করোনা ভাইরাসের গুজবে দেশ ও জাতি কি করুন পরিণতির দিকে যাচ্ছে। সরকারের কর্তাব্যক্তি ও তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা তা উপলব্ধি করতে হঠকারিতামূলক অজ্ঞতার পরিচয় দিচ্ছে। দেশের হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের চরম দুদর্শায় ফেলে সরকার সংবিধানের খেলাপ কাজ করছে। ‘করোনা-ছোঁয়াচে নয়’- পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার এই তথ্যের ভিত্তিতেই করোনার সমাধান সম্ভব।

সংখ্যা: ২৭৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

অভিজ্ঞমহল মনে করেন, সরকার অঘোষিত লকডাউন দিয়ে ঢাকাসহ সারাদেশ কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলছে। ঢাকাসহ সারাদেশে পরিবহণ খাতে- যারা বাস মিনিবাসের ড্রাইভার, সুপারভাইজার বা হেলপার হিসেবে কাজ করেন তারা মজুরি পান প্রতিদিনের ট্রিপ বা যাতায়তের উপর। যাত্রী ও যাতায়াত দুটিই কমে যাওয়ায় তাদের আয় অনেক কমে গেছে। পরিবহণ বন্ধ হয়ে গেলে মালিকরা তাদের কোনো মজুরি দেবে কিনা এখনও কিছু জানায়নি। অটোরিকশা ও রাইডশেয়ারিং-এ যারা কাজ করেন তাদের অবস্থাও নাজুক। যারা দিন মজুরের কাজ করেন তাদের হাতেও এখন কোনো কাজ নেই। কোনো রোজগার নাই। লকডাউন।

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের গুজবে তছনছ করে দিয়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। ভাইরাসের গুজব ঠেকাতে দেশ জুড়ে অবরুদ্ধ অবস্থার মধ্যে কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতদরিদ্র ও দিনমজুরা। কর্মহীন হয়ে পড়ায় করোনা আতঙ্কের পাশাপাশি জীবিকা নিয়ে বড় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। দিনে এনে দিনে খাওয়া শ্রমজীবী যেমন-মুটে, মজুর, রিকশাওয়ালা, অটোরিকশা-টেম্পো চালক-হেলপার, সবজি-ফল ও চা-পান বিক্রেতা এবং কুলিসহ নিম্ন আয়ের লক্ষ লক্ষ মানুষ চোখে সর্ষে ফুল দেখছেন। কর্মহারা গৃহকর্মী ও দৈনিক আয়ের ভিত্তিতে নানা ধরনের কাজ করে যারা বস্তিতে বসবাস করেন তারাও পরিবারের অন্নের যোগান নিয়ে দিশেহারা পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে গেছেন। বিচ্ছিন্ন সময়কালে প্রতিদিনের খাদ্য, ওষুধ ও পরিচ্ছন্নতাসামগ্রী কেনার অর্থের উৎস হারিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছেন সমাজের এই দরিদ্র শ্রেণির মানুষ।

করোনা গুজবে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর দরিদ্র মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে। শহরের গরিবদের আয়, বসতি, খাদ্য ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা শহরের অর্থনীতির সফলতার উপরে নির্ভরশীল। শহরের অর্থনীতি কোনো কারণে অচল হয়ে গেলে সেখানকার গরিব মানুষেরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন। বাড়িভাড়া থেকে শুরু করে খাবার কেনা সবকিছু তারা নগদ অর্থ দিয়ে কিনে থাকেন। রিকশাচালক, পরিবহনশ্রমিক, হকার, তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক, অন্যান্য শিল্প-কারখানার শ্রমিক ও নিম্নস্তরের কর্মচারীরা এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তাই বর্তমান লকডাউন পরিস্থিতিতে তাদের জীবনধারণ একপ্রকার অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ঢাকা শহরে রিকশাচালক আছে ১১ লাখ। তাদের উপরে নির্ভরশীল পরিবারের সংখ্যা কমপক্ষে ৫০ লাখ। এই রিকশাচালকদের ৯৪ শতাংশ বছরের বেশিরভাগ সময় নানা রোগে ভোগেন। বিশেষ করে জ্বর-কাশি, ঠান্ডা, গায়ে ব্যথা, দুর্বলতা লেগেই থাকে। রিকশাচালকের পরিবারের মাসে গড় আয় ১৩ হাজার ৩৮২ টাকা। এরমধ্যে ৬৮ শতাংশই আসে রিকশা চালনা থেকে। ৯০ শতাংশ পরিবারের আয়ের উৎস রিকশা চালনা। এক-তৃতীয়াংশ চালকের কোনো ভূমি নেই। পরিবহন খাতের সঙ্গে সারা দেশে প্রায় ৭০ লাখ শ্রমিক জড়িত। আর তৈরি পোশাক খাত ও বস্ত্রকলগুলোয় মোট শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৪৫ লাখ। গত পরশু দেশের সব কারখানাগুলোও বন্ধের ঘোষণা এসেছে। কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে গেলে এসব শ্রমিকের খাদ্যের জোগান কোথা থেকে আসবে এই চিন্তাই জলন্ত প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কাজ নেই, আয়-রোজগার নেই। খরচ আছে। যারা দিন আনে, দিন খায়; কাজ না করলে একদিনও চলে না, তারা এখন দিশেহারা। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় জনসমাগম বন্ধে পুলিশের কড়া পাহারা চলছে রাজধানীর সর্বত্র। ফলে বেকার হয়ে পড়েছে স্বল্প আয়ের অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষ। হাত গুটিয়ে বসে আছে তারা। দোকানপাট, ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ। কোথাও কাজ নেই। এ পরিস্থিতিতে পেটে ভাত জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বেকার হওয়া সাধারণ মানুষের দুর্দশার চিত্র দৈনিক আল ইহসান শরীফের নজরে এসেছে। শ্রমিক, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হকার, ঠেলাগাড়ি চালক, রিকশাচালক, মিন্তি, ফড়িয়া, কয়ালরা চরম সংকটের মাঝে দিন কাটাচ্ছে। তথাকথিত লকডাউন হওয়ায় স্বল্প আয়ের মানুষেরা এখন বেকার।

