চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-৩৬

সংখ্যা: ১৯৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

-আল্লামা আবুল বাশার মুহম্মদ রুহুল

বর্তমান সংখ্যার আলোচনা: ইহুদীদের মদদপুষ্ট হয়ে এবং সউদী ওহাবী শাসকগোষ্ঠীর অর্থে সাহায্যপ্রাপ্ত হয়ে সারা বিশ্বে একটি হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরণের অলিক স্বপ্ন নিয়ে একটি ভূঁইফোড় সংগঠন সারা দেশে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

জবধষ ঐরুৎর ঈধষবহফধৎ ওসঢ়ষবসবহঃধঃরড়হ ঈড়ঁহপরষ ইধহমষধফবংয  নামে এই সংগঠনটি সারা বিশ্বে একটি হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরণের পক্ষে নানা প্রচারণা চালাচ্ছে। সারা বিশ্বে একটি হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরণের পক্ষে (অর্থাৎ সারা বিশ্বে একদিনে ঈদ পালন করার পক্ষে) তারা ৯০টি খোঁড়া যুক্তি দাঁড় করিয়েছে। আমরা ধারাবাহিকভাবে তাদের বর্ণিত শরীয়তের খিলাফ এই মনগড়া যুক্তির শরীয়তসম্মত এবং সঠিক মতামত প্রকাশ করবো ইনশাআল্লাহ। যেন সাধারণ মুসলমানগণ চাঁদের তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তিতে না পড়ে। তারা লিখেছে-

পূর্ব প্রকাশিতের পর

  1. We should not perform Ramadan/Eid by country wise new moon sighting, because the rule of shariah can not be different for different countries.

অনুবাদ: নতুন চাঁদ দেখে দেশভিত্তিক আমাদের রমাদ্বান/ঈদ পালন করা উচিত না, কারণ বিভিন্ন দেশের জন্য শরীয়ত বিভিন্ন রকম হতে পারে না।

  1. Commonsense tells us that. “A new moon starts just after the old-moon ends; there can not be any gap in between.”

It means that a new moon starts at the middle of dark stage.

অনুবাদ: সাধারণজ্ঞান আমাদের বলে যে, নতুন চাঁদ শুরু হয় পুরনো চাঁদ শেষ হবার পর পর; এর মাঝে কোন ফাঁক থাকতে পারে না। এটা প্রমাণ করে যে, নতুন চাঁদ শুরু হয় অন্ধকার দশার মাঝামাঝি অবস্থা থেকে।

১১নং প্রশ্নের জবাব: প্রশ্নের উত্তর দেয়ার পূর্বেই বলে রাখা প্রয়োজন, পূর্ববর্তী সংখ্যাগুলোতে আমরা তাদের দেয়া খোঁড়া যুক্তিগুলোর শুধু বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করেছিলাম। কিন্তু এ সংখ্যায় আমরা তাদের ইংরেজি বাক্যগুলো হুবহু তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। যেন পাঠক তাদের মূর্খতাকে ভালভাবে উপলব্ধি করতে পারেন।

তারা আসলে বলতে চেয়েছে, চাঁদ দেখে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে রমাদ্বান বা ঈদ পালন করা উচিত না, কারণ বিভিন্ন দেশের জন্য তো আর আলাদা শরীয়ত নেই।

আমাদের প্রথম জবাব হচ্ছে, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মুসলমানগণ বিভিন্ন সময়ে জুমুয়ার নামায আদায় করে, তার অর্থ কি তারা আলাদা শরীয়ত পালন করে? মোটেও তা নয়। শরীয়ত শিক্ষা দেয় যখন যে দেশে যে নামাযের ওয়াক্ত হবে তখন সেই ওয়াক্তে সেই নামায আদায় করতে হবে। এখন যে অঞ্চলের অধিবাসীগণ যখন চাঁদ দেখবেন, সে সন্ধ্যা থেকেই নতুন মাস শুরু হবে এবং সে মাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আমলসমূহ পালন করাও শুরু হবে। এক অঞ্চলের চাঁদ দেখা অনুযায়ী পৃথিবীর সবাই একত্রে একই সময়ে আরবী মাস শুরু করতে পারবে না। অর্থাৎ একই দিনে সমস্ত পৃথিবীতে রমাদ্বান/ঈদ পালন করা সম্ভব নয়।

যেমন ইন্দোনেশিয়ায় যখন প্রথম চাঁদ দেখা যাবে তখন কলোম্বিয়াতে সূর্যোদয়ের সময়। যেহেতু কলোম্বিয়া ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিমে ফলে কলোম্বিয়াতে যখন সন্ধ্যায় সে মাসের চাঁদ দেখা যাবে তখন ইন্দোনেশিয়াতে পরের দিন সূর্যোদয়ের সময়। তাহলে দেখা যাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া যখন ঈদের নামায পড়বে তখন কলোম্বিয়াতে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত। ফলে দুটি দেশই তাদের নিজ নিজ ওয়াক্তে ঈদের নামায আদায় করবে। এটাই শরীয়তের শিক্ষা। দেশভিত্তিক আলাদাভাবে, আলাদা সময়ে ঈদের নামায হবে, রোযা শুরু হবে এটাই স্বাভাবিক। ফলে এদের উপরোক্ত কথাগুলো দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, এরা চাঁদ দেখে আরবী মাস শুরু হওয়া এবং শরীয়তের মাসয়ালা-মাসায়িল সকল ব্যাপারে নিতান্তই অজ্ঞ, মূর্খ।

