জামাত নিজ মুখেই কালিমা শরীফ অস্বীকার করে প্রকাশ্যে পৃথিবীতেই নিজেদের জাহান্নামী প্রমাণ করল। নিবন্ধনের শর্ত মেনে তারা শুধু অমুসলমানই নয়, বরং নিজেদের কাট্টা মুরতাদ হিসেবেও প্রতিভাত করলো

সংখ্যা: ১৯৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

(১)

একজন মুসলমান আর কাফিরের মধ্যে মূল পার্থক্য হল কালিমা শরীফ। ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মদুর রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। ইমাম সাহেবগণ, মুসল্লিগণ প্রতি ওয়াক্তে নামায শেষে মুনাজাত করেন মৃত্যুর সময় তাদের শেষ কথা যেন হয় ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মদুর রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ একজন মুসলমান সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাক উনার প্রতি পূর্ণ ঈমান এবং ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করেই মরতে চান।

কিন্তু সে সময় বাধ সাধে ইবলিস। কিতাবে লেখা আছে সে সময় মৃত্যুপথ যাত্রীর প্রচ- পানির পিপাসা লাগে। ইবলিস তখন একটি পেয়ালায় তার প্র¯্রাব নিয়ে হাজির হয় এবং বলে আমাকে যদি আল্লাহ মানো অথবা বল আল্লাহ পাক দুই (নাঊযুবিল্লাহ) তাহলে তোমাকে এই পানি দিবো। বদকার লোক ইবলিসের ধোঁকায় পড়ে যায়। ইবলিসের প্র¯্রাব খেয়ে তার যন্ত্রণা আরো বেড়ে যায় এবং ঈমানহারা হয়ে সে জাহান্নামে যায়। নাঊযুবিল্লাহ! এজন্য প্রতিটি মুসলমান সারা জীবন নামায-কালাম পড়ে, তওবা-ইস্তিগফার করে যাতে মৃত্যুর সময় তার এই হাল না হয়। মৃত্যুর সময় ঈমান নিয়ে মরতে পারে।

(২)

বলাবাহুল্য, হাক্কানী-রব্বানী ওলীআল্লাহ উনাদের হাতে বাইয়াত হওয়া থাকলে ইবলিসের সে ধোঁকা থেকে বাঁচা সহজ হয়। কারণ তখন মৃত্যু শিয়রে স্বয়ং উপস্থিত হয়ে যান হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী। উনাকে দেখে ইবলিস ভয় পেয়ে দূরে সরে যায় এবং উনার তালক্বীন পেয়ে মুরীদ ঈমানের সাথে মারা যায়।

এমনি এক ঘটনা মানতেকের শাস্ত্রের ইমাম হযরত ফখরুদ্দীন রাজী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার। মানতেক শাস্ত্র নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে তিনি ইলমে তাছাউফ চর্চা করেননি। কিন্তু হযরত নজীবুদ্দীন কোবরা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে বাইয়াত হয়েছিলেন। দোয়া নিয়ে দূর দেশে থাকতেন। তবে মৃত্যু চিন্তা করতেন। ভাবতেন মৃত্যুর সময় তো ইবলিস ঈমান হরণ করতে

আসবে আল্লাহ পাক উনার শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করতে নিষেধ করবে, আল্লাহ পাক উনার রুববিয়ত অস্বীকার করতে বলবে তখন তার জবাব কি দেয়া যাবে? এই ফিকিরে তিনি ১০০ থেকে ১০০০ দলীল ঠিক করলেন যে, ‘আল্লাহ পাক এক’। উনার আইন সর্বশ্রেষ্ঠ। একদিন ঠিকই উনার মৃত্যু মুহূর্ত উপস্থিত। ইবলিস বলতে থাকলো আল্লাহ পাক দুই। তিনিও জবাব দিতে থাকলেন। কিন্তু ইবলিস খ-াতে খ-াতে উনার ১০০ থেকে ১০০০ খানা দলীলই খ-িয়ে দিল। তখন উনার ঈমানহারা হয়ে মারা যাওয়ার অবস্থা।

এদিকে হযরত নজীবুদ্দীন কোবরা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সামনে সব দেখছিলেন। তিনি তখন ওযু করছিলেন। তিনি কুলির পানি ফিকে দিয়ে বললেন, হে ইমাম ফখরুদ্দীন রাজী! তুমি বলে দাও ‘বিনা দলীল আল্লাহ পাক এক’। দেখা যাচ্ছে মৃত্যুর সময় ঈমান নিয়ে মরার জন্য হযরত ইমাম ফখরুদ্দীন রাজীকে জাহিরী এবং বাতিনী উভয় চেষ্টাই বিশেষভাবে করতে হয়েছিল। আসলে ঈমান এক নূর। ঈমান খোদায়ী দান। হাদীছ শরীফ-এ তাই ইরশাদ হয়েছে, æতোমরা বেশি বেশি কালিমা শরীফ পড়ে তোমাদের ঈমান নবায়ন করো। কারণ অনেক কথাবার্তা বা কাজ দ্বারা ঈমান চলে যায়।” তখন ফের সে কালিমা শরীফ না পড়লে ঈমানহারা হয়ে যায়।

