কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার জন্য চির মালউন ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি অবশ্যই দায়ী এবং সে কাফির

সংখ্যা: ২৮০তম সংখ্যা | বিভাগ:

সমাজে একশ্রেনীর মানুষ বের হয়েছে যারা ইবলিসের চাইতেও নিকৃষ্ট। তারা প্রচার করছে হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার শাহাদাতের ব্যাপারে মালউন ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি দায়ী নয়। মালউন ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি নাকি এ ব্যাপারে কোন আদেশ দেয়নি। বরং মুবারক শাহাদাতের সংবাদ শুনে কান্না করেছিলো। নাউযুবিল্লাহ। আমরা পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ এবং বিখ্যাত মুহাদ্দিছ ও ইতিহাসবিদ উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের কিতাব থেকে প্রমাণ করবো মালউন ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহির নির্দেশে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করা হয় (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক, নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক, নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক)।

কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা বিষয়ে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য কিতাবে ইয়াযীদকেই দায়ী করা হয়েছে। সেই সাথে পরবর্তীতে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কর্তিত মস্তক মুবারকের সাথে তার চরম বেয়াদবি ও আহলে বাইতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বন্দি করে উনাদের সাথে চরম বেয়াদবি করার দলীল অসংখ্য নির্ভরযোগ্য কিতাবে মওজুদ রয়েছে।

সেই সাথে হাররার মর্মান্তিক ঘটনা ছহীহ সনদে প্রমাণিত। পবিত্র মক্কা শরীফ ও পবিত্র মদীনা শরীফে এহেন নেক্কারজনক কাজ নেই যা ইয়াযীদের বাহিনী করে নাই। অনেক ছাহাবী, তাবেয়ী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের রক্তের নদী প্রবাহিত হয়েছে, সহস্র সম্ভ্রান্ত নারীর সম্ভ্রম হনন করা হয়েছে, কা’বা শরীফে হামলা করা হয়েছে। মসজিদে নববীতে আযান ও নামায বন্ধ ছিলো ইত্যাদি……নাউযুবিল্লাহ!

এ সকল ঘটনাই নিম্নোক্ত হাদীছ শরীফ উনার ভবিষ্যৎবাণী ছহীহ হিসাবে প্রমাণ করে।

 

ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি

বিষয়ক ভবিষ্যৎবাণী

 

عَنْ حَضْرَتْ أَبِـيْ عُبَيْدَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰـى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَا يَزَالُ أَمْرُ أُمَّتِـيْ قَائِمًا بِالْقِسْطِ حَتّٰى يَكُوْنَ أَوَّلَ مَنْ يَّثْلِمُهٗ رَجُلٌ مِّنْ بَنِـيْ أُمَيَّةَ يُقَالُ لَهٗ يَزِيْدُ

অর্থ: হযরত আবু উবাইদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বণিত, তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার উম্মত সদা-সর্বদা ন্যায় পরায়নতার উপর অটল থাকবে যে পর্যন্ত না উমাইয়া গোত্রের এক ব্যাক্তি তা ধ্বংস করে দিবে, যার নাম হবে ইয়াযীদ।”

এ পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে প্রমাণ হলো দ্বীন ইসলাম উনাকে ধ্বংস করার জন্যই ইয়াযীদের আর্বিভাব হয়েছিল। সূতরাং ইয়াযীদের প্রতি লা’নত করার দলীল এখান থেকেই পাওয়া যায়।

এরপরও কি করে ইয়াযীদের ব্যাপারে সাফাই গাওয়া হয়? কি করে বলা হয় ইয়াযীদকে দায়ী করা যাবে না? একজন সাধারন মুসলমানকে হত্যা করা কুফরী হলে এহেন জঘন্য কর্মকা-ের পরও কি করে ইয়াযীদকে কাফির বলা যাবে না ? লা’নত করা যাবে না?

উপরোক্ত হাদীছ শরীফখানা উল্লেখ আছে, (মুসনাদে আবি ইয়ালা ২য় খন্ড ১৭৬ পৃষ্ঠা; হাদীছ নং ৮৭১, সাওয়ায়িকুল মুহাররিকা ২/৬৩২, ফয়দ্বুল ক্বাদীর শরহে জামিউছ ছগীর ৩/১২২, মাজমাউয যাওয়ায়িদ ৫/২৯২, জামিউছ ছগীর মিন হাদীছি বাশির ওয়ান নাজির ১/২৪৪, মুসনাদুল হাদীছ ২/৬৪২: ৬১৬, জামেউ জাওয়ামে ১৮৬৯, সিয়ারু আলামিন নুবালা ৭/৩৯, লিসানুল মিজান ৮/৫০৭, খাছায়েছুল কুবরা ২/২১০, সুবলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ১০/৮৯, বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৮/২৫৩, তারিখুল ইসলাম লি ইমাম যাহাবী ৩/১৮০, তারিখুল খুলাফা ১/১৮২, মুখতাছারু তারিখু দিমাষ্ক ৮/২৩৮)

উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা “মাজমাউয যাওয়ায়িদ” ৫ম খন্ডে ৪৩৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে। হাদীছ খানা উল্লেখ করে ইমাম নুরুদ্দীন ইবনে হাজার হায়তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,

رَوَاهُ أَبُوْ يَعْلٰى وَالْبَزَّارُ وَرِجَالُ أَبِـيْ يَعْلٰى رِجَالُ الصَّحِيْحِ إِلَّا أَنَّ مَكْحُوْلًا لَـمْ يُدْرِكْ أَبَا عُبَيْدَةَ

অর্থ: এই রেওয়ায়েত হযরত ইমাম আবু ইয়ালা ও ইমাম বাযযার রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবু ইয়ালা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বর্ণিত হাদীছ শরীফে সকল রাবী ছেকাহ। শুধু ইমাম হযরত মাকহুল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আবু উবাইদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাক্ষাৎ পাননি।

সাক্ষাত না পাওয়ার কারনে উছূলে হাদীছের দৃষ্টিতে যদিও মুনকাতে কিন্তু ইমাম মাকহুল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নির্ভরযোগ্য তাবেয়ী। সূতরাং বর্ণনাখানা গ্রহণযোগ্য।

আর ইয়াযীদের চারিত্রিক বিষয় সমূহ ও তার কর্মকা- উপরোক্ত হাদীছ শরীফ উনাকে ছহীহই প্রমাণ করে।

 

ইয়াযীদের চরম কুফরী ও বেয়াদবী

 

হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে ইয়াযীদের বেয়াদবির সাক্ষ্য দিয়েছেন ঐ মজলিসে উপস্থিত একজন সম্মানিত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। যখন হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত মাথা মুবারক ইয়াযীদের সামনে রাখা হলো তখন সে তার ছড়ি দিয়ে উনার ঠোঁট মুবারকে আঘাত করতে লাগলো। নাউযুবিল্লাহ। কিতাবে উল্লেখ করা হয়-

فَقَالَ رَجُلٌ مِّنْ أَصْحَابِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقَالُ لَهٗ أَبُوْ بَرَزَةَ الْأَسْلَمِيُّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰـى عَنْهُ أَتَنْكُتُ بِقَضِيْبِكَ فِـيْ ثَغْرِ الْـحُسَيْنِ عَلَيْهِ السَّلَامُ؟ أَمَّا لَقَدْ أَخَذَ قَضِيْبُكَ مِنْ ثَغْرِهٖ مَأْخَذًا كَرِيـْمًا رَأَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَرْشِفُهٗ، أَمَا إِنَّكَ، يَا يَزِيْدُ، تَـجِيءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَاِبْنُ زِيَادٍ شَفِيْعُكَ، وَيـَجِيْءُ هٰذَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمُـحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَفِيْعُهٗ .

