নারী অধিকার প্রসঙ্গে

সংখ্যা: ২২৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি এবং অফুরন্ত দুরূদ মুবারক ও সালাম মুবারক পেশ করছি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি এবং আরো ছলাত সালাম পেশ করছি আমাদের প্রাণের আকা সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি এবং উনার সম্মানিত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি।

ঘটনার শুরুটা এমন যে বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন মিলে রামিছা নামক তাদের সুন্দরী মেয়েকে বিয়ে দেন। কিন্তু যার কাছে বিয়ে দেয়া হয় সেই ছেলেটা দেখতে সুন্দর না, কালো। যার কারণে সে মেয়ে ৪ থেকে ৫ মাস স্বামীর কাছে যায়নি। বাপের বাড়িতে ছিল। পরে স্বামী বুঝিয়ে নিলো এবং সংসার করা শুরু করলো। কিন্তু দেখা গেলো স্বামীর সাথে তার বনিবনা হয় না, ঝগড়া-ফাসাদ হয়। পরবর্তীতে এক থেকে দেড় বৎসরের মাথায় তাদের ১ জন সন্তান হলে সেই মেয়ের সংসারের প্রতি মন বসে এবং স্বামীর প্রতি আনুগত্য, মুহব্বত প্রকাশ করে। এখন সেই মহিলার ৩ জন সন্তান। যেহেতু মহিলা নিজেই চাকরি করতো (এবং এখনও করে) স্বাভাবিকভাবে স্বামীর প্রতি মুহব্বত, সংসারের প্রতি যত্নশীল প্রথম দিকে তার ছিল না। এরই ব্যবধানে সেই মহিলার সাথে স্বামীর দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে অনেক। যদিও সেই মহিলা একটা সন্তান হওয়ার পর থেকেই স্বামীকে মুহব্বত করতে শুরু করেছিল। কিন্তু স্ত্রীর সেই মুহব্বত সেই স্বামীর আর প্রয়োজন হয়নি।

এখন ঘটনা মোড় নিয়েছে দুঃখের সারিতে। সেই মহিলার স্বামী এখন অনেক মেয়ে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। ৩ জন সন্তানের বাবা হওয়া সত্ত্বেও সংসারের ভালোবাসা থেকে সেই লোক এখন পৃথক হয়ে গিয়েছে। স্ত্রীর প্রথম দিকের অবহেলা, দাম্ভিক্য, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, আজ সংসারে বিশাল একটা ফাটলের সৃষ্টি করেছে। … এখন সেই মহিলার ভাষ্য তার কিছু করার নেই। সে এখন শুধু কাঁদে আর কাঁদে। রাতের পর রাত জেগে থাকে; ঘুমাতে পারে না। তার ধারণা সে যদি এখন ড্রিংক করতো, তাহলে হয়তো ঘুমাতে পারতো। এখন সেই মহিলা তার স্বামীকে  আর কাছে পায় না।

… উক্ত ঘটনা থেকে নছীহত গ্রহণ করা উচিত সবার জন্য। এখানে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের অজ্ঞতা হচ্ছে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সম্পর্কে না জানা। স্বামী-স্ত্রীর হক্ব, অধিকার সম্পর্কে না জানা। যদি তাদের পবিত্র দ্বীনি বুঝ থাকতো তবে সেই মহিলা স্বামী দেখতে কদাকার, কুৎসিত বলে হেয়, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতো না।

