দেশে এক লাখ ঋণ খেলাপি আটকে আছে সাড়ে ২৭ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ অভিনব পদ্ধতিতে পার পেয়ে যাচ্ছে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ঋণখেলাপিরা

সংখ্যা: ২২৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

সমস্ত প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ মুবারক ও সালাম মুবারক।

অভিনব পদ্ধতিতে পার পেয়ে যাচ্ছে ঋণখেলাপিরা। ব্যাংকারদের যোগসাজশে ভুয়া ঋণ সৃষ্টি করে ঋণ সমন্বয় করার পাশাপাশি খেলাপিরা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হচ্ছে। তারা আদালতে রিট করে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নিজেদের নাম স্থগিত করিয়ে নিচ্ছে। এ সুবাদে তারা ঋণখেলাপি হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ নিয়মাচারকে পাশ কাটিয়ে অন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণের সুযোগ নিচ্ছে। শুধু এটিই নয়, শত শত কোটি টাকার ঋণ পরিশোধের দায় থেকেও তারা নিজেদের মুক্ত রাখতে সক্ষম হচ্ছে। বিষয়টি গভীর উদ্বিগ্নের। চোখের সামনে ঋণশৃঙ্খলা ধ্বংস হলেও কিছুই করতে পারছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে সার্বিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভিশন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, এ কালচারের মধ্য দিয়ে ব্যাংকগুলো তাদের বিরূপ মানে শ্রেণীকৃত ঋণের উপর হিসাবকৃত সুদ আয় ভুক্তির মাধ্যমে ভুয়া মুনাফা দেখানোর সুযোগ পাচ্ছে। একই সাথে কাজ করছে ব্যাংকের অসৎ কর্মকর্তা ও খেলাপি ঋণগ্রহীতারা। মাঝে থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমানতকারী ও সাধারণ শেয়ার হোল্ডাররা।

জানা গেছে, ব্যাংকিং খাত থেকে খেলাপিঋণ দূরীভূত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০০৩ সালে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করে। খেলাপি ঋণ আদায় বাড়াতে এবং নতুন করে কেউ ঋণ খেলাপি না হয় সে জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক দুটি পদ্ধতি গ্রহণ করে। এ দুটি পদক্ষেপ ছিল আইনগত ও পদ্ধতিগত পদক্ষেপ। আইনগত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হয় ব্যাংক কোম্পানি আইন ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর মাধ্যমে। আর পদ্ধতিগত হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে ব্যাংকের ঋণ নিয়মিত মনিটরিং। বাংলাদেশ ব্যাংক সময়ে সময়ে খেলাপি ঋণ পরিবীক্ষণ করে এবং ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজন মোতাবেক নির্দেশনা দিয়ে থাকে।

আইনগত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯৩’কে সংশোধন করে। সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭ ধারা মোতাবেক কোনো ঋণখেলাপিকে নতুন করে ঋণ দেয়া যাবে না।

