কথিত জাতীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য এবং প্রসঙ্গ কথা।

সংখ্যা: ২০৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

দেশের ৯৭ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমান। মুসলমানের প্রাণাধিক দ্বীনের নাম ইসলাম। ইসলাম কথিত রাষ্ট্রধর্মও বটে। ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম পরিপূর্ণ ধর্ম। ইসলামে রয়েছে অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি যথাযথ বিধিবিধান। যা অন্য কোনো ধর্মে বর্ণিত হয়নি।
অন্য ধর্মাবলম্বীরা সে কারণে নিজেদের রক্ষার্থে কথিত ধর্মনিরপক্ষতার আশ্রয় চায়। কিন্তু ইসলামের মর্মবাণীই যে তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতার কথিত সুবিধা দেয় তা গত ৮ ফেব্রুয়ারি/২০১১ ঈসায়ী মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমামদের জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতায় পরোক্ষভাবে প্রতিভাত হয়েছে। কিন্তু প্রত্যক্ষভাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ হচ্ছে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে তাদের ধর্মীয় রীতি-নীতি পালন করবে।’ আর এটিই হচ্ছে ইসলামের মর্মবাণী।
আমাদের প্রশ্ন হলো- যা ইসলামের মর্মবাণী তাকে ইসলাম বলেই প্রচারণা চালানো হোক। সেটাকে তো কথিত ধর্মনিরপেক্ষতা বলে প্রচারণার কোনো অর্থ নেই। বিশেষ করে যেখানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং দেশবাসী ৯৭ ভাগই মুসলমান। সেখানে তো এর কোনোই প্রয়োজন নেই। তদুপরি ইসলামের দেয় সুবিধাকে মানুষ ইসলাম হিসেবেই জানুক। তাকে অন্য নামে অভিহিত করার প্রয়োজন কী?
বলাবাহুল্য, দেশের ৯৭ ভাগ অধিবাসী মুসলমান ও তাদের দ্বীন ইসলাম আজ গভীর ও ব্যাপক এবং সূক্ষ্ম ও দুরভিসন্ধিমূলক ষড়যন্ত্রের শিকার।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমামদের জাতীয় সম্মেলনে এটা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। সম্মেলনে তিন হাজার ইমামদের আবহে শুধু ভাষার মাসের মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু ‘ভাষাকে মুহব্বত করা ঈমানের অঙ্গ’ বলে যে ইসলাম প্রতিপন্ন করেছে; সে ইসলামের সুমহান মাস, সর্বশ্রেষ্ঠ মাস- শাহরুল আ’যম, রবীউল আউয়াল শরীফ-এর কথা একবারও উচ্চারণ করা হয়নি।
হাজারো আলোচনা হয়েছে কিন্তু এ মহান সম্মানিত মাসের উপস্থিতি ও মহান বরকত, ফযীলতের কথা একবারও আলোচনায় আসেনি। এমনকি মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে আসন্ন সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন প্রসঙ্গে কোনো পরিকল্পনা, ইচ্ছা ও গুরুত্ব- কিছুই বর্ণনা করা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী দেশে ইসলামী মূল্যবোধের প্রচার ও প্রসারে তার সরকারের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ের জন্য জমি বরাদ্দ, ইমাম-মোয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন, হজক্যাম্প স্থাপন, ১শ’ মাদরাসায় ভোকেশনাল শিক্ষা কোর্স চালু, মাদরাসা শিক্ষা সময়োপযোগী করা, জাতীয় হজনীতি-২০১০ ঘোষণা এবং বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকা- বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কথায়ই প্রতিপন্ন হচ্ছে, দেশে ইসলামী মূল্যবোধ প্রচার ও প্রসারে সরকারের করণীয় আছে। কিন্তু এজন্য প্রধানমন্ত্রী যতটুকু করেছেন তাই কী পর্যাপ্ত?
বলা চলে এটা সিন্ধুর তুলনায় বিন্দুও নয়। শুধু এক বায়তুল মোকাররম মসজিদই সম্প্রসারণ করলে দায়িত্ব শেষ। বাকী পাঁচ লক্ষ মসজিদের দায়িত্ব নিবে অন্য কোন সরকার?
প্রধানমন্ত্রী শুধু ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জন্য জমি বরাদ্দ করেছেন; আরো যে লাখ লাখ মসজিদ-মাদরাসার জায়গা প্রয়োজন সেগুলো বরাদ্দ করবে কে?
সর্বোপরি মসজিদ-মাদরাসায় যা শিক্ষা হয়- পর্দা পালন, ছবি হারাম, খেলাধুলা হারাম- এসব হারাম কাজ বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করবে কি?
প্রধানমন্ত্রী সীমিত কিছু সংখ্যক মসজিদ-মাদরাসার জমি ও অর্থ দিবেন; কিন্তু বৃহৎ পরিসরে দেশের পাঁচ লাখ মসজিদে যে ইসলামী মূল্যবোধ শিক্ষা দেয়া হয়, রাষ্ট্রের প্রেক্ষাপটে তা প্রতিফলনের কোনো অবকাশই নিবেন না তা কী নির্মম প্রহসন ও প্রতারণা ভিন্ন অন্য কিছু?
