পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলছে অবাধ খ্রিস্টান ধর্মান্তরিতকরণ। বিষয়টি অদূর ভবিষ্যতে গভীর শঙ্কার। রহস্যজনক কারণে নীরব সরকার।

সংখ্যা: ২৫৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

বাংলাদেশের পার্বত্য এলাকাকে ঘিরে এনজিও এবং আন্তর্জাতিক খ্রিস্টান লবি খ্রিস্টীয় সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ধর্ম প্রচারের লক্ষ্যে সুদীর্ঘ কালব্যাপী নানামুখী চক্রান্ত চালিয়ে আসছে। মুঘল আমলেই এদেশের প্রতি এনজিও এবং খ্রিস্টান মিশনারীদের শ্যেন দৃষ্টি পতিত হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর শাসনামলে মিশনারীরা খ্রিস্টীয় অপসংস্কৃতির বিকাশ ও ধর্মান্তরের যে প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করে, পর্যায়ক্রমে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আমলে তার ক্রমবিকাশ সাফল্যের সাথে অব্যাহত থাকে। স্কুল প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, হাসপাতাল স্থাপন, ঋণ প্রদান, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ, দারিদ্র্য বিমোচন, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ও নারীর ক্ষমতায়ন প্রভৃতি মুখরোচক কর্মসূচির আড়ালে রয়েছে এদেশে ইউরোপীয় অপসংস্কৃতি ও খ্রিস্টধর্ম প্রচার করার নীলনকশার বাস্তবায়ন।

উইলিয়াম কেরি, টমাস, রিচার্ড হলওয়ে, পাদ্রী ক্লাউজ বার্লার, পিটারসন, রবিন মন্ডল ও অলসন-এর মতো পাদ্রীরা বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিকৃত বাইবেলের ভ্রান্ত শিক্ষা, কৃষ্টি ও মতাদর্শ প্রচারের জন্য বাংলা ভাষা রপ্ত করে। উইলিয়াম কেরি নতুন আঙ্গিকে বাংলা ব্যাকরণ সংশোধন করে এবং ১৮০০ সালে ইংল্যান্ড থেকে বাংলা বর্ণমালার ছক এনে কলকাতার শ্রীরামপুর মিশন থেকে বাংলায় বাইবেল মুদ্রণ ও প্রচারের ব্যবস্থা করে। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত অবস্থায় কেরি ‘কথোপকথন’ ও ‘ইতিহাসমালা’ নামক বাংলায় দুটি গ্রন্থ রচনা করে। ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিপ্লবের সময় ভারতীয় উপমহাদেশে ৯০টি প্রটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টান মিশনারী সংস্থা কর্মরত ছিল। রোমান ক্যাথলিক চার্চের সংখ্যা এর বাইরে। এদেশে প্রতিকূল পরিবেশে খ্র্রিস্টধর্ম-সংস্কৃতির প্রচার ও বিকাশে তারা যে ত্যাগ ও সাধনা করে তা রীতিমত বিস্ময়ের উদ্রেক করে।