জানা গেছে, ৫০ হাজার টাকার উপরে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করেছে এমন গ্রাহকের ঋণতথ্য সংগ্রহ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সাধারণত প্রতি মাসে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে এক কোটি টাকা বা এর উপরে ঋণ গ্রহীতাদের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি সংগ্রহ করে। আর ৫০ হাজার টাকা থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণগ্রহীতাদের তথ্য প্রতি তিন মাস অন্তর সংগ্রহ করা হয়। জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এ রকম ২০ লাখ ঋণগ্রহীতার তথ্য মজুদ রয়েছে। আগে ব্যাংকগুলো ঋণতথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আসতো। এখন সিআইবি অনলাইন হওয়ায় ব্যাংক ঘরে বসেই ঋণ খেলাপির তথ্য যাচাই-বাছাই করে। কিন্তু এতসব ব্যবস্থা বর্তমানে কার্যকর হচ্ছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বড় বড় ঋণখেলাপি এখন উচ্চ আদালতে রিট করে ঋণ খেলাপির তালিকা থেকে সাময়িক সময়ের জন্য স্থগিতাদেশ নিচ্ছে। এর ফলে ব্যাংকের ঋণ আদায় বাড়ছে না, বরং ক্ষেত্রবিশেষ বেড়ে যাচ্ছে। আবার ওই একই ব্যক্তি অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ সুবিধা নিচ্ছে। এতে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়ে যাচ্ছে। এমনও অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের উচ্চ আদালতে যেতে প্ররোচিত করছে। ওই সূত্র জানিয়েছে, ভুয়া ঋণ সৃষ্টি করে ঋণ সমন্বয় করা হচ্ছে অহরহ। যে ব্যাংকেই তদন্ত করা হচ্ছে ওই ব্যাংকেই এমন অভিযোগ প্রমাণিত হচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনের পর সতর্ক করে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এখন উদ্বেগের বিষয় হলো, গ্রাহকেরা উচ্চ আদালতে গিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে। এভাবে মামলার জালে আটকা পড়েছে ব্যাংকিং খাত। বর্তমানে এ খাতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার। মামলাগুলোর বিপরীতে ব্যাংকের দাবির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ২৭ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে বিচারাধীন মামলাগুলোর মধ্যে বেশির ভাগই রয়েছে সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর। মামলা জটিলতায় আটকে পড়া খেলাপি ঋণের মধ্যে অর্ধেকের বেশি সরকারি চার ব্যাংক সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের। এর অন্যতম কারণ হিসেবে ওই সূত্র জানিয়েছে, সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর বেশির ভাগ ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনাকে প্রাধান্য দেয়া হয়। বিগত দিনের মতো বর্তমানেও তা চলমান রয়েছে। এর অন্যতম উদাহরণ হলো হল-মার্ক ঋণ কেলেঙ্কারি। কোনো রকম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পানির মতো সোনালী ব্যাংক থেকে হল-মার্কের মতো এক অখ্যাত কোম্পানিকে টাকা দেয়া হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখা থেকেই দেয়া হয়েছে দুই হাজার ৬০০ কোটি টাকা। সব মিলে সোনালী ব্যাংকের উপর হল-মার্কের কারণে দায় সৃষ্টি হয়েছে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার। এ ঋণ দেয়ার পেছনে ব্যাংকে সরকারি দলের নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কিছু নেতা জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। যদিও প্রভাবশালীরা এ ঋণ জালিয়াতির দায়ে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

মূলত ঋণের নামে এখন রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা যা করছে তা প্রকাশ্য লুটপাট আর মহাডাকাতি। বলার অপেক্ষা রাখেনা, সরকারের ছত্রছায়ায়ই এসব হচ্ছে। যেজন্য অর্থমন্ত্রী বলে বেড়ায় ‘চার হাজার কোটি জালিয়াতি এমন বড় কিছু নয়।’ অথচ এদেশে ২ কোটি লোক এমন রয়েছে যারা দিনে একবেলা খাবার পায়না। চার হাজার কোটি টাকা সুষম ও স্বচ্ছ ব্যয়ে তাদের দারিদ্র্যতা দূর করা সম্ভব। কিন্তু দেশ আজ দু’শ্রেণীতে বিভক্ত। শোষক আর শোষিত। এর থেকে রেহাই পেতে শোষক শ্রেণীদেরই আত্মসচেতন ও প্রতিবাদী হতে হবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা জালিমও হয়োনা মজলুমও হয়োনা।”

মূলত এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র ঈমান ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাদের অনুভূতি ও প্রজ্ঞা মুবারক থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা মুবারক ফয়েজ- তাওয়াজ্জুহ মুবারক। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের তা নছীব করুন। (আমীন)

-মুহম্মদ ওয়ালীউল্লাহ

হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মকবুলে মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ রহেন উজ্জ্বলে-১৩৪

পৃথিবীর ইতিহাসে নজীরবিহীন অনন্তকালব্যাপী জারীকৃত পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল চলছে

আনজুমানে আল বাইয়্যিনাত ও মাহফিল সংবাদ

পর্নোর আসক্তি সর্বনাশা মাদকের চেয়েও ভয়াবহ । দেশের শিশু-কিশোরও এখন কঠিন ভয়াবহরূপে পর্নোতে আসক্ত হয়ে পড়েছে। ভারত, চীনসহ অনেক বিধর্মী রাষ্ট্রেও পর্নো নিষিদ্ধ। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রদ্বীন ইসলামের দেশ, বাংলাদেশে পর্নো নিষিদ্ধে এখনো উদ্যোগ নেই কেন?

বেপর্দা-বেহায়াপনায় আক্রান্ত কলুষিত সমাজের নতুন আতঙ্ক ‘সেলফি’। সেলফি উন্মাদনায় সমাজে ব্যাপকভাবে বেড়েছে হত্যা, আত্মহত্যা, সম্ভ্রমহরণ, সড়ক দুর্ঘটনাসহ নানা অপরাধ। বিভিন্ন দেশে সেলফি’র উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও বাংলাদেশে কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সরকারের উচিত অপসংস্কৃতি এবং আত্মহত্যার মতো অপরাধ বন্ধ করতে অবিলম্বে সেলফি নিষিদ্ধ করা।