অর্থ: “তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একজন ছাহাবী হযরত আবু বারাযাহ আসলামী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, তুমি কি তোমার ছড়ি দ্বারা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ঠোঁট মুবারকে আঘাত করছো? তোমার ছড়ি ঐ স্থানে আঘাত করছে যে স্থানে স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি চুম্বন মুবারক করতেন। হে ইয়াযীদ! কিয়ামতের দিন ইবনে যিয়াদ তোমার সুপারিশকারী হবে। আর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শাফায়াতকারী।” (জুমালুম মিন আনসাবিল আশরাফ ৩য় খন্ড ৪১৬ পৃষ্ঠা, লেখক: ইমাম আহমদ ইবনে ইয়াহিয়া ইবনে যাবির রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত: ২৭৯ হিজরী) , প্রকাশনা: দারুল ফিকর, বাইরুত- লেবানন)

উপরোক্ত ঘটনা তারিখে মাদীনাতু দিমাষ্ক ৬২ তম খন্ড ৮৫ পৃষ্ঠা, ইমাম তাবারীর ইশতিহাদু হুসাইন আলাইহিস সালাম ১৫৬ পৃষ্ঠা, কামিল ফিত তারিখ ৩য় খন্ড ৪৩৮ পৃষ্ঠা ৬১ হিজরীর আলোচনা অধ্যায়ে, উসদুল গাবা ফি মারিফাতিস সাহাবা লি ইবনুল আছির ৫ম খন্ড ৩০৬ পৃষ্ঠা, তারিখে উমাম ওয়াল মুলক ৩/৩৪১: ৬১ হিজরী, নাহাইয়াতুল আরব ফি ফুনুল আদব ২০ খন্ড ২৯৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে।

এ ঘটনা থেকে যা প্রমাণ হয়, ইয়াযীদের এমন নিকৃষ্ট কাজের সাক্ষী হচ্ছেন একজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কর্তিত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মস্তক মুবারক উনার ঠোঁট মুবারকে ইয়াযীদ আঘাত করছিলো। নাউযুবিল্লাহ। এ আঘাত করা থেকে প্রমাণ হয় ইয়াযীদের আদেশেই হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করা হয়েছে। ইয়াযীদের অন্তরে হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষে পরিপূর্ণ ছিলো। বিদ্বেষ বশত শহীদ করেই সে ক্ষান্ত হয়নি বরং তার বিদ্বেষ প্রকাশ করতে সে ঠোঁট মুবারকে আঘাত করছিলো। নাউযুবিল্লাহ।

উপরোক্ত ঘটনা সমূহ থেকে আরো প্রমাণ হয়, ইয়াযীদ ছিলো সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী, উনার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী। আর এ বিদ্বেষ থাকার কারণে তার অন্তরে কোন ঈমান থাকার চিন্তাও হাস্যকর। সে কাফির! সে কাফির! সে কাফির। অনন্তকাল ধরে ইয়াযীদ ও তার সমর্থকদের প্রতি লা’নত।

এখানেই শেষ নয়, আরো দলীল মওজুদ রয়েছে। শহীদ করার পর মালউন ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি খুশি প্রকাশ করে (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক, নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক, নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক)। শুধু তাই নয়, সে মহাসম্মানিত মস্তক মুবারক উনার সাথেও চরম বেয়াদবীমূলক আচরণ করে (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক, নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক, নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক)। যা ইতিহাসের পাতায় স্পষ্ট লেখা রয়েছে-

دَخَلَ بَعْضُ بَنِـيْ أُمَيَّةَ عَلٰى يَزِيْدَ فَقَالَ أَبْشِرْ يَا أَمِيْرَ الْـمُؤْمِنِيْنَ فَقَدْ أَمْكَنَكَ اللهُ مِنْ عَدُوِّ اللهِ وَعَدُوِّكَ يَعْنِـيْ الْـحُسَيْنَ بْنَ عَلِيٍّ عَلَيْهِ  السَّلَامُ قَدْ قُتِلَ وَوُجِّهَ بِرَأْسِهٖ إِلَيْكَ فَلَمْ يَلْبَثْ إِلَّا َأَيَّامًا حَتّٰـى جِيْءَ بِرَأْسِ الْـحُسَيْنِ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَوُضِعَ بَيْنَ يَدَيْ يَزِيْدَ فِـيْ طَشْتٍ، فَأَمَرَ الْغُلَامَ فَرَفَعَ الثَّوْبَ الَّذِيْ كَانَ عَلَيْهِ فَحِيْنَ رَاٰهُ خَـمْرَ وَجْهِهٖ بِكَمِّهٖ كَأَنَّهٗ يَشُمُّ مِنْهُ رَائِحَةً، وَقَالَ اَلْـحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ كَفَانَا الْـمُؤْنَةَ بِغَيْرِ مُؤْنَةٍ كُلَّمَا أَوْقَدُوْا نَارًا لِّلْحَرْبِ أَطْفَأَهَا اللهُ سُوْرَةُ الْـمَائِدَةِ اٰيَةُ64، قَالَتْ رَيَّا فَدَنَوْتُ مِنْهُ فَنَظَرْتُ إِلَيْهِ وَبِهٖ رَدْعٌ مِّنْ حِنَّاءَ قَالَ حَـمْزَةُ فَقُلْتُ لَـهَا اَقَرَعَ ثَنَايَاهُ بِالْقَضِيْبِ كَمَا يَقُوْلُوْنَ؟ قَالَتْ أَيْ وَالَّذِيْ ذَهَبَ بِنَفْسِهٖ وَهُوَ قَادِرٌ عَلٰى أَنْ يَّغْفِرَ لَهٗ لَقَدْ رَأَيْتُهٗ يَقْرَعُ ثَنَايَاهُ بِقَضِيْبٍ فِـيْ يَدِهٖ

অর্থ: বনু উমাইয়ার কিছু লোক মালউন ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহির কাছে আসে এবং বলে, হে আমীরুল মু’মিনীন (আসতাগফিরুল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!) সুসংবাদ গ্রহণ করো। আল্লাহ পাক তোমাকে বিজয় দান করেছেন খোদার দুশমন আর তোমার দুশমনের বিরুদ্ধে (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক! নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক! নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক!)। হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করা হয়েছে। উনার সম্মানিত ছের মুবারক পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মস্তক মুবরাক এসে পৌঁছালো। তখন একটা প্লেটে করে মহাসম্মানিত মস্তক মুবারক মালউন ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহির সামনে আনা হলো। তখন সে তার গোলামকে সেই প্লেট থেকে কাপড় সরাতে হুকুম করলো, সে তখন কাপড় সরালো। এটা দেখে মালউন ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহির চেহারা পরিবর্তন হয়ে গেলো, সে যেন সুগন্ধি নিচ্ছিলো (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক, নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক, নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক)। সে বললো, আলহামদুল্লিাহ! এত সহজেই আল্লাহ পাক আমাকে বিজয় দিয়েছেন (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক, নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক, নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক)। এরপর সে কুরআন শরীফ থেকে

كُلَّمَا أَوْقَدُوْا نَارًا لِّلْحَرْبِ أَطْفَأَهَا اللهُ

(পবিত্র সূরা মায়েদা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৪)

