পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে- প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৬৫তম পর্ব

সংখ্যা: ২৩৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি। মহান আল্লাহ পাক উনার অশেষ রহমতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-উনার ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব উনার অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লী-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা) ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-চলমান), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা) ৩০. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯৫-২১৩তম সংখ্যা), ৩১. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে “কুলাঙ্গার, পাপিষ্ঠ ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে শরীয়তের সঠিক ফায়ছালা ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২০৩তম সংখ্যা) পেশ করা হয়েছে।

আর বর্তমানে ২৮তম ফতওয়াটি অর্থাৎ “পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়াটি” এখনো পত্রস্থ হচ্ছে। তাই মহান আল্লাহ পাক উনার দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা, করানো ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলাম উনার নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরক ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” উনার মধ্যে এমনসব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো ‘ওহাবী সম্প্রদায়’। ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী মতাবলম্বী উলামায়ে ‘ছূ’রা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে একের পর এক হারামকে হালাল, হালালকে হারাম, জায়িযকে নাজায়িয, নাজায়িযকে জায়িয বলে প্রচার করছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

স্মরণীয় যে, ইহুদীদের এজেন্ট, ওহাবী মতাবলম্বী দাজ্জালে কায্যাব তথা উলামায়ে ‘ছূ’রা প্রচার করছে “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই”। (নাউযুবিল্লাহ) সম্প্রতি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, “নির্বাচন কমিশনার বলেছে, ছবি তোলার বিরুদ্ধে বললে জেল-জরিমানা হবে, নির্বাচন কমিশনার ভোটার আই.ডি কার্ডের জন্য ছবিকে বাধ্যতামূলক করেছে এবং ছবির পক্ষে মসজিদে, মসজিদে প্রচারণা চালাবে বলেও মন্তব্য করেছে। আর উলামায়ে ‘ছূ’রা তার এ বক্তব্যকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যেই ছবি তোলা জায়িয।” (নাঊযুবিল্লাহ) শুধু তাই নয়, তারা নিজেরাও অহরহ ছবি তুলে বা তোলায়।

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এ বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ছবি তোলা জায়িয” তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে-

استحلال الـمعصية كفر.

অর্থাৎ “গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী শরীফ)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে “সূ”দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমানদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধ নেই বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সকলের জন্যে ছবি তোলা জায়িয” উলামায়ে “সূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে ছবি তুলবে (যদিও হারাম জেনেই তুলুক না কেন) তারা মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হবে যা শক্ত আযাব বা কঠিন গুনাহের কারণ। কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

قال حدثنا الاعمش عن مسلم قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نـمير فراى فى صفته تـماثيل فقال سمعت عبد الله قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان اشد الناس عذابا عند الله الـمصورون.

অর্থঃ হযরত আ’মাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইর উনার ঘরে ছিলাম, তিনি উনার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট শুনেছি, তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, “নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ৮৮০)

উক্ত হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় “উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী”  উনার মধ্যে উল্লেখ আছে-

وفى التوضيح قال اصحابنا وغيرهم صورة الحيوان حرام اشد االتحريم وهم من الكبائر.

অর্থ: ‘তাওদ্বীহ’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, হযরত উলামায়ে কিরামগণ প্রত্যেকেই বলেন, জীব জন্তুর ছবি বা প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা হারাম বরং শক্ত হারাম এবং এটা কবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উলামায়ে “সূ”দের উক্ত বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ছবি তুলে প্রকাশ্য হারাম কাজে মশগুল হয়ে কঠিন আযাবের সম্মুখীন হবে যা আমলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ মূর্তি বা ছবিসহ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে মহান আল্লাহ পাক উনার রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই “পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি” পুনরায় প্রকাশ করা হলো।

প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয হওয়ার অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীল প্রমাণ

স্মর্তব্য যে, পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র তাফসীর শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার শরাহ, পবিত্র ফিক্বাহ-ফতওয়া ও উনাদের ব্যাখ্যামূলক নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনমান্য সকল কিতাব উনাদের মধ্যে “প্রাণীর ছবি, মূর্তি, প্রতিমা, প্রতিকৃতি, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন,  পুতুল ইত্যাদি তৈরি করা-করানো, তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয” বলে উল্লেখ আছে। নিম্নে সেসকল কিতাবসমূহ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ সম্পর্কিত দলীল প্রমাণ তুলে ধরা হলো-

