দেশের সমুদ্রসীমায় ৪০ ট্রিলিয়ন গ্যাস থাকলেও বিদেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে উচ্চমূল্যের এলএনজি; একটি স্বার্থান্বেষী মহল গ্যাস অনুসন্ধানকে বাধাগ্রস্থ করছে। অথচ ভারত ও মিয়ানমার তাদের সমুদ্রসীমা থেকে বিপুল পরিমাণ গ্যাস উত্তোলন করছে। দেশীয় কোম্পানী বাপেক্সকে দিয়ে গ্যাস অনুসন্ধান করে কবে সরকার গ্যাসের দেশের জনগণকে গ্যাসের সুফল দিবে?

সংখ্যা: ২৬৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

দেশে গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে অত্যন্ত ব্যয়বহুল এলএনজি বা তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির দিকেই সরকারের ঝোঁক বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমদানি করা এলএনজি সার্বিক উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দেবে। সরকার বর্তমানে যে দামে গ্রাহকদের কাছে গ্যাস বিক্রি করছে, আমদানি করা গ্যাস সেই দামে বিক্রি করতে পারবে না, দাম বাড়াতেই হবে। কারণ, এত বেশি ভর্তুকি বহন করা সরকারের পক্ষে সম্ভব হবে না। গ্যাসের দাম বাড়ানোর ফলে সার্বিক অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। গ্যাসের দাম বাড়ার আশঙ্কায় গোটা জনসাধারণ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। উল্লেখ্য, ২০১২ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির পর মিয়ানমার দ্রুত গ্যাস ব্লকগুলোতে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। ২০১৬ সালে থালিন-১ নামক ব্লকে এ গ্যাসপ্রাপ্তির ঘোষণা দেয় মিয়ানমার। থালিন-১-এ সাড়ে চার ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আছে। এখান থেকে গ্যাস তোলা শুরু হয়েছে। পিছিয়ে নেই ভারতও। বঙ্গোপসাগরের ভারতীয় অংশের কৃষ্ণা-গোদাভারী বেসিন এলাকায় প্রায় ৫০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুদ থাকতে পারে বলে আশা করছে ভারত। ভারতের সরকারি প্রতিষ্ঠান ওএনজিসি, গুজরাট এস্টেট পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, বেসরকারি গ্রুপ রিলায়েন্স এই এলাকায় জোরালো অনুসন্ধান কাজ করেছে। কিন্তু ভারত ও মিয়ানমারের সমুদ্রসীমা থেকেও বেশি গ্যাসপ্রাপ্তির সম্ভাবনা বাংলাদেশের সীমায় থাকলেও সরকার এই সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিচ্ছেনা। বঙ্গোপসাগরের ২০১২ সালের ১৪ মার্চ মিয়ানমারের কাছ থেকে একলাখ ১১ হাজার ৬৩১ বর্গকিলোমিটার ও ২০১৪ সালের ৮ জুলাই ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ প্রায় ১৯ হাজার ৪৬৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা পেয়েছে। সব মিলেয়ে ব্লক পুনর্বিন্যাস করে ২৬ টি ব্লকে ভাগ করা হয় গোটা সমুদ্রসীমাকে। কিন্তু এখন এরমধ্যে মাত্র তিনটি ব্লকে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাকি ২৩ ব্লক পড়েই রয়েছে। অন্যদিকে, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের অগভীর সমুদ্রে, অর্থাৎ উপকূলে একটি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করা হয়, যেটার নাম সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র। এখানে গ্যাস তোলা শুরু হয় ১৯৯৮ সালে, শেষ হয়েছে ২০১৩ সালে। সাঙ্গু এখন পরিত্যক্ত। এছাড়া সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বাংলাদেশের কোনো সাফল্য নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে- সঠিক পরিকল্পনার অভাবে ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর কারণে বাংলাদেশ সাগরে এখনও জরিপই শুরু করতে পারেনি। একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বিদেশ থেকে উচ্চমূল্যের এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। আর এখন সেই সংকটের মাশুল দিতে হচ্ছে। গত ১৫ বছরে প্রতিবছর গড়ে একটি গ্যাসকূপও খনন করা হয়নি। নতুন গ্যাসের সন্ধান না পাওয়ায় এখন এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে, যা দেশের মানুষের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। প্রসঙ্গত, সরকার পর্যায়ের একজন মন্ত্রী এলএনজি আমদানি নিয়ে বক্তব্য দিয়েছে যে “এলএনজি আমদানি বন্ধ হবেনা। হুট করে এলএনজি আমদানি বন্ধ করলে দেশে গ্যাসের সঙ্কট হবে। সমালোচক মহল মনে করেন, বছরের পর বছর ধরে গ্যাস অনুসন্ধান অন্ধকারে থাকার কারণেই আজকের এই সঙ্কটময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশে গ্যাস রয়েছে কিন্তু এর উপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করা যাচ্ছেনা। ফলে সরকারের ভেতর একটি লুটেরা মহল সরকারকে ভুল তথ্য দিয়ে বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানি করছে। আর এই এলএনজি আমদানি করলে এলএনজি আমদানি হলে ৪২৩ শতাংশ বেশি দামে কিনতে হবে সব শ্রেণীর গ্যাস। বর্তমানে গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের গড় খুচরা মূল্য ৬ টাকা ২২ পয়সা। ২০১৮ সাল নাগাদ ঘনমিটারপ্রতি গ্যাসের দাম বেড়ে ৩২ টাকা ৫৩ পয়সায় দাঁড়াতে পারে। অথচ, বাংলাদেশের সমুদ্রাঞ্চলে রয়েছে তেল-গ্যাসের আধার। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় অবস্থিত গ্যাস ব্লকগুলোয় ৪০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যা দিয়ে আরো ১২ বছর বাংলাদেশের গ্যাসের চাহিদা পরিপূর্ণভাবে পূরণ করা যাবে। এছাড়া বঙ্গোপসাগরে ১১ নম্বর ব্লকে তেল-গ্যাসের বড় মজুদ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে। যা আরো ৮ বছর বাংলাদেশের গ্যাসের চাহিদা পূরণ করার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সরকার এ বিষয়ে সম্পূর্ণ অবহেলামূলক আচরণ করছে এবং গ্যাসের আধার থাকা সত্ত্বেও বিদেশ থেকে তেল-গ্যাস আমদানি করে দেশের জনগণের নাভিশ্বাস তুলছে চরমে। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের শ্লোগান হলো “দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে”। কিন্তু সমালোচকদের মতে, যেখানে দেশের মানুষ গ্যাস সঙ্কটে ভুগছে, বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানি করে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে জনগণকে ভোগান্তির মধ্যে ফেলা হচ্ছে, সেখানে আবার সাগরে বিপুল পরিমাণ গ্যাস মজুদ অবস্থায় রেখে দেয়া হয়েছে। সেগুলো উত্তোলনের কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে না। পর্যাপ্ত গবেষণা করা হচ্ছে না, মজুদের পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে না। যা দেশের মানুষের প্রতি সরকারের মহাঅবহেলা ও মহাপ্রতারণা। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ছিলো শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও দেশের মানুষ শোষণ ও বৈষম্যের হাত থেকে মুক্তি পায়নি। নিত্যপ্রয়োজনীয় গ্যাসের চাহিদা আজ স্বাধীন দেশের মানুষ সঠিক এবং স্বল্পভাবে পূরণ করতে পারছে না। তাই সরকার যদি সত্যিকার অর্থে নিজেদের স্বাধীনতার যুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি দাবি করে থাকে, তাহলে অবিলম্বে সরকারের উচিত হবে- দেশের যেসব ব্লকে তেল-গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে সেগুলো উত্তোলনের ব্যবস্থা করে জনগণের মধ্যে স্বল্পমূল্যে এই তেল-গ্যাস পৌঁছে দেয়া এবং বঙ্গোপসাগরের গ্যাসের সুফল জাতিকে দেয়া। তেল ও গ্যাসের চাহিদা পূরণে সমুদ্রাঞ্চলের গ্যাসের অনুসন্ধান জোরদার করা এবং তা অবশ্যই দেশীয় কোম্পানি বাপেক্সকে দিয়ে করানো।

