গরীবের বৃহৎ বাণিজ্যের রক্তশোষক, লোমহর্ষক বঞ্চনা ও প্রতারণা ছাড়াও খোদ ইউনূস মেয়াই ঋণখেলাপী ও ভূমি জবরদখলকারী। ইউনূস মেয়ার কর্মীরা প্রান্তিক কৃষকের ঘরের টিন খুলে নিয়েছে, অনেককে আত্মহত্যা করতে প্ররোচিত করেছে।  এবার ইউনূস মেয়ার দালান বাড়ির ইট খুলবে কে? এতসব অপমানের পরও কী ইউনূস মেয়া একইভাবে বাঁচতে উৎসাহবোধ করবেন?

সংখ্যা: ১৯৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

*********

চারণ সাংবাদিক হিসেবে কথিত মোনাজাত উদ্দিন অকপটে স্বীকার করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘সংবাদ’ অফিসের নিচেই এক দামি হোটেলে সুস্বাদু, গরম, নরম দামি খাবারের কথা। পকেটে কিছু বাড়তি টাকা এসেছে ভাই, তাই দামি খাবারের অভিলাষ। মোনাজাত উদ্দিন অবশ্য লিখতে কুণ্ঠাবোধ করেননি, তিনি যে বাড়তি টাকাটা পেয়েছিলেন সেটা দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত গ্রামীণ দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের দুরবস্থার নিখুঁত বর্ণনা সম্বলিত ফিচার জমা দেয়ার কৃতিত্বের কারণে।

মোনাজাত উদ্দিন অবশ্য অবাকও হয়েছিলেন যে, আজকে তার পকেটে যে বাড়তি টাকা, তার সামনে যে গরম দামি সুস্বাদু খাবার তার পিছনে রয়েছে দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের দুরবস্থা। সে দুরবস্থাকে উপজীব্য করেই তিনি আজ বাড়তি টাকাটা অর্জন করেছেন। দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের দুরবস্থাকে তুলে ধরে তিনি বাড়তি টাকা, কৃতিত্বের স্বীকৃতি সেটা পেয়েছেন। কিন্তু যেসব দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের দুরবস্থার কথা তিনি লিখেছেন তাদের দুরবস্থা কিন্তু কাটেনি।

মোনাজাত উদ্দিনের মাঝে এক ধরনের অনুশোচনাবোধ তৈরি হয়েছিলো। মোনাজাত উদ্দিন যে খুব বেশি অর্জন করেছিলেন, তা নয়। হাজার খানেকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো। কিন্তু তারপরেও মোনাজাত উদ্দিনের মাঝে একটি অনুভূতি তৈরি হয়েছিলো। আক্ষেপ তৈরি হয়েছিলো। পারলে মোনাজাত উদ্দিন তাদের জন্য কিছু করতেন, এটা বলা যায়।

আর শুধু এক মোনাজাত উদ্দিন নয় অনেকেই স্বাধীনতা উত্তর থেকে  দারিদ্র্যপীড়িতদের দারিদ্র্যকে পুঁজি করে বিশাল পুঁজিবাদী হয়েছেন

গণস্বাস্থ্য থেকে আরম্ভ করে ব্র্যাক, প্রশিকা, গ্রামীণ ব্যাংক এসব প্রতিষ্ঠিত ও প্রভাবশালী এনজিও’র সংখ্যা এমন হাজারের ঊর্ধ্বে দাঁড়িয়ে গেছে। এদের মধ্যে অনেকেই প্রাচুর্যে ভরা দৈনিক থেকে আরম্ভ করে ইউনিভার্সিটি খুলেছেন।

অপরদিকে ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের নামে যে হাজারো বেসাতি করেছেন, শুধু তাই নয় বরং সাধারণের মাঝে অসাধারণ সাধু পুরুষ টাইপ একটা ভাবমূর্তিও বিতরণ করেছেন।

যে কারণে নাকি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টারূপে তার ডাক পড়েছিলো। তিনি নাকি জাতির ত্রাণকর্তা ইত্যাদি। সব মিডিয়াই ড. ইউনূসের এসব অপার্থিব মূল্যায়নে ভিমড়ি খেয়ে পড়েছিলো।

