তড়িঘড়ি করে চলছে প্রচলিত হারাম ও কুফরী শিক্ষানীতির আলোকে শিক্ষা আইন পাসের। শতকরা ৯৭ ভাগ মুসলমান উনাদের দেশে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার অস্তিত্বহীনতা এবং বিরোধিতামূলক শিক্ষানীতি ও আইন চলতে পারে না।

সংখ্যা: ২২৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

সব প্রশংসা মুবারক যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ মুবারক ও সালাম মুবারক।

তড়িঘড়ি করে বিতর্কিত শিক্ষানীতির আলোকে ‘শিক্ষা আইন-২০১৩’ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ধর্মহীন শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ উঠে সর্বমহল থেকেই। শুরু থেকেই প্রতিবাদ করে আসছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী ও ইসলামপ্রিয় দেশের ৯৭ ভাগ মুসলমান। তাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাবনাও সরকারের কাছে দেয়া হয়। এসব দাবি ও সংশোধনীর প্রতি কোন তোয়াক্কাই করেনি সরকার। উল্টো এখন তা আইনে পরিণত করা হচ্ছে। পবিত্র ঈদ উনার আগ মুহূর্তে খসড়া আইন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ঈসায়ী তারিখে মতামত দেয়ার সময় শেষ দিন ছিল।

শিক্ষা নীতি-২০১০ প্রণয়নকালে যেরূপ তড়িঘড়ি করা হয়েছিল, একই রকম তাড়াহুড়ো চলছে প্রস্তাবিত ‘শিক্ষা আইন-২০১৩’ কে আইনি কাঠামোর মধ্যে আবদ্ধ করতে। প্রস্তাবিত আইনের খসড়া নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষাঙ্গন এবং শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তুমুল আপত্তি ও বিতর্ককে উপেক্ষা করে বিল আকারে একে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে উত্থাপন ও পাসের তোড়জোড় চলছে। অথচ প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন-২০১৩ খসড়া এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কোন আইন বিল আকারে উত্থাপনের আগে যেসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয় তার কোনটিই এখনো শুরু হয়নি। অথচ এরই মধ্যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে জাতীয় সংসদের আসন্ন অধিবেশনে আইনটি পাস করা হবে। বর্তমান সরকার ও নবম জাতীয় সংসদের এটিই শেষ অধিবেশন। এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যে রাজনৈতিক ডামাডোল চলছে তার মধ্যে শিক্ষা আইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় সম্পর্কে সংসদ সদস্যরা কতটুকু মনোনিবেশ করতে পারবেন তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনের খসড়ায় যেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তা নিয়ে সর্বমহলেই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এসব বিতর্ক-আপত্তি-সমালোচনার মধ্যে কিভাবে আইনটি চূড়ান্ত করা হবে তার কোন জবাব পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া আইনটিকে চূড়ান্ত রূপ দেয়ার পর আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত গ্রহণের জন্য পাঠাতে হবে। এরপর তা মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিতে হবে বিল আকারে সংসদে উত্থাপনের আগে। এর পরই কেবল সংসদ অধিবেশনে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। সেখানে বিলটি উপস্থাপনের পর স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হবে। স্থায়ী কমিটিতে সম্মতি পাওয়া গেলেই পাসের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, এত সব আইনি প্রক্রিয়া উত্তরণ শেষ করে আলোচিত বিলটি পাসের জন্য আনা যাবে কিনা তা-ও প্রশ্নসাপেক্ষ। এগুলো হচ্ছে আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়। অপর দিকে আইনটিকে বিলে রূপ দেয়ার আগে প্রস্তাবিত খসড়াটি এখনও সংশোধন হয়নি।

প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনে বেশ কিছু অবাস্তব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষা কোন দলীয় বিষয় নয়, এটি একটি জাতীয় ইস্যু। এ ব্যাপারে তড়িঘড়ি করার কিছু নেই। শিক্ষা আইনে দেশের মানুষের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত হয়নি। এ আইনটি আরো পর্যালোচনার দাবি রাখে। এ ছাড়া সরকার সমর্থক বেসরকারি শিক্ষকদের সংগঠন এবং বিরোধী শিক্ষক সংগঠনও প্রস্তাবিত আইনের ব্যাপারে আপত্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনের খসড়ায় শিক্ষকদের জন্য শাস্তি হিসেবে জেল-জরিমানার যে বিধান রাখা হয়েছে, এটি কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। খসড়া এ আইনে সরকারবিরোধী কর্মকা-ের জড়িত প্রমাণ হলে শিক্ষকের এমপিও বাতিল হবে এমন বিধানও গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারের কর্মকা-ে ভুল থাকলে তার বিরোধিতা করা যায়।

