চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-৩৪

সংখ্যা: ১৯৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

-আল্লামা আবুল বাশার মুহম্মদ রুহুল হাসান

বর্তমান সংখ্যার আলোচনা: ইহুদীদের মদদপুষ্ট হয়ে এবং সউদী ওহাবী শাসক গোষ্ঠীর অর্থে সাহায্যপ্রাপ্ত হয়ে সারা বিশ্বে একটি হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরণের অলিক স্বপ্ন নিয়ে একটি ভূঁইফোড় সংগঠন সারা দেশে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

Real Hizri Calendar Implementation Council Bangladesh নামে এই সংগঠনটি সারা বিশ্বে একটি হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরণের পক্ষে নানা প্রচারণা চালাচ্ছে। সারা বিশ্বে একটি হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরণের পক্ষে (অর্থাৎ সারা বিশ্বে একদিনে ঈদ পালন করার পক্ষে) তারা ৯০টি খোড়া যুক্তি দাঁড় করিয়েছে। আমরা ধারাবাহিকভাবে তাদের বর্ণিত শরীয়তের খিলাফ এই মনগড়া যুক্তির শরীয়তসম্মত এবং সঠিক মতামত প্রকাশ করবো ইনশাআল্লাহ। যেন সাধারণ মুসলমানগণ চাঁদের তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তিতে না পড়ে। তারা লিখেছে-

পূর্ব প্রকাশিতের পর

৫। পূর্ণ জ্যোৎস্নার চাঁদের দিকে চেয়ে আমরা নিশ্চিত হতে পারি চাঁদের মাসের গণনা সঠিক ছিল কিনা।

৬। চন্দ্রমাস গণনা কখনো শুদ্ধ হবে না যদি পূর্ণ জ্যোৎস্নার চাঁদ আর অমাবস্যার চাঁদের সঙ্গে না মিলিয়ে দেখা হয়।

৭। নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো রোযার হাদীছ শরীফ দিয়ে চাঁদের ১২ মাস গণনা করার কোন অনুমতি দেননি।

৮। কিভাবে চাঁদের ১২ মাস গুণতে হয়, সে ব্যাপারে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেননি।

পঞ্চম ও ষষ্ঠ প্রশ্নের জবাব: এ বিষয়টি সঠিক যে পূর্ণ জ্যোৎস্নার চাঁদের দিকে চেয়ে আমরা নিশ্চিত হতে পারি চাঁদের মাসের গণনা সঠিক ছিল না। কিন্তু বাস্তবে চাঁদ বিষয়ে অভিজ্ঞজন ছাড়া কেউ কখনো খোঁজ রাখেনা কখন পূর্ণ জ্যোৎস্নার চাঁদ উদিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ পূর্ণ জ্যোৎস্নার আলো উপভোগ করে সত্যি কিন্তু কখনো মিলিয়ে দেখার প্রয়োজন মনে করে না, মাসটি কখন শুরু হয়েছিলো বা সঠিক তারিখে শুরু হয়েছিলো কিনা। আর যারা ফুল মুন (ঋঁষষ গড়ড়হ) অনুযায়ী মাসের শুরুটা সঠিক ছিল কিনা নির্ণয় করতে পারেন, তারা ফুল মুন ছাড়াও মাসের শুরুর সঠিক তারিখ নির্ণয় করতে সক্ষম।

বিগত যুগগুলোতে পূর্ণ জ্যোৎস্নার চাঁদ থেকে পেছনে গণনা করে আসলে প্রমাণিত হবে সউদী আরবে মাসগুলোর শুরুর তারিখটা সঠিক ছিল না। কিন্তু সে দেশের মানুষ এ ব্যাপারে বেখবর। সুতরাং যে বিষয়টি বাস্তবে কোন উপকারে আসেনা তার আলোচনা অবান্তর।

পরবর্তিতে তিনি লিখেছেন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো রোযার হাদীছ শরীফ দিয়ে চাঁদের ১২ মাস গণনা করার কোন অনুমতি দেননি।”

এক্ষেত্রে প্রথমেই বলতে হয় যে, তিনি নিজের মত প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাম মুবারকে মিথ্যারোপ করেছে। আর হাদীছ শরীফ-এ রয়েছে, যে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহিস ওয়া সাল্লাম-এর নাম মুবারকে মিথ্যারোপ করে সে যেন তার স্থান জাহান্নামে নির্ধারণ করে নেয়।” এছাড়াও হাদীছ শরীফ-এর মাধ্যমে শরীয়তের কোন কিছুর দলীল প্রমাণ করতে হলে অবশ্যই ছহীহ ও হাছান হাদীছ শরীফ-এর মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে। এই সংগঠনটির তরফ থেকে প্রকাশিত লিফলেটে সম্পাদনার দায়িত্বপালনকারী হিসেবে জনৈক এনামুল হক যতটা দৃঢ়তার সাথে বললেন, “নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো রোযার হাদীছ শরীফ দিয়ে চাঁদের ১২ মাস গণনা করার কোন অনুমতি দেননি।” তিনি এ বিষয়টি প্রমাণের জন্য কোন ছহীহ হাদীছ শরীফ তো দূরে থাক কোন দুর্বল হাদীছ শরীফও পেশ করতে পারবে না।

অবশ্যই কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর আলোকে কথা বলতে হলে তাকে অবশ্যই এ বিষয়ে যথেষ্ট ইলম থাকতে হবে। একজন তথাকথিত ইঞ্জিনিয়ার হয়ে এ বিষয়ে ধৃষ্টতা দেখানো উচিত হয়নি।