আর এই ধারাবাহিকতায় বিদেশী অর্থে পরিপুষ্ট বহু এনজিও পার্বত্যাঞ্চলসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সক্রিয়। এদের বেশির ভাগই পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে ধর্মান্তরিত করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২০/২৫ বছরে পাবর্ত্যাঞ্চলে সেখানে ১২ হাজার উপজাতীয় পরিবার খ্রিস্টান হয়েছে। তিন পার্বত্য জেলায় ১৯৪টি গির্জা এক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা রাখছে। খাগড়াছড়ি জেলায় ৭৩টি গির্জা। ১৯৯২ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত এ জেলায় ৪ হাজার ৩১টি পরিবার খ্রিস্টান হয়ে গেছে। বান্দরবান জেলায় গির্জা ১১৭টি। একই সময়ে খ্রিস্টান হয়েছে ৬ হাজার ৪৮০টি উপজাতীয় পরিবার। রাঙ্গামাটিতে ৪টি গির্জা খ্রিস্টান বানিয়েছে ১ হাজার ৬৯০টি পরিবারকে। বর্তমানে এ সংখ্যা আরো অনেক গুণ বেড়েছে। পাহাড়ি যেসব জনগোষ্ঠীর লোকসংখ্যা কম, তাদের প্রায় শতভাগ খ্রিস্টান হয়ে গেছে অনেক আগেই।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সাজেক ইউনিয়নটি সীমান্তবর্তী ও দুর্গম; যা বাংলাদেশের কোনো কোনো জেলার সমান। নৈসর্গিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এই উপত্যকায় পৌঁছতে খাগড়াছড়ি বা রাঙ্গামাটি শহর থেকে দু’দিন লাগে। এই ইউনিয়নের ২০টি গ্রামে খেয়াং, বম, পাংখু, লুসাই উপজাতির ১০ হাজার মানুষের বাস। ২০/২৫ বছর আগেও এখানে খ্রিষ্টধর্মের নামগন্ধ ছিল না। উপজাতীয়দের ভাষা, সংস্কৃতি সবই ছিল। আজ কিছুই নেই। শুধু ইংরেজিতে কথা বলাই নয়; সেখানকার অধিবাসীরা গিটার বাজিয়ে ইংরেজি গান গায়; মেয়েরা পরে প্যান্ট, শার্ট ও স্কার্ট। তাদের দেখে মনে হয়- যেন বাংলার বুকে ‘একখ- ইউরোপ’। কারণ এখন তারা প্রায় সবাই খ্রিস্টান। দীর্ঘ দিন ধরে এই এলাকায় খ্রিস্টানরা দালাল মিডিয়ার সহায়তায় অনেক সূক্ষকৌশল ও টাকা ব্যয়ে ধর্মান্তরিত করে চলেছে। পাংখু উপজাতি পুরোপুরি খ্রিস্টান হয়ে গেছে; বদলে গেছে তাদের ভাষা; এমনকি হরফও ইংরেজি। এনজিও’র নাম ধারণ করে খ্রিস্টানেরা এই দুর্গম এলাকায় হাসপাতাল, বিনোদন কেন্দ্র, গির্জা ইত্যাদি গড়ে তুলেছে। এতে সহায়তা করছে মিডিয়া। কিন্তু কেউ মুসলমান হলেই দালাল মিডিয়া নেতিবাচক খবর প্রকাশ করে হৈচৈ ফেলে দিচ্ছে।

বাংলাদেশের উত্তর, দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় গড়ে উঠেছে সুদৃশ্য গির্জা। বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহের অরণ্যে বসবাসরত চাকমা, মারমা, মুরুং, টিপরা, খাসিয়া, মনিপুরী, লুসাই, গারো প্রভৃতি উপজাতির মধ্যে খ্রিস্টধর্মীয় সংস্কৃতি ও বিশ্বাস  তথা খ্রিস্টধর্মের অনুপ্রবেশ জীবনধারায় এনেছে আমূল পরিবর্তন। ‘প্রতিটি মানুষের জন্য একটি বাইবেল এবং প্রত্যেক জনগোষ্ঠীর জন্য একটি গির্জা’। এলক্ষ্যকে সামনে রেখে তারা উদ্দিষ্ট গন্তব্য পানে ছুটে চলেছে। ১৯৩৯ সালে বাংলাদেশে খ্রিস্টান ছিল মাত্র ৫০ হাজার। ১৯৯২ সালে সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখ।

আশঙ্কা করা হচ্ছে- এভাবে ধর্মান্তকরণ করতে দিলে অচিরেই খ্রীস্টানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, যা পরবর্তীতে রষ্ট্রীয় হাঙ্গামা ও ফিতনা সৃষ্টির কারণ হবে। এনজিও ওয়ার্ল্ড ভিশনের অব্যাহত অপতৎপরতার ফলে ১৯৯১ সালে শুধুমাত্র গারো পাহাড় এলাকায় তালিকাভুক্ত ১৬ হাজার ভোটারের মধ্যে খ্রিস্টান ৫০ হাজারে দাঁড়ায়।

