ট্রাম্পের সউদী সফর মুসলিম বিশ্বের জন্য ঘোর বিপদ সঙ্কেত। সউদীর সাথে ট্রাম্পের অস্ত্র চুক্তি আরো লাখ লাখ মুসলমান শহীদ করার একটি কৌশল মাত্র। সউদী ওহাবী সরকার মুসলিম ছদ্মাবরণে ইহুদী অপশক্তি। মুসলিম বিশ্বের সজাগ ও সক্রিয় হওয়ার এখনই সময়।

সংখ্যা: ২৬২তম সংখ্যা | বিভাগ:

সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিক নিষিদ্ধকারী উগ্র সন্ত্রাসবাদী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যখন মুসলিম দেশগুলোর গর্জে উঠার কথা ছিলো, ঠিক সেই সময়ে হানাদার মার্কিনীদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র তথা প্রকাশ্য দালাল, ইহুদী বংশধর সউদী ওহাবী শাসকের মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোকে সউদী ওহাবীর অধীনে এক কাতারে দাঁড় করালো কুচক্রী আমেরিকা। যা গোটা মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে সউদী-মার্কিন গভীর ষড়যন্ত্র। এদিকে সউদীতে নিজ দেশে ব্যাপক বাজেট ঘাটতি থাকলেও মার্কিন অর্থনীতি চাঙ্গা করতে হানাদার মার্কিনী কুচক্র ইরান জুজুর ভয় দেখিয়ে মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে খণ্ড-বিখ- করতে এবং স্থায়ী ঘাঁটি গাড়তে ১১ হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তিসহ ৩৫ হাজার কোটি ডলারের চুক্তিও করেছে সউদী-যুক্তরাষ্ট্র। সউদী সফররত মার্কিন উগ্র সন্ত্রাসবাদী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং সউদী ওহাবী শাসক সালমান গত ২০ মে-২০১৭ ঈসায়ী বোববার এ চুক্তি করেছে। যে চুক্তির প্রতিবাদ না করে বরং সমর্থন জানিয়েছে মুসলিম নিধনকারী ইহুদীবাদী ইসরাইল। এর মাধ্যমে ইহুদীদের সাথে সউদী ওহাবী শাসকদের গভীর দহরম-মহরম সম্পর্ক আবারো প্রমাণিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ‘জাজিরাতুল আরব’ নাম পরিবর্তন করে ‘সউদী আরব’ রেখে সউদী ওহাবী মরুদস্যু পরিবার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুসলিম ছদ্মবেশে হানাদার ইহুদী এবং ইঙ্গ-মার্কিনীদের নানা গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। আর হানাদার ইঙ্গ-মার্কিনীদের এজেন্ডাগুলোর মধ্যে বিশেষ একটি এজেন্ডা হলো, সারা বিশ্বের মুসলিম দেশগুলো পর্যায়ক্রমে দখল করে নেয়া। আর এক্ষেত্রে তাদের প্রধান সহায়ক ভূমিকা পালন করছে মুসলিম নামধারণকারী এই সউদী ওহাবী সরকার। সউদী আরবের অর্থনৈতিক সাফল্যের সুযোগ নিয়ে সউদী ওহাবী সরকার বিভিন্ন মুসলিম দেশগুলোতে হামলা করে যাচ্ছে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে। ইরাক, লিবিয়া, ইয়েমেনসহ বিশ্বের যে কয়েকটি মুসলিম দেশগুলো আমেরিকা যে ভয়াবহ মুসলিম নিধনযজ্ঞ চালিয়েছে ও চালিয়ে যাচ্ছে, তার সবগুলোর পেছনে রয়েছে সউদী ওহাবী সরকারের অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহ। সউদী আরবের ওহাবী-ইহুদী সরকার প্রয়োজন না থাকলেও বছরের পর বছর ধরে আমেরিকার কাছ থেকে অস্ত্র কেনার নামে বিশাল অঙ্কের অর্থ হানাদার ইঙ্গ-মার্কিনীদের হাতে তুলে দিচ্ছে মুসলিম দেশগুলোর উপর হামলা করার জন্য। ফিলিস্তিন থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক আল-মানার’ সূত্রে জানা গেছে, শুধু সিরিয়া দখল করে লুটপাট করার লোভে এই সউদী ওহাবী সরকার একাই বিপুল পরিমাণ অর্থ যোগান দিয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসী ইসরায়েল-আমেরিকাকে। এমনকি মার্কিন সিনেটরদের সমর্থন আদায়ের জন্যও বিপুল অর্থ ঘুষ দিচ্ছে এই সউদী ওহাবী সরকার। যা প্রকাশ করেছে আমেরিকার এক প্রখ্যাত অনুসন্ধানী সাংবাদিক ওয়েনি ম্যাডসেন। ইরানের প্রেস টিভি’র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নিবন্ধে ম্যাডসেনের দেয়া এ তথ্যের মন্তব্যে জনৈক সাংবাদিক লিখেছে, সে কয়েকটি গোয়েন্দা সূত্র থেকে জানতে পেরেছে যে, সউদী ওহাবী সরকার কেবল সিরিয়ায় নয়, লেবাননেও ‘আকস্মিকভাবে আতঙ্ক-সৃষ্টিকারী’ হামলা চালাতে বিপুল অঙ্কের নগদ অর্থ দিয়েছে।

