দেশে কী বর্তমানে ইসলাম বিরোধী মচ্ছব চলছে না?

সংখ্যা: ২০৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

দেশে কী বর্তমানে ইসলাম বিরোধী মচ্ছব চলছে না?
অন্য ধর্ম এবং ধর্মাবলম্বীরা নিরাপদ বলা গেলেওইসলাম এবং মুসলমানের ধর্ম চর্চা এ দেশেও নিরাপদ নয়। রাষ্ট্রযন্ত্রে স্বীকৃতও নয়। স্বাধীনতা উত্তর থেকেই এ ধারা উত্তরোত্তর বাড়ছেই।বিষয়টা কী বিস্ফোরণের আগেই আমলে নেয়া উচিত নয়?

সব প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ ও সালাম।
’৭২-এর সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ঢুকেছে পেছনের দরজা দিয়ে। ’৭০-এর নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা ছিল না। বরং ছিল ‘কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ বিরোধী কোনো আইন পাস হবে না’-এ প্রতিশ্রুতি। সেই প্রতিশ্রুতিই ’৯৮-এর নির্বাচনে পুনঃউচ্চারিত হয়েছে মাত্র।
ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দ ৯৭ ভাগ মুসলমানের দেশে উচ্চারণের প্রয়োজন হয় না। রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের দেশেও প্রয়োজন হয় না। কারণ, মুসলমান- ওই কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ-এর উপর বিশ্বাস করেই মুসলমান; যে কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ-এ অন্য সব ধর্মাবলম্বীদের ধর্ম পালনের সর্বোচ্চ সুযোগ দেয়া হয়েছে।
সেক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান অধিবাসী থাকলেই অমুসলমানদের ধর্মনিরপেক্ষতা দাবির প্রয়োজন হয় না। পক্ষান্তরে ধর্মনিরপেক্ষতা বিধিবদ্ধ থাকলেই যে নিরপেক্ষতা পালন হয়না, আমেরিকা-ভারত-ইংল্যান্ডসহ বড় বড় কথিত ঐতিহ্যবাহী গণতান্ত্রিক দেশগুলোর তার প্রমাণ। সেখানে ‘মুহম্মদ’ নাম দেখলেই তার উপর হাজারো নির্যাতন। নামায পড়ার সুযোগ নেই।
ইসলামী পোশাক পরার অবকাশ নেই। ঈদের ছুটি নেই।
মুসলমানিত্ব প্রকাশ করার অধিকার নেই।
ধর্মনিরপেক্ষতা যুক্ত হলেই যে ধর্মনিরপেক্ষতা কার্যকর হবে তা নয়। বরং সবক্ষেত্রে এখন এ অবস্থাই দৃশ্যমান যে
ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ইসলামকেই কাটছাঁট করা হয়। মুসলমানকে অমুসলমানী কালচারে ভাসতে বাধ্য করা হয়।
দেশে ৯৭ ভাগ অধিবাসী মুসলমান। তাদের দ্বীন ‘ইসলাম’।
‘ইসলাম’ তথাকথিত অন্যান্য ধর্মের মত নয়। ইসলাম পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। অন্য কোন ধর্মই খেলাধুলা, নির্বাচন, গান-বাজনা, মূর্তি, অভিনয়, উলঙ্গপনা ইত্যাদির বিরুদ্ধে কিছু বলেনি।
সে সুবাদে অন্যান্য ধর্মাবলম্বী ও ধর্মের প্রেক্ষিতে স্বাধীনতা উত্তর এদেশে গান-বাজনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলা, সিনেমা এগুলোকে সরকারি পর্যায়ে শুধু সর্বাত্মক পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়নি।
পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও যাতে অন্যান্য বিধর্মীদের সাথে তালে তাল মিলিয়ে নাচতে পারে সেজন্যও সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়েছে ও হচ্ছে।
এক্ষেত্রে ৯৭ ভাগ মুসলমানের দ্বীন- ‘ইসলাম’ সম্পূর্ণই উপেক্ষিত, অবহেলিত ও অস্বীকার্য থেকে যায়।
কিন্তু ৯৭ ভাগ মুসলমান কী মানতে পারে যে, তাদের দ্বীন- ‘ইসলাম’ রাষ্ট্রযন্ত্র স্বীকার করবে না?
৯৭ ভাগ মুসলমান কী মানতে পারে যে,
তাদের প্রাণাধিক দ্বীন- ‘ইসলাম’কে রাষ্ট্রযন্ত্র সম্মান করবে না।
৯৭ ভাগ মুসলমান সহ্য করতে পারে যে,
তাদের ঈমান- ‘ইসলাম’কে রাষ্ট্রযন্ত্র পদে পদে ধিকৃত করবে?
ইসলামের দৃষ্টিতে খেলাধুলা হারাম। কিন্তু তারপরেও রাষ্ট্রযন্ত্র দেশের কোটি কোটি নাগরিককে না খাইয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা হারাম খেলাধুলার পিছনে ব্যয় করে; তখন ৯৭ ভাগ মুসলমান, রাষ্ট্রযন্ত্র থেকে কী ধরনের আশাহত ও চরম বিপরীতমুখী আচরণের মুখোমুখি হয়; তা কী ভাবা যায়?
রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় যখন সিনেমাসহ যাবতীয় অশ্লীলতার অবাধ অনুশীলন হয়; তখন ৯৭ ভাগ অধিবাসী মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে কত চরম আঘাত হানা হয়? তাও কী সম্যক উপলব্ধি করা যায়?
দিনে দিনে প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ৯৭ ভাগ মুসলমানকে কু-প্ররোচনা দিচ্ছে- কীভাবে কত সংক্ষিপ্ত পোশাক পরা যেতে পারে, মদ ধরা যেতে পারে, পরকীয়া, লিভ টুগেদার তথা অবাধ যৌনচারে ভাসা যেতে পারে।
অথচ ৯৭ ভাগ মুসলমানের দ্বীন ইসলামের দৃষ্টিতে এগুলো কঠিন হারাম এবং চূড়ান্ত ইসলাম বিরোধী।
৯৭ ভাগ মুসলমানের দেশে এ ইসলাম বিরোধী কাজগুলোই হচ্ছে অবাধে, ব্যাপক উৎসাহে এবং সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সাহায্যে।
এতে করে ইসলাম হচ্ছে বিপন্ন। মুসলমান হচ্ছে বিপর্যস্ত থেকে বিভ্রান্ত, হতাশাগ্রস্ত থেকে নেশাগ্রস্ত।
অর্থাৎ ৯৭ ভাগ অধিবাসী মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতি রাষ্ট্রযন্ত্রে স্বীকৃত নয়।
শতকরা ৯৭ ভাগ অধিবাসী মুসলমান এদেশে তাদের দ্বীন ইসলাম পালনে নিরাপদ নয়। অনৈসলামিক কাজে বাধা দিলে তারা রাষ্ট্রদ্রোহী তার অভিযোগ ও শাস্তি থেকে মুক্ত নয়।
কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে, মুসলমান হিসেবে রাষ্ট্রযন্ত্রের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিটি অনৈসলামিক কাজে বাধা দেয়া ফরয। কিন্তু এ ফরয কাজ স্বাধীনতা উত্তর থেকেই মুসলমানরা করতে পারছে না।
অথচ পাকি জালিমদের বিরুদ্ধে জিহাদ তথা যুদ্ধ করা ফরয ছিলো; সেটি এদেশের নামধারী ও ধর্মব্যবসায়ী জঙ্গি-জামাতীরা ব্যতীত সত্যিকার মুসলমানরা যথার্থরূপে করে দেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছে।
কিন্তু সে ফরয আদায়ের অভিজ্ঞতা বিস্তারে রাষ্ট্রযন্ত্র বাধা দিয়ে রেখেছে।
সঙ্গতকারণেই তাই প্রশ্ন জোরদার হয় যে, রাষ্ট্রযন্ত্র কী ইসলাম স্বীকার করে? না করে না? করবে? না করবে না?
রাষ্ট্রযন্ত্র কী মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখাবে? না দেখাবে না?
রাষ্ট্রযন্ত্র কী তবে ইসলাম আর মুসলমান বাদ দিয়ে অন্য সব ধর্ম এবং ধর্মাবলম্বীদের প্রতিই চরম সম্মান দেখাবে এবং পরম পৃষ্ঠপোষকতা করবে? কারণ, অন্য সব ধর্ম এবং ধর্মাবলম্বীদের খেয়ালখুশি অনুযায়ী রাষ্ট্রযন্ত্র খেলাধুলা থেকে সিনেমাসহ সব ধরনের অশ্লীলতার অবাধ পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছে।
কিন্তু ইসলাম ও মুসলমান সেখানে হয়ে যাচ্ছে অপাঙক্তেয়। এবং এটা হচ্ছে কথিত ধর্মনিরপেক্ষতার সুবাদে।
দেখা যাচ্ছে, কথিত ধর্মনিরপেক্ষতা অন্য সব ধর্ম তথা সব অনৈসলামীপানার প্রভৃত পরিচর্যা করে কিন্তু ইসলামের উপর শুধুই আঘাত হানে।
সঙ্গতকারণেই দেশের শতকরা ৯৭ ভাগ অধিবাসী মুসলমান ধর্মনিরপেক্ষতার এ অভিশাপ থেকে মুক্তি চায়।
মূলত ইসলামী প্রজ্ঞার অভাবে কোন সরকারই এ সত্যটি আদৌ উপলদ্ধি করতে পারেনি। সঙ্গতকারণেই আমরা মনে করি, সরকারেরও প্রয়োজন রয়েছে নেক পরামর্শ তথা নেক ছোহবত, রূহানী সংস্পর্শ তথা ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ।
যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম উনার নেক ছোহবতেই সে মহান নিয়ামত হাছিল সম্ভব। মহান আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে তা নছীব করুন। (আমীন)