সে সময়ে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে কথা বলা, লেখা মানে কট্টরপন্থী হওয়া- এসব আপ্ত প্রচারণাই তখন প্রতিষ্ঠা করেছিলো। কিন্তু সে সময়েও তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত ও দৈনিক আল ইহসান-এ ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দলীলপত্রসহ তার হাজারো ভারসাম্যহীন বাণিজ্য, শোষণ, অসংলগ্নতা, দেশ বিক্রির প্রবণতা ইত্যাদি পত্রস্থ হয়েছিলো।

আজকে তা পল্লবিত হয়েছে। আজ ‘ দৈনিক আল ইহসান’ ছাড়াও অন্যান্য পত্র-পত্রিকায় তথা মিডিয়ায় ড. ইউনূসের ‘সাগরচুরি’ বাণিজ্যের তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে। তা ড. ইউনূস যে আসলে গরিবদের প্রতি সংবেদনশীল একজন মানুষ নন বরং তিনি গরিব মেহনতি মানুষের রক্তচোষক তা প্রতিভাত ও প্রমাণিত হচ্ছে।

পাশাপাশি সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে,

গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. ইউনূস মেয়া ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করতে না পেরে ঋণ খেলাপির তালিকায় উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তালিকায় তার নাম রয়েছে। প্রায় ১৪ বছর আগে নেয়া ১০ কোটি টাকা এখন সুদাসলে ১৮ কোটি টাকা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

১৯৯৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ উদ্যোগ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে গণস্বাস্থ্য-গ্রামীণ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড গড়ে তোলা হয়। ওই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা ছিলেন গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ইউনূস ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী। এ দুজনের উদ্যোগে গড়ে তোলা হয় গণস্বাস্থ্য গ্রামীণ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড। এ প্রতিষ্ঠানের ১২ সদস্য বিশিষ্ট পরিচালনা পর্যদের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন ড. ইউনূস। বাকি ১১ জন পরিচালকের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হচ্ছে, ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী ও ডা. আবুল কাশেম। সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট নামক স্থানে এ টেক্সটাইলটি স্থাপন করা হয়। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও গ্রামীণ ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ উদ্যোগের ফান্ড দিয়ে মিলটি চালু করা হয়। গণস্বাস্থ্য গ্রামীণ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের নামে গৃহীত ঋণ যথাসময়ে পরিশোধ করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ড. ইউনূসসহ ১২ জন পর্ষদ সদস্য ঋণখেলাপির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি তালিকায় ঋণখেলাপি হিসেবে তাদের নাম উঠেছে।

তৎকালীন বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা থেকে গণস্বাস্থ্য গ্রামীণ টেক্সটাইল মিলসের নামে ১০ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়। ঋণ গ্রহণের পর নিয়ম অনুযায়ী কিস্তি পরিশোধে উদ্যোক্তরা ব্যর্থ হতে থাকেন। ফলে অনুমোদিত ১০ কোটি টাকা ঋণ বর্তমানে সুদ ও আসলে ১৮ কোটি টাকা হয়েছে।

এদিকে ঋণ খেলাপি হিসেবে ড. ইউনূসের নাম যাতে সিআইবি তালিকায় না আসে সেজন্য সে বহু চেষ্টা তদবির করছে। সে গ্রামীণ উদ্যোগের ফান্ড থেকে ইতিমধ্যে ৫ কোটি টাকা পরিশোধও করেছে। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। তৎকালীন বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা ও বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক একীভূত হয়ে বর্তমানে বাংলাদেশে ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবি) নামে পরিচিত। বিডিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, ড. ইউনূসের সুনামকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা তার পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটিকে ঋণ দিয়েছিলাম। কিন্তু বিশ্বখ্যাত ওই ব্যক্তি এভাবে ঋণখেলাপি হবে তা আমরা ভাবতে পারিনি।

এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ আনু মুহম্মদ বলেন, ড. ইউনূস ঋণখেলাপি এতে আমি অবাক হয়নি। কারণ, বহু অনিয়ম তার রয়েছে। তার মধ্যে ঋণখেলাপি একটা অনিয়ম।  ইউনূস নিজের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে যেসব অনিয়ম করে ক্ষুদ্র ঋণ আদায় করে তা নিজের চোখে না দেখলে বোঝা যাবে না। অথচ সে প্রচার করে তার দেয়া ঋণ শতভাগ আদায় হয়। অথচ নিজে ঋণখেলাপি এটা বেমানান।

