একমাত্র রাজারবাগ শরীফ সংশ্লিষ্টতা ব্যতীত সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে কাঙ্খিত পদক্ষেপ নেই কেন? রাষ্ট্রদ্বীন ‘ইসলাম’সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত এদেশে এখনো এ কথা কিভাবে উচ্চারিত হয় যে- ‘পবিত্র ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ পালন বিধর্মীদের অনুকরণ’? নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ!! নাঊযুবিল্লাহ!!!

সংখ্যা: ২৪৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

একমাত্র রাজারবাগ শরীফ সংশ্লিষ্টতা ব্যতীত সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে কাঙ্খিত পদক্ষেপ নেই কেন? রাষ্ট্রদ্বীন ‘ইসলাম’সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত এদেশে এখনো এ কথা কিভাবে উচ্চারিত হয় যে- ‘পবিত্র ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ পালন বিধর্মীদের অনুকরণ’? নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ!! নাঊযুবিল্লাহ!!!

ওদের অবিলম্বে রাষ্ট্রদ্রোহী ও ধর্মদ্রোহী অপরাধে চরম শাস্তি দিতে হবে


“পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ”, “পবিত্র সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম”, “পবিত্র সাইয়্যিদে ঈদে আকবর” “পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” উনার ঈদ কেবল পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ তারিখে সীমাবদ্ধ নয়; বরং উহা এমন মহাসম্মানিত ঈদ যার কেবল শুরুই আছে, কোনো শেষ নেই। যার কোনো বিরতি নেই। যা অনন্তকালের জন্য। এ খুশি প্রকাশ মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে অত্যন্ত মকবুল আমলরূপে গৃহীত।

মূলত, পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের ঘনঘটা, ব্যাপকতা, প্রাচুর্যতা এমনকি দায়সারা মানসিকতা উম্মত হিসেবে হাবীবে দোজাহাঁ, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি আমাদের অন্তরের টানের তথা মহব্বতের মাপকাঠির সূচক নির্দেশ করে। যদিও কম সমঝ, কম আক্বলধারী একটি মহল দুরভিসন্ধিমূলকভাবে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের প্রতি বিষোদগার করে থাকে। তারা বলে যে, ‘পবিত্র ঈদে বিলাদত শরীফ পালন খ্রিস্টানদের ‘ক্রিসমাস ডে’ এবং হিন্দুদের ‘জন্মাষ্টমী’ পালনের শামিল।’ নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ!

সত্যিকার অর্থে তাদের একথাটি আদৌ শুদ্ধ নয়; বরং নিরেট অজ্ঞতাসূচক। কারণ জন্ম, মৃত্যু, বিয়েসহ কিছু মৌলিক বিষয়াদি আছে যা জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সবারই মানবিক অনুভূতি।

জন্ম বা বিয়েতে আনন্দ এবং মৃত্যুতে শোক প্রকাশের অনুভূতিকে রুদ্ধ করা সৃষ্টির শানবিরোধী বা স্বভাববিরোধী কাজ। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, ‘পবিত্র দ্বীন ইসলাম ফিতরাতের ধর্ম বা স্বাভাবিকতার ধর্ম।’

উল্লেখ্য, যারা বলছে যে- খ্রিস্টানদের থেকে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের ধারা এসেছে- তাদের আদৌ কোনো দলীল নেই। বরং ধর্ম প্রবর্তকের জন্মদিন পালন প্রত্যেক ধর্মেরই স্ব-স্ব বৈশিষ্ট্য। এক্ষেত্রে মূলত জন্মদিন পালনে নিষেধাজ্ঞা নয়; বরং উদযাপনের পদ্ধতিটি সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার সম্মত হয় কিনা সে বিষয়ে খেয়াল রাখা বাঞ্ছনীয়।

Organiæed religions, such as Christianity, Islam and Hinduism celebrate the birth dates of their founders (Encyclopedia Americana)

“খ্রিস্টানরা এবং হিন্দুরাও তাদের ধর্ম প্রবর্তকের নামে জন্মদিন পালন করে এজন্য পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে করা যাবে না”- এ কথার উদাহরণটা হচ্ছে এরকম যে, খ্রিস্টান ও হিন্দু ধর্মে বাবা-মার প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য পালনের কথা আছে। সুতরাং মুসলমান হতে হলে বাবা-মার প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য বাদ দিতে হবে। নাঊযুবিল্লাহ!