১২ নম্বর প্রশ্নের জবাব: এই প্রশ্নের জবাব দেয়ার পূর্বে বলতে হয় তাদের খোঁড়া যুক্তিটি পড়লেই তাদের মূর্খতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে। এখানে সে উল্লেখ করেছে æনতুন চাঁদ শুরু হয়, পুরনো চাঁদ শেষ হবার পর পর; এর মাঝে কোন ফাঁক থাকে না। অথচ আমরা জানি, পুরনো চাঁদ চোখের আড়ালে যাবার পর পর শুরু হয় অমাবস্যা। যার ১ থেকে ২ দিন পর নূতন চাঁদ (ঈৎবংপবহঃ সড়ড়হ) দৃশ্যমান হয়। অর্থাৎ ১ থেকে ২ দিনের একটি ফাঁক রয়েছে। আবার পরের লাইনে লিখেছে æনতুন চাঁদ শুরু হয় অন্ধকার দশার মাঝামাঝি থেকে।”

প্রথমে সে বলেছে, নতুন চাঁদ শুরু হয়, পুরনো চাঁদ শেষ হবার পর পর আবার বলছে, নতুন চাঁদ শুরু হয় অন্ধকার দশার মাঝামাঝি থেকে। এখানে অন্ধকার দশা যদি ‘অমাবস্যা’ হয় তবে অমাবস্যার মাঝামাঝি অবস্থা থেকে চাঁদ দেখার কোন সুযোগ নেই। চাঁদ দৃশ্যমান হয়, অমাবস্যার পর। আর এসব প্রলাপ শুনে সহজেই বোঝা যায় এই তথাকথিত ইঞ্জিনিয়ার নিজেই সাধারণ জ্ঞান বিবর্জিত একজন মানুষ। তার উচিত শরীয়ত এবং চাঁদ সম্পর্কে সঠিক ইলম হাছিল করার জন্য মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ-এর সবগুলো সংখ্যা পড়া এবং আমল করা ও যিনি যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, হাবীবে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-উনার খাছ ছোহবত ইখতিয়ার করা।

 

বিশ্বের জন্য ১৪৩১ হিজরীর জুমাদাল

উখরা মাসের চাঁদের রিপোর্ট

জিরো মুন (অমাবস্যা) সংঘটিত হবে ১৪ই মে, ২০১০, শুক্রবার, দুপুর ১টা ০৪ মিনিটে (আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী)।

অমাবস্যার দিন সউদী আরবে জুমাদাল উখরা মাসের চাঁদ দেখা যাবার কোন সম্ভাবনা নেই।

বাংলাদেশের জন্য ১৪৩১ হিজরীর জুমাদাল

উখরা মাসের চাঁদের রিপোর্ট

বাংলাদেশের স্থানীয় সময় অনুযায়ী জিরো মুন (অমাবস্যা) সংঘটিত হবে ১৪ই মে, ২০১০, শুক্রবার সকাল ৭টা ০৪ মিনিটে।

বাংলাদেশে জুমাদাল উখরা মাসের চাঁদ তালাশ করতে হবে ১৫ই মে, ২০১০, শনিবার সন্ধ্যায়।

সেদিন ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৩৩ মিনিটে এবং চন্দ্রাস্ত ৮টা ০২ মিনিটে। অর্থাৎ সূর্যাস্ত এবং চন্দ্রাস্তের সময়ের পার্থক্য ১ ঘণ্টা ২৮ মিনিট। সূর্যাস্তের সময় চাঁদ দিগন্তরেখার প্রায় ১৮ ডিগ্রী উপরে অবস্থান করবে এবং চাঁদ খুঁজতে হবে ২৯০ ডিগ্রী আজিমাতে। সেদিন চাঁদ দেখার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৬৭

ভ্রান্ত ওহাবী মতবাদ প্রচারের নেপথ্যে-১৬

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-৩৫

বাতিল ফিরক্বা ওহাবীদের অখ্যাত মুখপত্র আল কাওসারের মিথ্যাচারিতার জবাব-২৫ হাদীছ জালিয়াতী, ইবারত কারচুপি ও কিতাব নকল করা ওহাবীদেরই জন্মগত বদ অভ্যাস ওহাবী ফিরক্বাসহ সবগুলো বাতিল ফিরক্বা ইহুদী-নাছারাদের আবিষ্কার! তাদের এক নম্বর দালাল

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ‘সংবিধানের প্রস্তাবনা’, ‘মৌলিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ ‘জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা’ এবং ‘জাতীয় সংস্কৃতি’ শীর্ষক অনুচ্ছেদের সাথে- থার্টি ফার্স্ট নাইট তথা ভ্যালেন্টাইন ডে পালন সরাসরি সাংঘর্ষিক ও সংঘাতপূর্ণ’। পাশাপাশি মোঘল সংস্কৃতির দান পহেলা বৈশাখ পালনও প্রশ্নবিদ্ধ।সংবিধানের বহু গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ স্পর্শকাতর অনুচ্ছেদের প্রেক্ষিতে ৯৫ ভাগ মুসলমানের এদেশে কোনভাবেই থার্টি ফার্স্ট নাইট ও ভ্যালেন্টাইন ডে পালিত হতে পারে না।পারেনা গরিবের রক্ত চোষক ব্র্যাকের ফজলে আবেদও ‘নাইট’ খেতাব গ্রহণ করতে। পারেনা তার  নামের সাথে ‘স্যার’ যুক্ত হতে। পাশাপাশি মোঘল সংস্কৃতির দান পহেলা বৈশাখ পালনও প্রশ্নবিদ্ধ।