তিনি বলেন, ড. ইউনূস ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। এ অবস্থায় আদালতের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে আরো অনেক তথ্য বের হয়ে আসবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ড. ইউনূস ঋণখেলাপি হয়ে কিভাবে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, এটা বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। এটা যদি উদাহরণ হয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে তফসিলি ব্যাংকগুলোতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ড. ইউনূস ঋণখেলাপির তালিকা থেকে বের হয়ে আসার আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে সে ২ থেকে ৩ কোটি টাকা দিয়ে ঋণটি রিসিডিউল’ করার আশ্বাস দিয়েছে। সে লক্ষ্যে সে বিডিবির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেছে।

এ ব্যাপারে গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, ড. ইউনূস ঋণখেলাপি কি না তা তারা জানেন না বলে জানান।

*********

এদিকে গত ১৯ মে, ২০১০ ঈসায়ী তারিখে ‘দৈনিক আল ইহসান’-এ প্রথম পৃষ্ঠায় খবর হেডিং হয়, æগরিবের রক্তচোষক সুদখোর ইউনূস ভূমিদস্যুতায়ও জবর।”

খবরে বলা হয়: ‘গরিবের রক্তচোষক, ঘরের টিন লুন্ঠন, অগণিত মহিলার আত্মহত্যার ক্রীড়নক, গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিহিত সুদখোর ইউনূসকে ভূমিদস্যুতার মত অপরাধের কারণে সমন করেছে গাজীপুরের একটি আদালত।

জানা গেছে, গ্রামীণ টেলিকমের পরিচালক ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক ড. ইউনূসসহ ১৬ জনকে বিবাদী করে গাজীপুরে জমির দখল স্থিরকরণ ও জমির দখল উদ্ধারে একটি মোকদ্দমা দায়ের করা হয়েছে। মেসার্স লিবরা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড-এর পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. রওশন আলম বাদী হয়ে গাজীপুরের যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে এই মামলা দায়ের করেন। বিবাদীদের বিরুদ্ধে গাজীপুর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের সারাব  মৌজায় ১৬ দশমিক ৬০ একর জমি দখলের অভিযোগ আনেন। আদালত ১৬ বিবাদীর বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দেয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, রবিবার মেসার্স লিবরা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. রওশন আলম বাদী হয়ে গাজীপুরে যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে এই মামলা  (দেওয়ানি মোকদ্দমা নং ২৫৪/২০১০) দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রামীণ টেলিকমের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফুল হাসানকে ১নং বিবাদী ও গ্রামীণ টেলিকমের পরিচালক ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক ড. ইউনূসকে ২নং বিবাদী করা হয়েছে। মামলার অপর বিবাদীরা হলেন প্রাসাদ প্যারাডাইস লিমিটেডের পক্ষে চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ আব্দুল্লাহ, মেজর মোস্তফা কামাল, নাছির উদ্দিন, খোকন চৌধুরী, চৌধুরী মনিরুজ্জামান (মানিক) নাজমুল ইসলাম, আবু নাইম মাকসুদুর রহমান, মেজর আকরাম উজ্জামান, আশ্রাফ আলী, আহসান উল্লাহ, মালিম্যাক্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএম আলমগীর, আনোয়ার কামাল পাশা, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গাজীপুর জেলা প্রশাসক এবং সাব-রেজিস্ট্রার, গাজীপুর সদর।

বাদীপক্ষের আইনজীবী পিয়ার আলী জানান, বিবাদীরা ৭ মার্চ (২০১০) লোকজন নিয়ে বিবাদীর কেনা সম্পত্তিতে বেআইনিভাবে অনুপ্রবেশ করে। ২২ নভেম্বর ২০০৯ তারিখে আনোয়ার কামাল পাশাকে দাতা দেখিয়ে গ্রামীণ টেলিকমকে এবং বাকি জমি মালিম্যাক্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অন্যান্য বিবাদীর কাছে একইভাবে বিক্রি করলে ৭ মার্চ তারা একযোগে দখলে যায়।

