নারী অধিকার প্রসঙ্গে

সংখ্যা: ২১৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

১লা বৈশাখ এবং তা পালনকারী রমণী ও পুরুষ। রমনা বটমূলে মেলা, হরেক রকম জিনিস বিক্রির মেলা; শুধু তাই নয়, মূল মেলা বসে তথাকথিত রমণীকুলের শাড়ী পরা, শাঁখা হাতে অথবা হরেক রকমের চুড়ি, কপালে টিপ, কারো কপালে সিঁদুর রয়েছে আবার কেউ কেউ মুসলমানিত্বের দোহাই দিয়ে সিঁথিতে সিঁদুর দেয়া থেকে বাদ পড়েছে।

মোটকথা রমণীকুলের সৌন্দর্য প্রদর্শনীর মেলাই বসে মূলত চারুকলা, রমনার বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল এলাকা জুড়ে। আর এদের সাথে শোভাবর্ধনকারী পুরুষ তো রয়েছেই। ছবি তোলার পর্ব রয়েছে একের পর এক। ধেই ধেই করে ধামরী কিছু মেয়ে নেচে গেয়ে বেড়ায়। গান-বাজনায় হাত তালিতে মাতিয়ে তোলে ওদের আসর। খাওয়ার পর্ব চলে বাসি পচা পান্তা ইলিশ। মনে পড়ে গেল অনেকদিন আগের একটি ঘটনা- æআমার এক চাচাতো ভাই অনেক ছোট। সে দেশের বাড়ি থেকে আমাদের ঢাকার বাড়িতে বেড়াতে এসেছে। সেদিন ছিল ১লা বৈশাখ। আমরা কখনও ১লা বৈশাখ পালন করতাম না বা ঘর থেকে বেরও হতাম না। সেদিন আমার দাদার মৃত্যুবার্ষিকী। তাই প্রতি বৎসর সেই দিনটাতে আমার আব্বা মীলাদ শরীফ-এর ব্যবস্থা করতেন। যাই হোক আমার সেই চাচাতো ভাইটা ১লা বৈশাখের কথা শুনে জিজ্ঞেস করলো? আপু! এই দিনে মানুষরা কি কি করে? ১লা বৈশাখে যা যা হয় সবই জানালাম এবং আরো জানালাম এই দিনে সবাই পান্তা ভাত খায়। এটা শুনে সে খুব অবাক হলো এবং কিছুক্ষণ পর বললো: আপু! তাহলে তো এই দিনে সবাই বিয়ের অনুষ্ঠান করলেই পারে। তাহলে কারো কোন খরচ হবে না; সবাই পান্তা ভাত খাবে। কথাটা শুনে আমরা যারপর নাই হেসেছিলাম। ….. যাই হোক, এ গেল অনেক আগের কথা। এখন বাস্তব কথায় আসি। আমার চাচাতো ভাইয়ের সেই কথাটা অমূলক ছিল না …. এটা যারা ফকীর, গরীব, যারা নিজেদেরকে স্বেচ্ছায় হেয় করে রাখতে পছন্দ করে এবং যবন, ম্লেচ্ছ, মুশরিকদের মতো নোংরা, খবীসি ঈঁষঃঁৎব  পছন্দ করে; তাদের জন্য পচা পান্তা খাওয়া এবং বিয়ের অনুষ্ঠানে এমন আয়োজন করা কোন অংশেই সমস্যার কারণ নয় বরং এমনভাবে অনুষ্ঠান করা ওদেরই মানায়। যেহেতু তারা ১লা বৈশাখ পালন করেই হিন্দুদের ঈঁষঃঁৎব অনুসারে অর্থাৎ পূজার মতো করেই; এমনকি উপরের প্রথমাংশের আলোচনা থেকে যা জানতে পারলাম সেখানে হারাম কাজ ছাড়া হালাল কাজ হয় না। বেপর্দাই এদের মূল উপজীব্য। যেখানে শালীনতা নেই বললেই চলে। সেখানে শুধু বিয়ে কেন যেকোনো অনুষ্ঠান করে পচা পান্তা খাওয়াই ওদের জন্যই ঠিক রয়েছে।

অথচ এখানে যারা যাচ্ছে সবাই আমাদের দেশের মুসলমানের সন্তান। কিন্তু আফসুস! এদের অস্তি-মজ্জায় গড়ে উঠেনি ইসলামী কোন রীতি-নীতি; বরং মাথার তালু থেকে পায়ের তলা পর্যন্ত রয়েছে হিন্দুয়ানী পোশাক এবং হিন্দুয়ানী রীতি-নীতি। হাতে রাখি বাঁধা, রাস্তা জুড়ে আল্পনা আঁকা, শরীরে উল্কি আঁকা, মূর্তি বানিয়ে র‌্যালি বের করা এ সবই যেন হিন্দু আচারের এপিঠ ওপিঠ।

অথচ হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত হয়েছে, æযে যার সাথে সম্পর্ক রাখে তার হাশর-নশর তার সাথেই হবে।”