সম্মানিত ফিক্বাহ, ফতওয়া ও উনাদের নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ থেকে প্রমাণিত যে, মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রতিকৃতি, প্রাণীর ছবি ইত্যাদি হারাম, কুফরী ও শিরকী কাজ

পবিত্র ফিক্বাহ-ফতওয়া ও উনাদের ব্যাখ্যামূলক নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনমান্য সকল গ্রন্থসমূহে মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রতিকৃতি প্রাণীর ছবি ইত্যাদি তৈরি করা, এদের পূজা করা এগুলোর ব্যবসা করা এবং যে কোন অবস্থায় এগুলোর অনুশীলন করাকে নিষেধ করা হয়েছে। এগুলো তৈরি করা হারাম, এগুলোর পূজা করা কুফরী শিরকী এবং মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদতের বিপরীতে গাইরুল্লাহর ইবাদত করার শামিল। নাউযুবিল্লাহ!

নি¤েœ মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রাণীর ছবি নিষেধ সম্পর্কিত বিশ্ববিখ্যাত সর্বজনমান্য পবিত্র ফিক্বা ও ফতওয়া উনাদের কিতাব থেকে ছহীহ সমাধান তুলে ধরা হলো-

সম্মানিত হানাফী মাযহাব উনার ফিকাহ ও ফাতাওয়ার কিতাব থেকে দলীল

ফাতহুল ক্বদীর লিইবনিল্ হুমাম

অত্র ‘ফাতহুল ক্বদীর শরহুল্ হিদায়াহ আলা বিদায়াতিল মুবতাদী’ কিতাবখানা লিখেছেন- আল্ ইমাম, আল্ আল্লামাহ্, আল্ মুহাক্কিক্ব আলাল্ ইত্লাক্ব, শায়েখ কামালুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আব্দুল্ হামীদ বিন মাসঊদ সাইওয়াসী সাকান্দারী ইবনুল্ হুমাম হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। জন্ম: ৭৯০ হিজরী, ইন্তিকাল: ৮৬১ হিজরী।

(১০৮২)

فَإِنَّ غَيْرَ ذِي الرُّوحِ لَا يُكْرَهُ كَالشَّجَرِ ، وَفِيهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ الْأَثَرُ قَالَ لِلْمُصَوِّرِ : إنْ كُنْت لَا بُدَّ فَاعِلًا فَعَلَيْك بِتِمْثَالٍ غَيْرِ ذِي الرُّوحِ. (فتح القدير شرح الهداية على بداية المبتدي كتاب الصلاة باب ما يفسد الصلاة و ما يكره فيها فصل ويكره مصلي أن يعبث بثوبه أو بجسده الجلد ১ الصفحة ৩৬২ المؤلف: الامام العلامة المحقق على الاطلاق شيخ كمال الدين محمد بن عبد الواحد بن عبد الحميد بن مسعود السيواسي السكندري المعروف بابن الهمام الحنفي الماتريدي رحمة الله عليه الولادة سنة ৭৯০ هجري المتوفى سنة ৮৬১ هجري المكتبة النورية بسكهر الباكستان)

অর্থ: নিশ্চয়ই প্রাণহীনের ছবি মাকরূহ তাহরীমী নয়, যেমন বৃক্ষ। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি একদা একজন প্রাণীর ছবি অঙ্কনকারীকে বললেন: যদি তোমার একাজ করা ছাড়া কোন উপায় না থাকে, তাহলে প্রাণহীনের ছবি আঁকতে পারো। (ফাতহুল্ ক্বদীর শরহুল্ হিদায়াহ আলা বিদায়াতিল্ মুবতাদী অধ্যায়: নামায পরিচ্ছেদ: বাবু মা ইউফ্সিদুছ্ ছলাহ ওয়া মা ইয়াক্রাহূ ফীহা অনুচ্ছেদ: ইয়াকরাহূ লিল্ মুছাল্লী আই্ ইয়া’বাছা বিছাওবিহী আও বিজাসাদিহী ১ম খন্ড ৩৬২ পৃষ্ঠা লেখক: আল্ ইমাম, আল্ আল্লামাহ্, আল্ মুহাক্কিক্ব আলাল্ ইত্লাক্ব, শায়েখ কামালুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়দাহিদ বিন আব্দুল্ হামীদ বিন মাসঊদ সাইওয়াসী সাকান্দারী ইবনুল্ হুমাম হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। জন্ম: ৭৯০ হিজরী, ইন্তিকাল: ৮৬১ হিজরী প্রকাশনা: আল্ মাকতাবাতুন্ নূরিয়াহ সাখ্খার পাকিস্তান)

(১০৮৩)

(قَوْلُهُ وَأَطْلَقَ الْكَرَاهَةَ فِى الْأَصْلِ ) أَيْ يُكْرَهُ أَنْ يَسْجُدَ عَلَى الصُّورَةِ او لا.