(৩)

আলমে আরওয়াতে একটা প্রতীকী ঘটনা হয়েছিল। দেখা গেল প্রথমবার অনেক রূহ সিজদা করল। দ্বিতীয়বার করেনি। আবার দ্বিতীয়বার অনেকে করল যারা প্রথমবার করেনি। এর তাফসীরে বলা হয় যে, অনেকে প্রথমে বিধর্মী থাকবে কিন্তু পরে মুসলমান হবে। আবার অনেকে প্রথমে মুসলমান থাকবে পরে সে ঈমানহারা হবে।

মূলত প্রথমে মুসলমান হওয়ার পর পরে ইচ্ছাকৃত কাফির হওয়ার ঘটনা অনেক। কিতাবে একটা ঘটনার উল্লেখ করা হয় সে এক মুসলমান এক যাদুকরকে খুব ধরল যে তাকে যাদু শিখিয়ে দেয়ার জন্য। যাদুকর বলল যে- না তুমি পারবে না। কিন্তু উক্ত মুসলমান নাছোরবান্দা। অতঃপর যাদুকর বলল তুমি কী ইসলাম ত্যাগ করতে পারো? নাঊযুবিল্লাহ! যাদু শেখার মোহে সে তাতেও রাজী হল। তখন যাদুকর বলল, তাহলে তুমি কুরআন শরীফ-এর উপর দাঁড়িয়ে প্র¯্রাব কর। নাঊযুবিল্লাহ! সে তাই করল। নাঊযুবিল্লাহ! তখন যাদুকর বলল, তুমি কী কিছু দেখতে পেয়েছো? সে বলল, হ্যাঁ, আমি দেখতে পেলাম ছূফী লেবাসধারী এক ঘোর সওয়ার চলে গেল। তখন যাদুকর বলল, ওই ছিল তোমার ঈমান। এখন তুমি যাদুকর হতে পারবে। উল্লেখ্য, ইসলামে যাদুকর হওয়া, যাদু দেখানো হারাম। মুসলমান থাকা অবস্থায় সে হারাম কাজ করা যায় না।

(৪)

ঠিক তেমনি অবস্থা হয়েছে মওদুদী জামাতের। নির্বাচন কমিশন বলল মুসলমান থাকা অবস্থায়, ইসলাম থাকা অবস্থায় তোমরা নিবন্ধিত হতে পারবে না। কিন্তু মওদুদী জামাত বলল, না তারা হবে। তখন নির্বাচন কমিশন বলল, তাহলে তোমাদের আল্লাহকে অস্বীকার করতে হবে। নাঊযুবিল্লাহ! ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব অস্বীকার করতে হবে। নাঊযুবিল্লাহ! ঈমানহারা হয়ে যাদু শিখার মতই ওই জামাতী মওদুদীরা বলল, তারাও তাই করবে। তখন নির্বাচন কমিশন তাকে গত ২৫শে জানুয়ারি, সোমবার দলের সেক্রেটারি মুজাহিদ বরাবর দেয়া চিঠিতে গঠনতন্ত্রের পাঁচটি ধারা নিয়ে প্রশ্ন তোলে কমিশন। বলা হয়, গঠনতন্ত্রের এসব ধারা আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করা না হলে জামাতের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে। পাশাপাশি বর্তমানে দলের কমিটিতে কত শতাংশ মহিলা রয়েছে, ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ মহিলা কিভাবে নিশ্চিত হবে তা গঠনতন্ত্রে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তাগিদ দিয়েছে কমিশন।

জামাতের গঠনতন্ত্রের ২-এর (৫) ৩, ৬, ৭, ১১ ধারা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানায় কমিশন। ২-এর ৫ ধারায় আল্লাহ ব্যতীত কাউকে বাদশাহ-রাজা হিসেবে না মানা, কাউকে কোন আদেশ-নিষেধ করবার অধিকারী মনে না করা, কাউকে আইনপ্রণেতা হিসেবে মেনে না নেয়ার বিষয়ে সবাইকে বারণ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, সার্বভৌমত্বের অধিকার আল্লাহ ছাড়া কারও নেই। ইসির চিঠি অনুযায়ী এ ধারায় দেশের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাকে অস্বীকার এবং দেশের প্রচলিত রীতিনীতিকে অবজ্ঞা করা হয়েছে। ধারা (৩)-এ রয়েছে, ইসলামী মূল্যবোধের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে। ইসলামে আইনগত সার্বভৌমত্বের অধিকারী একমাত্র আলাহ। এ ধারায় সুকৌশলে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতার চেতনাকে অস্বীকার করার অভিযোগ এনেছে ইসি।

