নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান মুবারক-এ আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক

সংখ্যা: ২৯৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের তরফ থেকে বিগত, আগত-অনাগত সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের প্রতি অশেষ সীমাহীন রহমত মুবারক এই যে, উনারা বর্তমান যামানায় দুনিয়ার যমীনে প্রেরণ করেছেন ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনাকে। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা দুজন ব্যতীত সকলের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শায়েখ আলাইহিস সালাম। আর সকলে উনার মুরীদের অন্তর্ভুক্ত। চার মাযহাব ও চার ত্বরীক্বার ইমামগণসহ সকলে উনার ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ মুবারক লাভে ধন্য। সুবহানাল্লাহ! সকলেই উনার খিদমত মুবারক-এ নিবেদিত প্রাণ। তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সব। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে উনার দায়িমীভাবে এমন বেমেছাল এক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবত মুবারক রয়েছেন, যেখানে কারো কোনো স্থান সংকুলান হয় না। তিনি উনাদের হাক্বীক্বী দায়িমী দীদার, ছোহবত ও যিয়ারত মুবারক-এ ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন। তাই পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র উনার পক্ষেই সম্ভব হয়েছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের সম্পর্কে সবাইকে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের হাক্বীক্বী বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক শিক্ষা দেয়া। সুবহানাল্লাহ! তিনি সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সবাইকে উনাদের সম্পর্কে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের যে সকল হাক্বীক্বী বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক শিক্ষা দিয়েছেন এবং দিয়ে যাচ্ছেন, সেখান থেকে অত্যন্ত সংক্ষেপে কতিপয় বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক নিম্নে তুলে ধরা হলো-

 

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক

 