(فتح القدير شرح الهداية على بداية المبتدي كتاب الصلاة باب ما يفسد الصلاة و ما يكره فيها فصل ويكره مصلي أن يعبث بثوبه أو بجسده الجلد ۱ الصفحة ۳۶۲ المؤلف: الامام العلامة المحقق على الاطلاق شيخ كمال الدين محمد بن عبد الواحد بن عبد الحميد بن مسعود السيواسي السكندري المعروف بابن الهمام الحنفي الماتريدي رحمة الله عليه الولادة سنة ۷۹۰ هجري المتوفى سنة ۸۶۱هجري المكتبة النورية بسكهر الباكستان)

অর্থ: (মূলত: প্রাণীর ছবি মূর্তি ভাস্কর্যের উপর সিজদাহ করা মাকরূহ তাহরীমী হওয়ার বিষয়টি সর্বসম্মত ফায়সালা হিসেবে স্বীকৃত) অর্থাৎ প্রাণীর ছবি মূর্তি ভাস্কর্যের উপর সিজদাহ করা মাকরূহ তাহরীমী অথবা তার উপর সিজদা না করলেও তা পাশে থাকা মাকরূহ তাহরীমী। (ফাতহুল্ ক্বদীর শরহুল্ হিদায়াহ আলা বিদায়াতিল্ মুবতাদী অধ্যায়: নামায পরিচ্ছেদ: বাবু মা ইউফ্সিদুছ্ ছলাহ ওয়া মা ইয়াক্রাহূ ফীহা অনুচ্ছেদ: ইয়াকরাহূ লিল্ মুছাল্লী আই্ ইয়া’বাছা বিছাওবিহী আও বিজাসাদিহী ১ম খন্ড ৩৬২ পৃষ্ঠা লেখক: আল্ ইমাম, আল্ আল্লামাহ্, আল্ মুহাক্কিক্ব আলাল্ ইত্লাক্ব, শায়েখ কামালুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়দাহিদ বিন আব্দুল্ হামীদ বিন মাসঊদ সাইওয়াসী সাকান্দারী ইবনুল্ হুমাম হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। জন্ম: ৭৯০ হিজরী, ইন্তিকাল: ৮৬১ হিজরী প্রকাশনা: আল্ মাকতাবাতুন্ নূরিয়াহ সাখ্খার পাকিস্তান)

(১০৮৪)

( قَوْلُهُ بِحَيْثُ لَا تَبْدُو لِلنَّاظِرِ ) أَيْ عَلَى بُعْدٍ مَا ، وَالْكَبِيرَةُ مَا تَبْدُو عَلَى الْبُعْدِ ( قَوْلُهُ لِأَنَّهَا لَا تُعْبَدُ) فَلَيْسَ لَهَا حُكْمُ الْوَثَنِ فَلَا يُكْرَهُ فِي الْبَيْتِ. (فتح القدير شرح الهداية على بداية المبتدي كتاب الصلاة باب ما يفسد الصلاة و ما يكره فيها فصل ويكره مصلي أن يعبث بثوبه أو بجسده الجلد ۱ الصفحة ۳۶۳ المؤلف: الامام العلامة المحقق على الاطلاق شيخ كمال الدين محمد بن عبد الواحد بن عبد الحميد بن مسعود السيواسي السكندري المعروف بابن الهمام الحنفي الماتريدي رحمة الله عليه الولادة سنة ۷۹۰ هجري المتوفى سنة ۸۶۱ هجري المكتبة النورية بسكهر الباكستان)