শিক্ষা আইনের খসড়া প্রস্তাবনায় এমপিও বাতিলের যে কারণগুলোকে চিহ্নিত করেছেন তাতে শিক্ষকেরা হয়রানিতে পড়বেন। শিক্ষকদের দাবি-দাওয়ার ব্যাপারে সরকার বিমাতাসুলভ আচরণ করে থাকেন। এ পর্যন্ত শিক্ষকেরা যেসব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন তা সরকারের কাছ থেকে আন্দোলন করেই আদায় করা হয়েছে। এখন শিক্ষকদের দাবি আদায়ের আন্দোলন যদি সরকারবিরোধী আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তা হলে শিক্ষকদের পদে পদে হয়রানির সুযোগ থাকবে।

বলাবাহুল্য, শিক্ষা একটি জাতির জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর বিষয়। শিক্ষানীতির সঙ্গে জাতির ভাগ্য ও ভবিষ্যৎ জড়িত। এ কারণেই শিক্ষানীতি বা তার সুপারিশের আলোকে আইন প্রণয়নের সময় ব্যক্তি বা দলীয় চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠে দেশের সকল শ্রেণী পেশা এবং মানুষের চিন্তা-চেতনা, আস্থা ও বিশ্বাসের আলোকে তা প্রণয়ন করা উচিত। বিশেষ করে শতকরা ৯৭ ভাগ মুসলমানের এদেশে এমন কোন নীতি বা আইন করা উচিত নয়; যা তাদের লালিত বিশ্বাস ও কৃষ্টি-কালচারের পরিপন্থী। মুসলমান মাত্রই দুনিয়া এবং পরকালের কল্যাণ কামনা করে থাকে। আর সে কারণেই উভয় জগতের প্রয়োজন পূরণের লক্ষ্যেই শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা উচিত। এ বিচারে বর্তমান সরকার প্রণীত শিক্ষানীতি পার্থিব জীবনের প্রয়োজন মেটানোর জন্য উপযোগী হলেও একজন ব্যক্তির পরকালীন জীবনের প্রয়োজন ও গুরুত্বকে উপক্ষো করা হয়েছে। বিশেষ করে বলা চলে, শুধু পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে উপেক্ষা এবং কটাক্ষ করেই নয় বরং পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সম্পূর্ণ অস্তিত্বহীনতা ও বিরোধিতা করেই এ শিক্ষানীতি করা হয়েছে। এ কারণেই দেশের আলিম-ওলামা ও ৯৭ ভাগ মুসলমান এ শিক্ষানীতিকে ধর্মহীন শিক্ষানীতি বলে মনে করে। সুতরাং ৯৭ ভাগ মুসলমানের দেশে প্রচলিত ইসলামবিরোধী শিক্ষানীতির আলোকে শিক্ষা আইন হতে পারে না। সরকারকে অবিলম্বে ইসলাম বিরোধী এ পদক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।

মূলত, এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র ঈমান ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাদের অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা মুবারক ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ।

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারকে সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত মুবারক হাছিল সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের তা নছীব করুন। (আমীন)

-মুহম্মদ আরিফুল্লাহ

প্রসঙ্গ: ইসরাইলি পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। ইসরাইলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধসহ কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা মুসলিম বিশ্বের এখন ফরযের উপর ফরয।

সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে বাজেটের ১১ শতাংশ। প্রত্যেক বছর বাজেটের আকার বাড়লেও এর সুফল পাচ্ছে না দেশ ও দেশের জনগণ। জনগণের উচিত সরকারকে বাধ্য করা- ঋণের ধারা থেকে সরে এসে অভ্যন্তরীণ অর্থ-সম্পদের দিকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটকে গণমুখী করার জন্য।

বাংলাদেশে জিএমও ফুড প্রচলনের সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে-২

পর্যবেক্ষক ও সমালোচক মহলের মতে- ভারতের কাছে দেশের স্বার্থ বিলিয়ে দেয়ার নিকৃষ্টতম উদাহরণ রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। মাত্র ১৫ ভাগ বিনিয়োগ করে ভারত মালিকানা পাবে ৫০ ভাগ। আর ধ্বংস হবে এদেশের সুন্দরবন। সুন্দরবনকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে (২)

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতোই রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ভয়াবহ। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে কিন্তু রূপপুর অজ্ঞতার আঁধারেই রয়ে গেছে? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়টি বিশেষভাবে আমলে নিতে হবে। প্রয়োজনে সচেতন জনগণকেই প্রতিহত করতে হবে (২)