সউদী আরবে ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৬ বছরে অস্ত্র রফতানী আগের চেয়ে শতকরা ২৭৯ ভাগ বেড়েছে। এসব অস্ত্রের শতকরা ৭৫ ভাগ আমেরিকা, থেকে সউদী আরবে পাঠানো হয়েছে। সউদী আরবকে যেসব অস্ত্র দেয়া হয়েছে তার বেশিরভাগই ‘সেল্স অ্যান্ড মানি’ ভিত্তিক। এর অর্থ হচ্ছে- মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মার্কিন নীতি সমর্থন করলে আমেরিকার কাছ থেকে সউদী ওহাবী সরকার বিপুল পরিমাণ অস্ত্র কিনতে পারবে। দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসবাদী জর্জ বুশের চেয়ে ধূর্ত সন্ত্রাসী বারাক ওবামার আমলে সউদী আরবে অস্ত্র বিক্রি বেড়েছে শতকরা ৯৬ ভাগ। এছাড়া ২০১৪ সালে ২৫০০ সউদী সেনা আমেরিকায় প্রশিক্ষণ নিয়েছে। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সব রেকর্ড ভেঙে সউদী ওহাবী সরকার অস্ত্র খাতে ৮ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে। আর এবার কট্টর মুসলিমবিদ্বেষী ট্রাম্পের সাথে সউদী ওহাবী সরকার এই বিশাল অস্ত্র চুক্তি করেছে। হানাদার আমেরিকা দাবি করে থাকে- এ অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারের জন্য সউদী আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রি করা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সউদীতে এই অস্ত্র বিক্রির নামে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোতে হামলা করার জন্য হানাদার মার্কিনীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদ করছে।

প্রসঙ্গত, এই সউদী ওহাবী সরকার নিজেদেরকে পবিত্র মক্কা শরীফ এবং পবিত্র মদীনা শরীফ উনাদের নিরাপত্তারক্ষী দাবি করে মুসলিম বিশ্বের একটি অঙ্গ দাবি করলেও মূলত তারা হলো ইহুদীদের প্রণীত ৩০০ বছরের মাস্টারপ্ল্যানেরই একটি অংশ। সারাবিশ্বে দিন দিন মুসলমানদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার অর্ধেক হলো মুসলিম। এমতাবস্থায়  ইহুদী-মাকির্নীদের সরাসরি মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন সহজ নয়। তাই তারা দালাল ওহাবী মরুদস্যু সউদ পরিবারকে মুসলমানদের কেন্দ্রস্থল সউদী আরবের ক্ষমতায় বসিয়েছে। আর এতে করে মুসলিম বিশ্বকে করায়ত্ত করার জন্য কুচক্রী ইঙ্গ-মার্কিন ষড়যন্ত্র দিন দিন দ্রুত বাস্তবায়িত হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

ট্রাম্পের সউদী সফরকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি কয়েকটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থা কিছু তথ্য ফাঁস করেছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো, এই অস্ত্র চুক্তির মাধ্যমে সউদী অর্থায়নে হানাদার আমেরিকা যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় ১ লাখ মার্কিন সেনা মোতায়েন করবে। সেইসাথে জর্দানে বৃহৎ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে। আর এর মাধ্যমে সউদী সহযোগীয় মুসলিমবিদ্বেষী মার্কিন শক্তি মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে- সেই আভাসই পাওয়া যাচ্ছে।

সউদী ওহাবী শাসকরা মুসলিম নামধারী হওয়ায় তাদের সব ষড়যন্ত্র এবং অপতৎপরতা সম্পর্কে বিশ্বের ৩৫০ কোটি মুসলমান অবগত নয়। যার কারণে তারা ঘরের শত্রুকে চিনতে পারে না। এই সউদী আরবের ওহাবী সরকারই বর্তমানে সারা বিশ্বে মুসলিম দেশগুলোতে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছে। বর্তমানে আইএসআইএল বা আইএস সন্ত্রাসীদের সবাই সউদী ওহাবী-সালাফী মতবাদ থেকে উৎপত্তি। এই সউদী ওহাবী সরকারই অর্থায়ন করে মুসলিম বিশ্বে অরাজকতা সৃষ্টি করছে। সেইসাথে সারা বিশ্বে সন্ত্রাসী ওহাবী-সালাফী মতবাদ বিস্তারে চেষ্টা করছে তারা। সেজন্য সউদী আরবের তেল বিক্রির কোটি কোটি পেট্রো ডলার অর্থায়ন করছে এই খাতে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এরপরও বিশ্বের মুসলমানরা এখনো সউদী ওহাবী সরকারকে বিশ্বাস করছে। তাদের নেতৃত্বে সমর্থন দিচ্ছে।

