চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-৫২

সংখ্যা: ২১১তম সংখ্যা | বিভাগ:

-আল্লামা আবুল বাশার মুহম্মদ রুহুল

বর্তমান সংখ্যার আলোচনা

ইহুদীদের মদদপুষ্ট হয়ে এবং সউদী ওহাবী শাসকগোষ্ঠীর অর্থে সাহায্যপ্রাপ্ত হয়ে সারাবিশ্বে একটি

হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরণের অলীক স্বপ্ন নিয়ে একটি ভুঁইফোঁড় সংগঠন সারা দেশে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

‘Real Hizri Calendar Implementation Council Bangladesh’ নামে এই সংগঠনটি সারা বিশ্বে একটি হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরণের পক্ষে অর্থাৎ সারা বিশ্বে একদিনে ঈদ পালন করার পক্ষে নানা প্রচারণা চালাচ্ছে এবং এ সম্পর্কে ৯০টি খোঁড়া যুক্তি দাঁড় করিয়েছে। আমরা ধারাবাহিকভাবে তাদের বর্ণিত শরীয়তের খিলাফ এই মনগড়া যুক্তির শরীয়তসম্মত এবং সঠিক মতামত প্রকাশ করবো ইনশাআল্লাহ। যেন সাধারণ মুসলমানগণ চাঁদের তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তিতে না পড়ে। তারা লিখেছে-

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

৪৩ নম্বর মত: বিজ্ঞানীদের রচিত একটিমাত্র বিশ্ব হিজরী ক্যালেন্ডার আমাদের অনুসরণ করা উচিত।

৪৩ নম্বর মতের জাওয়াব: নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন আখিরী রসূল। উনার মাধ্যমে ওহীর পথ চিরতরে বন্ধ হয়েছে। এখন নতুন কোন বিষয় আসলে তা কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ এবং সুন্নাহ শরীফ-এর আলোকে ব্যাখ্যা করতে হবে কিন্তু নতুন কোন শরীয়তের আইন প্রণয়ন করার ক্ষমতা কারো নেই। আর যদি কেউ নতুন শরীয়তের আইন জারী করতে চায় তবে সে নব্য নবী দাবিদার ছাড়া আর কিছুই হবে না।

সৃষ্টির শুরু থেকেই গণনা হিসেবে মাসের সংখ্যা বারটি। আর এই গণনা পদ্ধতি সৃষ্টির শুরু থেকেই হয়ে আসছে চাঁদ দেখে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীছ শরীফ-এর মাধ্যমে চাঁদ দেখে আরবী মাস শুরু করার পদ্ধতি উম্মতকে শিখিয়ে ইহুদীদের মত মনগড়াভাবে মাস গণনার সকল পথ বন্ধ করে দিয়েছেন।

তথাকথিত ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বিজ্ঞানীদের রচিত শরীয়ত অনুসরণ করতে চায়, নাঊযুবিল্লাহ! শরীয়তের কোথাও উল্লেখ নেই চাঁদ দেখে আরবী মাস গণনা করার পদ্ধতি ছেড়ে দিয়ে বিজ্ঞানীদের রচিত ক্যালেন্ডার অনুসরণ করতে হবে।

বিজ্ঞানীদের রচিত ক্যালেন্ডার তখনই অনুসরণ করা যাবে যদি তা শরীয়তের আলোকে রচিত হয়। সারা বিশ্বের জন্য শরীয়তসম্মতভাবে একটি হিজরী ক্যালেন্ডার কখনোই বিজ্ঞানীদের পক্ষে প্রস্তুত করা সম্ভব নয় ফলে তা অনুসরণের প্রশ্নই আসেনা। অর্থাৎ বিজ্ঞানীদের রচিত একটিমাত্র হিজরী ক্যালেন্ডার আমাদের অনুসরণ করার প্রশ্নই আসে না।

৪৪ নম্বর মত: সমগ্র বিশ্বের জন্য একটিমাত্র চন্দ্র ক্যালেন্ডার হবে।

৪৪ নম্বর মতের জাওয়াব: সারা বিশ্বের জন্য একটি সৌর ক্যালেন্ডার রচনা করা সম্ভব কিন্তু চন্দ্র ক্যালেন্ডার নয়। মুসলমানগণ মাস গণনা করবেন চাঁদের হিসাবে, আর দিনের আমলসমূহ পালন করবেন সূর্যের হিসাবে। সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি চন্দ্র ক্যালেন্ডার রচনা কখনো সম্ভব নয় কারণ বিশ্বের সকল অঞ্চল একই সময়ে চাঁদ দেখতে পান না। যারা এসকল অবান্তর কথা বলে যাচ্ছে তাদের উচিত লিখিতভাবে তাদের মনগড়া মত প্রকাশের জন্য ক্ষমা চাওয়া এবং একজন হক্কানী-রব্বানী আল্লাহ পাক উনার ওলী উনার ছোহবতে এসে শরীয়তের সঠিক ইলম হাছিল করা।

