পশ্চিমাদের ঘৃণ্য জুয়ার সংস্কৃতি ঢোকানো হচ্ছে বাংলাদেশে। খোদ রাজধানীতেই পরিচালিত হচ্ছে শতাধিক ক্যাসিনো। দেশের শত শত কোটি টাকা পাচার হচ্ছে বিদেশে। সরকারের উচিত জুয়ার বিরুদ্ধে শক্ত আইন প্রণয়ন করে দেশে ক্যাসিনো ব্যবসার মূল্যোৎপাটন করা।

সংখ্যা: ২৭৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার ৬০টি স্পটে অবৈধ ক্যাসিনো (জুয়ার আসর) ব্যবসা চলছে। যুবলীগের নামধারী একশ্রেণীর নেতারা এ ব্যবসা পরিচালনা করছে। ক্যাসিনো পরিচালনার জন্য নেপাল, থাইল্যান্ডসহ চারটি দেশ থেকে প্রশিক্ষিত নারীদের আনা হচ্ছে। প্রশিক্ষিত জুয়াড়ির পাশাপাশি নিরাপত্তা প্রহরীও আনা হচ্ছে বিদেশ থেকে। ক্যাসিনোগুলোতে প্রতি রাতেই কোটি কোটি টাকা উড়ছে। এর পরিমাণ কমবেশি ১২০ কোটি টাকা হতে পারে। তবে আরেক হিসেবে ক্যাসিনোগুলোর একেকটি স্পটে কমপক্ষে ৩ কোটি টাকার জুয়া খেলা হয়। সে হিসেবে দৈনিক ক্যাসিনোগুলোতে উঠছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা।

জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় রাজধানীতে অর্ধশতাধিক ক্যাসিনো চালু ছিল। নিয়ন্ত্রণ করত যুবদল। এখন ক্যাসিনোগুলো নামধারী যুবলীগের নিয়ন্ত্রণে। শুধু এই ৬০টি-ই নয়, রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় রীতিমতো বাসা ভাড়া নিয়ে চলছে জুয়ার আসর। রাজধানীর ক্যাসিনোগুলোতে ওয়ান-টেন, ওয়ান-এইট, তিন তাস, নয় তাস, কাটাকাটি, নিপুণ, চড়াচড়ি, ডায়েস, চরকি রামিসহ নানা নামের জুয়ার লোভ সামলাতে না পেরে অনেকেই পথে বসছে। এতে পারিবারিক অশান্তিসহ সামাজিক নানা অসংগতি বাড়ছে। ভুক্তভোগীরা সর্বস্বান্ত হলেও জুয়ার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে আয়োজক চক্র। আর এ কাজে সহায়তা দিচ্ছে এক শ্রেণির প্রভাবশালী। অথচ আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু লোককে ম্যানেজ করেই দিনের পর দিন চলছে এসব কর্মকাণ্ড।

এসব ক্লাবে যারা জুয়া খেলতে আসে তারা খেলায় হেরে গেলে লাভবান হয় সংশ্লিষ্ট ক্লাব। কারণ, প্রতিটি ক্লাবের রয়েছে বিদেশ থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জুয়াড়ি টিম। তারা বেতনভুক্ত। কেউ কেউ ক্লাবের হয়ে কমিশনের বিনিময়ে খেলে। তাই ক্লাবে এসে জুয়া খেলে যারা লাখ লাখ টাকা খুইয়ে যায় তার সবই থেকে যায় ক্লাবের তহবিলে। পরে এসব টাকা ভাগ-বাটোয়ারা হয়। আর অভিজাত ক্লাবগুলোতে যারা জুয়া খেলতে আসে তাদের বেশিরভাগ সমাজের হাইপ্রোফাইল ব্যক্তি। শীর্ষ সন্ত্রাসী ও অপরাধ জগতের গডফাদারদের আনাগোনাও আছে এসব ক্লাবে।