এ আয়াত শরীফ পড়লো। রাইয়া বলছে, আমি তখন তার দিকে তাকালাম। হামজা রইয়াকে প্রশ্ন করলো মালউন ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি কি বেত দিয়ে আঘাত করেছিলো। সে বললো মহান আল্লাহ পাক উনার জাতের কসম! আমি দেখেছি মালউন ইয়াযীদ বেত দিয়ে উনার মহাসম্মানিত দাঁত মুবারকে আঘাত করছে (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক, নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক, নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক)। (তারিখু মাদীনাতু দামেস্ক ৬৯তম খন্ড ১৫৯ পৃষ্ঠা; লেখক: ইমাম ইবনে আসাকীর রহমতুল্লাহি আলাইহি; জন্ম ৪৯৯ হিজরী- ওফাত ৫৭১ হিজরী; প্রকাশনা: দারুল ফিকর, বাইরুত, লেবানন)

একটু অগ্রসর হয়ে ইমাম হযরত ইবনে আসাকীর রহমতুল্লাহি আলাইহি হামজার বরাতে লিখেন-

أِنَّهٗ رَأٰى رَأْسَ الْـحُسَيْنِ عَلَيْهِ السَّلَامُ مَصْلُوْبًا بِدِمَشْقَ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ

অর্থ: হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান মস্তক মুবারক দামেস্কে ৩ দিন ঝুলানো ছিলো। (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক! নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক! নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক!)

উপরোক্ত ঘটনা থেকে যা প্রমাণ হলো, হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মালউন ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি ভয়ানক বিদ্বেষ পোষণ করতো। উনাকে দুশমন মনে করতো। মহাসম্মানিত মস্তক মুবারক দেখে সে খুশি হয় এবং চরম বেয়াদবী করে বেত দিয়ে মহাসম্মানিত দাঁত মুবারকে আঘাত করতে থাকে। এখানেই শেষ নয় বরং এই কাট্টা কাফির, চির জাহান্নামী মালউন ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি মহাসম্মানিত মস্তক মুবারক উনাকে ৩ দিন দামেস্কের ফটকে ঝুলিয়ে রাখে। (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক! নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক! নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক!)

তাহলে কি করে বলা যায় যে কারবালার সেই নির্মম ঘটনার জন্য সে দায়ী নয়? বরং এটাই প্রমাণ হলো, তার আদেশেই কারবালার সেই নির্মম ঘটনা সংঘটিত হয়। আজ যারা মালউন ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহিকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চায়, মালউন ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহিকে বিখ্যাত তাবেয়ী বলে প্রচার করতে চায়, বুঝতে হবে এরাই হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের পক্ষ ছেড়ে মালউন ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহির পক্ষ নিয়েছে। বুঝতে হবে, এরাই বর্তমান মালউন ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহির উত্তরসূরি। ইবলিছের চাইতেও এরা নিকৃষ্ট। অনন্তকালের জন্য এদের প্রতি লানত! লানত! লানত। মহান আল্লাহ পাক তিনি এদের ধ্বংস করুন, লাঞ্ছিত করুন, এদের প্রতি লানত বর্ষন করুন। (আমীন)

 

ইয়াযীদের কুফরী ও বেয়াদবীর সাক্ষী

 

আবু মুহাম্মদ আলী ইবনে আহমদ ইবনে সাইদ ইবনে হাজম। স্পেনের কর্ডোভায় জন্মগ্রহণ করে। জন্ম ৩৮৪ হিজরী, মৃত্যু ৪৫৬ হিজরী। ইসলামে জাহিরি ধারার প্রবক্তা। সে হিসাবে ইয়াযীদের ইতিহাস ইবনে হাজমের ভালোই জানা আছে। এই ইবনে হাজম তার কিতাবে ইয়াযীদের চরিত্র উল্লেখ করেছে। সবচাইতে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে ইবনে হাজম তার লিখিত বই “জামহারাত আনসাব আল আরবে” যেখানে ইয়াযীদের কুৎসিত চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছে সেখানে ইয়াযীদকে আমীরুল মু’মিনীনও বলেছে (নাউযুবিল্লাহ)। খলীফা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সামনে এক ব্যক্তি ইয়াযীদকে “আমীরুল মু’মিনীন” বলায় ২০ বেত মারার ইতিহাস ইবনে হাজমের জানা ছিলো কিনা জানি না।

যাই হোক এই ইবনে হাজম তার কিতাবে ইয়াযীদ সর্ম্পকে লিখেছে-

وَيَزِيْدُ أَمِيْرُ الْـمُؤْمِنِيْنَ وَكَانَ قَبِيْحُ الْاٰثَارِ فِـي الْإِسْلَامِ قَتَلَ أَهْلَ الْـمَدِيْنَةِ، وَأَفَاضِلَ النَّاسِ وَبَقِيَّةَ الصَّحَابَةِ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُمْ يَوْمَ الْـحَرَّةِ فِـيْ اٰخِرِ دَوْلَتِهٖ وَقَتَلَ الْـحُسَيْنَ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَأَهْلَ بَيْتِهٖ فِـيْ أَوَّلِ دَوْلَتِهٖ وَحَاصَرَ اِبْنُ الزُّبَيْرِ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ فِـي الْـمَسْجِدِ الْـحَرَامِ وَاسْتَخَفَّ بـِحُرْمَةِ الْكَعْبَةِ وَالْإِسْلَامِ فَأَمَاتَهُ اللهُ فِـيْ تِلْكَ الْأَيَّامِ

অর্থ: “ইয়াযীদ (লা’নতুল্লাহি আলাইহি), পবিত্র দ্বীন ইসলামে অনেক খারাপ কাজ করেছে। সে তার রাজত্ব্যের শেষ দিকে হাররার দিনে সম্মানিত মদীনা শরীফের অধিবাসী, সম্মনিত ব্যক্তিবর্গ, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে অবশিষ্টদের শহীদ করে। তার রাজত্ব্যের প্রথম দিকে সে হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন হযরত আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শহীদ করে। পবিত্র মসজিদে হারামে ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে ঘেরাও করে। সে পবিত্র কা’বা শরীফ ও ইসলামের সম্মানকে ভুলন্ঠিত করে। আর এ সময়ের মধ্যে আল্লাহ পাক তার মৃত্যু দেন।” (জামহারাত আনসাব আল আরব ১১২ পৃষ্ঠা; লেখক: ইবনে হাজম; প্রকাশনা : দারুল মা’রিফা, মিশর)

ইবনে হাজমের উক্তি থেকেই ইয়াযীদের কুৎসিত চরিত্র ফুটে উঠেছে। সেই সাথে কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার জন্য সেই দায়ী এটাও প্রমাণিত হয়েছে। আর যার চরিত্রে এই পরিমান ইসলাম বিদ্বেষ সে নিঃসন্দেহে কাফির।

ইয়াযীদের কুফরীর সাক্ষ্য দিয়েছ স্বয়ং তার ছেলে:  সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করার পেছনে সরাসরি ইয়াযীদ দায়ী এ কথার সাক্ষী স্বয়ং ইয়াযীদের পুত্র মুয়াবিয়া ইবনে ইয়াযীদ। সে সরাসরি খুৎবা দিয়ে এই কথা ঘোষনা করে-