এছাড়াও শরীয়তের ইলম বিবর্জিত এই তথাকথিত ইঞ্জিনিয়ার কোন কিছু তাহক্বীক্ব না করে স্পষ্ট মিথ্যা বলে যাচ্ছে। কোন জ্ঞানী লোকের কোন বিষয়ে জানা না থাকলে প্রয়োজনে নিশ্চুপ থাকেন কিন্তু বানিয়ে কিছু বলেন না। অথচ এই মূর্খ ইঞ্জিনিয়ার নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শানে ক্রমাগত মিথ্যা আরোপ করে যাচ্ছে। স্পষ্ট হাদীছ শরীফ রয়েছে, “তোমরা মাসের ২৯তম দিনে চাঁদ তালাশ কর, আকাশ মেঘলা থাকলে মাস ত্রিশ দিনে পূর্ণ কর।” এই হাদীছ শরীফটি তো ছওম (রোযা)-এর হাদীছ শরীফ নয় বরং ষ্পষ্ট মাস কিভাবে গণনা করতে হবে সে বিষয়ে একটি নির্দেশনামূলক হাদীছ শরীফ। অথচ তিনি ছওম-এর হাদীছ শরীফ ছাড়া আর কোন হাদীছ শরীফ খুঁজে পাচ্ছেন না। যেহেতু প্রতি মাসে একটি চাঁদ অনুযায়ী মাস গণনা করতে হয় ফলে এই হাদীছ শরীফ-এর নির্দেশনা ১২ মাসের জন্যই প্রযোজ্য।

সর্বোপরি তিনি চাঁদ বিষয়েও সঠিক জ্ঞানের অভাবে বিভ্রান্তিতে পতিত হয়েছেন। তার উচিত যারা এ বিষয়ে জানেন তাদের শরণাপন্ন হয়ে চাঁদ বিষয়ে সঠিক ইলম অর্জন করা। কেননা তার বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের কারণে কেউ বিপদগামী হলে তাদের গুনাহর বোঝা এই তথাকথিত ইঞ্জিনিয়ার ছাহেবের উপর বর্তাবে।

বিশ্বের জন্য ১৪৩১ হিজরীর পবিত্র

ছফর মাসের চাঁদের রিপোর্ট

জিরো মুন (অমাবস্যা) সংঘটিত হবে ১৫ জানুয়ারি, ২০১০, শুক্রবার, সকাল ৭টা ১১ মিনিটে (আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী)।

সুতরাং অমাবস্যার অর্থাৎ ১৫ জানুয়ারি শুক্রবার দিন সউদী আরবে ছফর মাসের চাঁদ দেখা যাবার কোন সম্ভাবনা নেই।

বাংলাদেশের জন্য ১৪৩১ হিজরীর পবিত্র

ছফর মাসের চাঁদের রিপোর্ট

বাংলাদেশের স্থানীয় সময় অনুযায়ী জিরো মুন (অমাবস্যা) সংঘটিত হবে ১৫ই জানুয়ারি, ২০১০ শুক্রবার দুপুর ১টা ১১ মিনিটে। বাংলাদেশে ছফর মাসের চাঁদ তালাশ করতে হবে ১৬ই জানুয়ারি, ২০১০, শনিবার সন্ধ্যায়। সেদিন ঢাকায় সূর্যাস্ত ৫টা ৩৩ মিনিটে এবং চন্দ্রাস্ত ৬টা ৩১ মিনিটে। অর্থাৎ সূর্যাস্ত এবং চন্দ্রাস্তের সময়ের পার্থক্য ৫৮ মিনিট। সূর্যাস্তের সময় চাঁদ দিগন্তরেখার প্রায় ১২ ডিগ্রি উপরে অবস্থান করবে এবং চাঁদ খুঁজতে হবে ২৪৫ ডিগ্রি আজিমাতে। সেদিন চাঁদ দেখার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নিকট খোলা চিঠি দেশটা কী মুসলমানের, না ঐ নিকৃষ্ট সংস্কৃতিবাদীদের? দেশে কী ১৫ কোটি মুসলমান প্রাধান্য পাবে, না মাত্র লাখেরও কম সংস্কৃতিকর্মী প্রতিষ্ঠা পাবে? সংস্কৃতিকর্মীর প্রচারণা দ্বারা কি রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের এদেশে ‘ইসলাম’ ও ‘মুসলমান’ তুলে দেয়া হবে?  মিটিয়ে ফেলা হবে? মুছে ফেলা হবে? বিধর্মীদের সাথে একাকার করে দেয়া হবে? তাহলে ‘মরলে শহীদ বাঁচলে গাজী’ চিরন্তন সে ঐতিহ্য কোথায় যাবে?

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৫৭

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-২৫

ভ্রান্ত ওহাবী মতবাদ প্রচারের নেপথ্যে-৭

বাতিল ফিরক্বা ওহাবীদের অখ্যাত মুখপত্র আল কাওসারের মিথ্যাচারিতার জবাব-১৮ হাদীছ জালিয়াতী, ইবারত কারচুপি ও কিতাব নকল করা ওহাবীদেরই জন্মগত বদ অভ্যাস ওহাবী ফিরক্বাসহ সবগুলো বাতিল ফিরক্বাহ ইহুদী-নাছারাদের আবিষ্কার! তাদের এক নম্বর দালাল