তাফসীরুল কুরআন: কুওওয়াতে শাহওয়াত বা কামশক্তি দমনের উপায়

সংখ্যা: ২৩৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

আপদসমূহের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে  কুপ্রবৃত্তির আপদ। এটা বহুবিধ পাপের মূল কারণ। যৌবনের প্রথম থেকেই বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন না করলে মানুষ পাপসমুদ্রে নিমজ্জিত হয়ে থাকে। চক্ষুকে সংযত ও শাসনে রাখাই সতর্কতা অবলম্বনের উত্তম ব্যবস্থা।

আকস্মাৎ কোনো বেগানা মহিলা দৃষ্টিগোচর হলে তৎক্ষণাৎ তার দিক হতে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিতে হবে এবং এরূপে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যেন পুর্নবার তৎপ্রতি দৃষ্টি পতিত না হয়। এরূপে প্রথম থেকেই চক্ষুকে সংযত ও শাসনে রাখা অপরিহার্য। কিন্তু প্রথমে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দিয়ে শেষে তাকে বশীভূত করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে প্রবৃত্তিকে চতুষ্পদ জন্তুর সাথে তুলনা করা যায়। পশুর গতি পরিবর্তন করতে চাইলে প্রথমেই তার লাগাম ধরে আকর্ষণ করলে তা সহজসাধ্য হয়। কিন্তু হাত থেকে লাগাম ছেড়ে দিয়ে পরে তার লেজ ধরে আকর্ষণ করলে কোনো লাভ হয় না, লেজ ধরে তার গতি ফিরানো দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। মোটকথা চক্ষুকে সংযত ও শাসনে রাখাই মূল উদ্দেশ্য।

হযরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম উনাকে লোকেরা জিজ্ঞাসা করেছিলো, ব্যভিচার কোথা হতে জন্মে? তিনি বললেন, চক্ষু হতে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “শয়তানের বিষাক্ত তীরসমূহের মধ্যে দৃষ্টি (অসংযত) একটি বিষময় তীর। যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার ভয়ে ভীত হয়ে স্বীয় চক্ষুকে সংযত ও শাসনে রাখে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে এরূপ পবিত্র ঈমান দান করেন যার মাধুর্য্য সে আপন অন্তরে অনুভব করে।”

উল্লেখ্য, দৃষ্টিপাতই চোখের ব্যভিচার। যে ব্যক্তি চক্ষুকে সংযত রাখতে পারে না, অতিসত্বর তা দমনের উপায় অবলম্বন করা তার জন্য অপরিহার্য কর্তব্য। কঠোর সাধনা ও রোযা দ্বারা কাম প্রবৃত্তিকে নিবৃত্ত ও সংযত করা যায়। এই ব্যবস্থা কার্যকরী না হলে বিবাহ করে দুর্দমনীয় কামরিপু দমন করা উচিত।

স্মরণীয় যে, যার কামরিপু চরিতার্থ করার সম্পূর্ণ শক্তি ও সুবিধা আছে এবং তা সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে কোন বাধা বিঘœও নেই। কিন্তু একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক লাভের উদ্দেশ্যে যে ব্যক্তি গুনাহ হতে বিরত থাকে, সে মহা পুরস্কার পাবে।

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

واما من خاف مقام ربه ونهى النفس عن الـهوى فان الـجنة هى الـماوى

অর্থ: “যে ব্যক্তি তার রব তায়ালা উনার সম্মুখে দ-ায়মান হওয়াকে ভয় করেছে এবং নিজেকে প্রবৃত্তি হতে নিবৃত্ত রেখেছে, নিশ্চয়ই জান্নাতই তার বাসস্থান।” (পবিত্র সূরা আননাযিআত শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ- ৩৯, ৪০)। এই প্রকার ব্যক্তি ওই সাত শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হবে যারা ক্বিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ পাক উনার আরশ পাকের ছায়াতলে স্থান লাভ করবেন। উপরন্তু কামভাব দমনের ব্যাপারে সে ব্যক্তি হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম উনার তুল্য মর্যাদা লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ!

জানা আবশ্যক, যে কারণ মানুষ প্রথমত গর্হিত কাজে প্রবৃত্ত হয়, তা দমন করাই তার জন্যে উত্তম ব্যবস্থা। মানুষ যে কামরিপুর তাড়নায় উত্তেজিত হয়ে পাপাচারে প্রবৃত্ত হয়, চক্ষুই তার আদি কারণ। বিশিষ্ট বুযুর্গ হযরত আলী ইবনে যিয়াদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, নারীদের পোশাকের উপরও দৃষ্টিপাত করবে না। এতে হৃদয়ে কামরিপু জেগে উঠে। মহিলাদের পরিহিত বস্ত্র দর্শন করা, তাদের সুগন্ধের ঘ্রাণ নেয়া এবং তাদের কণ্ঠস্বর শ্রবণ করা হতে বিরত থাকা অবশ্য কর্তব্য। বেগানা নারীদের নিকট সংবাদ পাঠানো, কোনো সংবাদ তাদের নিকট থেকে শোনা, যে পথ দিয়ে যাতায়াত করলে তাদের দৃষ্টি তোমার উপর পতিত হয়, তুমি তাদেরকে দেখতে না পেলেও সেই পথে যাতায়াত করা উচিত নয়।

একইভাবে নারীদের জন্যেও পরপুরুষদের প্রতি দৃষ্টিপাত করা হারাম। উল্লেখ্য, দাওয়াত, আসর ও সভা-সমিতিতে পর্দা ব্যতীত পুরুষ মহিলার একত্রে উপবেশন এবং নারীদের প্রদর্শনীতে যেরূপ জঘন্য কুফল ফলে থাকে, অন্য আর কিছুতেই তদ্রুপ ঘটে না। যে সকল নারী উক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে তারা পাপী। তাদের সম্মতি দানকারী পিতা, ভাই, স্বামী তারাও পাপের অংশীদার হবে।

তাফসীরুল কুরআন: হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিজেদের মতো বাশার বলা কাট্টা কুফরী

তাফসীরুল কুরআন: হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিজেদের মতো বাশার বলা কাট্টা কুফরী

তাফসীরুল কুরআন: হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিজেদের মতো বাশার বলা কাট্টা কুফরী

তাফসীরুল কুরআন: হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিজেদের মতো বাশার বলা কাট্টা কুফরী

তাফসীরুল কুরআন: হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিজেদের মতো বাশার বলা কাট্টা কুফরী