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের মালিক হচ্ছেন তিনি। উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মাহবূব, মুরাদ ও সমগ্র কায়িনাতের মালিক হিসেবে সমস্ত কিছু দিয়ে সৃষ্টি মুবারক করে উনার সাথে সংযুক্ত করেছেন। তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণ মুবারকে রয়েছেন অর্থাৎ হাক্বীক্বী দীদার, যিয়ারত, ছোহবত মুবারক উনাদের মধ্যে সৃষ্টির শুরু থেকেই ছিলেন, এখনও আছেন এবং অনন্তকাল যাবৎ থাকবেন। উনার বেমেছাল ফাযায়িল-ফযীলত মুবারকসমূহ উনাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বশরীরে পবিত্র মি’রাজ শরীফ অন্যতম। আর পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনাকে অস্বীকার ও অবজ্ঞা করা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। তিনি হায়াতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি মুত্ত্বলা’ আলাল গইব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত ইলিম মুবারক উনাদের মালিক বানিয়েছেন। তিনি কায়িনাতের সর্বত্র হাযির-নাযির। তিনি ছহিবে শাফা‘আতে কুবরা। উনার শাফা‘আত মুবারক ব্যতিত কেউ নাজাত লাভ করতে পারবে না। তিনি ‘নূরে মুজাসসাম’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র তাহতাদ্দুলু’ অর্থাৎ পবিত্র বাম পাজর মুবারক উনার নীচ দিয়ে কুদরতীভাবে জমিনে তাশরীফ মুবারক এনেছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক সৃষ্টি মুবারক করেছেন। অতঃপর সেখান থেকে এক কাতরা নূর মুবারক নিয়ে সারা কায়িনাত সৃষ্টি করেছেন। তবে তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার জাতী নূর নন। জাতী নূরে বিশ্বাস করা কুফরী। তিনি রহমাতুল্লিল আলামীন। উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মুজাসসাম মুবারক-এ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জিসিম বা শরীর মুবারক-এ) যা কিছু ছিলেন, সবকিছুই ছিলেন পবিত্র থেকে পবিত্রতম। উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জিসিম মুবারক-এ কখনো মশা-মাছি বসতো না। উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুশ শিফা মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছোট ইস্তেঞ্জা মুবারক) যাঁরা পান করেছেন, উনারা সর্বোচ্চ শ্রেণীর জান্নাতী। এক মুহূর্তের তরেও উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত তাবার্রুক মুবারক-এ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র স্পর্শ মুবারক-এ) যা কিছু এসেছেন তা আসমান-যমীন, সম্মানিত কা’বা শরীফ, সম্মানিত কুরসী শরীফ, মহান আল্লাহ পাক উনার কায়িনাতে যা কিছু রয়েছে; এমনকি সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক থেকেও কোটি কোটি গুণ বেশি পবিত্র, ফযীলতপ্রাপ্ত, সম্মানিত এবং সর্বশ্রেষ্ঠ। তিনি সৃষ্টির কারো মতো নন। উনাকে অন্যদের মতো সম্বোধন করা বা আহ্বান করা কুফরী। উনাকে সৃষ্টির কারো সাথে তুলনা করা সুস্পষ্ট কুফরী। একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ সমস্ত কায়িনাতবাসী সকলের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালিমা শরীফ হচ্ছেন- لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ। ক্বিয়ামত পর্যন্ত কেউ যদি শুধু لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ বলে, তাহলেও সে ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ না বলবে। সুবহানাল্লাহ! উনাকে পিতা-মাতা, সন্তান-সন্তুতি, আত্মীয়-স্বজন, অর্থ-সম্পদ; এমনকি নিজের জীবনের চেয়েও বেশি মুহব্বত করা ব্যতীত কেউ কস্মিনকালেও ঈমানদার হতে পারবে না। উনার কোনো ছায়া মুবারক ছিলেন না। মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা দায়িমীভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পবিত্র ছলাত মুবারক পাঠ করছেন। তাই দায়িমীভাবে ২৪ ঘণ্টাই উনার সম্মানিত গোলামী মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া, সম্মানিত তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা এবং সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করা অর্থাৎ উনার সম্মানার্থে অনন্তকালব্যাপী ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা তামাম কায়িনাতবাসী সকলের জন্যই ফরযে আইন। তিনি ‘খ¦াতামুন নাবিয়্যীন’ বা সর্বশেষ নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। উনার পরে আর কেউই নবী-রসূল হিসেবে পৃথিবীতে আগমন করবেন না। উনার পরে কেউ নবী দাবি করলে সে কাট্টা কাফির হয়ে চির জাহান্নামী হবে। যেমন- কাদিয়ানী, বাহাই ইত্যাদি। তিনি দায়িমীভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক ব্যতীত কোনো কথা মুবারক বলেননি, কোনো কাজ মুবারক করেননি এবং কোনো কিছু সমর্থন মুবারকও করেননি। উনার ব্যক্তিগত যিন্দেগী বলে কিছু নেই। উনার পুরো হায়াত মুবারকই মহাসম্মানিত নবুওয়াতী ও রিসালতী যিন্দেগী মুবরক। তিনি নিজ থেকে কিছু বলেছেন, করেছেন বা সমর্থন করেছেন এরূপ আক্বীদাহ্ পোষণ করা সুস্পষ্ট কুফরী। উনার হাটা-চলা মুবারক, নড়া-চড়া মুবারক, খাওয়া-দাওয়া মুবারক, শ্বাস-প্রশ্বাস মুবারক, চোখ মুবারক উনার পলক মুবারক, দৃষ্টি মুবারক, ঘুম মুবারক এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র স্বপ্ন মুবারকও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। ‘তিনি ইজতিহাদ করেছেন, উনার ইজতিহাদে ভুল হয়েছে এবং উনার বিভিন্ন ভুল-ত্রুটি ছিলো।’ এরূপ আক্বীদাহ্ পোষণ করা সুস্পষ্ট কুফরী। না‘ঊযুবিল্লাহ! তিনি হচ্ছেন শারে’ বা শরীয়ত প্রণেতা। উনাকে সৃষ্টি না করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি কোনো কিছুই সৃষ্টি করতেন না; এমনকি রুবূবিয়াত মুবারকও প্রকাশ করতেন না। তিনি সর্বকালে সবার জন্য উসওয়াতুন হাসানাহ্। উনাকে ইত্তেবা করা ব্যতীত কস্মিনকালেও মহান আল্লাহ পাক উনাকে পাওয়া যাবেনা। উনার পবিত্র সুন্নত মুবারক উনাদেরকে ইহানত করা কুফরী। উনার পূর্বপুরুষ আলাইহিমুস সালাম উনারা এবং পূর্বমহিলা আলাইহিন্নাস সালাম উনারা কেউই কাফির-মুশরিক বা মানবীয় কোনো দোষে কখনোই দোষী ছিলেন না; বরং উনারা প্রত্যেকেই মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ মনোনীত মহান ব্যক্তিত্ব মুবারক এবং উনাদের যামানার সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব মুবারক ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

 

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত ওয়ালিদাইন শরীফাইন আলাইহিমাস সালাম উনাদের প্রতি বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক

 