বলতে হয়, সউদী মদদে আমেরিকাই সিরিয়াকে মৃত্যুনগরী বানিয়েছে। লিবিয়ার অর্থনীতি ধ্বংস করে দিয়েছে। ইরাকে লাখ লাখ মুসলমানকে পাইকারীভাবে শহীদ করেছে। সেইসাথে সউদী ওহাবী সরকারও ইয়েমেনে সুন্নী মুসলমানদের উপর অনবরত প্রত্যক্ষ বিমান হামলা করে হাজার হাজার মুসলমান শহীদ করছে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, মুসলিম ছদ্মাবরণে এই সউদী ওহাবী সরকার ইহুদীবাদী মার্কিনী হানাদার শক্তিকে নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এবং বিশ্বের তামাম মুসলমানদের ধ্বংস করার জন্য একজোট হয়ে মাঠে নেমেছে। এমতাবস্থায় সারা বিশ্বের মুসলমানদেরও উচিত- তৎপর হয়ে, ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে তাদের সব ষড়যন্ত্রের সমুচিত জবাব দেয়া।

সারাবিশ্বের সকল মুসলমানদের উচিত- পবিত্র মক্কা শরীফ এবং পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে ইহুদীদের বংশধর এই সউদী ওহাবীদের ধুলিস্যাৎ করার জন্য প্রতিটি মুসলিম দেশ থেকে সউদী ওহাবী দস্যুপরিবারকে নিষিদ্ধ করা। মুসলিম বিশ্বের ৫৭টি দেশ একজোট হয়ে সমস্ত ওহাবী জোট তথা বর্তমানে সউদী ওহাবীর অধীনে সামরিক জোট থেকে বের হয়ে আলাদা সামরিক জোট গঠন করা। সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেনসহ মুসলিম দেশগুলোতে সউদী ওহাবী আগ্রাসন বন্ধে বাধ্য করতে ওহাবী সরকারের সাথে মুসলিম বিশ্বের সর্বপ্রকার ব্যবসায়ীক সম্পর্ক ছিন্ন করা। সেইসাথে সউদী আরবের ক্ষমতার মসনদ থেকে এই ইহুদীদের বংশধরদের তাড়িয়ে দেয়ার জন্য মুসলিম জাগরণ তৈরি করা। ‘জাজিরাতুল আরব’ ভূমিতে কোনো ওহাবী-ইহুদীর স্থান হবে না’ এই চেতনা ধারণ করা। আর মুসলমানরা সচেতন হলেই মহান আল্লাহ উনার পক্ষ থেকে গায়েবী মদদ নাযিল হবে।

-আল্লামা মুহম্মদ তা’রীফুর রহমান, ঢাকা

ব্রিটিশ গুপ্তচরের স্বীকারোক্তি ও ওহাবী মতবাদের নেপথ্যে ব্রিটিশ ভূমিকা-৫০

বাতিল ফিরক্বা ওহাবীদের অখ্যাত মুখপত্র আল কাওসারের মিথ্যাচারিতার জবাব-১৩ হাদীছ জালিয়াতী, ইবারত কারচুপি ও কিতাব নকল করা ওহাবীদেরই জন্মগত বদ অভ্যাস

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৫১

‘থার্টিফাস্ট নাইট, ভালেন্টাইন ডে আর পহেলা বৈশাখের’ নামে হুজ্জোতির জন্য ধর্মব্যবসায়ীদের কৌশলগত নিষ্ক্রীয়তা, স্বার্থবাদী মৌসুমী রাজনৈতিক তৎপরতা এবং সংস্কৃতি বিপননকারীদের দূরভিসন্ধিতা ও মধ্যবিত্তের  তত্ত্ব-তালাশহীন প্রবণতা তথা হুজুগে মাতা প্রবৃত্তিই দায়ী

অবশেষে জামাতীরা স্বীকার করিল যে, মুক্তি পাইতে চাহিলে মুরীদ হইতে হয়। আল্লাহ পাক-এর ওলী বা দরবেশ হইতে পারিলে মুক্তি পাওয়া যায়। কিন্তু জামাতীরা তাহা নয় বলিয়াই আখিরাত তো দূরের কথা দুনিয়াতেই তাহারা দুর্নীতির দায়ে গ্রেফতার। আর মইত্যা রাজাকারের ফতওয়া অনুযায়ী তো- তাহাকেই কতল করা ওয়াজিব।