প্রধানমন্ত্রী ইসলামী মূল্যবোধ প্রচার-প্রসারে তার সরকারের অবদান তুলে ধরতে কোশেশ করেছে। কিন্তু তিনি ভেবে দেখেছেন কি- কথিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন দেশের ৯৭ ভাগ মুসলমানদের মাঝে ইসলামী মূল্যবোধ সঞ্চারের জন্য মোটেও কিছু নয়। এরকম প্রতিষ্ঠান আরো অনেক তো বটেই পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানকে পর্যাপ্ত ক্ষমতা দেয়া দরকার। দরকার ইসলাম বিরোধী কোনো অনুষঙ্গ যাতে অনুশীলিত না হয়- তা মনিটরিং করে সক্রিয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান তৈরি করা এবং হক্কানী-রব্বানী আলিমদের নিয়োগ দেয়া। প্রসঙ্গত নিধিরাম সর্দার কথিত বর্তমান ইসলামিক ফাউন্ডেশনও কোন পর্যায়ের লোকদের হাতে ন্যস্ত রয়েছে তাও প্রধানমন্ত্রী হাতে-নাতে প্রমাণ পেয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী গত বৎসর ইমাম সম্মেলনে কুরআন শরীফ-এর তরজমা ও ব্যাখ্যা সিডি ও ওয়েব সাইটে দেয়ার যে কথা বলেছিলেন সেই একই কথা তাকে এবারের সম্মেলনেও বলতে হয়েছে। অর্থাৎ এই একটি বছর শুধু ফাওই গিয়েছে। খোদ প্রধানমন্ত্রীর কথাই আমলে নেয়নি ডিজিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বলাবাহুল্য, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই জাতীয় ইমাম সম্মেলনে বক্তারা বারবার ভাষার মাসের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেছে। যা মূলত বাংলা একাডেমীর মুখ্য কাজ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন সে অর্থে বাংলা একাডেমির কাজ করেছে। কিন্তু ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিজস্ব ফরয কাজটি আদৌ করেনি।
প্রসঙ্গত যে কথিত তিন হাজার ইমাম কথিত জাতীয় ইমাম সম্মেলনে হাজির হয়েছে তাদের সম্পর্কেও ভাবতে হবে। কারণ, এরা যদি সত্যিই শাশ্বত ইমামের মূল্যবোধ নিয়ে থাকতো তাহলে তারা
প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থিত হতো না।
প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ক্রেস্ট নিতো না।
ছবি তুলতো না।
এসব কথা প্রধানমন্ত্রী তার নিজস্ব পারিবারিক মূল্যবোধ থেকেও জানেন।
কিন্তু শাশ্বত মূল্যবোধ থেকে সরে এসে সে সব ইমামই যখন কথিত জাতীয় সম্মেলনে হাজির হন- তখন তাদেরকে ধর্মব্যবসায়ী ও ইসলামের অপব্যাখ্যাকারীদের সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান ‘উলুবনে মুক্তা ছড়ানো’ আর কিছুই নয়।
প্রসঙ্গত কথিত ইমাম সম্মেলন ইমাম সাহেবদের থেকে আহ্বান আসতে পারতো
উচ্চ আওয়াজ হতে পারতো যে,
ইমাম সাহেবরা তাদের কাজ ঠিক মতো করতে পারছেন না। বর্তমান রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় যেসব অনৈসলামী আবহ বিস্তার করা হচ্ছে তা রোধ না করা হলে ইমাম সাহেবদের নছীহত কার্যকর হচ্ছে না- তা প্রকাশ করা।
গান-বাজনা, খেলাধুলার ব্যাপক প্রচার-প্রসারে কেউ ইসলাম পালন করতে পারছেন না তা উল্লেখ করা এবং ৯৭ ভাগ মুসলমানদের মাঝে ইসলামী মূল্যবোধ সঞ্চার করার জন্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ইসলামী পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান করা।
কিন্তু কথিত ইমামরা কেউ এ আবেদনের ধারে কাছে যাননি। পাশাপাশি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও ইমাম সাহেবরা যাতে এরকম একটা আবেদন করতে পারেন সেরকম আবহ তৈরি করা হয়নি।
বিপরীত দিকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় একই দিনে স্বরসতি পূজার জন্য বিপুল উৎসাহ ও অর্থ দেয়া হয়। খোদ প্রধান বিচারক স্বরসতির অনুকরণে বিদ্যা অর্জনের পরামর্শ দিয়েছে এবং হিন্দুদের পক্ষ থেকে এসব পূজাকে মুসলমানদের জন্যও সংস্কৃতিক উৎসব বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নাঊযুবিল্লাহ! বিভিন্ন হিন্দু সচিবসহ মন্ত্রী-এমপি তথা সরকারের শীর্ষ মহলের পৃষ্ঠপোষকতার কারণেই হিন্দুরা এতটা বলতে ও করতে সাহস পেয়েছে।
কিন্তু ৯৭ ভাগ মুসলমানের এদেশের ইমামদের জাতীয় সম্মেলনের কথা পরদিন পেপার-পত্রিকায় খুব কমই এসেছে।
মূলত এর পিছনে ইসলাম ও মুসলমান নিয়ে সরকারের উদাসীনতা, অনাগ্রহই দায়ী। যা ৯৭ ভাগ মুসলমানের এদেশে কাম্য নয়। রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের এদেশে কাঙ্খিত নয়।
“কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ বিরোধী কোনো আইন পাস হবে না এবং ইসলাম ধর্মের মূল্যবোধ ও শিক্ষা প্রচারে ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতা করা হবে” -এ নির্বাচনী প্রতিশ্রতির সরকারের জন্য আদৌ শোভন নয়।
বরং ৯৭ ভাগ মুসলমানদের ধর্মীয় চেতনা ও বিশ্বাসের সাথে সংঘাতময় ও সহিংসতাপূর্ণ।
সঙ্গতকারণেই সরকারকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

