প্রকল্পের সিংহভাগ অর্থই যাচ্ছে পরামর্শকের পকেটে বিদেশি ঋণ আবার বিদেশিদের কাছেই চলে যাচ্ছে অহেতুক বিদেশি পরামর্শকের কারণে ধীরগতি প্রকল্পগুলোতে, বাড়ছে ব্যয় জনস্বার্থে জনগণের জনসচেতন হওয়া ফরয।

সংখ্যা: ২৮৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সব সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দুরূদ শরীফ ও মহসম্মানিত ও মহাপবিত্র সালাম মুবারক।

সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি হাতে নেয়। কিন্তু উন্নয়ন কর্মসূচির ঋণসুবিধার সিংহভাগই চলে যায় তথাকথিত পরামর্শকদের পকেটে। কারিগরি প্রকল্পগুলোতে তো বটেই, এমনও প্রকল্প আছে, যেখানে পরামর্শক সেবার কোনো প্রয়োজন নেই, সেখানেও এমন ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রেই পরামর্শকের ভারে ন্যুয়ে পড়েছে প্রকল্পগুলো। জনবলের চেয়ে পরামর্শকদের পকেটেই বেশি অর্থ যাচ্ছে। বিশেষ করে বিদেশি পরামর্শকই প্রকল্পগুলোতে আধিপত্য বিস্তার করছে।

সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে বারবার নির্দেশনা দিয়েও কমানো যাচ্ছে না পরামর্শক ব্যয়ের লাগাম। একনেক সভায় পরামর্শক ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে কমিয়ে আনার জন্য কয়েকবার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। তারপরও কমছে না এই ব্যয়। এবার পরিকল্পনা কমিশনে একটা প্রকল্পের প্রস্তাবনা এসেছে যার অধিকাংশ অর্থই যাবে পরামর্শক খাতে। এই অত্যধিক পরামর্শক ব্যয় নিয়ে প্রশ্নও তুলেছে কমিশন। এছাড়া, গত ১৮ই মে প্রধানমন্ত্রী বলেছে, ঢালাওভাবে বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ দেয়া যাবে না। পরামর্শক যতখানি দরকার ততটাই নেওয়া হবে। ঢালাওভাবে নয়। চোখ বন্ধ করে পরামর্শক নেওয়া যাবে না। যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনের তাগিদেই কেবল পরামর্শক নিয়োগ দিতে হবে।

সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য (স্টাডি ফর প্রিপারেশন অব ঢাকা নর্থ নেইবারহুড আপগ্রেডিং) নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। প্রকল্পটির মোট প্রস্তাবিত বাস্তবায়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। যেখানে পরামর্শক খাতেই ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। প্রকল্পে ১২ জন ব্যক্তিগত পরামর্শক নিয়োগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকল্পটিতে পরামর্শক প্রতি মাসে ৫ লাখ টাকার বেশি ব্যয় দেখানো হয়েছে।

নিজস্ব অর্থায়নে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়নে পরামর্শক সেবা কেনার প্রয়োজন পড়ে না, বিদেশি ঋণের সে ধরণের প্রকল্পেও পরামর্শক সেবা কেনা হচ্ছে। পরামর্শক সেবার নামে ঋণের বড় অঙ্কের অর্থ বিদেশিদের কাছে ফিরে যাচ্ছে। এতে দেশের জনগণ ঋণগ্রহণের ফলভোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং তাদের ওপর বাড়ছে সুদের বোঝা। ২০২০ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পাওয়া বিদেশি ঋণ ও অনুদানের নতুন এবং সংশোধিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ২২টির মধ্যে ২১টি প্রকল্পেই পরামর্শক খাত রাখা হয়। ২১ প্রকল্পের পরামর্শক খাতে খরচ হচ্ছে দুই হাজার ৮১৫ কোটি ১৮ লাখ ১১ হাজার টাকা।

বিশ্বব্যাংকসহ ঋণ প্রদানকারীরা যখন কোনো প্রকল্পে ঋণ দেয়, তখন তাদের একটি বড় শর্তই থাকে পরামর্শক নিতে হবে তাদের কাছ থেকে। তারা ঋণের বিপরীতে সুদ তো নিচ্ছেই, পাশাপাশি নিজেদের লোকদের পরামর্শক বানিয়ে ঋণের একটি বড় অংশ তুলে নিচ্ছে। ফলে অনেক সময় ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও পরামর্শক খাত রাখতে হয়। এখন আবার নতুন করে সরকারি অর্থায়ন থেকেও পরামর্শক খাতে ব্যয় রাখা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, এটি না হলে প্রকল্প গতি পায় না।