পরবর্তীতে মহিলার হুঁশ ফিরলেও স্বামীর দ্বীনি বুঝ না থাকাতে অতীতের ভুল থেকে প্রত্যাবর্তনকারী স্ত্রীকে হাক্বীক্বীভাবে গ্রহণ করে নিতে পারলো না। সংসার হয়ে গেলে এলোমেলো। সুতরাং পবিত্র হাদীছ শরীফ মুতাবিক “প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য পবিত্র দ্বীনি শিক্ষা অর্জন করা ফরয।” যখন সেই পবিত্র দ্বীনি শিক্ষা একজন মানুষের মধ্যে থাকে না তখন তার আচার-ব্যবহার, চাল-চলন হয় এলোমেলো অর্থাৎ পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বহির্ভূত। একটা কথা আমাদের সকলেরই জানা যে, ইবলীস শয়তান লা’নতগ্রস্ত হওয়ার পর সে প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষের বিশেষ করে মুসলমানদের পিছনে লেগে থাকে, যাতে তারা সবসময় ফিতনা-ফাসাদের মধ্যে লিপ্ত থাকে। ইবলীস এই চক্রান্তই করে যাতে সংসারে স্বামী-স্ত্রীর সাথে কিভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় ওয়াসওয়াসা দিয়ে মতানৈক্য, অমিল, ঝগড়া-ফাসাদ করানো যায়। যার প্রমাণ রয়েছে- ঘরে ঘরে প্রতিটা পরিবারে। আর উক্ত ঘটনা দ্বারাও শয়তানের কাজে সফলতারই সত্যায়িত দেখতে পেলাম।

অতএব, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কর না, নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।”  শুধু এই পবিত্র আয়াত শরীফই নয়, এরূপ অসংখ্য পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি শয়তানের ধোঁকা থেকে, ওয়াসওয়াসা থেকে সতর্ক থাকতে বলেছেন।

আর তাই আমাদের বেশি বেশি করে ইবলীস শয়তানের শয়তানি, ওয়াসওয়াসা, কুমন্ত্রণা সম্পর্কে জানতে হবে। আর এই জানার জন্য দ্বীনি ইলম অর্জন করতে হবে। আর এই পবিত্র দ্বীনি ইলম অর্জন করার জন্য যিনি এ বিষয়ে অভিজ্ঞ, জানেন অবশ্যই উনার কাছে যেতে হবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা যারা জাননা, যারা জানেন অর্থাৎ হক্কানী-রব্বানী আলিম উনাদের কাছ থেকে জেনে নাও।”

আর তাই যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস ও উম্মুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনাদের নেক ছোহবতে এসে ফরয পরিমাণ পবিত্র দ্বীনি ইলম শিক্ষা করা আমাদের প্রত্যেকের জন্য ফরয-ওয়াজিব।

মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সেই তাওফীক্ব যেন সবসময়ের জন্য দান করেন। (আমীন)

-আহমদ আজিমা ফারহা

প্রসঙ্গ: ইসরাইলি পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। ইসরাইলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধসহ কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা মুসলিম বিশ্বের এখন ফরযের উপর ফরয।

সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে বাজেটের ১১ শতাংশ। প্রত্যেক বছর বাজেটের আকার বাড়লেও এর সুফল পাচ্ছে না দেশ ও দেশের জনগণ। জনগণের উচিত সরকারকে বাধ্য করা- ঋণের ধারা থেকে সরে এসে অভ্যন্তরীণ অর্থ-সম্পদের দিকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটকে গণমুখী করার জন্য।

বাংলাদেশে জিএমও ফুড প্রচলনের সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে-২

পর্যবেক্ষক ও সমালোচক মহলের মতে- ভারতের কাছে দেশের স্বার্থ বিলিয়ে দেয়ার নিকৃষ্টতম উদাহরণ রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। মাত্র ১৫ ভাগ বিনিয়োগ করে ভারত মালিকানা পাবে ৫০ ভাগ। আর ধ্বংস হবে এদেশের সুন্দরবন। সুন্দরবনকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে (২)

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতোই রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ভয়াবহ। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে কিন্তু রূপপুর অজ্ঞতার আঁধারেই রয়ে গেছে? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়টি বিশেষভাবে আমলে নিতে হবে। প্রয়োজনে সচেতন জনগণকেই প্রতিহত করতে হবে (২)