সুতরাং নিশ্চিন্তে যারা স্বেচ্ছায় ১লা বৈশাখের অনুষ্ঠান পালন করবে তওবা না করলে তারা প্রত্যেকেই উক্ত হাদীছ শরীফ-এর মিছদাক হবে। এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অংশগ্রহণকারীরা ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় কবীরা গুনাহর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আর কথায় রয়েছে, æপাপ তার বাপকেও ছাড়ে না।” সুতরাং কেউ যদি বলে ১লা বৈশাখ পালন করে থাকে অথচ পাপ করে না; সেকথা কখনো বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে না। পাপ থেকে পাপই জন্ম নেয়। হারাম থেকে হারামই পয়দা হবে। যেমন ইস্তিঞ্জার পাত্র থেকে ইস্তিঞ্জাই বের হবে, পাক-পানি বের হবে না। সুতরাং যে অনুষ্ঠানে, যে জায়গায় হাজারো পাপ কাজ সংঘটিত হতে থাকে সেখানে বা সেসময়, সে জায়গায় আল্লাহ পাক উনার লা’নত বা অভিশাপ বর্ষিত হবে না- তা কি করে বলা যেতে পারে? এবং যারা এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে তারাই বা এ লা’নতের মধ্যে পড়বে না তারই বা নিশ্চয়তা কি?

অথচ হাদীছ শরীফ-এ রয়েছে, আল্লাহ পাক উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, æযখন পৃথিবীতে কোথাও কোন পাপ কাজ সংঘটিত হয়, তখন যে ব্যক্তি উক্ত স্থানে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও উহাকে ঘৃণা করে, সে ব্যক্তি এরূপ যেন সে তা হতে দূরে ছিল। আর যে ব্যক্তি দূরে থেকেও উক্ত পাপের প্রতি সন্তুষ্ট থাকে, সে যেন তথায় উপস্থিত ছিল।” এখন উক্ত হাদীছ শরীফ অনুযায়ী মুসলমানদের জন্য ফায়সালা সুস্পষ্ট। আর যারা মুলসামানিত্ব পছন্দ করে না ওদের জন্য তো কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর কোন দলীলের প্রয়োজন নেই।

তথাকথিত রমণীরা ‘নারী অধিকার’ প্রতিষ্ঠা করতে চায় অবৈধভাবে, হারাম পন্থায়। সুতরাং পুরুষ নারী একাকার হয়ে যেমন ‘নারী অধিকার’ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়; তেমনি সম্ভব নয় ওদের মতো ভ-ামীর প্রলাপ বাস্তবে তথা সত্যে পরিণত হওয়া।

সুতরাং তথাকথিত নারী-পুরুষদের বদলে যেতে হবে। বদলে যেতে হবে দেহ- মননে। তওবা করে সকল কুফরী থেকে দূরে সরে যেতে হবে। আঁকড়ে ধরতে হবে দ্বীন ইসলাম। বজায় রাখতে হবে মুসলমানিত্ব। বাড়াতে হবে ঈমানী কুওওত। আর এই জন্য লাগবে খাছ করে যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদাতুন নিসা, নূরে জাহান হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম এবং আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের খাছ ফায়েজ-তাওয়াজ্জুহ এবং নেক দোয়া। আর তাই আমরা আহ্বান জানাচ্ছি আর কোন পাপ কাজ নয়; নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ছোট বড় সকলে পাপ থেকে বিরত হয়ে তওবা করে এ মহান দরবারে আল্লাহ পাক উনার সমীপে প্রার্থনা করি যাতে আমরা গুনাহগার মুসলমান হিসেবে নয়; একজন নেককার পরহিযগার মুসলমান হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে পারি। আমীন।

-আহমদ আজিমা ফারহা

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৮১

ভ্রান্ত ওহাবী মতবাদ প্রচারের নেপথ্যে-৩০

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-৪৯

আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী আলাইহিস সালাম তিনি নিঃসন্দেহে আল্লাহ পাক উনার খাছ ওলী উনার প্রতি অপবাদকারী জালিম গং নিঃসন্দেহে বাতিল, গুমরাহ, লানতপ্রাপ্ত, জাহান্নামী ও সুন্নী নামের কলঙ্ক  রেজাখানীরা আয়নায় নিজেদের কুৎসিত চেহারা দেখে নিক ॥ ইসলামী শরীয়ার আলোকে একটি দলীলভিত্তিক পর্যালোচনা-২

গোটা দেশবাসীকে সম্পূর্ণ অবহিত করে ট্রানজিট চুক্তি না করলে এবং দেশবাসীর সম্মতিতে না করলে কথিত ট্রানজিট চুক্তি হবে দেশবাসীর সাথে সম্পূর্ণ বিশ্বাসঘাতকতা করে দেশ বিক্রির শামিল যা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক এবং অগ্রহণযোগ্য