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় কর্মরত এনজিও’র কার্যক্রম নজরদারিতে রাখার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে একাধিকবার নির্দেশ দেয়। পাহাড়ের গহীন অরণ্যে সন্ত্রাসীরা যাতে কোনো প্রশিক্ষণ চালাতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্যও কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এনজিও’র দেশবিরোধী কাজের জন্য জবাবদিহিতা নেই।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো ক্ষতিকর অপতৎপরতার সঙ্গে যুক্ত। ইউরোপকেন্দ্রিক একটি এনজিও ধর্মান্তরিতদের সঙ্গে কাজ করছে। পার্বত্য তিন জেলায় কর্মরত বিভিন্ন এনজিও’র বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অপতৎপরতায় অর্থ যোগানের অভিযোগ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অধিকার আদায়ের নামে ধর্মান্তরিতদেরকে উস্কে দেয়া ও সহযোগিতা, আরো ধর্মান্তরিতকরণে সহযোগিতা এবং পাহাড়ি উগ্রবাদী গ্রুপের সাথে যোগাযোগের যে তথ্য পাওয়া গেছে তা যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রয়োজন থাকলেও রহস্যজনকভাবে তা করা হচ্ছে না।

বলাবাহুল্য, মুসলিম দেশ সুদান থেকে যেমন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যাধিক্যের কথা বলে দক্ষিণ সুদানকে আলাদা খ্রিষ্টান দেশ করা হয়েছে এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে পূর্ব-তিমুরকে আলাদা করা হয়েছে, তেমনি পার্বত্যাঞ্চলে আলাদা স্বাধীন খ্রিস্টান রাজ্যের কথা শোনা যাচ্ছে বহু আগ থেকেই। অথচ এখনো সতর্ক নয় সরকার। সক্রিয় নয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মূলত, তাদের অথর্বতার বিপরীতে স্বাধীনতাকে অক্ষত রাখতে হলে গোটা দেশবাসীর জেগে উঠার বিকল্প নেই।

-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউল্লাহ, ঢাকা

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-৫১

জনগণের প্রতি আইনমন্ত্রীর মিথ্যা অভিযোগ; দেশের প্রতি ঘাদানিকের মিথ্যা অজুহাত; আর সংবিধান সংশোধন প্রশ্নে ৯৭ ভাগ অধিবাসী মুসলমান এবং দশ লাখ মসজিদ, লাখ লাখ মাদরাসা ও পাঁচ ওয়াক্ত আযান প্রসঙ্গে।

কালো টাকার প্রাদুর্ভাব এবং করের বিপরীতে যাকাত প্রদান প্রসঙ্গে

ষাট হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাথমিক শিক্ষা প্রকল্প? দুর্নীতিতে জরাগ্রস্ত প্রশাসন থেকে রাজনীতি তথা সর্বস্তরে দুর্নীতির অভিযোগ এবং প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিফলন (?) প্রসঙ্গে (১)

নির্বোধ রাষ্ট্রের অধীনে বোধশক্তিসম্পন্ন মানুষ বাস করতে পারে কিভাবে? কল্পিত রাষ্ট্র কথিত নির্বোধ বলেই পরকীয়া, খুন, সম্ভ্রমহরণ, ছিনতাই, রাহাজানি, পর্নোগ্রাফি, দুর্নীতি ইত্যাদির রহস্য বের করতে পারে না। আর সমাজে ব্যাপকহারে বেড়ে যাচ্ছে ওইসব অবক্ষয় জনিত ঘটনা। বোধশক্তিসম্পন্ন মানুষ আর কতকাল নির্বোধ রাষ্ট্রের অরাজকতা বরদাশত করবে? (১)