অর্থ: (প্রাণীর ছবি যদি এমন ছোট হয় যে, তা দর্শকের দৃষ্টিতে আসে না) অর্থাৎ দূর থেকে দেখলে বুঝা না যায়, তাহলে তা মাকরূহ তাহরীমী হবে না। আর বড় হলে তো দূর থেকেও বুঝা যায় (প্রাণীর ছবি হিসেবে বুঝা না গেলে অর্থাৎ গাছের মত দেখা গেলে তার উপস্থিতিতে উপাসনা করা প্রমাণিত হয় না) কারণ তা মূর্তি বা প্রতিমার অন্তর্ভূক্ত হয় না। তাই তা ঘরে রাখাও মাকরূহ হয় না। (ফাতহুল্ ক্বদীর শরহুল্ হিদায়াহ আলা বিদায়াতিল্ মুবতাদী অধ্যায়: নামায পরিচ্ছেদ: বাবু মা ইউফ্সিদুছ্ ছলাহ ওয়া মা ইয়াক্রাহূ ফীহা অনুচ্ছেদ: ইয়াকরাহূ লিল্ মুছাল্লী আই্ ইয়া’বাছা বিছাওবিহী আও বিজাসাদিহী ১ম খন্ড ৩৬৩ পৃষ্ঠা লেখক: আল্ ইমাম, আল্ আল্লামাহ্, আল্ মুহাক্কিক্ব আলাল্ ইত্লাক্ব, শায়েখ কামালুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়দাহিদ বিন আব্দুল্ হামীদ বিন মাসঊদ সাইওয়াসী সাকান্দারী ইবনুল্ হুমাম হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। জন্ম: ৭৯০ হিজরী, ইন্তিকাল: ৮৬১ হিজরী প্রকাশনা: আল্ মাকতাবাতুন্ নূরিয়াহ সাখ্খার পাকিস্তান)

আল্ কিফায়াহ লিল্ খাওয়ারিযামী

অত্র ‘আল্ কিফায়াহ শরহুল্ হিদায়াহ আলা বিদায়াতিল মুবতাদী’ কিতাবখানা লিখেছেন- আল্ হিব্র, আল্লামা, আলিম, ফাদ্বিল, ইমাম হযরত সাইয়্যিদ জালালুদ্দীন বিন শামসুদ্দীন খাওয়ারিযামী কারমানী (কারলানী বা কারলালী) হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। ইন্তিকাল: ৭৬৭ হিজরী।

(১০৮৫-১০৮৬)

(قوله واطلق الكراهة في الاصل) اى لم يفصل فى المبسوط فى الكراهة بين ان يسجد على الصورة او لايسجد ذكر في مبسوط شيخ الاسلام رحمة الله عليه فان صلى على بساط فيه تماثيل فانه يكره لانه متى صلى عليه تشبه هذه الصلاة الى الصورة و حقيقة الصلاة للصورة حرام فما يشبهها يكون مكروها. (الكفاية شرح الهداية على بداية المبتدي كتاب الصلاة باب ما يفسد الصلاة و ما يكره فيها فصل ويكره مصلي أن يعبث بثوبه أو بجسده الجلد ۱ الصفحة ۳۶۲ المؤلف: الحبر العلامة العالم الفاضل الامام حضرت السيد جلال الدين بن شمس الدين الخوارزمي الكرماني او الكرلاني او الكرلالى الحنفي الماتريدي رحمة الله عليه المتوفى سنة ۷۶۷ هجري المكتبة النورية بسكهر الباكستان))

