কন্যা সন্তানের গুরত্ব ও ফযীলত

সংখ্যা: ২৮৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব মাহবুব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের তরফ  থেকে কন্যা সন্তান মাতা-পিতা তথা পরিবারের জন্য একটি বিশেষ শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। কন্যা সন্তানকে অশুভ বা বোঝা মনে করা কাফিরদের বদ স্বভাব। কন্যা সন্তানকে পছন্দ করা খাছ সুন্নত, অপছন্দ করা কুফুরী। কন্যা সন্তান অকল্যানকর নয় বরং কন্যা সন্তান জন্ম নেয়া খোশ কিসমতী ও সৌভাগ্যের নিদর্শন।

হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত হয়েছে, ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘ওই স্ত্রী স্বামীর জন্য অধিক বরকতময়, যার দেন-মোহরের পরিমান কম হয় এবং যার প্রথম সন্তান হয় মেয়ে।’

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, ‘যার গৃহে কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহন করল, অতঃপর সে তাকে (কন্যাকে) কষ্টও দেয়নি, তার ওপর অসন্তুষ্টও হয়নি এবং পুত্র সন্তানকে প্রাধান্য দেয়নি, তাহলে ওই কন্যার কারণে মহান আল্লাহ পাক তিনি ঐ ব্যাক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’ (মুসনাদে আহমদ শরীফ)

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন- “কারো যদি তিনটা মেয়ে থাকে সে যদি উপযুক্ত শিক্ষা অর্থাৎ দ্বীনি তা’লীম-তালকীন দিয়ে সৎপাত্রে বিয়ে দেয় তাহলে সে এবং আমি এইভাবে থাকবো।” তখন হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা মুবারক করলাম- ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যদি দু’জন হয়? তখন উনি জবাব মুবারক দিলেন তাহলেও এভাবে আমি থাকবো। সুবহানাল্লাহ!

আরেক পবিত্র হাদীছ শরীফে হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা মুবারক করলাম ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যদি কারো একজন মেয়ে সন্তান থাকে- তাহলে? তখন তিনি জবাব মুবারক দিলেন সে আর আমি এভাবেই থাকবো। সুবহানাল্লাহ!

অর্থাৎ কোনো পিতা মেয়েদের দ্বীনি তা’লীম-তালকীন দিয়ে নেককার পরহেযগার করে এবং নেককার পরহেযগার পাত্রের সাথে বিয়ে দেয় তাহলে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উক্ত পিতা একত্রে জান্নাতে থাকবেন। সুবহানাল্লাহ!

উল্লেখিত বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, কন্যা সন্তান মহান আল্লাহ পাক উনার এক বিশেষ নেয়ামত। সুতরাং কন্যা সন্তানকে বেশি করে ভালোবাসুন। আদর-সোহাগ করুন আর মায়া-মমতা দিয়ে লালন-পালন করুন।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার প্রতি লক্ষ্য রেখে কন্যা সন্তানকে যথাযথভাবে আদর যত্ন করুন। উল্লেখ্য, কন্যা সন্তান মহান আল্লাহ পাক তিনি দানকৃত বিশেষ নেয়ামত ঠিক কিন্তু পুত্র সন্তানও কিন্তু কোনো অংশে কম নয়। এই আলোচনার উদ্দেশ্য হচ্ছে, কন্যা সন্তানের প্রতি বিরুপ মানসিকতা পরিহার করা। একমাত্র ছেলে সন্তানের কামনায় কন্যা সন্তানকে অবহেলার পাত্র না বানানো। অধিকাংশ লোকের পুত্র সন্তানের তুলনায় কন্যা সন্তানের প্রতি মুহব্বত কম থাকে। মুহব্বতের সম্পর্ক হলো অন্তরের সাথে। এতে মানুষের ইচ্ছার প্রাধান্য পায়না। তবে মুহব্বত প্রকাশ মানুষের ইচ্ছার অধীন। এ ক্ষেত্রে সমতা রক্ষা করা আবশ্যক।

হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, ‘যে ব্যক্তিকে কন্যা সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এবং সে ধৈর্যের সঙ্গে তা সম্পাদন করেছে সেই কন্যা সন্তান তার জন্য জাহান্নাম থেকে আড়াল হবে। (তিরমিযী শরীফ)

বর্তমানে অধিকাংশ মেয়ে সন্তানদের দ্বীনি তা’লীম-তালক্বীন দেয়া হয় না; বরং বলে থাকে আমার এই মেয়েকে পুরুষের মতো করে স্বাবলম্বী করে তুলবো। যার কারণে এই স্বাবলম্বীর আকাঙ্খা পিতা-মাতার জন্য আযাব-গযবে পরিণত হয়। নাউযুবিল্লাহ!

প্রকৃতপক্ষে একজন মেয়ে আল্লাহওয়ালী হলেই একটা সমাজ আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী হওয়া সহজ হয়। কেননা একটি মেয়ে এক সময় মা হয়। আর একজন মা যখন আল্লাহওয়ালী হয় তখন তার সন্তান-সন্তুতিগণ সহজেই আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী হয়। সুবহানাল্লাহ!

তাই প্রত্যেক পিতা-মাতাকে তাদের ছেলে সন্তানের পাশাপাশি মেয়ে সন্তানের তা’লীম-তালক্বীন অর্থাৎ দ্বীনি শিক্ষায় সচেতন হওয়া বাঞ্চণীয়। যখন সমাজের সব মেয়েরা দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত হবে, সমাজ হবে কলুষমুক্ত, ফিতনা-ফাসাদ মুক্ত। সুবহানাল্লাহ!

কন্যা সন্তানকে সঠিক দ্বীনি ইলম শিক্ষা অর্জনের সঠিক স্থান হলো একমাত্র ঢাকা রাজারবাগ দরবার শরীফস্থ মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ বালিকা মাদরাসা। যা মুজাদ্দিদে আ’যম, সুলতানুন নাছির সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি এবং কায়িম মাক্বামে উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং উনাদেরই মুবারক পৃষ্ঠপোষকাতায় পরিচালিত হচ্ছে। যেখানে খাছ পর্দার সাথে পবিত্র ইলমে ফিক্বাহ ও পবিত্র ইলমে তাসাউফসহ পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনার আলোকে শিক্ষা দিয়ে হাক্বীক্বী আল্লাহওয়ালী বানানো হয়। সুবহানাল্লাহ! তাই আজই আপনার কন্যা সন্তানকে দেরি না করে ঈমান-আক্বীদা আমল হিফাযত করার একমাত্র সু-প্রতিষ্ঠান মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফে নিয়ে আসুন।

-তাসনীম আহমদ খান।

 

পারিবারিক তা’লীম

ঈমানদীপ্ত সম্মানিত মহিলা : হযরত উম্মু উমারা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা

ছাহিবাতু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, ছাহিবায়ে নেয়ামত, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র ই’জায শরীফ

ছাহিবাতু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, ছাহিবায়ে নেয়ামত, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীনআলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র ই’জায শরীফ

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নুরুদ দারাজাত মুবারকে মায়ের জন্য দুআ প্রাথর্না