দেশের প্যারেন্ট লাইন বীজের ৯১ ভাগই আমদানিনির্ভর। কৃষকদের কাছে আসছে নিম্নমানের বীজ। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ৭১টি ও কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ১০৮টি উন্নতজাতের হাইব্রিড ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে। যার দ্বারা বীজের আমদানি নির্ভরতা বিলুপ্ত করা সম্ভব। সরকারের উচিত হবে- অবিলম্বে দেশের উদ্ভাবিত বীজসমূহ প্রান্তিক পর্যায়ে সম্প্রসারিত করা এবং বাজেট বরাদ্দ করে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও সমৃদ্ধ বীজভান্ডার গড়ে তোলা ও সংরক্ষন করা।

সংখ্যা: ২৭১তম সংখ্যা | বিভাগ:

প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, বাংলাদেশের হাইব্রিড ধানের প্যারেন্ট লাইন বীজের ৯১ শতাংশই আমদানিনির্ভর। চালের উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানিকৃত প্যারেন্ট লাইন বীজ দিয়ে হাইব্রিড ধানের আবাদ শুরু হয় ১৯৯৮ সালে। এরপর পেরিয়ে গেছে দুই দশক। তার পরও এ আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে ওঠা যায়নি। পরিসংখ্যান বলছে, দেশে এখনো হাইব্রিড জাতের ধান উৎপাদনে প্যারেন্ট লাইন বীজের আমদানিনির্ভরতা ৯১ শতাংশ। বাংলাদেশ ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান (ব্রি) ও সিড সার্টিফিকেশন এজেন্সির (এসসিএ) তথ্যমতে, দেশে চলতি বছর পর্যন্ত ১৭৪টি হাইব্রিড ধানের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্যারেন্ট লাইন বীজের উৎস হিসেবে বাংলাদেশের অবদান মাত্র ১৫টি জাতে বা ৮ দশমিক ৬২ শতাংশে। অন্য ১৫৯টি বা ৯১ দশমিক ৩৮ শতাংশ জাতেরই প্যারেন্ট লাইন বীজ আমদানি করতে হয়। আমদানিকৃত এসব প্যারেন্ট লাইন বীজের ১২৫টিরই উৎস চীন। ভারত থেকে আনা হয় ৩৩টি। এর বাইরে ফিলিপাইনের জাত রয়েছে একটি।

উল্লেখ্য, সাধারণত এ, বি ও আর নামের তিনটি প্যারেন্ট লাইন থাকে। এসব প্যারেন্ট লাইনের মধ্যে ক্রস করে জাত উদ্ভাবন করতে হয়। পরবর্তী সময়ে পুনরুৎপাদনের মাধ্যমে বীজ উৎপাদন করে তা বিপণন করা হয়। বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে ভালো মানের প্যারেন্ট লাইন উদ্ভাবন না হওয়ার কারণে এ এবং আর লাইন আমদানি করতে হয়। সারা দেশে হাইব্রিড ধান বীজের চাহিদা প্রায় এক কোটি কেজি বা ১০ হাজার টন। এ বীজের চাহিদা মেটাতে প্রতি বছর গড়ে ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার কেজি প্যারেন্ট লাইন বীজ আমদানি করতে হয়। প্রতি কেজিতে সর্বোচ্চ ২৮ ডলার পর্যন্ত খরচ করতে হয়। এছাড়া প্রতি বছর প্রায় দেড় লাখ কেজি হাইব্রিড বীজ সরাসরি আমদানি করতে হয়। এ দুই ধরনের বীজ আমদানি করতে প্রতি বছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। চলতি অর্থবছরে এখনও পর্যন্ত ১৫০ কোটি টাকার ৩৭ লাখ ১৭ হাজার ৮৩০ কেজি হাইব্রিড বীজ, এ লাইন ও আর লাইন প্যারেন্ট বীজ আমদানি করতে হয়েছে। প্রতি বছর গড়ে ২০০ কোটি টাকার বীজ ও প্যারেন্ট লাইন বীজ আমদানিতে ব্যয় করা হচ্ছে। যার মধ্যে বীজের প্যাটেন্টের জন্য প্রায় ৬০ কোটি টাকা দিতে হচ্ছে। আর কৃষিবিদদের মতে, দেশে বীজ উৎপাদন করা সম্ভব হলে আমদানি ব্যয় ১৫০ কোটি টাকার বা আমদানি ব্যয়ের প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস করা সম্ভব হবে।