ثُمَّ قَلَّدَ أَبِـىْ يَزِيْدُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْأَمْرَ وَكَانَ غَيْرُ أَهْلٍ لَّهٗ وَ نَازَعَ اِبْنَ بِنْتِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَاٰلِهٖ وَسَلَّمَ، فَقَصَفَ عُمْرُهٗ، وَانْبَتَرَ عُقْبُهٗ، وَصَارَ فِـىْ قَبْرِهٖ رَهِيْنًا بِذُنُوْبِهٖ، ثُمَّ بَكٰى وَقَالَ مِنْ أَعْظَمِ الْأُمُوْرِ عَلَيْنَا عَلِمْنَا بِسُوْءِ مَصْرَعِهٖ وَبُؤْسِ مُنْقَلَبِهٖ، وَقَدْ قَتَلَ عِتْرَةَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ  وَأَبَاحَ الْـخَمْرَ وَخَرَّبَ الْكَعْبَةَ، وَلَـمْ أَذُقْ حَلَاوَةَ الْـخِلَافَةِ فَلَا أَتَقَلَّدُ مِرَارَتَـهَا، فَشَأْنُكُمْ أَمْرُكُمْ

অর্থ: “তারপর আমার পিতা (ইয়াযীদ) ক্ষমতা দখল করল। আর সে কোনভাবেই এর যোগ্য ছিলো না। সে (ইয়াযীদ) হযরত সাইয়্যিদুনা রসূলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বানাত উনার   ছেলের সাথে দ্বন্দ করেছে। সে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাতীকে শহীদ করেছে। এরপর সে তার জীবনের গুনাহ নিয়ে কবরে গিয়েছে। এরপর তিনি (মুয়াবিয়া ইবনে ইয়াযীদ) কাঁদতে লাগলেন । আমরা জানি তার (ইয়াযীদের) কত জঘন্যতম মৃত্যু হয়েছে। সে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বংশধরকে শহীদ করেছে এবং মদকে হালাল করেছে ও ক্বাবা শরীফ ধ্বংস করেছে। নাউযুবিল্লাহ! আর এ কারণে আমি খিলাফতের মিষ্টতার স্বাদ পাইনি। সুতরাং এটার (শাসনের) তিক্ততাকে আবার তোমরা নতুন করে বানিওনা আমার মাধ্যমে।” (দলীল: আস-সাওয়ায়িকুল মুহাররিকা ৬০১- ৬০২ পৃষ্ঠা; লেখক: হযরত ইবনে হাজার হায়তামী শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি, তারীখে ইসলাম ; লেখক: মুফতীয়ে আযম আমিমুল ইহসান মুজাদ্দেদী রহমতুল্লাহি আলাইহি)

যেখানে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করার জন্য ইয়াযীদকে সরাসরি দায়ী করছে তার নিজের ছেলে সেখানে ইয়াযীদকে দায়ী প্রমাণ করতে আর কি দলীল প্রয়োজন?

ইয়াযীদের কুফরীর সাক্ষ্য দিয়েছে স্বয়ং তার সেনাপতি নিকৃষ্ট কাফির ইবনে যিয়াদ:  বর্তমানে নব্য ইয়াযীদী দোষররা কারবালার ঘটনার জন্য ইয়াযীদকে দায়ী করার নাকি কোন দলীলই খুঁজে পায় না। তাদের মতে এই ঘটনার জন্য উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদ একাই দায়ী।

তো আসুন আমরা দেখি এ বিষয়ে স্বয়ং উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ নিজে কি বলেছে, বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবে ঘটনাটা উল্লেখ করেছেন এভাবে, “ইয়াযীদ উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদকে পত্র লিখেছিলো, সে যেন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে পবিত্র মক্কা শরীফে অবরোধ করার জন্য সেখানে গমন করে। কিন্তু উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদ তার আদেশ অমান্য করে এবং বলে, আল্লাহ পাক উনার কসম! আমি ইয়াযীদের ন্যায় এরকম ফাসিকের জন্য দুইটা মারত্মক কাজ করতে পারবো না। একটি হলো, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত কণ্যার পুত্রকে শহীদ করা এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে মহাসম্মানিত বাইতুল্লাহ শরীফের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা। (বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৮ম খন্ড ৩০৯ পৃষ্ঠা, বিদায়া ওয়ান নিহায়া (ইফা.) ৮/৪০৪)

উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদ এর এ স্বীকারোক্তি থেকে প্রমাণ হয়, কারবালায় সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করার জন্য ইয়াযীদ উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদকে আদেশ দিয়েছিলো। সে আদেশ অনুযায়ী ইবনে যিয়াদ এই কাজ করে। কাফির ইয়াযীদ পবিত্র মক্কা শরীফেও হামলা করা জন্য তাকে আদেশ করে। ইবনে যিয়াদের মত কাট্টা কাফির ও মালউনও বুঝতে পারে ইয়াযীদ কত বড় ভয়াবহ নিকৃষ্ট কাফির। সে তাকে এমন ভয়াবহ কাজের জন্য প্ররোচিত করছে। তাই সে দ্বিতীয় কাজটি করতে অস্বীকার করে।

এখন ইয়াযীদ প্রেমিকরা তোমরাই বলো, ইয়াযীদকে সমর্থন করে তোমরা নিজেদের কি প্রমাণ করছো? লা’নত তোদের প্রতি অনন্তকাল ধরে।

স্বয়ং ইয়াযীদ নিজেই স্বঘোষিত কাফির ছিলো: সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শির মুবারক যখন কাফির ইয়াযীদের সামনে আনা হলো সে তখন কবিতা পাঠ করলো-

وَقَالَ الْـحَافِظُ ابْنُ عَسَاكِرٍ نَسَبَ إِلٰـى يِزِيْدَ قَصِيْدَةً مِّنْهَا:

لَيْتَ اَشْيَاخِيْ بِبَدْرٍ شَهِدُوْا + جَزَعَ الْـخَزْرَجُ مَنْ وَّقَعَ الْاَسَلَ

لَعِبَتْ هَاشِمٌ بِالْـمُلْكٍ بِلَا + مُلْكِ جَاءَ وَلَا وَحْيٌ نَزَلَ

বদরে নিহত হওয়া আমাদের পূর্বপুরুষরা যদি দেখতো

বর্শাবৃষ্টির সময় খাযরাজদের আতঙ্ক

হাশেমীরা রজত্ব নিয়ে খেলাধুলা করেছে

কোন ফেরেশতা আসেনি, কোন ওহিও নাযিল হয়নি। নাউযুবিল্লাহ

فَإِنْ صَحَّتْ عَنْهُ، فَهُوَ كَافِرٌ بِلَا رَیْبٍ

হযরত ইবনে আসাকীর রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, এ কথা যদি সে (ইয়াযীদ) সত্যি বলে থাকে বিনা সন্দেহে সে কাফির। (শাযরাতুয যাহাবী ১ম খন্ড ২৭৮ পৃষ্ঠা, প্রকাশনা: দারু ইবনু কাছীর, বাইরুত- লেবানন)

ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহির চরিত্র এবং

তার প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি

 

ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি উসমান বিন মুহাম্মদ বিন আবি সুফিয়ানকে মদীনার শাসক হিসাবে নিয়োগ দেয়। উসমান উপহার সামগ্রীসহ এক প্রতিনিধি দল প্রেরণ করে ইয়াযীদের কাছে তারই আনুগত্যের শপথ নেয়ার উদ্দেশ্যে-

فَلَمَّا رَجَعَ الْوَفْدُ أَظْهَرُوْا شَتَمَ يَزِيْدَ، وَقَالُوْا: قَدِمْنَا مِنْ عِنْدِ رَجُلٍ لَيْسَ لَهٗ دِيْنٌ، يَشْرَبُ الْـخَمْرَ، وَيَعْزِفُ بِالطَّنَابِيْرِ، وَيَلْعَبُ بِالْكِلَابِ؛ وَإِنَّا نَشْهَدُكُمْ أِنَّا قَدْ خَلَعْنَاهٗ وَقَالَ الْـمُنْذِرُ: أَمَا وَالِهٌ لَقَدْ أَجَازَنِـيْ مِائَةَ أَلْفِ دِرْهَمٍ، وَلَا يَـمْنَعُنِـيْ مَا صَنَعَ أَنْ أُصَدِّقَكُمْ عَنْهُ وَاللهِ إِنَّهٗ لَيَشْرَبُ الْـخَمْرَ، إِنَّهٗ لَيَسْكَرُ حَتّٰـى يَدَعَ الصَّلَاةَ