তিনি আরো জানান, লিবরা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. রওশন আলম ১৯৯৮ সালে রেকর্ডীয় মালিকদের কাছ থেকে ওই সম্পত্তি ক্রয় করেন। এ ব্যাপারে লিবরা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. রওশন আলম ওই সম্পত্তির দখল উদ্ধারের জন্য ১৬ মে গাজীপুরের যুগ্ম জজ ১ম আদালতে মোকাদ্দমাটি দায়ের করেছেন। ওই আদালতের বিচারক জয়শ্রী সমাদ্দার বিবাদীদের নামে সমন জারির আদেশ দেন। ১০ আগস্ট মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

*********

উল্লেখ্য সিডরের ভয়ঙ্কর আঘাতে যে লাখ লাখ মানুষ সর্বস্ব হারিয়েছে তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছিলো ক্ষুদ্রঋণগ্রহীতা।

সম্প্রতি দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে একশন এইড পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৪২টি ক্ষুদ্রঋণদানকারী সংস্থা সেসব অঞ্চলে কাজ করছে এবং ১৫ লাখ মানুষের কাছে প্রায় ১ হাজার ২শ কোটি টাকা ঋণ আছে। এসব সংস্থার মধ্যে ব্র্যাক, আশা ও গ্রামীণ ব্যাংকও আছে। একই গবেষণায় দেখা গেছে, ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ এতই প্রবল ছিল যে, অনেকেই প্রাপ্ত রিলিফ সামগ্রী, সরকার প্রদত্ত গৃহনির্মাণ সুবিধা বিক্রি করে কিস্তি শোধ করেছেন। অনেকে নতুন ঋণ নিয়ে পুরনো কিস্তি শোধ করেছেন। এই চিত্র অস্বাভাবিক বা বিচ্ছিন্ন নয়। গত বছরে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণাপত্রে লামিয়া করিম নাকছাবি গরু, মুরগি, ঘরের টিন, আসবাবপত্র বিক্রি করে ঋণের কিস্তি পরিশোধের একাধিক উদাহরণ দিয়েছেন। এ ধরনের বহু ঘটনার সাক্ষী বহু গবেষক ও সাংবাদিক যার অল্পই প্রকাশিত।

*********

পরিশেষে আরো উল্লেখ্য যে,  গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. ইউনূসের সাফল্যের পেছনে তুলে ধরা হয় চট্টগ্রামের জোবরার গ্রামের সুফিয়া বেগম কে । প্রচার করা হয় সুফিয়া গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ নিয়ে সুফিয়া খাতুন স্বাবলম্বী হয়েছেন। সুফিয়া ছিল গ্রামীণ ব্যাংকের প্রথম ঋণ গ্রহিতা । ১৯৭৪ সালে জোবরা গ্রামের সিকদার পাড়ার অভাবী নারী সুফিয়া খাতুনের হাতে ঋণ হিসেবে প্রথম ২০ টাকা তুলে দিয়ে ক্ষুদ্রঋণের যাত্রা শুরু করেন তৎকালীন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. ইউনূস। বেশি ঋণের আশ্বাস পেয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই ঋণ পরিশোধ করেন সুফিয়া। নতুন করে ঋণ পান ৫০০ টাকা। একসঙ্গে এত টাকা পাওয়ার আনন্দে সুফিয়া সেদিন তা সারা গ্রামে জানিয়ে দেন। এর অল্পদিনের মধ্যে ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের আওতায় চলে আসে পুরো জোবরা গ্রাম। জোবরার ঘরে ঘরে তখন নগদ টাকার আনন্দ। কিন্তু সেই আনন্দ মিলিয়ে যেতে বেশিদিন লাগেনি। সুদে আসলে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন অনেকে, এলাকা ছেড়েছেন রহিমাও সায়েরা খাতুন সহ অনেকেই।

আজও জোবরা গ্রামের মানুষের আক্ষেপ- স্বাবলম্বী করার নামে ড. ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প তাদের গরিব থেকে আরো গরিব করেছে। গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ শোধ করতে তারা আশার দ্বারস্থ হয়েছেন। আশার টাকা শোধ করতে ব্র্যাক” এর দ্বারস্থ হয়েছেন। এভাবে ঋণ বাণিজ্যের নামে গরিব দুঃখী, সহজ-সরল গ্রামের মানুষদের কে ঠেলে দেওয়া হয়েছে দারিদ্র্যের চরম পর্যায়ে ।

