কালো টাকার প্রাদুর্ভাব এবং করের বিপরীতে যাকাত প্রদান প্রসঙ্গে

সংখ্যা: ২১০তম সংখ্যা | বিভাগ:

সব প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ ও সালাম।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সমীক্ষা অনুযায়ী, অপ্রদর্শিত অর্থ (কালো টাকার) পরিমাণ বাড়ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ধারণা, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় দেশে এখন কালো টাকার হার সর্বনিম্ন ৪৬ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৮১ শতাংশ। এই হিসাবে দেশে এখন কম করে হলেও কালো টাকার পরিমাণ ১ লাখ ৭৭ হাজার ৪৭ কোটি টাকা। আর সর্বোচ্চ হার হিসাব ধরা হলে দাঁড়াবে ৩ লাখ ১০ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকা। অথচ ১৯৭৩ সালেও দেশে কালো টাকার হার ছিল সর্বনিম্ন ৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ মাত্র ৭ দশমিক ২ শতাংশ।

মূলত, কালো টাকা বাড়ার অর্থ হলো কিছু ব্যক্তির কাছে সম্পদ ঘনীভূত হওয়া। সমাজে জীবনযাত্রার মানেও চরম বৈষম্য তৈরি হওয়া।

এর আগেও স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের কালো টাকা নিয়ে অনেকগুলো সমীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমান অঙ্কটিই সবচেয়ে বেশি।

বলার অপেক্ষা রাখে না, ‘কালো’ বললেই বুঝতে হবে, এটা একটা আইনি সমস্যা। আর কালো টাকা মানেই হলো, বেআইনি পথে উপার্জিত টাকা। তাই আইন প্রয়োগ করে এ ধরনের টাকা তৈরির পথ বন্ধ করতে হবে। এটা খুবই সোজা সাপ্টা এবং সঙ্গত কথা।

১৯৮৫-৮৬ সালে কালো টাকার পরিমাণ ছিল জিডিপি’র এক-তৃতীয়াংশ। ১৯৯২-৯৩ অর্থবছরে অপ্রকাশিত অর্থের  তথা কালো টাকার পরিমাণ জিডিপি’র ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০০৫ সালে দেশে কালো টাকার পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৭৫ হাজার কোটি। আর ১৯৯৭ সালে এক সমীক্ষায় বলা হয়, ১৯৭২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত দেশে কালো টাকার পরিমাণ ছিল জিডিপি’র ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ১৯৯২-২০০০ সময়ে বাংলাদেশে কালো টাকা ছিল জিডিপি’র ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০০০-২০০১ অর্থ বছরে তা ৩৬ দশমিক ৫ এবং ২০০২-০৩ এ ছিল ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ।

অর্থাৎ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও কালো টাকার প্রভাব দিন দিন বেড়েই চলেছে। অর্থাৎ পুঁজিপতি ও পুঁজিবাদের বিস্তার ঘটছে। অথচ দেশের অর্থনৈতিক সূচকগুলোর প্রক্ষেপণ করা হচ্ছে বিপুল অঙ্কের এই টাকাকে বাদ দিয়েই। আবার এর উপর ভিত্তি করেই প্রণয়ন করা হচ্ছে দেশের আর্থিক ও রাজস্ব নীতি। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক নির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি মূলধনের এই বিরাট অংশ আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির বাইরে থাকলে সম্পদের বুদবুদ (এসেট বাবল) তৈরি হচ্ছে, যা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতেও। কালো টাকাকে অর্থনীতির মূল ধারায় আনতে স্বাধীনতার পর থেকেই চেষ্টা করা হচ্ছে। কালো টাকা সাদা করার সুযোগও দেয়া হয়েছে ১১ বার। অথচ ৪০ বছরে মাত্র ১৮ হাজার কোটি কালো টাকা সাদা হয়েছে। আর সরকার এ থেকে কর পেয়েছে মাত্র ১ হাজার ৪শ’ কোটি টাকা।

বাজেট পেশের আগে অর্থমন্ত্রী আব্দুল মুহিত বলেছিলেন, ভবিষ্যতে আর কোনোভাবেই কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হবে না। কিন্তু গত ২০১০-১১ অর্থবছরের বাজেটের ধারাবাহিকতায় নতুন বাজেট প্রস্তাবনায়ও সরকারি বন্ডে ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছে। বাজেট পাসের পর দেখা গেলো অর্থমন্ত্রী আব্দুল মুহিত তার অবস্থান থেকে সরে এসে শেয়ারবাজারেও ১০ শতাংশ কর পরিশোধ সাপেক্ষে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দিয়েছেন।

বলাবাহুল্য, সামান্য কর পরিশোধ করে কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করাকে নীতিগতভাবে সমর্থন করা যায় না। কিন্তু দেশে প্রতি বছর ৬০ থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ কালো টাকা সৃষ্টি হচ্ছে। এর পুঞ্জীভূত পরিমাণ কয়েক লাখ কোটি টাকা হবে, যা অর্থনীতিকে বিভিন্নভাবে ব্যাহত করছে। ফলে কালো টাকা সৃষ্টির পথকেই রুদ্ধ করতে হবে।

কালো টাকা প্রধানত কতিপয় পুঁজিপতির অপচয়, ভোগবিলাস, অনুৎপাদনশীল ব্যয়েই নিঃশেষ হয়, দেশের অর্থনীতির বিকাশে তার কোনো ভূমিকা থাকে না, বরং অর্থনীতিকে পঙ্গুই করে রাখে। দেশের উন্নয়ন তাতে ব্যাহত হয়। সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ বাড়ে।