উল্লেখ্য, রেনেসাঁর যুগে খ্রিস্টানদের একটি মহল বরং ক্রিসমাস পালন করাকে অধর্মীয় মনে করতো এবং এ অনুভূতির কারণে ১৬০০ সালে ইংল্যান্ড ও আমেরিকার কিছু অংশে তা নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়ে যায়।

During The Reformation Maû Christians began to consider christmas anon religious customs> During the 1600Õs. because of these reelings. Christmas was ourlawed in England and in parts of the British colonies in America. (The world Book Encyclopeadia-3)

পাশাপাশি Encyclopeadia Britannica -তে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এভাবে- spelled MAWLUD of MILAD in islam especially the birthday of the prophet MUHAMMAD (Mawlid an-Nabi)

লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে যে, বিশ্বব্যাপী চালু খ্রিস্টানদের এই বৃহৎ রেফারেন্স বইয়ে স্পষ্টভাবেই উল্লেখ আছে যে, পবিত্র পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ উনাকেই বোঝায়। অথবা ‘মীলাদ’ বলতে বিলাদত সম্পর্কিত আলোচনাকেই বোঝায়।

পবিত্র মীলাদ শরীফ যে বরং খ্রিস্টানদের বিরোধী প্রথা সে সম্পর্কেও খ্রিস্টানদের ওই বইয়েই লেখা রয়েছে, The Mawlid indeed betrayed a Chiristian influence.

উল্লেখ্য, এসব দুনিয়াবী দলীলের বাইরে খোদ পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে হযরত নবী আলাইহিমুস্ সালামগণ উনাদের আগমন দিন বা পবিত্র বিলাদত শরীফ উনার দিন উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করা সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘উনার প্রতি সালাম (রহমত, বরকত ও সাকীনা) যেদিন তিনি যমীনে তাশরীফ গ্রহণ করেন এবং যেদিন তিনি বিছাল শরীফ গ্রহণ করবেন এবং যেদিন তিনি পুনরুত্থিত হবেন।” (পবিত্র সূরা মরিয়ম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৫)

‘সালাম (রহমত, বরকত ও সাকীনা) আমার প্রতি যেদিন আমি যমীনে তাশরীফ গ্রহণ করেছি, যেদিন বিছাল শরীফ গ্রহণ করবো ও যেদিন পুনরুত্থিত হবো।” (পবিত্র সূরা মরিয়ম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩)

বর্ণিত পবিত্র আয়াত শরীফদ্বয়ে হযরত ইয়াহ্ইয়া আলাইহিস্ সালাম ও হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস্ সালাম উনাদের আগমন, পবিত্র বিছাল শরীফ ও পুনঃরুত্থান প্রত্যেকটাই সালাম, রহমত, বরকত ও সাকীনার কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

যদি তাই হয়, তাহলে যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আ’লামীন, খাতামুন্ নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সৃষ্টি না করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি কিছুই সৃষ্টি করতেন না; উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ, পবিত্র বিছাল শরীফ দিবস তথা মহিমান্বিত ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফে যে কতটুকু রহমত মুবারক, বরকত মুবারক ও সাকীনা মুবারক উনাদের কারণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

কিন্তু তারপরেও যারা পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পালনের বিরুদ্ধে বলে তারা মূলত রাষ্ট্রদ্বীন ইসলাম উনার বিরুদ্ধে বলে। সংবিধান অনুযায়ী তারা রাষ্ট্রদ্রোহী ও ধর্মদ্রোহী। কাজেই ৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত দেশের সরকরের উচিত- অবিলম্বে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুগপৎ রাষ্ট্রদ্রোহী ও ধর্মদ্রোহী অপরাধে সর্বোচ্চ শক্ত ও কঠোর শাস্তি প্রয়োগ করা। প্রয়োজনে আইন সংশোধন করা। সে ক্ষমতা বর্তমান সরকার; যারা “পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের খিলাফ কোনো আইন প্রণয়ন করবে না”- এ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাদের আছে।


-আল্লামা মুহম্মদ আরিফুর রহমান

প্রসঙ্গ: ইসরাইলি পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। ইসরাইলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধসহ কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা মুসলিম বিশ্বের এখন ফরযের উপর ফরয।

সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে বাজেটের ১১ শতাংশ। প্রত্যেক বছর বাজেটের আকার বাড়লেও এর সুফল পাচ্ছে না দেশ ও দেশের জনগণ। জনগণের উচিত সরকারকে বাধ্য করা- ঋণের ধারা থেকে সরে এসে অভ্যন্তরীণ অর্থ-সম্পদের দিকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটকে গণমুখী করার জন্য।

বাংলাদেশে জিএমও ফুড প্রচলনের সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে-২

পর্যবেক্ষক ও সমালোচক মহলের মতে- ভারতের কাছে দেশের স্বার্থ বিলিয়ে দেয়ার নিকৃষ্টতম উদাহরণ রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। মাত্র ১৫ ভাগ বিনিয়োগ করে ভারত মালিকানা পাবে ৫০ ভাগ। আর ধ্বংস হবে এদেশের সুন্দরবন। সুন্দরবনকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে (২)

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতোই রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ভয়াবহ। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে কিন্তু রূপপুর অজ্ঞতার আঁধারেই রয়ে গেছে? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়টি বিশেষভাবে আমলে নিতে হবে। প্রয়োজনে সচেতন জনগণকেই প্রতিহত করতে হবে (২)