আর এদিকে উন্নয়ন মডেল সুফিয়া খাতুন চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মারা যান ১৯৯৮ সালে । গ্রামবাসী চাঁদা তুলে তার দাফনের ব্যবস্থা করে। সুফিয়ার পঞ্চাশোর্ধ্ব অসুস্থ দুই মেয়ে হালিমা ও নূর নাহারের এখন দিন কাটে অর্ধাহারে, অনাহারে। তবে অনেক অনুরোধের পর গ্রামীণ ব্যাংক হতে তাদের একটি রিকশা দেয়া হয়েছিলো। বর্তমানে তাদের মাথা গোঁজার কুঁড়েঘরটি ভেঙে পড়ার অপেক্ষায়। গত বর্ষায় তারা অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। ঘর মেরামত না হলে এই বর্ষায়ও তাদের ভিজতে হবে।

অথচ এই সুফিয়া সম্পর্কে প্রচার করা হয়েছে তার নাকি পাকা বাড়ি রয়েছে। প্রকৃত পক্ষে সুফিয়ার বাড়ির পাশে দুবাই প্রবাসী জেবল হোসেনের দোতলা বাড়িটিকে সুফিয়ার নিজের বাড়ি বলে সারা বিশ্বে প্রচার করা হয়েছে। দেশি-বিদেশী মিডিয়া এটিকেই সুফিয়ার বাড়ি হিসেবে প্রচার করে ইউনূসের গুণকীর্তন করেছেন । এ কেমন প্রতারণা ?

জেবল হোসেন ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে প্রতারণার দায়ে মামলা করবেন বলে গ্রামবাসীকে জানিয়েছেন । হয়ত মামলা করলেও ড. ইউনুসের কিছুই হবে না।

কিন্তু মানুষের বিবেক কি ইউনূস কে ক্ষমা করতে পারবে ?

গরিবের রক্ত শুষে জোঁকের মত ফুলে ফেপে নোবেল মেডেল গলায় দিয়ে ড. ইউনূস কি করে রাতে ঘুমাতে পারে? তার পেটোয়া বাহিনী যেখানে খেলাপী ঋণীদের ঘরের টিন খুলে নিয়েছে- আজকে ইউনূসের দালান বাড়ির ইট খুলবে কে? ইউনূস মেয়া যেভাবে অগণিত মহিলার আত্মহত্যার কারণ; আজকে সে নিজের ভেতরে কীভাবে চশমখোরের মত বেঁচে থাকার প্রবণতা পেতে পারে?

-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৬৭

ভ্রান্ত ওহাবী মতবাদ প্রচারের নেপথ্যে-১৬

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-৩৫

বাতিল ফিরক্বা ওহাবীদের অখ্যাত মুখপত্র আল কাওসারের মিথ্যাচারিতার জবাব-২৫ হাদীছ জালিয়াতী, ইবারত কারচুপি ও কিতাব নকল করা ওহাবীদেরই জন্মগত বদ অভ্যাস ওহাবী ফিরক্বাসহ সবগুলো বাতিল ফিরক্বা ইহুদী-নাছারাদের আবিষ্কার! তাদের এক নম্বর দালাল

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ‘সংবিধানের প্রস্তাবনা’, ‘মৌলিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ ‘জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা’ এবং ‘জাতীয় সংস্কৃতি’ শীর্ষক অনুচ্ছেদের সাথে- থার্টি ফার্স্ট নাইট তথা ভ্যালেন্টাইন ডে পালন সরাসরি সাংঘর্ষিক ও সংঘাতপূর্ণ’। পাশাপাশি মোঘল সংস্কৃতির দান পহেলা বৈশাখ পালনও প্রশ্নবিদ্ধ।সংবিধানের বহু গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ স্পর্শকাতর অনুচ্ছেদের প্রেক্ষিতে ৯৫ ভাগ মুসলমানের এদেশে কোনভাবেই থার্টি ফার্স্ট নাইট ও ভ্যালেন্টাইন ডে পালিত হতে পারে না।পারেনা গরিবের রক্ত চোষক ব্র্যাকের ফজলে আবেদও ‘নাইট’ খেতাব গ্রহণ করতে। পারেনা তার  নামের সাথে ‘স্যার’ যুক্ত হতে। পাশাপাশি মোঘল সংস্কৃতির দান পহেলা বৈশাখ পালনও প্রশ্নবিদ্ধ।