গার্মেন্টস খাত ধ্বংসে চলছে গভীর ষড়যন্ত্র। গত ছয় বছরে বন্ধ হয়েছে ৬ হাজার কারখানা, হুমকিতে ৪০ লাখ শ্রমিকের জীবিকা, দেশের ক্ষতি লাখ লাখ কোটি টাকা। সরকার, শ্রমিক, মালিকপক্ষের উচিত- দেশবিরোধী এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে মোকাবেলা করা।

সংখ্যা: ২৫৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

প্রবাসী শ্রমিকদের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিদেশ থেকে যে রেমিটেন্স আসছে তার অন্যতম খাত হলো গার্মেন্টস শিল্প। প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের তৈরী পোশাক রফতানী করে বাংলাদেশ প্রায় লাখ কোটি টাকা বৈদেশিক অর্থ আয় করছে। আর এর ফলে দেশবিরোধী শক্তি তথা দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অনবরত বাংলাদেশের গামেন্টস খাতকে বাধাগ্রস্ত করার অপপ্রয়াস চলছেই।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শিল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে অপপ্রচার। ভারত, ভিয়েতনামসহ অন্যান্য দেশের কাছে এ শিল্পকে তুলে দিতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র করছে। দেশের শ্রমিকদের উস্কে দেয়া, ট্রেড ইউনিয়ন করার চাপসহ বিভিন্নভাবে গার্মেন্টসে অসন্তোষ তৈরি করে ভাবমর্যাদা ক্ষুণœ করার চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতকে ধ্বংস করার জন্য দেশবিরোধী অপশক্তি বিদেশে বায়ারদের কাছে সন্ত্রাসী হামলা বা নিরাপত্তার অজুহাত, কর্ম-পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হচ্ছে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ক্রেতা প্রতিষ্ঠান অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স ছড়ি ঘোরাচ্ছে বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানার উপর। আর এ কারণে ব্যাপক সাফল্যের রেকর্ড থাকলেও দীর্ঘদিন থেকে চরম অনিশ্চয়তা-উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন এ শিল্প সংশ্লিষ্টরা। গত ৬ বছরে নিট, হোসিয়ারি, ওভেন গার্মেন্ট মিলে প্রায় ৬ হাজার পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আর এসব বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প খাতে বিনিয়োগ করা প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকার মূলধন হারিয়েছে ব্যবসায়ীরা। এসব গার্মেন্টস মালিক পুঁজি হারিয়ে দেউলিয়া হয়েছে। ঋণের দায় শোধ করতে না পেরে অনেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

প্রসঙ্গত, দেশের তৈরী পোশাক আশির দশকে আমেরিকা ও ইউরোপে রফতানী করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন শুরু হওয়ার পর থেকেই গার্মেন্টস শিল্পের উপর শকুনি দৃষ্টি পড়ে। দেশী বিদেশী চক্র গার্মেন্টস শিল্প ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে মেতে উঠে। ৩০/৩৫ ধরে সে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। মাঝে মাঝেই শিল্পকে অস্থির করে তোলা হয়। কখনো শ্রমিকের বেতন বৃদ্ধির দাবির অজুহাতে; কখনো কর্মপরিবেশ সৃষ্টির ইস্যুতে। চক্রটি চায় দেশের গার্মেন্টস শিল্পের বাজার বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে। আর একাজে তারা ব্যবহার করে কিছু শ্রমিক পরিচয়ধারী নেতা, এনজিও এবং অখ্যাত বাম নেতাদের।