গঠনতন্ত্রের ধারা (৬)-এ রয়েছে, ইসলামের পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় সংশোধন এনে সরকার পরিবর্তন এবং সর্বস্তরে খোদাভীরু নেতৃত্ব কায়েমের চেষ্টা করতে হবে। এ ধারায় দেশের সাংবিধানিক ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠিত সমাজ ব্যবস্থাকে অস্বীকার করা হয়েছে বলে চিঠিতে জানিয়েছে কমিশন।

গঠনতন্ত্রের ধারা (৭)-এ রয়েছে, এমন কোন দল বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা যাবে না যাদের লক্ষ্য জামাতের লক্ষ্যের পরিপন্থী। এ ধারায় নিবন্ধন আইনের পরিপন্থী একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েমের অভিপ্রায় বলে মনে করছে ইসি।

গঠনতন্ত্রের ধারা (১১)-তে অমুসলিম নাগরিকদের দলের সদস্য হওয়ার জন্য আলাদা নিয়ম রাখা হয়েছে। বিষয়টিকে নিবন্ধন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচায়ক বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছে ইসি। ধারা (১৬)-এর ২(খ)-তে জামাতের লক্ষ্য অর্জনে জান-মাল দিয়ে চেষ্টা করার কথা বলা হয়েছে। ‘জান-মাল’ দিয়ে কথাটুকুর স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে ইসি।

২০০৮ সালের ২০ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনে সংশোধিত গঠনতন্ত্রের খসড়া জমা  দেন জামাতের সহকারী সেক্রেটারি  কামারুজ্জামান। ২০০৯ সালের ১১ জুলাই দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা গঠনতন্ত্রের এই পরিবর্তন অনুমোদন করে। নতুন গঠনতন্ত্রে জামাত নীতিগত দিক থেকে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে।

দলটির আগের গঠনতন্ত্রের ৫ ধারার ৩ উপধারায় ছিল, ‘সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আল্লাহর আইন ও সৎলোকের শাসন কায়েম করিয়া সমাজ হইতে সকল প্রকার জুলুম, শোষণ ও অবিচারের অবসান ঘটানোর আহ্বান।’ কিন্তু সংশোধিত গঠনতন্ত্রে আল্লাহর আইন ও সৎলোকের শাসন কায়েমের বিষয়টি বাদ দেয় জামাত।

নিবন্ধনের জন্য জামাত গঠনতন্ত্র থেকে শুধু আল্লাহর আইন কায়েমের বিষয়টিই বাদ দেয়নি। প্রচ্ছদে ‘আল্লাহু’ ও ‘আক্বিমুদ্দীন’, অর্থাৎ্ ‘তোমরা দ্বীন (ইসলাম) প্রতিষ্ঠা করো’ এই লেখাসংবলিত লোগোটিও বাদ দিয়েছে।

দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হিসেবে একটি অনুচ্ছেদও বাদ দেয়া হয়েছে গঠনতন্ত্র থেকে। আগের গঠনতন্ত্রের ধারা ৩-এর ব্যাখ্যায় বলা ছিল, æজামাতে ইসলামী বাংলাদেশ-এর দৃষ্টিতে দ্বীন ও ইসলামী জীবন বিধান একই অর্থবোধক পরিভাষা। তাই ইসলামী জীবন বিধান কায়েম করাই কুরআন মজীদে ব্যবহৃত ‘ইকামাতে দ্বীন’ পরিভাষাটির সঠিক অর্থ।” নতুন গঠনতন্ত্রে এই ব্যাখ্যা নেই।

(৫)

গঠনতন্ত্রের ধারা-৬(২) থেকে ‘জাহিলিয়াতের যাবতীয় চ্যালেঞ্জের মুকাবিলায় ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ’ বাক্যাংশটিও বাদ দিয়েছে জামাত।

প্রসঙ্গত জামায়াতের গঠনতন্ত্রের যেসব ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তা নি¤েœ তুল ধরা হল:

ধারাগুলো হলো ২(৫), ৩(১), ৬(৪), ৭ ও ১১। এ ছাড়া জামায়াতকে ১৬(২.খ) ধারা স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে।

