আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি। দিশেহারা সাধারণ মানুষ। সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের সাথে রয়েছে পথে পথে দলীয় ক্যাডারদের চাঁদাবাজি; অসহায় ব্যবসায়ীরা। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার মূলে সরকার

সংখ্যা: ২২৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

সমস্ত প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ মুবারক ও সালাম মুবারক।

আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি; দিশেহারা সাধারণ মানুষ। নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্তদের ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে তা বলা যাচ্ছে না। নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, গণপরিবহনের ভাড়া কয়েকগুণ বৃদ্ধিসহ অস্বাভাবিক জীবন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। যাদের ২/৪ জন সন্তান লেখাপড়া করে এমন অভিভাবকরা লেখাপড়ার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় প্রতিটি পরিবারের কর্তাদের বাজেট কাট-ছাঁট করতে হয়েছে। অনেকেই ধার-দেনা করে সংসার চালাচ্ছেন। সাধারণ মানুষ মনে করেন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিই এখন তাদের প্রধান সমস্যা।

এছাড়া নাগরিক জীবনে বাড়িভাড়া, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ঘুষ-দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচার বিষয়ে সরকারের উদাসীনতা ইত্যাদি মানুষের দুর্ভোগকে তীব্রতর করেছে। মন্ত্রীদের কাজের চেয়ে বেশি কথা বলা, বাস্তব অবস্থা স্বীকার না করার মনোবৃত্তি জনগণকে আরো বেশি ক্ষুব্ধ করে তুলেছে; সৃষ্টি হচ্ছে অসন্তোষ। গোপনে পণ্য পাচার করে প্রয়োজনীয় পণ্যের বেশির ভাগই আমদানি কর চাহিদা মেটাতে হয়- এমন প্রচারণা চালিয়ে মূল্য বাড়িয়ে মুনাফা লুটছে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী। আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পণ্যমূল্য কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। আর এর প্রভাব পড়ে বাজারে। যার মাশুল দিতে হয় সাধারণ মানুষকে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের বর্তমানে যে দাম তার সাথে পরিবহন ব্যয়, গুদাম ভাড়া এবং খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে যৌক্তিক লাভ হিসাব করলে দেশে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১১২ থেকে ১১৮ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা পর্যন্ত। লিটারপ্রতি বাড়তি অন্তত ২০ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীরা। একইভাবে ট্যারিফ কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি কেজি ছোলা বাজারে বিক্রি হওয়া উচিত ৫৩ থেকে ৫৯ টাকায়। অথচ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭৫ টাকায়। প্রতি কেজি আমদানি করা মসুর ডাল বাজারে বিক্রি হওয়া উচিত ৬০ থেকে ৬৯ টাকা। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১৩০ টাকায়। নেপাল থেকে মসুর ডাল আমদানি করে দেশে তা বিক্রির দর অনেক ক্ষেত্রেই ১০০ টাকা ছাড়ায়। কিন্তু কমিশন বলেছে, এর বিক্রয়মূল্য হওয়া উচিত ৬০ থেকে ৬৯ টাকা।

ট্যারিফ কমিশন হিসাব করে দেখেছে, ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ প্রতি কেজির বিক্রয়মূল্য ১৭ থেকে ১৯ টাকা হওয়া উচিত। কিন্তু বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৮ থেকে ৩০ টাকায়। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৮ থেকে ৪২ টাকা দরে। যৌক্তিক দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে আদা, রসুন, মসলাসহ বেশির ভাগ পণ্যই। তবে আমদানিকারক ও পাইকারি বিক্রেতারা ট্যারিফ কমিশনের এই হিসাবের সাথে একমত নন। তাদের অভিযোগ, ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজিসহ অনেক অপ্রদর্শনযোগ্য খরচই ট্যারিফ কমিশনের হিসেবে যুক্ত না হওয়ায় বাজারমূল্যের সাথে কমিশনের হিসাব কখনো মেলে না।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো রমযানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বাড়বে না বলে আশ্বাস দিলেও এর মধ্যে স্পষ্ট ভাঁওতাবাজি দেখছে সাধারণ মানুষ। কারণ তারা জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে আগেভাগেই। ১০৫ টাকার তেল ১৪০ টাকায় বিক্রি করে তা থেকে পাঁচ টাকা কমানোর সিদ্ধান্তকে দেশবাসীর সাথে প্রতারণা বলেই উল্লেখ করেছে তারা।

