফত মুবারকসহ হয়ে থাকে। এটা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত চূড়ান্ত কামালিয়াত মুবারক উনার মহাসম্মানিত বহিঃপ্রকাশ মুবারক। সুবহানাল্লাহ! যেমন একজন বুযূর্গ ব্যক্তি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি যদি একের মধ্যে সারা বিশ্বকে জমা করেন, উনার অসীম শক্তি মুবারক উনার তুলনায় তা আদৌ বিস্ময়কর ব্যাপার নয়।” সুবহানাল্লাহ! (তা’রীফু আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমান বিআন্না মুহাম্মাদান ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লা ইয়াখলূ মিনহু যামানুন ওয়ালা মাকান, হাক্বীক্বতে মুহম্মদী ও মীলাদে আহমদী ১৪০-১৪১, মুন্তাহাস সূল ‘আলা ওয়াসায়িলিল উছূল ৪/৩৬১)

সুপ্রসিদ্ধ ‘মাজমাউল বারাকাত’ গ্রন্থে শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন,

وی صلی اللہ علیہ وسلم بر احوال واعمال امت مطلع است بر مقربان وخاصان درکاہ خود مفیض وحاضر وناظر است

অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজ উম্মতের যাবতীয় অবস্থা ও আমল সম্পর্কে অবগত এবং উনার মহান দরবারে উপস্থিত সকলকেই ফয়েজ প্রদানকারী এবং তিনি ‘হাযির ও নাযির’।” সুবহানাল্লাহ!

হযরত মোল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘শরহুশ শিফা শরীফ’ উনার মধ্যে বলেছেন,

لِاَنَّ رُوْحَهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَاضِرٌ فِـىْ بُيـُـوْتِ اَهْلِ الْاِسْلَامِ

অর্থ: “কেননা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল আমর মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রূহ মুবারক) অর্থাৎ তিনি মুসলমানদের ঘরে ঘরে হাযির বা উপস্থিত।”  সুবহানাল্লাহ!

হযরত ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,

سَلِّمْ عَلَـيْهِ اِذَا دَخَلْتَ فِـى الْـمَسْجِدِ فَاِنَّهٗ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ يَـحْضُـرُ فِـى الْمَسْجِدِ

অর্থ: “আপনি যখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহ উনাদের মধ্যে প্রবেশ করবেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সালাম দিবেন। কারণ তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহ উনাদের মধ্যে হাযির আছেন।”  সুবহানাল্লাহ!

কাজেই, উপরোক্ত দলীলভিত্তিক বর্ণনাসমূহ দ্বারা দিবালোকের ন্যায় অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, আল হাদ্বির ওয়ান নাযির, মুত্ত্বলা’ আলাল গইব, হায়াতুন্ নবী, উস্ওয়াতুন হাসানাহ্, রঊফুর রহীম, রহমাতুল্লিল আলামীন, ছাহিবু ক্বাবা ক্বাওসাইনী আও আদনা, ক্বয়িদুল মুরসালীন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কায়িনাতের সর্বত্র হাযির-নাযির। কোনো সময় ও স্থান উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উপস্থিতি মুবারক থেকে খালি নয়। সুবহানাল্লাহ!

কোনো উম্মত যদি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বিশুদ্ধ আক্বীদাহ মুবারক রেখে, উনাকে হাযির-নাযির জেনে সমস্ত আমল করে, উনার সম্মানার্থে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে, বিপদে পড়ে উনার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে, তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাকে ইহকাল ও পরকালে গাইবী মদদ করবেন, তাকে সর্বপ্রকার আপদ-বিপদ, বালা-মুছীবত থেকে রক্ষা করবেন। সে ইহকাল ও পরকালে হাক্বীক্বী কামিয়াবী হাছিল করবে। সুবহানাল্লাহ! আর মহান আল্লাহ পাক তিনি না করুন, কারো যদি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ না থাকে, উনাকে হাযির-নাযির না জানে, সে ইহকাল ও পরকালে লাঞ্ছিত হবে, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শাফা‘আত মুবারক থেকে বঞ্চিত হবে এবং তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়ে যাবে। না‘ঊযুবিল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে ছহীহ সমঝ দান করুন। আমীন!

-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ ইবনে ছিদ্দীক্ব।

কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার জন্য চির মালউন ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি অবশ্যই দায়ী এবং সে কাফির

অসুস্থ অবস্থায় ইঞ্জেকশন নিয়ে রোযা রাখলে যেমন রোযা হয় না, তেমনি অসুস্থ অবস্থায় চেয়ারে বসে নামায পড়লে নামায হয় না

পবিত্র সূরা আনআম শরীফ উনার ৭৪ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখিত اَبٌ‘আবুন’ শব্দ মুবারক চাচা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, পিতা অর্থে নয়

হক্কানী রব্বানী আউলিয়া কিরাম উনাদের শানে সবসময় সার্বিকভাবে হুসনে যন রাখতে হবে; উনাদের কাছে বাইয়াত হয়ে ফিরে গেলে মুরতাদ হবে। নাউযূবিল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালনে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের অনুপম দৃষ্টান্ত মুবারক