জামাতী মওদুদীরা দুনিয়াও বুঝে না; দ্বীনও বুঝে না। তাফসীরের নামে তথাকথিত ইসলামী রাজনীতির ক্যানভাস করলেও তারা আসলে তাফসীর কিছুই জানে না। ঝিন্টু ও শাহাদাবের প্রতি রাষ্ট্রপতির ক্ষমার ক্ষমতা প্রয়োগ প্রমাণ করে যে, ক্বিয়ামতের ময়দানে মুজাদ্দিদে আ’যম-এর সুপারিশেও হাজার কোটি লোক নাযাত পাবে ইনশাআল্লাহ।

সংখ্যা: ১৯২তম সংখ্যা | বিভাগ:

বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিলো, ‘কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোনো আইন পাস হবে না’।

বলাবাহুল্য, এই প্রতিশ্রুতি এটাই প্রমাণ করে যে, কুরআন-সুন্নাহর প্রাধান্য বজায় রাখা হবে। কুরআন-সুন্নাহ অবমাননাকারী জামাতী-মওদুদীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কুরআন শরীফ-এ আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, æতোমরা অল্পমূল্যের বিনিময়ে আল্লাহ পাক উনার আয়াত শরীফকে বিক্রি করো না।”

অথচ জামাতি মওদুদী তথা গো-আযম, নিজামী, সাঈদী ওরফে ইহুদী গংরা কুরআন শরীফ-এর তাফসীর মাহফিলের নামে তাই করে থাকে।

তাফসীরের নামে তারা মূলতঃ তথাকথিত ইসলামী রাজনীতির ক্যানভাসই করে থাকে। আর সে লক্ষ্যে তাছাউফ তথা ওলীআল্লাহগণের ছোহবত থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য হাজারো মিথ্যা ও অপব্যাখ্যা করে থাকে। ওলীআল্লাহগণের ফযীলত, মর্যাদা সম্পর্কে ঢালাও মিথ্যা প্রচারণা চালায়। (নাঊযুবিল্লাহ)

ওলীআল্লাহগণ যে অন্তর্চক্ষু ও কারামতের অধিকারী তথা ক্বিয়ামতের ময়দানে সুপারিশের ক্ষমতাধারী সে সত্যের চরম বিরোধীতা করে। (নাঊযুবিল্লাহ)

অথচ পাক-ভারত উপমহাদেশে যাঁর উছীলায় মানুষ ইসলাম পেয়েছে সেই সুলতানুল হিন্দ, খাজায়ে খাজেগাঁ, হাবীবুল্লাহ হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি; উনার ‘আনিসুল আরওয়াহ’ কিতাবে উল্লেখ করেছেন,

æক্বিয়ামতের দিন সমস্ত আম্বিয়া আলাইহিস্ সালাম, আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ প্রত্যেককে কবর হতে উঠানো হবে এবং উনাদের কাঁধের উপর কম্বল থাকবে। প্রত্যেক কম্বলে কমবেশি একলাখ সুতা লাগানো থাকবে এবং প্রত্যেক সূতায় কমবেশি একলাখ গিট থাকবে। প্রত্যেক আউলিয়ায়ে কিরামগণের মুরীদান, পুত্র-কন্যা, শিশু বাচ্চা এবং  বংশধর সেই সুতা ধরে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত- যতক্ষণ না হাশরের ময়দান থেকে মুক্তি না পাবে। আল্লাহ পাক তাদেরকে পুলসিরাতে পৌঁছাবে এবং স্বীয় পীর সাহেব-এর সাথে এই ত্রিশ হাজার বছরের পথ (পুলসিরাত) এক পলকে ঐ কম্বল ধরে থাকার বরকতে পার হয়ে যাবে এবং বেহেশতের দরজায় পৌঁছে বিনা দ্বিধায় প্রবেশ করবে। কোথাও কোন বাধার সম্মুখীন হবে না।” (সুবহানাল্লাহ)

আর এ বিষয়টির সমার্থক অনেক হাদীছ শরীফও রয়েছে। যে কোন কুরআন শরীফেই এর ফযীলত বর্ণনার শুরুতেই এসব হাদীছ শরীফ-এর উল্লেখ থাকে। তিরমিযী শরীফ-এর হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, æআখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন,  ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, æযে ব্যক্তি কুরআন শরীফ তিলাওয়াত এবং মুখস্ত করবে আর হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম জানবে- আল্লাহ পাক তাকে জান্নাতে স্থান দিবেন এবং তার নিকটাত্মীয়দের এমন দশ জন লোকের জন্য সুপারিশ গ্রহণ করবেন যাদের জন্য জাহান্নাম সাব্যস্ত হয়েছিলো।”