২(৫) ধারায় বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ ব্যতীত অপর কাহাকেও বাদশাহ, রাজাধিরাজ ও সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক মানিয়া লইবে না, কাহাকেও নিরঙ্কুশভাবে আদেশ ও নিষেধ করিবার অধিকারী মনে করিবে না, কাহাকেও স্বয়ংসম্পূর্ণ বিধানদাতা ও আইনপ্রণেতা মানিয়া লইবে না এবং আল্লাহ্র আনুগত্য ও তাঁহার দেওয়া আইন পালনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত নয় এমন সকল আনুগত্য মানিয়া লইতে অস্বীকার করিবে। কেননা স্বীয় সমগ্র রাজ্যের নিরঙ্কুশ মালিকানা ও সৃষ্টিলোকের সার্বভৌমত্বের অধিকার আল্লাহ ব্যতীত অপর কাহারো আসলেই নেই।’

নির্বাচন কমিশন মনে করে, এই ধারার মাধ্যমে জনগণের রায়ে নির্বাচিত সংবিধান ও জাতীয় সংসদের আইন প্রণয়নের ক্ষমতাকে অবমাননা করা হয়েছে।

৩(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘ইসলামী মূল্যবোধের উজ্জীবন ও জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বকে সর্বপ্রকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক হুমকি এবং বিশৃঙ্খলা হইতে রক্ষা করিবার প্রচেষ্টা চালানো।’

৬(৪) ধারায় বলা হয়েছে, ‘ইসলামের পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠাকল্পে গোটা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় বাঞ্ছিত সংশোধন আনয়নের উদ্দেশ্যে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় সরকার পরিবর্তন এবং সমাজের সর্বস্তরে সৎ ও খোদাভীরু নেতৃত্ব কায়েমের চেষ্টা করা।’

৭ ধারায় বলা হয়েছে, ‘এমন কোনো পার্টি বা প্রতিষ্ঠানের সহিত সম্পর্ক না রাখেন, যাহার মূলনীতি উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ইসলামের আক্বিদা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশ্য, লক্ষ্য এবং কর্মনীতির পরিপন্থী।’

১১ ধারায় বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি ও অর্থনৈতিক কর্মসূচির সহিত একমত পোষণ করিলে যেকোনো অমুসলিম নাগরিক ইহার সহযোগী সদস্য হইতে পারিবেন।’

এ জন্য অমুসলিমদের জন্য কয়েকটি শর্ত রেখেছে জামায়াত। এগুলো হলো, তিনি জামায়াতের নিয়মশৃঙ্খলা বা সিদ্ধান্তসমূহ নিষ্ঠার সহিত মানিয়া চলিবেন। জামায়াতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য একনিষ্ঠ ভূমিকা পালন করিবেন। উপার্জনে অবৈধ পন্থা অবলম্বন করিবেন না।

১৬(২খ) ধারায় বলা আছে, জামায়াতের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অর্জনে জানমাল দিয়া চেষ্টা করাকেই নিজের প্রধানতম কর্তব্য বলিয়া মনে করিবেন।

নির্বাচন কমিশনের গঠনতন্ত্র যাচাই-বাছাই কমিটির মন্তব্য করে, সংবিধানের সঙ্গে জামায়াতের গঠনতন্ত্রের এই বিষয়গুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নিবন্ধন আইনে বলা আছে, সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো কিছুই গঠনতন্ত্রে থাকতে পারবে না।

অপরদিকে কথিত গঠনতন্ত্র থেকে জামাত যা বাদ দিয়েছে তাতেই তাদেরকে মুসলমান বলা যায় না। তারা যে ইসলাম মানে সে কথা বলা যায় না। তারপরেও বাকি শর্তগুলো যদি জামাত মেনে নেয় তাহলে শুধু তাদের অমুসলমানই বলা যাবে না বলতে হবে সর্বকালের সর্বনিকৃষ্ট মুরতাদ এবং জঘন্য ধর্মব্যবসায়ী।

**************

হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, æআল্লাহ পাক যেন ধর্মব্যবসায়ীদের ব্যবসায় বরকত না দেন। ঠিক তাই হয়েছে জামাতের অবস্থা। প্রসঙ্গ এ সম্পর্কিত একটি কাহিনীর অবতারণা করতে হয়। পূর্বকালে বনী ইসরাইলের আমলে সাত ভাই ছিল। যারা জিহাদী ছিল। একবার জিহাদের ডাক আসতে সাত ভাইই প্রস্তুত হল। কিন্তু ভাবল তাদের একমাত্র বোনকে কার কাছে রেখে যাবে। চিন্তা করে তারা জামাতের সাঈদী ওরফে বাংলার ইহুদীর মত এক মালানার কাছে রেখে গেল। কিছুদিন পরে সে মালানা ঠিকই ওই বোনের সম্ভ্রমহানি করল। এতে সে গর্ভবতী হল। এখন