অর্থ: কিন্তু প্রতিনিধি দল ফিরে এসে ইয়াযীদকে অভিশাপ দিয়ে বলে, আমরা এমন এক লোকের সাথে সাক্ষাৎ করে এসেছি যার কোনো ধর্ম নেই, সে মদ্যপান করে, বাদ্যযন্ত্র বাজায়, কুকুরে সাথে খেলে। আমরা তার প্রতি বাইয়াতের শপথ ছিন্ন করছি।’

মুনযির বর্ণনা করেন, ইয়াযীদ আমাকে এক লক্ষ দিরহাম পুরস্কার দিয়েছিল, কিন্তু এটি তার প্রকৃত অবস্থা বর্ণনা করা থেকে আমাকে দমাতে পারবে না। মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! সে মদ পান করতো। মাতাল হয়ে থাকতো নামাযের সময় অতিবাহিত হয়ে যেত।” (ওয়াফাউল ওফা ফি আখবারি দারিল মুস্তফা ১/১২৭, লেখক: শায়খুল ইসলাম আল্লামা নুরুদ্দীন আলী ইবনে আহমদ সামহুদী রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত ৯১১ হিজরী), প্রকাশনা: দারু কুতুব আল ইলমিয়া- বাইরুত- লেবানন)

এছাড়াও উক্ত বর্ণনা ইবনে জাওজী রহমতুল্লাহি আলাইহি আল মুন্তাজাম ফি তারিখিল উমাম ওয়াল মুলক কিতাবে, ইবনুল আছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তারিখে কামিল গ্রন্থে এছাড়া আরো অনেক ইমাম অনেক নির্ভযোগ্য কিতাবে বর্ণনা করেছেন।

আরো বর্ণিত আছে, বিখ্যাত ছাহাবী হযরত হানযালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ছেলে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হানযালা রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

وَاللهِ مَا خَرَجْنَا عَلٰى يَزِيْدَ حَتّٰـى خَفِّنَا أَنْ نَرْمِيَ بِالْـحِجَارَةِ مِنَ السَّمَاءِ أِنْ كَانَ رَجُلًا يَنْكِحُ أُمَّهَاتِ الْأَوْلَادِ وَالْبَنَاتِ وَالْأَخَوَاتِ وَيَشْرَبُ الْـخَمْرَ وَيَدَعُ الصَّلَاةَ

অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! ঐ সময় পর্যন্ত আমরা ইয়াযীদের শাষন থেকে বের হইনি, এমনকি আমাদের ভয় হতে লাগলো, যদি আমরা তার বাইয়াত ভঙ্গ না করি তবে আমাদের উপর আসমান থেকে পাথর বর্ষণ হবে। ইয়াযীদ একই ব্যক্তির মা- মেয়ে- বোনকে বিবাহকারী, মদ পানকারী, নামায ত্যাগকারী।” (আল মুন্তাজাম ফি তারিখিল উমাম ওয়াল মুলক ৬ষ্ঠ খন্ড ১৯ পৃষ্ঠা, লেখক: হযরত ইবনে জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি, প্রকাশনা: দারু কুতুব আল ইলমিয়া, বৈরুত লেবানন)

এছাড়াও উক্ত বর্ণনা তাবকাতে ইবনে সা’দ, আওয়াযুল মাসালিক শরহে মুয়াত্তা ইমাম মালেক, আস সাওয়ায়িকুল মুহাররিকা, তারিখুল খুলাফা সহ অনেক নির্ভরযোগ্য কিতাবে উল্লেখ আছে।

এই ঘটনা থেকে যা প্রমাণ হলো, ইয়াযীদ এমন চরিত্রের লোক যার আমল দেখে তাকে ধর্মহীন মনে হয়। সে মদ্যপান করতো, বাদ্যযন্ত্র বাজাতো, কুকুরে সাথে খেলতো। তার চরিত্র এমনই কলুষিত যে, সে যাকে ১ লক্ষ দিরহাম উপহার দিয়েছে সেও তার পাপাচার দেখে তার চরিত্র প্রকাশে কুণ্ঠাবোধ করেনি।

ইয়াযীদ ভক্তরা বলে থাকে ইয়াযীদের কাছে অনেকে বাইয়াত হয়েছিলো। সূতরাং তাদের মত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বাইয়াতের দ্বারা তার শাষন গ্রহনযোগ্য প্রমাণ হয়। নাউযুবিল্লাহ।

কিন্তু ইতিহাসের পাতা থেকে প্রমাণ হলো ইয়াযীদপন্থীরা যে বাইয়াতের মিথ্যা দাবী নিয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলে তার কোন ভিত্তি নেই। কারন এমন নিকৃষ্ট, পিশাচ মানুষের বাইয়াত কেউ মানতে পারে না। সবাই তার বাইয়াত ত্যাগ করেছিলো। এবং সেসময় অনেকে নিজের পা থেকে জুতা খুলে নিক্ষেপ করে এটাও বলেছিলো, এই জুতার মত তার বাইয়াতকেও ছুড়ে ফেলা হলো।

বিশিষ্ট রিজাল ও ইতিহাসবিদ  ইমাম যাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবে ইয়াযীদ কাফির সম্পর্কে লিখেন-

قُلْتُ: وَلَـمَّا فَعَلَ يَزِيْدُ بِأَهْلِ الْـمَدِيْنَةِ مَا فَعَلَ، وَقَتَلَ الْـحُسَيْنَ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَإِخْوَتَهٗ وَاٰلَهٗ، وَشَرِبَ يَزِيْدُ الْـخَمْرَ، وَارْتَكَبَ أَشْيَاءَ مُنْكَرَةٍ، بَغَضَهُ النَّاسُ، وَخَرَجَ عَلَيْهِ غَيْرُ وَاحِدٍ، وَلَـمْ يُبَارِكِ اللهُ فِـيْ عُمُرِهٖ، فَخَرَجَ عَلَيْهِ أَبُوْ بِلَالٍ مَرْدَاسِ بْنِ أَدِيَّةِ الْـحَنْظَلِيُّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰـى عَنْهُ

অর্থ: “আমি বলি (হযরত ইমাম যাহাবী), ইয়াযীদ মদীনা শরীফবাসীর সাথে যে আচরণ করেছিলো, এবং হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার সম্মানিত পরিবারকে যেভাবে শহীদ করেছিলো, যেভাবে মদ্যপান ও নিকৃষ্ট কাজে লিপ্ত হয়েছিলো এর জন্য মানুষরা তাকে ঘৃনা করতো এবং তার বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছিলো। মহান আল্লাহ পাক ইয়াযীদের জীবনে বরকত দেননি। হযরত আবু বিলাল মারদীসি ইবনে আদয়িয়া হানযালী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।”

(দলীল: তারিখুল ইসলাম লি ইমাম যাহাবী ৫ম খন্ড ৩০ পৃষ্ঠা; লেখক: হাফিজুল হাদীছ ইমাম যাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি ; প্রকাশনা : দারু কুতুব আল আরবী, বৈরুত, লেবানন)

 

ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহির ব্যাপারে

প্রকাশ্য ফতোয়া

 

বিখ্যাত ইমাম ও মুহাদ্দিছ হযরত ইবনে জাওজী রহমতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ইয়াযীদ লানতুল্লাহি আলাইহির বিষয়ে প্রকাশ্যে ফতোয়া দেন। সে মজলিসে বড় বড় আলিমগণও উপস্থিত ছিলেন।

হযরত ইমাম ইবনে জাওজী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে এক মজলিসে জিজ্ঞাস করা হল ইয়াযীদ সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন-

فَقَالَ مَا تَقُوْلُوْنَ : فِىْ رَجُلٍ وَلّٰى ثَلَاثَ سِنِيْنَ فِى السَّنَةِ الْاُوْلٰى قَتَلَ الْـحُسَيْنَ عَلَيْهِ السَلَامُ وَفِـى الثَّانِيَةِ أَخَافَ الْمَدِيْنَةَ وَأَبَاحَهَا وَفِى الثَّالِثَةِ رَمَى الْكَعْبَةَ بِالْمَجَانِيْقِ وَهَدَمَهَا فَقَالُوْا نَلْعَنُ فَقَالَ فَاَلْعَنُوْهُ فَلَعَنَهٗ اِبْنُ الْجَوْزِىِّ عَلَى الْمِنْبَرِ بِبَغْدَادَ بِحَضْرَةِ الْاِمَامِ النَّاصِرِ وَ أَكَابِرِ الْعُلَمَاءِ وَقَامَ جَمَاعَةٌ مِّنَ الْحُفَاةِ مِنْ مَّـجْلِسِهٖ فَذَهَبُوْا فَقَالَ: اَلَا بُعْدًا لِّمَدْيَنَ كَمَا بَعِدَتْ ثَـمُوْدُ

অর্থ: তিনি বলেন, আপনারা কী বলবেন, এক ব্যক্তি তিন বছর রাজ্য পরিচালনা করে। সে প্রথম বছরে হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করে (নাউযুবিল্লাহ)। দ্বিতীয় বছর পবিত্র মদীনা মুনাওয়ারায় আক্রমণ করে এবং উনার পবিত্রতা নষ্ট করে (নাউযুবিল্লাহ)। তৃতীয় বছর পবিত্র কা’বা শরীফে মিনজানিক কামান নিক্ষেপ করে আগ্নিকান্ড করে এবং ভাংচুর করে (নাউযুবিল্লাহ)। উপস্থিত সবাই বলল, আমরা তাকে লা‘নত করব। অতঃপর হযরত ইমাম ইবনে জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বাগদাদের মিম্বরে বসে খলিফা নাসিরের সামনে ইয়াযীদকে লা‘নত করেন। তখন সে সময়ের বড় বড় উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উপস্থিত ছিলেন। এসময় কিছু গ্রাম্য লোক মাজলিস থেকে উঠে যায়। হযরত ইমাম ইবনে জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাদের উদ্দেশ্যে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার এ আয়াত শরীফ তিলাওয়াত করেন-

أَلَا بُعْدًا لِّمَدْيَنَ كَمَا بَعِدَتْ ثَـمُوْدُ

অর্থাৎ মাদায়েনও ধ্বংস হয়েছে যেভাবে সামূদ সম্প্রদায় ধ্বংস হয়েছে। (পবিত্র সূরা হুদ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৯৫)

(দলীল: আর রদ্দু আলা মুতাআচ্ছিব আনিদ মানিয়ি মিন যাম্মি ইয়াযীদ ১১ পৃষ্ঠা; লেখক: হাফিজে হাদীছ হযরত ইবনে জাওজী রহমতুল্লাহি আলাইহি; ওফাত : ৫৯৭ হিজরী; প্রকাশনা : দারু কুতব আল ইলমিয়া, বৈরুত, লেবানন)

হযরত ইবনে জাওজী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ফতোয়া থেকে প্রমাণ হলো, হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করার পেছনে ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি দায়ী। ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি পবিত্র মদীনা শরীফ উনাতে হামলা করে। (নাউযুবিল্লাহ)  ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি পবিত্র কা’বা শরীফ উনাতেও হামলা করে। (নাউযুবিল্লাহ) হযরত ইবনে জাওজী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইয়াযীদকে লা’নত করেছেন। মজলিসে উপস্থিত উলামায়ে কিরাম সকলেই ইয়াযীদকে লা’নত করেছেন। উক্ত মজলিসের লা’নত করার দ্বারা ইয়াযীদকে লা’নত করার বিষয়ে ঐক্যমত্য প্রমাণিত হয়। আর লা’নত এর কথা শুনে যারা চলে যায় তাদেরও ধ্বংসের বিষয়ে পবিত্র কুরআন শরীফ থেকে দলীল দেন হযরত ইমাম জাওজী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

 

ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহিকে

বাঁচানোর চক্রান্ত ফাঁস

 

কাট্টা কাফির ইয়াযীদকে মুসলমান বানানোর জন্য বাতিল ফির্কার লোকেরা একটা হাদীছ শরীফ প্রচার করে। ‘সর্বপ্রথম সিজারে শহর যারা বিজয় করবে তাদের গুনাহ ক্ষমা করা হবে।’ বাতিল ফির্কার বক্তব্য হচ্ছে ইয়াযীদ যেহেতু সর্বপ্রথম এই যুদ্ধে গিয়েছিলো তাই সে যত অপরাধই করুক না কেন সে ক্ষমাপ্রাপ্ত। নাউযুবিল্লাহ।

প্রথমেই আমাদের জানা প্রয়োজন যে সর্বপ্রথম রোমান নগর বিজয়ের যুদ্ধ হয়। সে যুদ্ধে ইয়াযীদ উপস্থিতই ছিলো না। ইবনে আছীরের কামিল ফিত তারীখ, ইবনে খালদুনের তারীখে ইবনে খালদুন, তারীখে তাবারী, বিদায়া ওয়ান নিহায়া সহ অসংখ্য ইতিহাসের কিতাব থেকে জানা যায়, সে জিহাদ হয় ৪২ হিজরীতে। এর পর প্রায় প্রতি বছরই জিহাদ হয় কোনটাতেই ইয়াযীদ অংশগ্রহণ করে নাই। যুদ্ধ শুরু হওয়ার ৭/৮ বছর পর ৪৯ বা ৫০ হিজরীতে ইয়াযীদকে এই যুদ্ধে যেতে বলা হলে সে নাটকের অবতারণা করে সেটা আপনাদের সামনে ইতিহাসের পাতা থেকে তুলে ধরছি-

فِـيْ هٰذِهِ السَّنَةِ، وَقِيْلَ: سَنَةَ خَـمْسِيْنَ، سَيَّرَ مُعَاوِيَةُ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ جَيْشًا كَثِيْفًا إِلٰى بِلَادِ الرُّوْمِ لِلْغَزَاةِ وَجَعَلَ عَلَيْهِمْ سُفْيَانُ بْنُ عَوْفٍ وَأَمَرَ اِبْنُهٗ يَزِيْدُ بِالْغَزَاةِ مَعَهُمْ، فَتَثَاقَلَ وَاَعْتَلَ، فَأَمْسَكَ عَنْهُ أَبُوْهُ، فَأَصَابَ النَّاسُ فِـيْ غَزَاتِـهِمْ جُوْعٌ وَمَرَضٌ شَدِيْدٌ، فَأَنْشَأَ يَزِيْدُ يَقُوْلُ:

مَا إِنْ أُبَالِيْ بِـمَا لَاقَتَ جُـمُوْعُهُمْ … بِالْفَرْقَدْوُنَةِ مِنْ حَـمْىٍ وَمِنْ مَوْمٍ

إِذَا اتْكَأَتْ عَلَى الْأَنْـمَاطِ مُرْتَفَقًا … بِدَيْرِ مَرْوَانَ عِنْدِيْ أُمِّ كُلْثُوْمٍ

وَأُمُّ كُلْثُوْمٍ اِمْرَأَتُهٗ، وَهِيَ اِبْنَةُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَامِرٍ.