অর্থ: (মূলত: মাকরূহ তাহরীমী হওয়ার বিষয়টি সর্বসম্মত ফায়সালা হিসেবে স্বীকৃত) ‘আল্ মাবসূত’ কিতাবে মাকরূহ হওয়ার বিষয়টি প্রকৃতভাবেই নিঃশর্ত করা হয়েছে। এভাবে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, প্রাণীর ছবি-মূর্তির উপর সিজদাহ করুক অথবা তার উপর সিজদাহ না-ই করুক, প্রাণীর ছবি-মূর্তি মুছাল্লীর আশেপাশে থাকলেই নামায মাকরূহ তাহরীমী হবে। হযরত শাইখুল ইসলাম হালওয়ানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘আল্ মাবসূত’ কিতাবে উল্লেখ করেন, প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য যুক্ত বিছানায় নামায পড়া মাকরূহ তাহরীমী। কারণ, যখন এমন বিছানার উপর নামায পড়া হয় তখন তা পুজার সাথে সাদৃশ্য হয়ে যায়। আর প্রকৃতপক্ষে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য ইত্যাদীর উপর নামায পড়া হারাম। তবে এর সাথে সামান্য সাদৃশ্য হলে তা হবে মাকরূহ তাহরীমী। (আল্ কিফায়াহ শরহুল্ হিদায়াহ আলা বিদায়াতিল্ মুবতাদী অধ্যায়: নামায পরিচ্ছেদ: বাবু মা ইউফ্সিদুছ্ ছলাহ ওয়া মা ইয়াক্রাহূ ফীহা অনুচ্ছেদ: ইয়াকরাহূ লিল্ মুছাল্লী আই্ ইয়া’বাছা বিছাওবিহী আও বিজাসাদিহী ১ম খন্ড ৩৬২ পৃষ্ঠা লেখক: আল্ হিব্র, আল্লামা, আলিম, ফাদ্বিল, ইমাম হযরত সাইয়্যিদ জালালুদ্দীন বিন শামসুদ্দীন খাওয়ারিযামী কারমানী (কারলানী বা কারলালী) হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওফাত: ৭৬৭ হিজরী প্রকাশনা: আল্ মাকতাবাতুন্ নূরিয়াহ সাখ্খার পাকিস্তান)

(১০৮৭)

(لحديث جبريل عليه السلام) و هو ما روى مجاهد رحمة الله عليه عن ابي هريرة رضى الله عنه ان جبريل عليه السلام استأذن على رسول الله صلى الله عليه و سلم فقال له ادخل فقال كيف ادخل بيتا فيه ستر عليه تماثيل حيوان او رجال اما ان تقطع رؤوسها او تجعل بساطا توطأ انا معاشر الملائكة لاندخل بيتا فيه كلب او صورة. (الكفاية شرح الهداية على بداية المبتدي كتاب الصلاة باب ما يفسد الصلاة و ما يكره فيها فصل ويكره مصلي أن يعبث بثوبه أو بجسده الجلد ۱ الصفحة ۳۶۳ المؤلف: الحبر العلامة العالم الفاضل الامام حضرت السيد جلال الدين بن شمس الدين الخوارزمي الكرماني او الكرلاني او الكرلالى الحنفي الماتريدي رحمة الله عليه المتوفى سنة ۷۶۷ هجري المكتبة النورية بسكهر الباكستان)

অর্থ: (হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনার সংশ্লিষ্ট পবিত্র হাদীছ শরীফ) হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত আবূ হুরাইরাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি একদা সাইয়্যিদুল্ মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে প্রবেশ করার জন্য অনুমতি চাইলেন। তাই তিনি উনাকে প্রবেশের অনুমতি দিলেন। তখন হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আমি ঘরে কিভাবে প্রবেশ করি? অথচ ঘরে একটি পর্দায় প্রাণীর ছবি আছে। যাতে এগুলির মাথা কেটে দেয়া হয় অথবা বাকী অংশ দ্বারা বিছানা বানানো হয়। নিশ্চয়ই আমরা হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম এমন ঘরে প্রবেশ করি না যে ঘরে কুকুর অথবা প্রাণীর ছবি-মূর্তি থাকে। (আল্ কিফায়াহ শরহুল্ হিদায়াহ আলা বিদায়াতিল্ মুবতাদী অধ্যায়: নামায পরিচ্ছেদ: বাবু মা ইউফ্সিদুছ্ ছলাহ ওয়া মা ইয়াক্রাহূ ফীহা অনুচ্ছেদ: ইয়াকরাহূ লিল্ মুছাল্লী আই্ ইয়া’বাছা বিছাওবিহী আও বিজাসাদিহী ১ম খন্ড ৩৬৩ পৃষ্ঠা লেখক: আল্ হিব্র, আল্লামা, আলিম, ফাদ্বিল, ইমাম হযরত সাইয়্যিদ জালালুদ্দীন বিন শামসুদ্দীন খাওয়ারিযামী কারমানী (কারলানী বা কারলালী) হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওফাত: ৭৬৭ হিজরী প্রকাশনা: আল্ মাকতাবাতুন্ নূরিয়াহ সাখ্খার পাকিস্তান)

(১০৮৮)