সে কি করবে চিন্তা করতে লাগল। অতঃপর ইবলিস এসে তাকে বলল দুজনকেই মেরে দুটো কবরে দাফন করতে। ইবলিসের কথা মত সে তাই করল।

এদিকে এক সময় ভাইয়েরা এসে তাদের বোনের কথা জিজ্ঞাসা করল। তখন আবার ইবলিস এসে তাকে বলল আমাকে সিজদা কর তাহলে বুদ্ধি দিবো। সে ইবলিসকে সিজদা করে ঈমানহারা হল। ইবলিস বলল, বল যে তাদের বোন মারা গেছে। সে তাই বলল। ভাইয়েরা কবর দেখতে গিয়ে একটা বড় আর একটা ছোট কবর দেখতে পেল। তখন সন্দেহ জেগে উঠাতে ইবলিসই তাদেরকে মানুষের ছূরতে সব ঘটনা জানিয়ে দিল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ভাইয়েরা ওই মালানাকে মেরে ফেলল।

বলাবাহুল্য, আজকে গো’আযম, মইত্যা রাজাকার, মইজ্যা রাজাকার, সাঈদী ওরফে বাংলার ইহুদীদের হয়েছে সে অবস্থা।

তারা নির্বাচন কমিশনের শর্ত মেনে ইবলিসকে সিজদা করার মত ঘটনা কাফির, মুরতাদে পরিণত হয়েছে। আবার আজকে নির্বাচন কমিশনারের সরকারের দ্বারাই কবরের আযাব ভোগ করছে আবার অতিশীঘ্রই তাদের নিবন্ধনও বাতিল হচ্ছে এবং তাদের সত্যিকার জঙ্গিরূপ সবার সামনে ফুটে উঠছে। তাদের নিবন্ধন বাতিল হচ্ছে। জঙ্গি তালিকায় তাদের নাম উঠেছে। কাহিনীতে বর্ণিত মালানার দ্বীন-দুনিয়া উভয়ই হারানোর হাল তাদের বরণ করতে হচ্ছে। নাঊযুবিল্লাহ!

-মুহম্মদ জিসান আরীফ

মানহানি মামলায় গ্রেফতারের বিধান রহিতকরণ কী কেবলই ইতিবাচক? এর নেতিবাচক দিক নির্ণয় করতে যারা ব্যর্থ হয়েছেন তারা শুধু দূরদর্শিতা ও ভারসাম্যহীনতা এবং প্রজ্ঞাহীনতারই পরিচয় দেননি, পাশাপাশি ইসলামী অনুভব ও এদেশের ৯৫ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতিও নিরেট উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছেন ॥

যুদ্ধাপরাধের বিচারকে যারা ‘না’ করতে পারে; সে মানবাধিকার সংস্থাগুলো কোন্ দুরভিসন্ধিজনক কারণে ফতওয়াকেও ‘না’ বলছে ॥ পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্টতা প্রচার করছে- তা উদঘাটন করতে হবে ॥ রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের এদেশে, ইসলামের দৃষ্টিতে- রাষ্ট্রপতি  থেকে চকিদার’ পর্যন্ত সব মুসলমানই ফতওয়ার অধীন

মহান বিজয় দিবস ও প্রসঙ্গ কথা আমরা শুধু কথিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সন্তুষ্ট নই বরং ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে আমরা সব রাজাকারদেরও বিচার চাই

‘বার্ড ফ্লু’, ‘সোয়াইন ফ্লু’, সব ফ্লুতেই রয়েছে আন্তর্জাতিক ইসলাম বিদ্বেষী ও সাম্রাজ্যবাদীদের দ্বারা মুসলমান শোষণ ও নিপীড়নের-‘ক্লু’ ‘বার্ড ফ্লু’র নামে বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্প ধ্বংস করা হয়েছে আর ‘সোয়াইন ফ্লু’র নামে ধ্বংস করা হয়েছে সউদীর হজ্জ ভিত্তিক অর্থনীতি তারপরেও আন্তর্জাতিক ইসলাম বিদ্বেষী ও সাম্রাজ্যবাদীদের অপতৎপরতা উপলব্ধির প্রবণতা এবং রোধ করার চেতনা দুঃখজনকভাবে মুসলমানদের মাঝে আদৌ তৈরি হচ্ছে না

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৬৭