এছাড়াও অন্য হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, æক্বিয়ামতের দিন একজন আমলদার হাফিয দশ জন জাহান্নামীকে, একজন খালিছ শহীদ সত্তর জন জাহান্নামীকে এবং একজন মকবুল হাজী চারশ’ জন জাহান্নামীকে জান্নাতে নিয়ে যেতে পারবেন।”

কুরআন-সুন্নাহ’য় এতসব বর্ণনা থাকার পরও জামাতী-মওদুদীরা তাদের তাফসীরে এসব বিষয়গুলো উল্লেখ করে না।

জামাতী-মওদুদীরা যেখানে পারে সেখানেই তাফসীর মাহফিলের আয়োজন করলেও আসলে তাফসীর কিছুই বুঝে না। কারণ, কুরআন শরীফ-এর তাফসীর ঐ ব্যক্তি বেশি বুঝে যে দুনিয়া বেশি বুঝে।

কিন্তু জামাতী-মওদুদীরা না বুঝে দ্বীন

না বুঝে দুনিয়া।

দুনিয়া বুঝে না বলেই তারা ৭১-এ রাজাকারগীরি করেছিলো।

আর দ্বীন বুঝেনা বলেই তারা ওলীআল্লাহ তথা আউলিয়ায়ে কিরামগণের মুরীদকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা বুঝে না।

অথচ তাদের অন্তরে মহর না পড়লে তারা দুনিয়াতেই এর অজস্র্য উদাহরণ পেতো।

এমনকি যে সংবিধানের অধীনে তারা রাজনীতি করছে তা অনুধাবন করলেও চলতো।

সংবিধানের ৪৯ ধারায় বলা আছে, কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যে  কোন দ-ের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করার এবং যে কোন দ- মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকবে।”

এর একটি সাক্ষাত প্রয়োগ হয়েছে সম্প্রতি। গত ১৩ই নভেম্বর দৈনিক পত্রিকায় হেডিং হয়েছে, æশাহাদাব আকবরের সাজা মওকুফ করেছেন রাষ্ট্রপতি।”

এতে বলা হয়:

চারটি দুর্নীতির মামলায় ১৮ বছরের দ-প্রাপ্ত পলাতক আসামি শাহাদাব আকবরের সাজা মওকুফ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। জাতীয় সংসদের উপনেতা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্যা বেগম সাজেদা চৌধুরীর ছেলে শাহাদাব আকবর ২০০৮ সালে জরুরি অবস্থা চলাকালে পলাতক থাকা অবস্থায় সাজাপ্রাপ্ত হন। তিনি কখনো আত্মসমর্পণও করেননি।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌসুলি (পিপি) আব্দুল্লাহ আবু বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

অবৈধ সম্পদের বিবরণী মামলায় শাহাদাব আকবর ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২৬(২) ধারায় দুই বছর এবং ২৭(১) ধারার আওতায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদ- এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদ-ে দ-িত হন।

এছাড়া ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশের ১৬৫ ও ১৬৬ ধারার আওতায় যথাক্রমে এক বছর ও পাঁচ বছরের বিনাশ্রম কারাদ-সহ প্রায় দেড় কোটি টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদ- দেয়া হয়।

শাহাদাব আকবরের কারাদ- ও আর্থিক জরিমানার পুরোটাই রাষ্ট্রপতি মওকুফ করে দিয়েছেন। তবে দুদক আইনের আওতায় এর আগে বাজেয়াপ্ত হওয়া তার সম্পদ ও অর্থ আর  ফেরত দিতে হবে না বলে জানা গেছে।”

উল্লেখ্য, বর্তমান রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের এ ক্ষমা প্রদর্শনের পর তার সমালোচনা করেছে বিএনপি মহাসচিব।

আর তার জবাবে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বিএনপি মহাসচিবের উদ্দেশ্যে বলেছেন, বিএনপি সরকারের আমলে ২০০৩ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ খুনের মামলার আসামী সুইডেনপ্রবাসী ঝিন্টুর মৃত্যুদ-াদেশ যখন ক্ষমা করেছিলেন তখন দেলোয়ার সাহেবরা কেনো নিশ্চুপ ছিলেন?

খুনীদের ক্ষমা করাটা যদি নজিরবিহীন না হয় তাহলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার আসামির ব্যাপারে রাষ্ট্রপতির সহানুভূতির বিষয়টি অহেতুক বিতর্ক ছাড়া আর কী হতে পারে?”

