পবিত্র সূরা আনআম শরীফ উনার ৭৪ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখিত اَبٌ‘আবুন’ শব্দ মুবারক চাচা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, পিতা অর্থে নয়

সংখ্যা: ২৮০তম সংখ্যা | বিভাগ:

মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার পবিত্র কিতাব কুরআন শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র সূরা আনয়াম শরীফ উনার ৭৪ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ لِأَبِيهِ آزَرَ أَتَتَّخِذُ أَصْنَامًا آلِهَةً

অর্থ: আর যখন হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি উনার চাচা আযরকে বললেন, আপনি কি মূর্তিকে ইলাহ বা মা’বুদ হিসেবে গ্রহণ করছেন?

উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে اَبِيْهِ উনার মধ্যে اَبٌ ‘আবুন’ শব্দ মুবারক চাচা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

স্মরণীয় যে, اَبٌ শব্দটি একবচন আর اٰبَاءُ হচ্ছে বহুবচন। পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ এবং উনাদের ব্যাখ্যাগ্রন্থ সমূহের মধ্যে ‘আবুন’ শব্দটি একাধিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যথা: বাবা, মা, চাচা, দাদা, পূর্বপুরুষ ইত্যাদি। যেমন: পবিত্র সূরা নিসা শরীফ উনার ১১ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ‘আবুন’ শব্দটি যে মায়ের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়েছে সে সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

وَلِأَبَوَيْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِن كَانَ لَهُ وَلَدٌ

অর্থ: মা-বাবা উভয়ের জন্যেই রয়েছে মৃতের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে এক ষষ্ঠমাংশ: যদি মৃতের কোন সন্তান-সন্তÍতি থাকে।

পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ উনার ১৭০ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে আবুন শব্দটি পূর্বপুরুষদের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন: ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنزَلَ اللَّـهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا. أَوَلَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ شَيْئًا وَلَا يَهْتَدُونَ

অর্থ: যখন তাদেরকে (কাফিরদেরকে) বলা হলো, মহান আল্লাহ পাক তিনি যা নাযিল করেছেন তা তোমরা মান্য করো। তখন তারা বললো, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে যার উপর পেয়েছি তারই অনুসরণ করবো যদিও তাদের পূর্বপুরুষদের কোনরুপ জ্ঞান ছিল না এবং তারা হিদায়েতপ্রাপ্তও ছিল না।

পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ উনার ১৩৩ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

أَمْ كُنتُمْ شُهَدَاءَ إِذْ حَضَرَ يَعْقُوبَ الْمَوْتُ إِذْ قَالَ لِبَنِيهِ مَا تَعْبُدُونَ مِن بَعْدِي قَالُوا نَعْبُدُ إِلَـٰهَكَ وَإِلَـٰهَ آبَائِكَ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ إِلَـٰهًا وَاحِدًا

অর্থ: “তোমরা কি উপস্থিত ছিলে? যখন হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম উনার বিছাল শরীফ গ্রহণের সময় উপস্থিত হলো তখন তিনি উনার সন্তানগণ উনাদেরকে বললেন, ‘আপনারা আমার পর কার ইবাদত করবেন? উনারা উত্তরে বললেন, ‘আমরা আপনার রব তায়ালা উনার এবং আপনার পূর্বপিতা (আপনার দাদা) হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এবং (আপনার চাচা) হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম এবং (আপনার বাবা) হযরত ইসহাক্ব আলাইহিস সালাম উনাদের একক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত করবো।”

উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে اَبٌ  ‘আবুন’ দ্বারা দাদা, চাচা ও বাবা সকলকে বুঝানো হয়েছে। যেমন, এ সম্পর্কে বিশ্বখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ ‘তাফসীরে মাযহারী’ উনার ৩/২৫৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

وَكَانَ اٰزَرُ عَلَى الصَّحِيْحِ عَمًّا لِّاِبْرَاهِيْمَ وَالْعَرَبُ يُطْلِقُوْنَ الْاَبَ عَلَى الْعَمِّ كَمَا فِـىْ قَوْلِه تَعَالٰى نَعْبُدُ اِلٰـهَكَ وَاِلٰهَ اٰبَائِكَ اِبْرَاهِيْمَ وَاِسْمَاعِيْلَ وَاِسْحَاقَ اِلٰـهًا وَّاحِدًا.