পাশাপাশি বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টর দখলে আটঘাট বেঁধে নেমেছে প্রতিবেশী ষড়যন্ত্রকারী রাষ্ট্র ভারত। নিজস্ব এজেন্টদের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে দিয়ে একে একে দখল করে নেয়া হচ্ছে বড় বড় গ্রুপের পোশাক কারখানাগুলো। কোনোটির আংশিক মালিকানা আবার কোনোটির পুরো মালিকানা কিনে নিচ্ছে ভারতীয়রা। প্রায় ৫ হাজার তৈরী পোশাক কারখানায় বর্তমানে ২২ হাজারের মতো বিদেশী (বিশেষত ভারতীয়) গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত আছে। এদের মধ্যে ভারতীয়ই বেশি এবং অভিযোগ উঠেছে তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর এজেন্ট। বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প মূলত তাদেরই নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উদ্যোক্তারা পরিচালিত হয় তাদের তৈরি করা ছক অনুযায়ী। এলডিসি বা স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশ যে ভারতের তুলনায় বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে তার সবই ভারতীয়দের নখদর্পণে। তারাই মূলত ছক আঁকে বাংলাদেশের সেরা কারখানাগুলোকে ভারতীয়দের দিয়ে কিনিয়ে নেয়ার। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শ্রমিকদের উস্কে দিয়ে কারখানায় ভাংচুর চালিয়ে উদ্যোক্তাদের মনোবল নষ্ট করে তারা। পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের ব্যবসায়িক সম্ভাবনাগুলো সম্পর্কে ধারণা দিয়ে কারখানা কিনিয়ে নেয়। মালিকানা পরিবর্তন হওয়ার আগে বিভিন্ন অজুহাতে কারখানাগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। নতুন মালিকরা এসে এগুলোর আধুনিকায়ন করেন উন্নত মেশিনারি দিয়ে। ফলে এসব কারখানা থেকে প্রায় ৯০ ভাগ শ্রমিকই বাদ পড়েন।

বলাবাহুল্য, দেশী-বিদেশী চক্রের সমন্বয়ে গড়ে উঠা কুচক্রী গোষ্ঠীটি চাচ্ছে এই সেক্টরটিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিতে। তাই শ্রমিক নামধারী যে সব দেশবিরোধীচক্র গার্মেন্টস সেক্টর ধ্বংসের পাঁয়তারা লিপ্ত তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে শ্রমিকদেরকেই। তবে সাধারণ শ্রমিকদের কথা হলো যারা মাঝে মাঝেই গার্মেন্টস সেক্টরে এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির কাজে লিপ্ত হয় তাদের অনেকেই নাকি গার্মেন্টস শ্রমিক নয়। এরা বেশিরভাগই বহিরাগত। এছাড়া হামলার সময় অনেক জামাত-শিবির ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন হিযবুত তাহরীর সদস্য উপস্থিত থাকে। তারা শ্রমিকদের উস্কে দিয়ে ও নিজেরা অংশ গ্রহণ করে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটিয়ে সটকে পড়ে। এদের সাথে জড়িত আছে শ্রমিক নামধারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাও।

সঙ্গতকারণেই কিছুদিন পরপর গার্মেন্টস খাতে শ্রমিক অসন্তোষ ও শ্রমিকদের বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠার যে ঘটনা ঘটছে, এর স্থায়ী সমাধান দরকার। এজন্য সরকার-শ্রমিক-মালিক- এই তিন পক্ষকেই ভূমিকা রাখতে হবে। দেশের অর্থনীতির এই প্রধান খাতটি যাতে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের দ্বারা কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষ ও বিক্ষোভের নেপথ্যে যে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা দরকার। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থেই গার্মেন্টস শিল্পকে রক্ষা করতে হবে।

প্রসঙ্গত আমরা মনে করি, পোশাক শিল্পের এ দুরবস্থা ততক্ষণ পর্যন্ত দূর হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত মালিক-শ্রমিক উভয়ের মধ্যে হক্কুল ইবাদ সম্পর্কিত সম্মানিত ইসলামী মূল্যবোধ ও চেতনা গড়ে না উঠবে। “শ্রমিকের ঘাম শুকানোর পূর্বে তার মজুরী দিয়ে দাও”- পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার এ মর্মকথার পূর্ণ প্রতিফলন ব্যতীরেকে শ্রমিক অসন্তোষ নামক ষড়যন্ত্রটি চলতেই থাকবে।

-আল্লামা মুহম্মদ তা’রীফুর রহমান, ঢাকা

প্রসঙ্গঃ- এদেশের বুদ্ধিজীবী এবং সেলিনা দিদিদের হিন্দু প্রীতিও পূজা মনোবৃত্তি

ধর্মমন্ত্রী, ধর্ম উপদেষ্টা তথা ধর্মসচিব, তারা আসলে কোন ধর্মের লোক? অন্য ধর্মের প্রশংসাকারী তো মুসলমান থাকতে পারেনা

শুধু কী দুই নেত্রীই পাগল! প্রধান উপদেষ্টা বা তার সরকার কী পাগলামির বাইরে? 

‘কুমারী মাতা’ হতে দোষ নেই; কিন্তু ‘বাল্যবিয়েই’ সব দোষ?

প্রসঙ্গ: মুজাদ্দিদে আ’যমের আবির্ভাব এবং আমেরিকায় অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক গযব