উল্লেখ্য, বর্তমানে যেমন সাজেদা চৌধুরীর তদবীরে শাহাদাবের ক্ষমা হয়েছে; বিএনপি আমলে খোদ আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের তদবীরেই তা হয়েছিলো। বিদেশে মওদুদ আর খুনি

ঝিন্টুকে এক সাথে দেখা গিয়েছিলো।

কিন্তু ঘটনা বা সত্য এই যে, উভয় রাষ্ট্রপতিই তাদের ক্ষমা করার অধিকার প্রয়োগ করেছেন। খুনী থেকে ১৮ বছরের কারাদ-ের আসামী মাফ পেয়েছেন।

বলাবাহুল্য, এখানেই প্রশ্ন যে

আদালত কর্তৃক

ফাঁসীর আসামী খুনীকেও

১৮ বছরের দ-প্রাপ্তকেও

যদি দুনিয়াবী একজন রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করে দিতে পারেন-

তবে গোটা জাহানের যিনি সৃষ্টিকর্তা

যিনি ক্বিয়ামতের দিনের মালিক

তিনি কত নিশ্চিত ও নিকৃষ্ট জাহান্নামীকে ক্ষমা করে দিতে পারেন?

দুনিয়াতে যদি রাষ্ট্রপতির কাছের লোক তথা

ব্যারিস্টার মওদুদ

অথবা

উপনেতা সাজেদার সুপারিশ রাষ্ট্রপতি শুনতে পারেন

তবে আল্লাহ পাক উনার যারা বন্ধু বা ওলী তথা ওলীআল্লাহ; উনাদের কথা আল্লাহ পাক কতটুকু শুনবেন? আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, æসাবধান! যাঁরা আল্লাহ পাক উনার ওলী তাঁদের কোন ভয় নেই, চিন্তা নেই, পেরেশানি নেই।” (সুবহানাল্লাহ)

সুতরাং আল্লাহ পাক উনার ওলী তথা হক্কানী-রব্বানী ওলীআল্লাহগণ যে ক্বিয়ামতের ময়দানে লক্ষ-কোটি মুরীদানদের ক্ষমা পাইয়ে দিতে পারবেন এটাই অকাট্ট সত্য।

এ ফযীলত মূলতঃ মোটামুটি বড় ওলীআল্লাহর।

কিন্তু যিনি মুজাদ্দিদে আ’যম, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ্ শরীয়ত ওয়াত্ তরীক্বত, ইমামুল আইম্মাহ, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা ঢাকা রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী- উনার ক্ষমতা মূলতঃ বেমেছাল।

কেননা, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার উপর লক্ষ- কোটি বার ইলহাম-ইলক্বা হয়েছে এবং হচ্ছে যে, আপনাকে ক্ষমা করা হলো এবং যে ব্যক্তি মধ্যস্থতায় অথবা বিনা মধ্যস্থতায় আপনাকে মুহব্বত করবে তাকেও ক্ষমা করা হলো।” (সুবহানাল্লাহ)

অর্থাৎ যে ব্যক্তি উনাকে সরাসরি মুহব্বত করবেন তিনি তো নাযাত পাবেনই এমনকি যে ব্যক্তি দূর থেকেও উনাকে মুহব্বত করবেন শুধু যে তিনিও নাযাত পাবেন তাও নয়;

বরং না দেখেও ক্বিয়ামত পর্যন্ত যিনি বা যারা উনাকে মুহব্বত করবেন তারাও নাযাত পাবেন। উনি তাদেরকে সুপারিশ করে জান্নাতে নিয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ।

-মুহম্মদ তারীফুর রহমান।

মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নিকট খোলা চিঠি দেশটা কী মুসলমানের, না ঐ নিকৃষ্ট সংস্কৃতিবাদীদের? দেশে কী ১৫ কোটি মুসলমান প্রাধান্য পাবে, না মাত্র লাখেরও কম সংস্কৃতিকর্মী প্রতিষ্ঠা পাবে? সংস্কৃতিকর্মীর প্রচারণা দ্বারা কি রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের এদেশে ‘ইসলাম’ ও ‘মুসলমান’ তুলে দেয়া হবে?  মিটিয়ে ফেলা হবে? মুছে ফেলা হবে? বিধর্মীদের সাথে একাকার করে দেয়া হবে? তাহলে ‘মরলে শহীদ বাঁচলে গাজী’ চিরন্তন সে ঐতিহ্য কোথায় যাবে?

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৫৭

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-২৫

ভ্রান্ত ওহাবী মতবাদ প্রচারের নেপথ্যে-৭

বাতিল ফিরক্বা ওহাবীদের অখ্যাত মুখপত্র আল কাওসারের মিথ্যাচারিতার জবাব-১৮ হাদীছ জালিয়াতী, ইবারত কারচুপি ও কিতাব নকল করা ওহাবীদেরই জন্মগত বদ অভ্যাস ওহাবী ফিরক্বাসহ সবগুলো বাতিল ফিরক্বাহ ইহুদী-নাছারাদের আবিষ্কার! তাদের এক নম্বর দালাল