(قوله كما اذا صلى الى شمع او سراج على ما قالوا) و قوله على ما قالوا ايذان بخلاف البعض و ذكر الامام التمرتشي رحمة الله عليه و اختلف فيمن صلى و بين يديه شمع او سراج فقيل يكره كما لو كان بين يديه كانون فيه جمر او نار موقدة والصحيح انه لايكره لان السراج او الشمع لايعبده احد و عن ظهير الدين رحمه الله الاصل ان كل ما يقع تشبهابهم فيما يعظمونه يكره الاستقبال قى الصلاة اليه. (الكفاية شرح الهداية على بداية المبتدي كتاب الصلاة باب ما يفسد الصلاة و ما يكره فيها فصل ويكره مصلي أن يعبث بثوبه أو بجسده الجلد ۱ الصفحة ۳۶۳ المؤلف: الحبر العلامة العالم الفاضل الامام حضرت السيد جلال الدين بن شمس الدين الخوارزمي الكرماني او الكرلاني او الكرلالى الحنفي الماتريدي رحمة الله عليه المتوفى سنة ۷۶۷ هجري المكتبة النورية بسكهر الباكستان)

অর্থ: (সুতরাং তা প্রদীপ অথবা মোমবাতি সামনে রেখে ছলাত আদায় করার মতই হয়। হক্কানী-রব্বানী উলামায়ে কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনারা এমটিই ফাতাওয়া দিয়েছেন) কতক উলামায়ে কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম এ ব্যাপারে মতবিরোধ করেছেন। হযরত ইমাম তামারতাশী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি উল্লেখ করেন যে, নামাযীর সামনে প্রদীপ অথবা মোমবাতি থাকলে নামায মাকরূহ তাহরীমী হবে। অনুরূপ প্রজ্জলিত অঙ্গার অথবা প্রজ্জলিত আগুন থাকলেও নামায মাকরূহ তাহরীমী হবে। কিন্তু ছহীহ মতে, নামাযের সামনে প্রদীপ অথবা মোমবাতি থাকলে নামায মাকরূহ তাহরীমী হবে না। কেননা, প্রদীপ অথবা মোমবাতি সামনে রেখে কেউ তার পূজা করে না। হযরত যহীরুদ্দীন রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, যদি এগুলোকে সম্মান দেখানোর জন্য সামনে রাখা হয় তাহলে নামায মাকরূহ তাহরীমী বা হারাম হবে। অন্যথায় হবে না। (আল্ কিফায়াহ শরহুল্ হিদায়াহ আলা বিদায়াতিল্ মুবতাদী অধ্যায়: নামায পরিচ্ছেদ: বাবু মা ইউফ্সিদুছ্ ছলাহ ওয়া মা ইয়াক্রাহূ ফীহা অনুচ্ছেদ: ইয়াকরাহূ লিল্ মুছাল্লী আই্ ইয়া’বাছা বিছাওবিহী আও বিজাসাদিহী ১ম খন্ড ৩৬৩ পৃষ্ঠা লেখক: আল্ হিব্র, আল্লামা, আলিম, ফাদ্বিল, ইমাম হযরত সাইয়্যিদ জালালুদ্দীন বিন শামসুদ্দীন খাওয়ারিযামী কারমানী (কারলানী বা কারলালী) হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওফাত: ৭৬৭ হিজরী প্রকাশনা: আল্ মাকতাবাতুন্ নূরিয়াহ সাখ্খার পাকিস্তান)

(১০৮৯)

(قوله وَلَا يُكْرَهُ تِمْثَالُ غَيْرِ ذِي الرُّوحِ ) لِمَا رُوِيَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ نَهَى مُصَوِّرًا عَنْ التَّصْوِيرِ فَقَالَ: كَيْفَ أَصْنَعُ وَهُوَ كَسْبِي؟ قَالَ: إنْ لَمْ يَكُنْ بُدٌّ فَعَلَيْك بِتِمْثَالِ الْأَشْجَارِ. (الكفاية شرح الهداية على بداية المبتدي كتاب الصلاة باب ما يفسد الصلاة و ما يكره فيها فصل ويكره مصلي أن يعبث بثوبه أو بجسده الجلد ۱ الصفحة ۳۶۴ المؤلف: الحبر العلامة العالم الفاضل الامام حضرت السيد جلال الدين بن شمس الدين الخوارزمي الكرماني او الكرلاني او الكرلالى الحنفي الماتريدي رحمة الله عليه المتوفى سنة ۷۶۷ هجري المكتبة النورية بسكهر الباكستان)