গোয়েন্দাদের একটি বিশেষ অভিযানে জানা গিয়েছে যে, রাজধানীতে প্রায় দেড়শো স্পট রয়েছে এসব কেসিনোর। এসব কেসিনোর মাধ্যমে রাজধানীসহ সারাদেশে জুয়ার প্রচার ও প্রসার করতে চাইছে একটি ষড়যন্ত্রকারী মহল। যার মধ্যে একটি হলো, ফুয়াং ক্লাব। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নাকের ডগায় গুলশানের ফুয়াং ক্লাবে সারা রাত ধরে ক্যাসিনো জুয়া খেলা চলছে। এছাড়া, আরামবাগ ক্লাব, দিলকুশা ক্লাব, ডিআইটিএস ক্লাব, আজাদ বয়েজ ক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা ক্লাব, বিজি প্রেস স্পোর্টিং ক্লাব, ফকিরাপুল ইয়ংমেন্স ক্লাব, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাব, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব এবং আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ কোনোটিই বাদ নেই এ বিষাক্ত ছোবল থেকে। এসব ক্লাবে নব্য ক্যাসিনো তৈরী করা হচ্ছে। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার জুয়া খেলা হচ্ছে। এসব ক্লাবের পরিচালকদের বক্তব্য, এতে ক্লাবের ‘আয়-উন্নতি’ ভালো হচ্ছে।

একটি বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, এর পেছনে রয়েছে কিছু প্রভাবশালী মহল। যারা বিদেশের ক্যাসিনোর বাজারে ‘হিরো’ হিসেবে পরিচিত। তাদের রয়েছে সার্বক্ষনিক বডিগার্ড। বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল হোটেল সিঙ্গাপুরের মেরিনা বে তাদের আস্তানা। তারা জুয়ার প্রতি লিডে হাঁকে কোটি টাকা। তাকে তার সাথের লোকরা ‘বস’ বলে সম্বোধন করে। সিঙ্গাপুরে থেকে এরাই ঢাকার ক্যাসিনোর জুয়ার বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। ঢাকার ক্যাসিনোর স্পটগুলো তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। প্রতিটি স্পটে রয়েছে তাদের নিজস্ব ‘নিরাপত্তা বাহিনী’। এমনকি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কেউ কেউ ক্যাসিনোগুলোর সাথে বেনিফিশিয়ারি বলে জানা গেছে। ফলে নির্ঝঞ্ঝাটে চলছে এ ব্যবসা। একজন ব্যবসায়ী বা শিল্পপতি নিজের কষ্টার্জিত অর্থ জুয়ার স্পটে ঢেলে দিয়ে আসবে ভাবা যায় না। কেউ কেউ ব্যতিক্রম থাকতে পারে। তাহলে জুয়ার বাজারের হাজার হাজার খদ্দের কারা? দেশে কালো টাকার ছড়াছড়ি রয়েছে বলে সবার জানা। কিন্তু কোথা থেকে এ অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করা হচ্ছে, তা নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো অনুসন্ধান বা অভিযান নেই। আবার কারা এই টাকার মালিক হচ্ছে, তা নিয়েও যেন কারো ভাবনা নেই।

প্রসঙ্গত, এই ক্যাসিনোর দ্বারা যে জুয়ার বিস্তার হচ্ছে দেশে তা বাংলাদেশের জন্য একটি অস্বাভাকি বিষয়। যার কারণ হচ্ছে, জুয়া বন্ধে দেশে যথোপযুক্ত আইনও নেই। প্রায় ২শ’ বছরের পুরনো আইনে লঘু দণ্ডের কথা বলা আছে।

এ সংক্রান্ত আইন (১৮৬৭) অনুযায়ী যে কোনো ঘর, স্থান বা তাঁবু জুয়ার আসর হিসেবে ব্যবহৃত হলে তার মালিক বা রক্ষণাবেক্ষণকারী, জুয়ার ব্যবস্থাপক বা এতে কোনো সাহায্যকারী তিন মাসের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ২০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারে। এ রকম কোনো ঘরে তাস, পাশা, কাউন্টার বা যে কোনো সরঞ্জামসহ কোনো ব্যক্তিকে ক্রীড়ারত (জুয়ারত) বা উপস্থিত দেখতে পাওয়া গেলে তাকে এক মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ১০০ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে। পুলিশ জুয়ার সামগ্রীর খোঁজে যে কোনো সময় (বল প্রয়োগ করে হলেও) তল্লাশি চালাতে পারবে বলেও এই আইনে উল্লেখ রয়েছে।