প্রসঙ্গ: ইসরাইলি পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। ইসরাইলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধসহ কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা মুসলিম বিশ্বের এখন ফরযের উপর ফরয।

সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে বাজেটের ১১ শতাংশ। প্রত্যেক বছর বাজেটের আকার বাড়লেও এর সুফল পাচ্ছে না দেশ ও দেশের জনগণ। জনগণের উচিত সরকারকে বাধ্য করা- ঋণের ধারা থেকে সরে এসে অভ্যন্তরীণ অর্থ-সম্পদের দিকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটকে গণমুখী করার জন্য।

বাংলাদেশে জিএমও ফুড প্রচলনের সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে-২

পর্যবেক্ষক ও সমালোচক মহলের মতে- ভারতের কাছে দেশের স্বার্থ বিলিয়ে দেয়ার নিকৃষ্টতম উদাহরণ রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। মাত্র ১৫ ভাগ বিনিয়োগ করে ভারত মালিকানা পাবে ৫০ ভাগ। আর ধ্বংস হবে এদেশের সুন্দরবন। সুন্দরবনকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে (২)

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতোই রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ভয়াবহ। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে কিন্তু রূপপুর অজ্ঞতার আঁধারেই রয়ে গেছে? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়টি বিশেষভাবে আমলে নিতে হবে। প্রয়োজনে সচেতন জনগণকেই প্রতিহত করতে হবে (২)