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত ওয়ালিদাইন শরীফাইন আলাইহিমাস সালাম অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনারা সম্মানিত জান্নাত মুবারকসহ সমস্ত সৃষ্টির মালিক। উনারা শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের মালিক হচ্ছেন উনারা। উনাদেরকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মুহব্বত মুবারক করা ঈমান আর উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা কাট্টা কুফরী। উনাদেরকে জাহান্নামী বলা, না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! অথবা উনারা জান্নাতী এ বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করা সুস্পষ্ট কুফরী। উনারা ঈমানদার ছিলেন না বা উনারা ঈমান ব্যতীত ইন্তেকাল করেছেন, অথবা উনাদেরকে রওযা শরীফ থেকে তুলে ঈমান দেয়া হয়েছে, না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! এরূপ আক্বীদাহ্ পোষণ করা সুস্পষ্ট কুফরী। উনাদের সম্মানার্থে সমস্ত কায়িনাত সমস্ত প্রকার নিয়ামত মুবারক পেয়েছে, পাচ্ছে এবং অনন্তকাল যাবৎ পেতেই থাকবে। সুবহানাল্লাহ!

 

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের প্রতি বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক

 

উনারা মোট ১৩ জন। উনারা একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা ব্যতীত সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ সমস্ত জিন-ইনসান, সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ তামাম কায়িনাতবাসী সকলের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাতা আলাইহিন্নাস সালাম এবং উনারা সমস্ত সৃষ্টির মালিক। উনারা শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন উনারা। উনাদেরকে পিতা-মাতা, সন্তান-সন্তুতি, আত্মীয়-স্বজন, অর্থ-সম্পদ; এমনকি নিজের জীবনের চেয়েও বেশি মুহব্বত করা ফরযে আইন। উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুদ দারাজাত মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ক্বদম মুবারক) উনাদের নীচে সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ সমস্ত সৃষ্টির জান্নাত। উনাদেরকে মুহব্বত করা ব্যতীত কেউ কস্মিনকালেও ঈমানদার হতে পারবে না। উনারা সৃষ্টির কারো মতো নন। উনাদের সাথে সৃষ্টির কারো তুলনা করা সুস্পষ্ট কুফরী। উনাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন। উনাদের ব্যাপারে কোনো চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বাল করা সুস্পষ্ট কুফরী। উনারা একে অপরের সাথে ঝগড়া-ফাসাদ করেছেন অথবা উনারা পরস্পর দলাদলী করেছেন, না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! এরূপ আক্বীদাহ্ পোষণ করা সুস্পষ্ট কুফরী। উনাদের সন্তুষ্টি মুবারক ব্যতীত কেউ কস্মিনকালেও মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের হাক্বীক্বী সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক হাছিল করতে পারবে না। সুবহানাল্লাহ!

উল্লেখ্য যে, উনাদের একমাত্র হাক্বীক্বী পরিপূর্ণ ক্বায়িম মাক্বাম হচ্ছেন- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের প্রতি বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক

 

উনারা মোট ৮ জন। উনারা একই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক থেকে অর্থাৎ মহাপবিত্র ও মহাসম্মানিত মূল নূর মুবারক থেকে সৃষ্টি। উনারা শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন উনারা। উনাদের প্রতি সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক এবং হুসনে যন মুবারক পোষণ করা এবং উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া, উনাদের সম্মানিত তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা এবং সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করা সকাল-সন্ধ্যা, দায়িমীভাবেই করা ফরয অর্থাৎ অনন্তকাল যাবৎ করা ফরয। অর্থাৎ সমস্ত সৃষ্টির জন্যই করা ফরজ। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি

বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক

 

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন উনারা। উনারা সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সংযুক্ত এবং সম্পৃক্ত। এ কারণে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যত সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক রয়েছেন, সমস্ত সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারীও হচ্ছেন উনারা। উনারা মুত্বহ্হার বা পূতপবিত্র এবং মুত্বহ্হির বা পবিত্রতা দানকারী। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরেই উনাদের সম্মানিত মাক্বামাত মুবারক, শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক। মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা ব্যতীত সারা কায়িনাত হতে উনারা ছমাদ বা বেনিয়াজ। উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মুহব্বত মুবারক ঈমান এবং উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা সুস্পষ্ট কুফরী। উনাদের সম্মানার্থেই কুল কায়িনাতের সকলে সমস্ত প্রকার সম্মানিত নিয়ামত মুবারক লাভ করেছে, করছে এবং অনন্তকাল যাবৎ লাভ করতেই থাকবে। একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা ব্যতীত সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের জন্য ফরযে আইন হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া, উনাদেরকে সম্মানিত তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা এবং উনাদের সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করা সকাল-সন্ধ্যা, দায়িমীভাবেই করা ফরয অর্থাৎ অনন্তকাল যাবৎ করা ফরয। উনাদের সাথে সৃষ্টির কারো তুলনা দেয়া সুস্পষ্ট কুফরী। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত মাক্বাম মুবারক, সম্মানিত অবস্থান মুবারক সমস্ত সৃষ্টির উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!

হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম

উনাদের প্রতি বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক

হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই মা’ছূম বা নিষ্পাপ। উনারা ছগীরা-কবীরা, কুফরী-শিরকী; এমনকি যাবতীয় অপছন্দনীয় কাজ থেকেও পূত-পবিত্র। উনারা দায়িমীভাবে ২৪ ঘণ্টা মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সম্মানিত ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। উনাদের খাওয়া-দাওয়া, উঠা-বসা, চাল-চলন, কথা-বার্তা, শ্বাস-প্রশ্বাস, ঘুম, স্বপ্ন, চিন্তা, ফিকির মুবারকসহ সমস্ত কিছুই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত অর্থাৎ উনাদের সমস্ত আমল মুবারকই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। কাজেই ‘উনারা ইজতিহাদ করেছেন, উনাদের ইজতিহাদে ভুল হয়েছে এবং উনাদের বিভিন্ন ভুল-ত্রুটি ছিলো।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! এরূপ আক্বীদাহ্ পোষণ করা সুস্পষ্ট কুফরী। উনারা শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন উনারা। উনারা উনাদের আম্মাজান আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের তাহতাচ্ছুররাহ অর্থাৎ নাভির নীচ দিয়ে জমিনে তাশরীফ মুবারক এনেছেন। সুবহানাল্লাহ! উনাদের শান মুবারক-এ চুঁ-চেরা কিলকাল করা, কোন বিষয়ে বিদ্বেষ পোষণ করা, বিরোধিতা করা প্রত্যেকটাই কাট্টা কুফরী এবং জাহান্নামী হওয়ার কারণ। উনাদের কোন ব্যক্তিগত জিন্দেগী ছিল না বরং উনাদের পুরাটাই নুবুওওয়াতী ও রিছালতী জিন্দেগী মুবারক। উনারা ক্বাবলাল ওহী মুবারক ও বা’দাল ওহী মুবারক সব অবস্থায়ই মাছুম। সুবহানাল্লাহ!

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের প্রতি বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক

হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনারা এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা প্রত্যেকেই মাহফূয (সংরক্ষিত)। উনারা সন্তুষ্টি মুবারক প্রাপ্ত। উনাদেরকে মুহব্বত করা ঈমান এবং উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা কুফরী। যারা উনাদের বিরোধীতা ও সমালোচনা করবে তাদের জন্য জাহান্নাম অবধারিত। যারা উনাদের সম্পর্কে চুঁ-চেরা করে বা করবে, তাদেরকে লা’নাতুল্লাহি আলাইহি বলা ফরজ। উনারা অবশ্যই সত্যের মাপকাঠি। উনাদের যে কাউকে যেকোন বিষয় যেকোন ব্যক্তিই অনুসরন করবে, সেই হেদায়েত লাভ করবে। আর উনাদের মত ঈমান আনতে পারলেই প্রকৃত হেদায়েত লাভ করতে পারবে। উনারা যা করেছেন সবকিছুই সঠিক এবং বিশুদ্ধ থেকে বিশুদ্ধতম। ‘উনারা ভুল করেছেন।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! এরূপ বলা সুস্পষ্ট কুফরী। ‘উনারা ইজতিহাদ করেছেন এবং উনাদের ইজতিহাদে ভুল হয়েছে।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! এরূপ বলাও সুস্পষ্ট কুফরী। কেননা মুজতাহিদ হচ্ছে- হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের তবক্বা। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা মুজতাহিদের উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!

খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে সর্বোত্তম বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক পোষণ করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ ইবনে ছিদ্দীকুর রহমান।

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক স্বয়ং নিজেই সর্বপ্রথম ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে ঈদ উদযাপন করেন

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, সাইয়্যিদুল কাওনাইন, সাইয়্যিদুল ফারীক্বাইন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং নিজেই নিজের বিলাদত শরীফ পালন করে খুশি প্রকাশ করেন

হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনারা উনাদের খিলাফতকালে নাবিইয়ুর রহমাহ, নাজিইয়ুল্লাহ, নূরুম মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করেছেন এবং এ উপলক্ষে ব্যয় করার ফযীলতও বর্ণনা করেছেন

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদুল ঈদিল আ’যম, সাইয়্যিদুল ঈদিল আকবার ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে ঈদ উদযাপন করেছেন

বান্দা-বান্দী ও উম্মতের জন্য সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদুল ঈদিল আ’যম, সাইয়্যিদুল ঈদিল আকবার ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয হওয়ার প্রমাণ