فَبَلَغَ مُعَاوِيَةُ شِعْرَهٗ فَأَقْسَمَ عَلَيْهِ لِيَلْحِقْنَ بِسُفْيَانَ فِـيْ أَرْضِ الرُّوْمِ لَيُصِيْبُهٗ مَا أَصَابَ النَّاسُ، فَسَارَ وَمَعَهٗ جَمْعٌ كَثِيْرٌ أَضَافَهُمْ إِلَيْهِ أَبُوْهُ

অর্থ: এই বছর, অর্থাৎ, ৪৯ বা ৫০ হিজরী সালে হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু রোমের (কনস্টানটিনোপোল) উদ্দেশ্যে এক বিশাল বাহিনী প্রেরণ করেন। তিনি এর দায়িত্বভার অর্পণ করেন হযরত সুফিয়ান বিন আউফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার প্রতি এবং উনার ছেলে ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহিকে ওই বাহিনীর সাথে যেতে বলেন। কিন্তু ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি ‘অসুস্থ হওয়ার ভান করে এবং যেতে অস্বীকৃতি জানায়। যোদ্ধারা যখন ক্ষুধা ও রোগ-ব্যাধিগ্রস্ত, তখন সে ব্যঙ্গ করে কবিতায় বলে,

‘ফারকুদওয়ানা-এ মহা গযবে তারা পতিত হয়েছে; তাদের জ্বর বা অন্য যাই কিছু হোক, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। কেননা, আমি বসে আছি উচ্চ ফরাশে , আর আমার বাহুবন্ধনে আছে উম্মে কুলসুম (ইয়াযীদের স্ত্রী)।’

”হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যখন এই কবিতার সম্পর্কে জানতে পারেন, তখন তিনি ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহিকে শপথ গ্রহণ করতে ও কনস্টানটিনোপোলে হযরত সুফিয়ান ইবনে আউফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাথে যোগ দিতে বাধ্য করেন, যাতে করে সেও ইসলাম উনার মুজাহিদদের মোকাবেলাকৃত কঠিন পরীক্ষার অংশীদার হতে পারে’। এমতাবস্থায় ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি অসহায় হয়ে পড়ে এবং তাকে যুদ্ধে যেতে হয়; আর হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তার সাথে আরেকটি বাহিনী প্রেরণ করেন।” (দলীল: কামিল ফিত তারীখ লি ইবনে আছীর ৩/৩১৪ পৃষ্ঠা; প্রকাশনা : দারু কুতুব আল ইলমিয়া)

ইতিহাস থেকে যেটা প্রমাণ হয়, ইয়াযীদ প্রথম রোমন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে নাই।

সে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের বিদ্রুপ তামাশা করতো।

জিহাদে অংশগ্রহণকারীদের কষ্টেও তার কিছু যায় আসতো না।

যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার চাইতে স্ত্রীর বাহুবন্ধনে থাকাই তার কাছে প্রিয় ছিলো।

যুদ্ধে যাতে যেতে না হয় তাই সে অসুস্থতার ভানও করে।

পরবর্তীতে ৫০ হিজরীতে একদম শেষ সময় তাকে যুদ্ধে যেতে বাধ্য করা হয়।

বিচার আপনারাই করুন, এই চরিত্রের লোকের জন্য কি হাদীছ শরীফে ক্ষমা পাওয়ার সুসংবাদ থাকতে পারে? এর জন্য তো রয়েছে লা’নত বা অভিশাপ।

ইয়াযীদের পক্ষে যারা অবস্থান নিয়েছে: এবার দেখবো এই মালউন ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহিকে সমর্থন দিচ্ছে কারা। ইয়াযীদ সম্পর্কে ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে প্রকাশিত ফতোয়া-

(Fatwa: 997/1082=D-1429

It is traditionally proved from the salaf (the past Ulama) that “Raziallau Anhu” is written and spoken for the Sahaba, and “Rahmatullah Alaih” is written and spoken for non-Sahabah like Tabeen etc. Therefore, there seems no wrong to say “Rahmatullah Alaih” for Yazeed.

Allah knows Best!

Darul Ifta,

Darul Uloom Deoband

অর্থ: এটা ঐতিহ্যগতভাবে সলফদের থেকে প্রমাণিত ছাহাবায়ে কিরাম উনাদের শানে “রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু” লেখা বা বলা হয়। এবং ছাহাবা নন যেমন তাবেয়িন উনাদের প্রতি “রহমতুল্লাহি আলাইহি” লেখা বা বলা হয়। সূতরাং ইয়াযীদের ক্ষেত্রে ‘রহমতুল্লাহি আলাইহি’ বলার মধ্যে কোন সমস্যা নেই।” (নাউযুবিল্লাহ)

এই হলো দেওবন্দ থেকে প্রকাশিত ফতোয়া। এ ফতোয়া থেকে তারা যা প্রমাণ করতে চাচ্ছে, ইয়াযীদ তাবেয়ি ছিলো (নাউযুবিল্লাহ)

এবং তার প্রতি রহমতুল্লাহি আলাইহি বলা যাবে। (নাউযুবিল্লাহ)

দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে প্রকাশিত ফতোয়ার লিংক: Web site://archive.is/vcxzy

বাংলাদেশে দেওবন্দী কওমী সিলসিলার মাহীউদ্দীন সম্পাদীত “মাসিক মদীনা” পত্রিকায় ইয়াযীদকে সমর্থন করে তারা লিখেছিলো,

“ইয়াযীদ তাবেয়ী ছিলো। কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার ব্যাপারে তার প্রতি মন্দরূপ কিংবা কিছু বলা ঠিক হবে না।” (নাউযুবিল্লাহ মিন জালিক) (মাসিক মদীনা, এপ্রিল ২০১০ সংখ্যা , প্রশ্ন উত্তর বিভাগ)

এছাড়া ঢালাও ভাবে সকল লা’মাযহাবী, সালাফীরা প্রকাশ্যে ইয়াযীদের প্রশংসা করে, তার পক্ষে ওয়াজ করে, বই পুস্তক লিখে থাকে।

কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার জন্য প্রকৃত দায়ী এবং তার ও তার অনুসারীদের বিষয়ে ফতোয়া: কারবালার ঘটনার জন্য দায়ী অন্যতম শয়তান ইবনে যিয়াদ নিজেই সাক্ষ্য দিয়েছে,

أَمَّا قَتْلِي الْـحُسَيْنُ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَإِنَّهٗ أَشَارَ إَلٰي يَزِيْدَ بِقَتْلِهٖ أَوْ قَتْلِيْ فَاَخْتَرْتُ قَتْلَهٗ

অর্থ: আমি (ইবনে যিয়াদ) হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করেছি (নাউযুবিল্লাহ) ইয়াজিদের কথায়। সেটা না করলে সে (ইয়াযীদ) আমাকে হত্যা করে ফেলতো। সুতরাং আমি হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করার বিষয়টিকে বেছে নিয়েছি। (নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!) (দলীল: আল কামিল ফিত তারীখ ২য় খন্ড ১৯৯ পৃষ্ঠা; লেখক: ইমাম ইবনুল আছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি; ওফাত: ৬৩০ হিজরী)