বেসরকারি খাত সাধারণ ছুটির আওতায়। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তা সবার যখন কাজকর্ম বন্ধ, এ অবস্থা কত দিন চলবে এখনই বলা যাচ্ছে না। সেই অনিশ্চয়তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন শঙ্কা। কাজ ছাড়া কতদিন- উদ্যোক্তার মনে প্রশ্ন। কারখানা না চললে আয় নেই। কর্মীদের বেতনও নেই। বেসরকারি চাকরিজীবীর শঙ্কা- এভাবে চলতে থাকলে কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেলে ভবিষ্যৎ কী হবে? আর যারা আত্মকর্মসংস্থানে আছেন, সামান্য ঋণ নিয়ে ছোটোখাটো কিছু করে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালোই চলছিলেন, তাদের কী হবে? সবাই চরম শঙ্কায়।

আর্থিক খাতের সূত্রগুলো বলেছে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চরম আর্থিক ও মানবিক সংকট দেখা দিতে পারে। তখন হাতে নগদ টাকার সংকট বাড়বে এবং সংকট অব্যাহত থাকলে মানুষের ভোগ্যপণ্য কেনার ক্ষমতাও দিন দিন হ্রাস পাবে। আর তাতে উৎপাদক থেকে সাধারণ বিক্রেতা এবং ক্রেতা- সব পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ব্যবসায়ীরাও বলেছেন, করোনা নিয়ে যেসব সতর্ক বার্তা আসছে তাতে কোনো ধরনের খামখেয়ালিপনার সুযোগ নেই। আর্থিক সক্ষমতা না থাকলে পণ্যের মজুত দিয়েও কোনো লাভ হবে না, যদি সাধারণ মানুষ ভোগ্যপণ্য কিনতে না পারে।

অভিজ্ঞমহল মনে করছেন করোনা নিয়ে সরকার যা করছে তা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। কারণ সংবিধানের ২(ক) অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে, রাষ্ট্রদ্বীন পবিত্র দ্বীন ইসলাম। কাজেই পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার আলোকেই সমস্যার সমাধান করতে হবে। পবিত্র দ্বীন ইসলাম ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ স্বীকার করেনা। অথচ পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র সুন্নাহ শরীফ বিরোধী কোন আইন পাশ করা হবেনা- প্রতিশ্রুতির সরকার করোনা ভাইরাস ছোঁয়াচে প্রচার করে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের বিরোধী কথাই প্রচার করছে এবং দেশের প্রায় ২৫ কোটি লোককে দুর্ভিক্ষ, চিকিৎসাহীনতা, অনিরাপত্তা, অনিশ্চয়তা ও অরাজকতার দিকে ঠেঁলে দিচ্ছে। অথচ পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সুমহান দ্বিতীয় খলীফা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছিলেন, “ফোরাতের তীরে একটা কুকুরও যদি না খেয়ে মরে থাকে তবে আমি ‘হযরত খত্তাব আলাইহিস সালাম’ উনাকে তার জবাব দিতে হবে। সুবহানাল্লাহ! সেক্ষেত্রে ২৫ কোটি লোককে মহাদুর্ভোগে ফেলার দায়-দায়িত্ব সরকারের কর্তাব্যক্তিদেরই নিতে হবে।

-মুহম্মদ ওয়ালীউল্লাহ, ঢাকা।

প্রসঙ্গ: ইসরাইলি পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। ইসরাইলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধসহ কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা মুসলিম বিশ্বের এখন ফরযের উপর ফরয।

সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে বাজেটের ১১ শতাংশ। প্রত্যেক বছর বাজেটের আকার বাড়লেও এর সুফল পাচ্ছে না দেশ ও দেশের জনগণ। জনগণের উচিত সরকারকে বাধ্য করা- ঋণের ধারা থেকে সরে এসে অভ্যন্তরীণ অর্থ-সম্পদের দিকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটকে গণমুখী করার জন্য।

বাংলাদেশে জিএমও ফুড প্রচলনের সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে-২

পর্যবেক্ষক ও সমালোচক মহলের মতে- ভারতের কাছে দেশের স্বার্থ বিলিয়ে দেয়ার নিকৃষ্টতম উদাহরণ রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। মাত্র ১৫ ভাগ বিনিয়োগ করে ভারত মালিকানা পাবে ৫০ ভাগ। আর ধ্বংস হবে এদেশের সুন্দরবন। সুন্দরবনকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে (২)

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতোই রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ভয়াবহ। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে কিন্তু রূপপুর অজ্ঞতার আঁধারেই রয়ে গেছে? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়টি বিশেষভাবে আমলে নিতে হবে। প্রয়োজনে সচেতন জনগণকেই প্রতিহত করতে হবে (২)