বিশ্বের জন্য ১৪৩৩ হিজরীর পবিত্র  রবীউল

আউয়াল শরীফ মাসের চাঁদের রিপোর্ট

জিরো মুন (অমাবস্যা) সংঘটিত হবে ২৩ জানুয়ারী-২০১২, সোমবার, সকাল ৭টা ৩৯ মিনিটে। {আত-তাক্বউইমুশ শামসি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২৫, সামিন, ১৩৭৯} (আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী)।

অমাবস্যার দিন অর্থাৎ ২৩ জানুয়ারী ২০১২, সোমবার, সউদী আরবে পবিত্র রবীউল আউয়াল শরীফ মাসের চাঁদ দেখা যাবার কোন সম্ভাবনা নেই।

বাংলাদেশের জন্য ১৪৩৩ হিজরীর পবিত্র  রবীউল

আউয়াল শরীফ মাসের চাঁদের রিপোর্ট

বাংলাদেশের স্থানীয় সময় অনুযায়ী জিরো মুন (অমাবস্যা) সংঘটিত হবে ২৩ জানুয়ারী-২০১২, সোমবার, দুপুর ১টা ৩৯মিনিটে।

বাংলাদেশে পবিত্র রবীউল আউয়াল শরীফ মাসের চাঁদ তালাশ করতে হবে ২৪ জানুয়ারী-২০১২, মঙ্গলবার সন্ধ্যায়।

সেদিন ঢাকায় সূর্যাস্ত ৫টা ৪০ মিনিটে এবং চন্দ্রাস্ত ৬টা ৪৬ মিনিটে। অর্থাৎ সূর্যাস্ত এবং চন্দ্রাস্তের সময়ের পার্থক্য ১ ঘণ্টা ০৬ মিনিট। সূর্যাস্তের সময় চাঁদ দিগন্তরেখার প্রায় ১৪ ডিগ্রী উপরে অবস্থান করবে এবং সূর্য থাকবে ২৪৯ ডিগ্রি আজিমাতে। আর চাঁদ খুঁজতে হবে ২৫১ ডিগ্রি আজিমাতে। সেদিন চাঁদ দেখার সম্ভাবনা রয়েছে যদি আকাশ পরিষ্কার থাকে। তবে চাঁদকে সূর্যের অস্তমিত পথের ডানদিকে দেখা যাবার সম্ভাবনা রয়েছে।

** যদি মুহররমুল হারাম মাসের ২৯ তারিখে ছফর মাসের চাঁদ দেখা যায় তবে ছফর মাসের ২৯তম তারিখে পবিত্র রবীউল আউয়াল শরীফ মাসের চাঁদ দেখা যাবার কোন সম্ভাবনা থাকবে না। পবিত্র মুহররমুল হারাম মাস ৩০ দিনে ধরে এই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে।

মানহানি মামলায় গ্রেফতারের বিধান রহিতকরণ কী কেবলই ইতিবাচক? এর নেতিবাচক দিক নির্ণয় করতে যারা ব্যর্থ হয়েছেন তারা শুধু দূরদর্শিতা ও ভারসাম্যহীনতা এবং প্রজ্ঞাহীনতারই পরিচয় দেননি, পাশাপাশি ইসলামী অনুভব ও এদেশের ৯৫ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতিও নিরেট উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছেন ॥

যুদ্ধাপরাধের বিচারকে যারা ‘না’ করতে পারে; সে মানবাধিকার সংস্থাগুলো কোন্ দুরভিসন্ধিজনক কারণে ফতওয়াকেও ‘না’ বলছে ॥ পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্টতা প্রচার করছে- তা উদঘাটন করতে হবে ॥ রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের এদেশে, ইসলামের দৃষ্টিতে- রাষ্ট্রপতি  থেকে চকিদার’ পর্যন্ত সব মুসলমানই ফতওয়ার অধীন

মহান বিজয় দিবস ও প্রসঙ্গ কথা আমরা শুধু কথিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সন্তুষ্ট নই বরং ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে আমরা সব রাজাকারদেরও বিচার চাই

‘বার্ড ফ্লু’, ‘সোয়াইন ফ্লু’, সব ফ্লুতেই রয়েছে আন্তর্জাতিক ইসলাম বিদ্বেষী ও সাম্রাজ্যবাদীদের দ্বারা মুসলমান শোষণ ও নিপীড়নের-‘ক্লু’ ‘বার্ড ফ্লু’র নামে বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্প ধ্বংস করা হয়েছে আর ‘সোয়াইন ফ্লু’র নামে ধ্বংস করা হয়েছে সউদীর হজ্জ ভিত্তিক অর্থনীতি তারপরেও আন্তর্জাতিক ইসলাম বিদ্বেষী ও সাম্রাজ্যবাদীদের অপতৎপরতা উপলব্ধির প্রবণতা এবং রোধ করার চেতনা দুঃখজনকভাবে মুসলমানদের মাঝে আদৌ তৈরি হচ্ছে না

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৬৭