অর্থ : “বিশুদ্ধ মতে, আযর হলো হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার চাচা। আর আরবগণ চাচার ক্ষেত্রেও اَبٌ  ‘আবুন’ শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন।” যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমরা আপনার প্রতিপালক এবং আপনার পূর্বপিতা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম, হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম ও হযরত ইসহাক আলাইহিস সালাম উনাদের একক প্রতিপালক মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত করবো।”

এ সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رُدُّوْا عَلَىَّ اَبِـىْ يَعْنِـى الْعَمَّ الْعَبَّاسَ عَلَيْهِ السَّلَامُ

অর্থ: নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার চাচা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম উনাকে আমার নিকট ফিরিয়ে দাও।” (তাফসীরে কবীর ১৩/৪০)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক  ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اَنَّ اَبَا اِبْرَاهِيْمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ لَـمْ يَكُنْ اِسْمُهُ اٰزَرَ وَاِنَّمَا كَانَ اِسْمُهُ تَارَحٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ

অর্থ : “রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতা আযর নয়। বরং উনার সম্মানিত পিতা  হচ্ছেন হযরত তারাহ আলাইহিস সালাম।” (তাফসীরে ইবনে আবি হাতিম, তাফসীরে ইবনে কাছীর ৩/২৪৮)

উল্লেখ্য, হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত পিতা-মাতা বা পূর্বপুরুষ উনারা প্রত্যেকেই ছিলেন মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত ব্যক্তিত্ব। উনাদের কেউই কাফির মুশরিক বা মূর্তিপুজকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। যেমন এ সম্পর্কে তাফসীরে কবীর ১৩/৩৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-

اِنَّ اٰبَاءَ الْاَنْبِيَاءِ مَاكَانُوْا كُفَّارًا

অর্থ: নিশ্চয়ই হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত পিতা-মাতা তথা পূর্বপুরুষ আলাইহিমুস সালাম উনারা কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।

আর যিনি সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে সকল সম্মানিত পিতা-মাতা তথা পূর্বপুরুষ আলাইহিমুস সালাম-আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মাধ্যমে যমীনে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন উনাদের সম্পর্কে তো পবিত্র   সূরা শুআরা শরীফ উনার ২১৯ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে স্পষ্টই ঘোষণা করা হয়েছে-

وَتَقَلُّبَكَ فِي السَّاجِدِيْنَ.

অর্থ: আর তিনি  আপনাকে  (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে) সিজদাকারী উনাদের মধ্যে স্থানান্তরিত করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

আর উক্ত পবিত্র  আয়াত শরীফ উনার  ব্যাখ্যায় স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

لـَمْ اَزَلْ اَنْقُلُ مِنْ اَصْلَابِ الطَّاهِرِيْنَ اِلٰـى اَرْحَامِ الطَّاهِرَاتِ.

অর্থ : “আমি সর্বদা পূত-পবিত্র পুরুষ-মহিলা উনাদের মাধ্যমেই স্থানান্তরিত হয়েছি।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে কবীর শরীফ- ১৩/৩৯)

সুতরাং এত স্পষ্ট দলীল প্রমাণাদী থাকা সত্ত্বেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পূর্বপুরুষ হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার চাচা মূর্তিপুজক আযরকে যারা উনার পিতা বলে প্রচার করবে বা আক্বীদা পোষণ করবে তারা মুসলমান থেকে খারিজ হয়ে কাট্টা কাফিরে পরিণত হবে। নাউযুবিল্লাহ!

উপরে উল্লেখিত পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ এবং নির্ভরযোগ্য তাফসীর সমূহের বর্ণনাসমূহ দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত ও প্রতিভাত যে, আযর হচ্ছে হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার চাচা।

কাজেই, আযরকে যারা উনার পিতা বলে থাকে তাদের বক্তব্য পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের খিলাফ বা বিরোধী হওয়ার কারণে কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। এ কুফরী আক্বীদা থেকে বেঁচে থাকা প্রত্যেক মুসলমানের জন্যেই ফরয।

-আল্লামা সাইয়্যিদ শুয়াইব আহমদ।

পবত্রি দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে ছোঁয়াচে বা সংক্রামক বলে কোন রোগ নাই “ছোঁয়াচে বা সংক্রামক বশ্বিাস করা শরিক”

সম্মানিত শরীয়ত উনার ফাতাওয়া অনুযায়ী “সুস্থ মানুষকে সুস্থ মানুষ থেকে দুরে থাকার ব্যাপারে” ইফার ফাতাওয়া ও সরকারী নির্দেশনা সম্পূর্নরূপে ভুল, মনগড়া, কুফরী ও শিরকীপূর্ণ

কতপিয় সম্মানতি সুন্নতী আমল, যা জানা থাকলে সহজইে আমল করা যায়

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহহির, আছ ছমাদ, মুজাদ্দিদে আ”যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল মহাসম্মানিত তা“য়াল্লুক্ব-নিসবত মুবারক

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক উনার ইত্তিবা” তথা অনুসরণ-অনুকরণ করার গুরুত্ব-তাৎপর্য এবং বেমছাল ফযীলত মুবারক