উল্লেখ্য, কালো টাকা তৈরির পথ বন্ধ করতে না পারলে উন্নয়নের যত পদক্ষেপই নেয়া হোক না কেন, কোনো কাজে আসবে না। কালো টাকা যেমন তৈরি হয় অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে, তেমনি কালো অর্থও অবৈধ কার্যক্রমের বিস্তৃতি ঘটায়। সন্ত্রাসবাদ, চোরাচালান, মানি লন্ডারিং, ঘুষ, দুর্নীতি থেকে শুরু করে বহু বেআইনি কাজ হচ্ছে, যেখানে কালো টাকা ব্যবহৃত হচ্ছে। কালো টাকার দাপটে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। তাই কালো টাকা তৈরির উৎস বন্ধ করতে পারলে এসব অবৈধ কার্যক্রমও নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

উল্লেখ্য, কালো টাকা চলমান অর্থনীতিতেই কোনো না কোনো খাতে বিনিয়োগে রয়েছে। শুধু সরকার সেখান থেকে কোনো কর বা রাজস্ব পাচ্ছে না এবং অর্থ থাকছে সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। বারবার এ অবৈধ অর্থ বৈধ করার সুযোগ পেয়ে বাংলাদেশে কালো টাকাকে কালো করে রাখার বিষয়টাই উৎসাহিত হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।

বর্তমানে একজন কালো টাকার মালিক কর দিচ্ছেন মাত্র ১০ শতাংশ, অথচ একজন নিয়মিত করদাতা দিচ্ছেন ১০ থেকে ২৫ শতাংশ হারে। অন্যান্য ক্ষেত্র যেমন, ভ্যাট হিসাব করলে এই হার আরও বেশি। বৈধ উপার্জনকারীদের চেয়ে কম হারে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ প্রদান যেকোনো যুক্তিতে করারোপেরও নীতিবিরোধী।

কালো টাকা তৈরির পথ বন্ধ করতে হবে, সেটি কঠিন কাজ হতে পারে, তবে অসম্ভব নয়। যাবতীয় লেনদেন বিশুদ্ধ ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হলে কালো অর্থের স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে। ব্যবসায়িক কার্যক্রমের একটি বিপুল অংশের লেনদেন এখনো নগদ অর্থের মাধ্যমে হয়ে থাকে। এসব লেনদেনের কোনো হিসাব সরকার বা ব্যাংক কারো কাছেই থাকে না, বিধায় কোনটি কালো আর কোনটি সাদা, সেটি চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে নগদ লেনদেনের অভ্যাস পরিবর্তন করা যেতে পারে। তাতে কালো টাকা অর্থনীতির হিসাবে আসবে। এছাড়া করনীতি পরিবর্তন করে জনবান্ধব করতে হবে। দেশে বর্তমানে যে হারে কর আদায় করা হচ্ছে, সেটি অন্যান্য অনেক দেশের চেয়ে বেশি।

এক্ষেত্রে ইসলামী মূল্যবোধের বিস্তার ঘটাতে হবে। আর করের পরিবর্তে যাকাত বাধ্যতামূলক করতে হবে। সরকারকে জনগণ অন্তর থেকে ভয় পায় না। সুতরাং অনৈসলামিক সরকারি অর্থনীতিতে কালো টাকার উদয় হবেই। কিন্তু ইসলামী ব্যবস্থা থাকলে, ইসলামী অনুভূতি জোরদার করলে মানুষ মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় পাবে। সেক্ষেত্রে ৯৭ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত এদেশে যাকাত আদায় হবে সর্বোতভাবে এবং তা পরিমাণে হবে বর্তমান রাজস্ব কর আদায়ের চেয়ে অনেক বেশি হারে এবং গরিব প্রজাসাধারণও সুফল ও সহযোগিতা পাবে অনেক বেশি করে।

মূলত, এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে ইসলামের আনুগত্যতা এবং ইসলামী জ্ঞান ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ।

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবতে তা খুব সহজেই পরিপূর্ণ হাছিল সম্ভব। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)

-মুহম্মদ মাহবুবুর রহমান

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৬৭

ভ্রান্ত ওহাবী মতবাদ প্রচারের নেপথ্যে-১৬

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-৩৫

বাতিল ফিরক্বা ওহাবীদের অখ্যাত মুখপত্র আল কাওসারের মিথ্যাচারিতার জবাব-২৫ হাদীছ জালিয়াতী, ইবারত কারচুপি ও কিতাব নকল করা ওহাবীদেরই জন্মগত বদ অভ্যাস ওহাবী ফিরক্বাসহ সবগুলো বাতিল ফিরক্বা ইহুদী-নাছারাদের আবিষ্কার! তাদের এক নম্বর দালাল

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ‘সংবিধানের প্রস্তাবনা’, ‘মৌলিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ ‘জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা’ এবং ‘জাতীয় সংস্কৃতি’ শীর্ষক অনুচ্ছেদের সাথে- থার্টি ফার্স্ট নাইট তথা ভ্যালেন্টাইন ডে পালন সরাসরি সাংঘর্ষিক ও সংঘাতপূর্ণ’। পাশাপাশি মোঘল সংস্কৃতির দান পহেলা বৈশাখ পালনও প্রশ্নবিদ্ধ।সংবিধানের বহু গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ স্পর্শকাতর অনুচ্ছেদের প্রেক্ষিতে ৯৫ ভাগ মুসলমানের এদেশে কোনভাবেই থার্টি ফার্স্ট নাইট ও ভ্যালেন্টাইন ডে পালিত হতে পারে না।পারেনা গরিবের রক্ত চোষক ব্র্যাকের ফজলে আবেদও ‘নাইট’ খেতাব গ্রহণ করতে। পারেনা তার  নামের সাথে ‘স্যার’ যুক্ত হতে। পাশাপাশি মোঘল সংস্কৃতির দান পহেলা বৈশাখ পালনও প্রশ্নবিদ্ধ।