দৈনিক আল ইহসান শরীফের অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশ ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান (ব্রি) উদ্ভাবিত বেশ কয়েকটি ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে। যার মধ্যে ব্রি হাইব্রিড ৫ অন্যতম। এই ধানের জাত ১০ টন বা বিঘাতে সোয়া ৩৩ মন পর্যন্ত ধান দেয়। এই জাত দিয়ে ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি বীজও উৎপাদন করা যায়। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) ৭২টি ধানের জাত এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) ১০৮টি হাইব্রিড ধান বীজ অবমুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গবেষণার মাধ্যমে এ পর্যন্ত ২৩টি এ লাইন, ২৩টি বি লাইন ও ৪২টি আর লাইন উদ্ভাবন করা হয়েছে। এখানে বেশকিছু লাইনে জিংক ও আয়রনসমৃদ্ধতা যেমন পাওয়া গেছে, তেমনি এগুলোর হেক্টরপ্রতি উৎপাদনশীলতাও বেশি। আবার অনেক লাইনে ঘাতসহিষ্ণুতাও পাওয়া গেছে। যে কেউ চাইলেই এসব লাইনকে নিয়ে বীজ উৎপাদনে ব্যবহার করতে পারে। এতে করে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব। দেশে উদ্ভাবিত হাইব্রিড ১৭৪টি জাতের মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১২টি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্রি ছয়টি, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) পাঁচটি ও সরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয় একটি জাত উদ্ভাবন করেছে। এই জাতগুলোতে যদি সম্প্রসারিত করা হয় তাহলে বিদেশ থেকে বীজ আমদানি আর করতে হবেনা। পাশাপাশি দেশের বীজ খাত উন্নত ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবে।

এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, কৃষিতে এতটাই সম্ভাবনা লূকিয়ে আছে যে, আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতসহ বিশ্বের প্রায় দেশই বাংলাদেশের উপর লোলুপ দৃষ্টি দিয়ে আছে। যার কারনে তারা বাংলাদেশের কৃষি খাতকে ধ্বংস করার জন্য বাংলাদেশের বীজ খাতের উপর আঘাত হানার ষড়যন্ত্র করছে। এই কারনে সরকার যখন প্রতিবছর বীজ আমদানি করছে তখন নকল ও নি¤œমানের বীজ তারা বাংলাদেশে রফতানি করছে। ফলে কৃষকের ফলন কমে যাচ্ছে। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও বহুজাতিক কোম্পানি বীজের রমরমা ব্যবসার ফাঁদ পেতে বসেছে। এসব বীজ ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছে মানহীন বীজ, মেয়াদোত্তীর্ণ বীজ বিক্রি করে থাকে। যা প্রতারণাতো বটেই- গুরুতর অপরাধও। এমন অপতৎপরতা আমাদের প্রান্তিক চাষীদের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। বিশেষ করে ভারত থেকে সরকার বীজ আমদানি করে। আর সে কারনে পূর্ববর্তী কয়েক বছর ভারত থেকে আমদানিকৃত বীজ নি¤œমানের হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। সেইসাথে এসব বীজে অনেকগুলোতে এমন উপাদান পাওয়া গিয়েছে যার দ্বারা জমির উর্বরতা শক্তিই নষ্ট হয়ে যায়।

এক্ষেত্রে সর্বাগ্রে দরকার জাতীয় বীজাগার গড়ে তোলার উদ্যোগ। সরকারি ব্যবস্থাপনায় গড়ে তোলা হলে খুব সহজেই বীজের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। দেশে চাহিদানুযায়ী বীজ উৎপাদনের যথেষ্ট সুযোগও বিদ্যমান। বীজ উৎপাদন খামারগুলোতে অবকাঠামো নির্মাণ, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, উন্নতমানের কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ, জনবল বৃদ্ধি, গোডাউন ও প্রসেসিং সেন্টারের সংখ্যা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত বীজ পরীক্ষাগার, বীজ উৎপাদন ও বিপণনে কৃষিজাতপণ্যের আবাদ ও উৎপাদনে সহায়ক নীতিমালা তৈরি, চাহিদানুযায়ী বাজেট বরাদ্দ এবং মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনসহ সংশ্লিøষ্ট বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করে যদি জাতীয় বিজাগার গড়ে তোলা হয় তাহলে তাহলে বাংলাদেশকে আর বিদেশ থেকে বীজ আমদানি করতে হবেনা। বাংলাদেশেই বীজ সক্ষমতা গড়ে উঠবে। সরকারের উচিত এ বিষয়ে সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ ও পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা।

-মুহম্মদ মাহবুবুল্লাহ, ঢাকা।

প্রসঙ্গ: ইসরাইলি পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। ইসরাইলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধসহ কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা মুসলিম বিশ্বের এখন ফরযের উপর ফরয।

সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে বাজেটের ১১ শতাংশ। প্রত্যেক বছর বাজেটের আকার বাড়লেও এর সুফল পাচ্ছে না দেশ ও দেশের জনগণ। জনগণের উচিত সরকারকে বাধ্য করা- ঋণের ধারা থেকে সরে এসে অভ্যন্তরীণ অর্থ-সম্পদের দিকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটকে গণমুখী করার জন্য।

বাংলাদেশে জিএমও ফুড প্রচলনের সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে-২

পর্যবেক্ষক ও সমালোচক মহলের মতে- ভারতের কাছে দেশের স্বার্থ বিলিয়ে দেয়ার নিকৃষ্টতম উদাহরণ রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। মাত্র ১৫ ভাগ বিনিয়োগ করে ভারত মালিকানা পাবে ৫০ ভাগ। আর ধ্বংস হবে এদেশের সুন্দরবন। সুন্দরবনকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে (২)

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতোই রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ভয়াবহ। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে কিন্তু রূপপুর অজ্ঞতার আঁধারেই রয়ে গেছে? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়টি বিশেষভাবে আমলে নিতে হবে। প্রয়োজনে সচেতন জনগণকেই প্রতিহত করতে হবে (২)