প্রসঙ্গ: ইসরাইলি পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। ইসরাইলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধসহ কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা মুসলিম বিশ্বের এখন ফরযের উপর ফরয।

সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে বাজেটের ১১ শতাংশ। প্রত্যেক বছর বাজেটের আকার বাড়লেও এর সুফল পাচ্ছে না দেশ ও দেশের জনগণ। জনগণের উচিত সরকারকে বাধ্য করা- ঋণের ধারা থেকে সরে এসে অভ্যন্তরীণ অর্থ-সম্পদের দিকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটকে গণমুখী করার জন্য।

বাংলাদেশে জিএমও ফুড প্রচলনের সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে-২

পর্যবেক্ষক ও সমালোচক মহলের মতে- ভারতের কাছে দেশের স্বার্থ বিলিয়ে দেয়ার নিকৃষ্টতম উদাহরণ রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। মাত্র ১৫ ভাগ বিনিয়োগ করে ভারত মালিকানা পাবে ৫০ ভাগ। আর ধ্বংস হবে এদেশের সুন্দরবন। সুন্দরবনকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে (২)

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতোই রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ভয়াবহ। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে কিন্তু রূপপুর অজ্ঞতার আঁধারেই রয়ে গেছে? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়টি বিশেষভাবে আমলে নিতে হবে। প্রয়োজনে সচেতন জনগণকেই প্রতিহত করতে হবে (২)