আর যারা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করেছে, শহীদ করতে আদেশ করেছে তাদের ব্যাপারে ইমাম ইয়াফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,

وَأَمَّا حُكْمُ مَنْ قَتَلَ الْـحُسَيْنَ عَلَيْهِ السَّلَامُ أَوْ أَمَرَ بِقَتْلِهٖ مِـمَّنْ اِسْتَحَلَّ ذٰلِكَ فَهُوَ كَافِرٌ

অর্থ: “যে হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করেছে, অথবা শহীদ করতে আদেশ করেছে, এটা যারা বৈধ মনে করেছে সবাই কাফির।” (শাযরাতুয যাহাবী ১ম খন্ড ১২৪ পৃষ্ঠা)

সুতরাং এ থেকে প্রমাণ হলো ইয়াযীদ, ইবনে যিয়াদ ও এদের সমর্থনকারী সবাই কাফির। ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি বিনা সন্দেহে কাফির। ইয়াযীদের প্রতি এবং তার সমর্থনকারীদের প্রতি অনন্তকালের জন্য লা’নত। আর যারা ইয়াযীদ কে দোষারোপ করতে চায় না তাদের সম্পর্কে হযরত আলুসী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,

وَذٰلِكَ لِعُمْرِيِّ هُوَ الضَّلَالُ الْبَعِيْدُ الَّذِيْ يَكَادُ يَزِيْدُ عَلٰى ضَلَالِ يَزِيْدَ

অর্থ: আমি কসম করে বলি, এটা হলো চরম ভ্রষ্টতা। যা ইয়াযীদের ভ্রষ্টতাকে অতিক্রম করেছে।” (রুহুল মায়ানী ২৫ তম খন্ড ৭৩ পৃষ্ঠা)

ইয়াযীদ বিষয়ে ইমামে আ’যম হযরত আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিরব থাকার কারন:  অনেকে বলে থাকে ইয়াযীদ বিষয়ে ইমামে আ’যম হযরত আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নিরব ছিলেন। তাই তাদেরও নীরব থাকতে হচ্ছে। আফসোস তারা না জানে ইতিহাস না বোঝে পরিস্থিতি। ইমামে আ’যম হযরত আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিলাদত শরীফের পূর্ব থেকে শুরু করে ১৩২ হিজরী পর্যন্ত বনু উমাইয়া শাসন ক্ষমতায় ছিলো।

এর মধ্যে হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি ছাড়া প্রায় সবাই ছিলো অত্যন্ত অত্যাচারী সেই সাথে হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিদ্বেষী।

এর মধ্যে উদাহরণ স্বরূপ উল্লেখ্য ১০৫ হিজরী থেকে ১২৫ হিজরী পর্যন্ত রাজত্ব করা হিশাম ইবনে আব্দুল মালেক ইবনে মারওয়ান। সে ছিলো চরম আহলে বাইত শরীফ উনাদের বিদ্বেষী। তার সময় ইমামুর রবি’ ইমাম হযরত যাইনুল আবেদীন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত আওলাদ হযরত যায়েদ আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন। ইমামে আযম ইমাম আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রতি অনেক শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং বনু উমাইয়ার পতনের জন্য আর্থিক ভাবে সহায়তা করতেন। হিশাম হযরত যায়েদ আলাইহিস সালাম উনার প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষন করতো।

পরবর্তীতে হিশাম তার কুফার গর্ভনর ইউসুফ ইবনে ওমরের মাধ্যমে হযরত ইমাম যায়েদ আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করে। নাউযুবিল্লাহ! এবং ইউসুফ ইবনে ওমর উনার সম্মানিত মস্তক মোবারক কেটে হিশামের নিকট পাঠিয়ে দেয় আর শরীর মোবারক শুলিবিদ্ধ করে ঝুলিয়ে রাখে। নাউযুবিল্লাহ! এ থেকে আমরা জানতে পারি বনু উমাইয়ারা সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি কতটা বিদ্বেষ পোষণ করতো। নাউযুবিল্লাহ!

১৩২ হিজরীর পর যদিও আব্বাসীয়রা মসনদে বসে কিন্তু তাদের মধ্যেও ক্ষেত্রবিশেষে একই স্বভাব পরিলক্ষিত হয়। শাসক মনসুর সেও অনেক আহলে বাইত শরীফ সদস্য ও আলেমদের শহীদ করে।

পরিস্থিতি আগা গোড়াই এমন ছিলো না যে ক্ষমতাসীন কারো বিরুদ্ধে ফতোয়া দেয়া যাবে। পানের থেকে চুন খসলেই যেখানে গর্দান চলে যেত, নির্যাতনের স্ট্রীমরোলার চলতেই থাকতো। মুখ ফুটে আলেম সমাজ অনেক কথা বলতেই পারতেন না। বললে হয় তাদের শহীদ করা হতো অথবা বির্তকিত করে দিতে অপপ্রচার চালানো হতো। তারই ধারাবাহিকতায় ইমামে আযম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জীবনের দীর্ঘ সময় জেলেই কাটে ও সেখানে বিষ পান করিয়ে উনাকে শহীদ করা হয়।

উনি সে সময় ইয়াযীদের বিরুদ্ধে কখন ফতোয়া দিবেন? পরিস্থিতি উনাকে চুপ থাকতে বাধ্য করে।

উমাইয়াদের সময় এমনও দিন অতিবাহিত হয়েছে হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের নাম মুবারক উচ্চারণ নিষিদ্ধ ছিলো, মিম্বারে উঠে উনাদের গালি দেয়া হতো। উনাদের প্রশংসাকারীদের অপমান করা হতো, হত্যা করা হতো। নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক।

আর আমাদের দেশের একশ্রেণীর মানুষ ইতিহাস ও পরিস্থিতি না জেনেই ইমাম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ফতোয়া খুঁজে। বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অনলাইনে এক লাইন লিখলে পরের দিন জেলখানার চৌদ্দ শিক গুনতে হয় আর তখনকার পরিস্থিতি তাহলে কেমন ছিলো?

মূল কথা হলো, কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার জন্য চির মালউন ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি অবশ্যই দায়ী। সে অবশ্যই কাফির। অবশ্যই তার প্রতি চির লা’নত। তাকে যারা সমর্থন করে তারাও কাফির, তারাও মালউন।

মহান আল্লাহ পাক তিনি কুল উম্মাহকে ইয়াযীদের প্রতি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

-খাজা মুহম্মদ নুরুদ্দীন পলাশ

পবত্রি দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে ছোঁয়াচে বা সংক্রামক বলে কোন রোগ নাই “ছোঁয়াচে বা সংক্রামক বশ্বিাস করা শরিক”

সম্মানিত শরীয়ত উনার ফাতাওয়া অনুযায়ী “সুস্থ মানুষকে সুস্থ মানুষ থেকে দুরে থাকার ব্যাপারে” ইফার ফাতাওয়া ও সরকারী নির্দেশনা সম্পূর্নরূপে ভুল, মনগড়া, কুফরী ও শিরকীপূর্ণ

কতপিয় সম্মানতি সুন্নতী আমল, যা জানা থাকলে সহজইে আমল করা যায়

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহহির, আছ ছমাদ, মুজাদ্দিদে আ”যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল মহাসম্মানিত তা“য়াল্লুক্ব-নিসবত মুবারক

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক উনার ইত্তিবা” তথা অনুসরণ-অনুকরণ করার গুরুত্ব-তাৎপর্য এবং বেমছাল ফযীলত মুবারক