সিন্ডিকেট ভাঙতে ডিও প্রথা বাতিল করে পরিবেশক প্রথা চালু করা হলেও তাতে কোনো কাজ হয়নি জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, নতুন পদ্ধতিতেও ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটেড হয়ে গেছে। কিছু আমদানিকারক ও মিল মালিক নিয়ন্ত্রণ করছেন পুরো বাজার। শক্তিশালী এ চক্রটি কৌশলে তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে উল্লেখ করে সূত্র জানায়, তাদের দাপটের কাছে সরকার অসহায়। সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের সাথে সিন্ডিকেটের সুসম্পর্ক থাকায় মধ্যম পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা এখানে নিতান্তই অসহায় বোধ করেন। সিন্ডিকেট এখন নতুন করে দাম বাড়াতে বিভিন্ন মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করছে।

সরকার ইতোমধ্যে আগামী নির্বাচন উপলক্ষে অর্থ সংগ্রহে নেমেছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকার বাইরে থেকে আসা পণ্যবাহী পরিবহনগুলো থেকেও সরকারি দলের বিভিন্ন নেতার নামে চাঁদা উঠানো হচ্ছে। সূত্র জানায়, এ চাঁদার টাকা উঠানো হচ্ছে বলেই সরকারও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ফলে পথে পথে পণ্যবাহী ট্রাক থেকে অবাধে চাঁদাবাজি করছে দলীয় ক্যাডাররা। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ব্যাপারে সরকারের মৌন সমর্থন থাকায় সরকার এর বিরুদ্ধে কার্যত কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এমতাবস্থায় বলা যায়, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর নাটের গুরু হলো সরকার।

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, টাকার মান হ্রাস পাওয়া, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিসহ সব ব্যবস্থাপনা ও অব্যবস্থাপনার চাপ পণ্যের দামের উপর গিয়ে পড়ে।

রাজধানীর কাওরান বাজারে ট্রাকে করে নিয়মিত বিভিন্ন পণ্য নিয়ে আসে ব্যবসায়ী হারুন-অর-রশিদ। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে সে সাংবাদিকদের জানায়, এই ট্রাকে করে মাল আনছি রাজশাহী থেকে। রাস্তায় কম করে হলে ১৮ থেকে ২০টি পয়েন্টে চাঁদা দিতে হয়েছে। চাঁদার টাকা পরিশোধ না করলে ট্রাক ঢুকতে বাধা দেয় তারা। কোনো উপায় না দেখে তাদের দাবি অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করে দিয়েছি। এভাবে মোটা অঙ্কের চাঁদার টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে এখানে এসে যে দামে কিনেছি তার কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি না করলে পুঁজি হারাতে হবে। পথে পথে চাঁদাবাজি বন্ধ হলে পণ্যের দামও কমে আসবে। এ ব্যাপারে সরকারের উদ্যোগই যে মুখ্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ মতের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে সব ব্যবসায়ী।

মূলত, সব সমস্যা সমাধানে চাই সদিচ্ছা ও সক্রিয়তা তথা সততা। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন নেক  ছোহবত মুবারক, নেক সংস্পর্শ তথা রূহানী ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ মুবারক।

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার  নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা পাওয়া সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)

– মুহম্মদ তা’রীফুর রহমান

প্রসঙ্গ: ইসরাইলি পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। ইসরাইলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধসহ কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা মুসলিম বিশ্বের এখন ফরযের উপর ফরয।

সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে বাজেটের ১১ শতাংশ। প্রত্যেক বছর বাজেটের আকার বাড়লেও এর সুফল পাচ্ছে না দেশ ও দেশের জনগণ। জনগণের উচিত সরকারকে বাধ্য করা- ঋণের ধারা থেকে সরে এসে অভ্যন্তরীণ অর্থ-সম্পদের দিকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটকে গণমুখী করার জন্য।

বাংলাদেশে জিএমও ফুড প্রচলনের সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে-২

পর্যবেক্ষক ও সমালোচক মহলের মতে- ভারতের কাছে দেশের স্বার্থ বিলিয়ে দেয়ার নিকৃষ্টতম উদাহরণ রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। মাত্র ১৫ ভাগ বিনিয়োগ করে ভারত মালিকানা পাবে ৫০ ভাগ। আর ধ্বংস হবে এদেশের সুন্দরবন। সুন্দরবনকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে (২)

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতোই রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ভয়াবহ। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে কিন্তু রূপপুর অজ্ঞতার আঁধারেই রয়ে গেছে? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়টি বিশেষভাবে আমলে নিতে হবে। প্রয়োজনে সচেতন জনগণকেই প্রতিহত করতে হবে (২)