– মুহম্মদ জিসান আরীফ, রাজশাহী।

প্রসঙ্গ: ইসরাইলি পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। ইসরাইলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধসহ কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা মুসলিম বিশ্বের এখন ফরযের উপর ফরয।

সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে বাজেটের ১১ শতাংশ। প্রত্যেক বছর বাজেটের আকার বাড়লেও এর সুফল পাচ্ছে না দেশ ও দেশের জনগণ। জনগণের উচিত সরকারকে বাধ্য করা- ঋণের ধারা থেকে সরে এসে অভ্যন্তরীণ অর্থ-সম্পদের দিকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটকে গণমুখী করার জন্য।

বাংলাদেশে জিএমও ফুড প্রচলনের সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে-২

পর্যবেক্ষক ও সমালোচক মহলের মতে- ভারতের কাছে দেশের স্বার্থ বিলিয়ে দেয়ার নিকৃষ্টতম উদাহরণ রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। মাত্র ১৫ ভাগ বিনিয়োগ করে ভারত মালিকানা পাবে ৫০ ভাগ। আর ধ্বংস হবে এদেশের সুন্দরবন। সুন্দরবনকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে (২)

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতোই রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ভয়াবহ। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে কিন্তু রূপপুর অজ্ঞতার আঁধারেই রয়ে গেছে? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়টি বিশেষভাবে আমলে নিতে হবে। প্রয়োজনে সচেতন জনগণকেই প্রতিহত করতে হবে (২)