অর্থ: (প্রাণহীনের ছবি-প্রতিকৃতি থাকলে নামায মাকরূহ তাহরীমী হবে না) যেমনটি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে। তিনি একদা একজন প্রাণীর ছবি অঙ্কনকারীকে ছবি অঙ্কন করতে নিষেধ করলেন। উত্তরে লোকটি বললেন, আমি কিভাবে তা ত্যাগ করতে পারি অথচ ইহা আমার উপার্জনের পথ? তখন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি বললেন, তোমার যদি তা করতেই হয়, তাহলে গাছপালার ছবি অঙ্কন করতে পারো। (আল্ কিফায়াহ শরহুল্ হিদায়াহ আলা বিদায়াতিল্ মুবতাদী অধ্যায়: নামায পরিচ্ছেদ: বাবু মা ইউফ্সিদুছ্ ছলাহ ওয়া মা ইয়াক্রাহূ ফীহা অনুচ্ছেদ: ইয়াকরাহূ লিল্ মুছাল্লী আই্ ইয়া’বাছা বিছাওবিহী আও বিজাসাদিহী ১ম খন্ড ৩৬৪ পৃষ্ঠা লেখক: আল্ হিব্র, আল্লামা, আলিম, ফাদ্বিল, ইমাম হযরত সাইয়্যিদ জালালুদ্দীন বিন শামসুদ্দীন খাওয়ারিযামী কারমানী (কারলানী বা কারলালী) হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওফাত: ৭৬৭ হিজরী প্রকাশনা: আল্ মাকতাবাতুন্ নূরিয়াহ সাখ্খার পাকিস্তান)

আল্ ইখতিয়ার শরহুল মুখতার (আল্ ইখতিয়ার লিতা’লীলিল্ মুুখতার)

অত্র ‘আল্ ইখতিয়ার শরহুল মুখতার’ কিতাব খানা লিখেছেন, ফক্বীহ আবুল ফদ্বল মাজদুদ্দীন আব্দুল্লাহ বিন মাহমূদ বিন মাওদূদ বিন মাহমূদ মাওছিলী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। বিলাদাত: ৫৯৯ হিজরী, ওয়াফাত: ৬৮৩ হিজরী।

(১০৯০)

لان نقش التماثيل حرام. (اَلْاِخْتِيَار شرحُ الْمُختارِ اى الاختيار لتعليل المختار كتاب الغصب المؤلف:  الفقيه ابو الفضل مجد الدين عبد الله بن محمود بن مودود بن محمود الْمَوْصِلِىْ الحنفى رحمة الله عليه الولادة: ۵۹۹ هجرى المتوفى: ۶۸۳ هجرى)

অর্থ: প্রাণীর ছবি মূর্তি ভাস্কর্য ইত্যাদী আঁকা বা তৈরী করা হারাম। (আল্ ইখতিয়ার শরহুল মুখতার কিতাবুল গছব লেখক: ফক্বীহ আবুল ফদ্বল মাজদুদ্দীন আব্দুল্লাহ বিন মাহমূদ বিন মাওদূদ বিন মাহমূদ মাওছিলী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি অতদালাইহি। বিলাদাত: ৫৯৯ হিজরী, ওয়াফাত: ৬৮৩ হিজরী)

(১০৯১)

ولا يجوز لبس التصاوير. (اَلْاِخْتِيَار شرحُ الْمُختارِ اى الاختيار لتعليل المختار كتاب الكراهية المؤلف: الفقيه ابو الفضل مجد الدين عبد الله بن محمود بن مودود بن محمود الْمَوْصِلِىْ الحنفى رحمة الله عليه الولادة: ۵۹۹ هجرى المتوفى: ۶۸۳ هجرى)

অর্থ: প্রাণীর ছবিযুক্ত পোশাক পরিধান করা জায়িয নেই। (আল্ ইখতিয়ার শরহুল মুখতার কিতাবুল গছব লেখক: ফক্বীহ আবুল ফদ্বল মাজদুদ্দীন আব্দুল্লাহ বিন মাহমূদ বিন মাওদূদ বিন মাহমূদ মাওছিলী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। বিলাদাত: ৫৯৯ হিজরী, ওয়াফাত: ৬৮৩ হিজরী)

অসমাপ্ত-

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪১

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৪

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪২তম পর্ব

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া    ১৫দ

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া ৪৩তম পর্ব