এ সংক্রান্ত আইনের দুর্বলতার সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে প্রভাবশালীরা। তাই জুয়ার (ক্যাসিনোর) আস্তানায় অভিযান চালিয়েও লাভ হয় না। কারণ আদালতে এসব ক্যাসিনো পরিচালকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করা যায় না। এছাড়া বিভিন্ন ক্লাব নির্বিঘ্নে ক্যাসিনো চালাতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদালতে রিট মামলা দায়ের করে। গত পাঁচ বছরে উচ্চ আদালতে এ ধরনের অন্তত দেড়শ’ রিট হয়। আদালত যখন কোনো বিষয়ে অনুমতি দেয় তখন কারও কিছু করার থাকে না। ক্যাসিনোতে জুয়া খেলার সময় বিভিন্ন সময়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে জুয়াড়িদের গ্রেফতার করা হলেও আদালতে তাকে জুয়াড়ি হিসেবে প্রমাণ করা দুরূহ। জুয়াড়ি আদালতে দাঁড়িয়ে জুয়া খেলার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে। ২-১টি ক্ষেত্রে প্রমাণ করা গেলেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আপরাধী জামিনে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

পরিশেষে উল্লেখ্য, এই ক্যাসিনো একটি ইহুদী কুটকৌশল। এই ক্যাসিনোর ধোঁকায় ইহুদীরা বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর ধনীদের ভিক্ষুকে পরিণত করে থাকে। আর এই ষড়যন্ত্রের অংশের ভাগিদার হচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ৯৮ ভাগ মুসলমান উনাদের দেশ। আর পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে জুয়াকে স্পষ্টভাবে হারাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮ (২) অনুচ্ছেদে ‘গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে’ এই মর্মে অঙ্গিকার করা হয়েছে। সেইসাথে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার যে বঙ্গবন্ধুকে আদর্শ হিসেবে গণ্য করে তিনিও এদেশে মদণ্ডজুয়া-হাউজিং ইত্যাদি অশ্লীল কর্মকান্ডকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। আর তাই বাংলাদেশ সরকারের উচিত অবিলম্বে দেশের ভেতর এসব পশ্চিমা ক্যাসিনো সংস্কৃতি তথা জুয়ার ব্যবস্থার মুল্যোৎপাটন করা। সেইসাথে এসব ক্যাসিনো যেসব মহল দেশের ভেতর স্থাপন করে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের সামাজিক পরিস্থিতিকে ঘৃণ্যভাবে উপস্থাপন করতে চাইছে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে এমন কঠোর শাস্তি প্রদান করা যেন এই শাস্তি দেখে কোন মহলই আর পরবর্তীতে এই ক্যাসিনো স্থাপন করতে সাহস না পায়। সেইসাথে এই ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে আলাদা আইন প্রণয়ন করে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা।

-আল্লামা মুহম্মদ মাহবূবুল্লাহ, ঢাকা।

প্রসঙ্গ: ইসরাইলি পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। ইসরাইলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধসহ কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা মুসলিম বিশ্বের এখন ফরযের উপর ফরয।

সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে বাজেটের ১১ শতাংশ। প্রত্যেক বছর বাজেটের আকার বাড়লেও এর সুফল পাচ্ছে না দেশ ও দেশের জনগণ। জনগণের উচিত সরকারকে বাধ্য করা- ঋণের ধারা থেকে সরে এসে অভ্যন্তরীণ অর্থ-সম্পদের দিকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটকে গণমুখী করার জন্য।

বাংলাদেশে জিএমও ফুড প্রচলনের সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে-২

পর্যবেক্ষক ও সমালোচক মহলের মতে- ভারতের কাছে দেশের স্বার্থ বিলিয়ে দেয়ার নিকৃষ্টতম উদাহরণ রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। মাত্র ১৫ ভাগ বিনিয়োগ করে ভারত মালিকানা পাবে ৫০ ভাগ। আর ধ্বংস হবে এদেশের সুন্দরবন। সুন্দরবনকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে (২)

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতোই রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ভয়াবহ। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে কিন্তু রূপপুর অজ্ঞতার আঁধারেই রয়ে গেছে? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়টি বিশেষভাবে আমলে নিতে হবে। প্রয়োজনে সচেতন জনগণকেই প্রতিহত করতে হবে (২)