এ বিষয়ে খোদ স্বীকারোক্তি দিয়েছে পরিকল্পনামন্ত্রী। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছে, ‘বিদেশি অর্থায়ন মানে হলো ঋণ গ্রহণ। টাকা যখন ধার করি তখন কিছু শর্ত তারা (ঋণদাতা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান/রাষ্ট্র) চাপিয়ে দেয়। না হলে টাকা নেই, দেয় না বা দিতে চায় না। গ্রামের সুদখোররাও তাই করে। আমার ওমুক কাজ করে দিবি বা অমুকের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিবি, তাইলে তোরে ঋণ দিমু। গ্রামের সুদখোররা এরকম করে না? এরকম এরাও (ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান/রাষ্ট্র) করে। সুতরাং তখন তারা বলে যে, এই যে কাজের কথা বললো, এই কাজটা আপনারা পারবেন না। আপনাদের বিদেশি কিছু বিশেষজ্ঞ দরকার আছে। এখানে দুটি কথা। এক. তাদের বন্ধু-বান্ধবদের কাজে লাগিয়ে দেয়। দুই. ঋণের বড় অংশ ফেরত চলে যায় তাদের কাছে। এটা সব দুনিয়ার মানুষ জানে। তারা এটা করে পার পাচ্ছে, কারণ তাদের কিছু এজেন্ট (দালাল) আমাদের এখানেও আছে। তাদের মাধ্যমে তারা আসে। (নবাব সিরাজ-উদণ্ডদৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী) জগৎ শেঠ, উমী চাঁদ পাইছিল না রবার্ট ক্লাইভ? এখনো তা-ই আছে। পরিষ্কার কথা।’

সরকারপক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগের সময় বলা হয়ে থাকে, এসব প্রকল্পগুলো তড়িৎ গতিতে সম্পন্ন করতেই পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু বাস্তবিকপক্ষে দেখা গেছে ঘটনা তার পুরো উল্টো। সরকারের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পগুলোতে রয়েছে অস্বাভাবিক ধীরগতি। প্রতি বছর এসব প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। সেই সাথে বাড়ানো হচ্ছে প্রকল্প ব্যয়ও। এছাড়া দিন দিন এসব প্রকল্প থমকে দাঁড়ানোর কারণে এবং দীর্ঘসূত্রিতার কারণে প্রকল্পগুলো পরিণত হচ্ছে লুটপাটের অভয়রাজ্যে। দুর্নীতি, অনিয়ম, চুরি ইত্যাদিতে ভরপুর হয়ে উঠছে প্রকল্পগুলো। যা সরাসরি দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে দেশের জাতীয় অর্থনীতি ধসের।

প্রসঙ্গত, এর আগে বহুবার প্রধানমন্ত্রী বলেছে, ‘বিদেশী পরামর্শকদের উপর নির্ভরতা কমাতে হবে। আমাদের মেধা থাকা সত্ত্বেও বিদেশীরা টাকা নিয়ে যাচ্ছে’। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, খোদ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও আজ পর্যন্ত তার কোনো বাস্তব প্রতিফলন নেই। কোন রহস্যজনক কারণে বিদেশী ঋণদাতা সংস্থাগুলো কৌশলে ঋণ দিয়ে আবার তাদেরই পরামর্শক ঋণের প্রকল্পগুলো নিয়োগ দিয়ে থাকে।

তা উদঘাটনে আমরা মনে করি, জনগণকেই জনসচেতন হতে হবে। বিদেশী পরামর্শকের পরিবর্তে যদি সরকার দেশের মেধাবী জনগোষ্ঠী তথা স্থানীয় দেশীয় পরামর্শকদের এসব প্রকল্পগুলো নিয়োগ দেয়, তাহলে প্রতি প্রকল্পে বিদেশী পরামর্শকদের পেছনে যে অর্থ ব্যয় হয় তার ৯০ ভাগ ব্যয় কমে আসবে। এছাড়া দেশের স্থানীয় পরামর্শকরা দেশের আবহাওয়া এবং অভ্যন্তরীণ বিষয় সম্পর্কে জ্ঞাত থাকে। এতে করে প্রকল্পের অগ্রগতি দ্বিগুণ বাড়বে। পরামর্শক ব্যয় কমিয়ে আনা গেলে তা অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা যাবে। এতে প্রকল্পের সার্বিক স্থায়িত্বও বাড়বে।

প্রসঙ্গত আমরা মনে করি, জনগণকেও এসব তথ্য সচেতন হতে হবে এবং ঋণ প্রদানকারী দেশ ও সংস্থাগুলোকে ঋণ দেয়ার নামে প্রতারণা ও পরামর্শক নিয়োগের মাধ্যমে লুটপাট প্রক্রিয়া বন্ধের জন্য গণপ্রতিবাদী হতে হবে, গণপদক্ষেপ নিতে হবে।

ছাহিবু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ছাহিবে নেয়ামত, আল ওয়াসীলাতু ইলাল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সুলত্বানুন নাছীর, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বইয়ুমুয্যামান, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)

-মুহম্মদ তা’রীফুর রহমান।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মহাসম্মানিত হযরত মুরশিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত- সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আইনী কার্যক্রম ঐতিহাসিক এক অভূতপূর্ব আজিমুশ্বান তাজদীদ মুবারক (৪)

অপরাধের মাত্রা বাড়ার সাথে সাথে পাল্টাচ্ছে কিশোর অপরাধের ধরণ। মূল্যবোধের অবক্ষয় ও আকাশ সংস্কৃতিই মুখ্য কারণ।সরকারের উচিত- দেশের এই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে যুগপৎ উদ্যোগ গ্রহণ করা।

এনজিওগুলোর ক্ষুদ্রঋণের ফাঁদে প্রান্তিক ও গ্রামীণ এলাকার কোটি কোটি মানুষ সর্বস্বান্ত। ঋণের কিস্তির চাপে একের পর এক ঘটছে আত্মহত্যার ঘটনা। ‘ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র বিমোচন নয়, বরং দারিদ্রতা লালন করছে।’ এনজিগুলোর বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ চায় দেশের ৩০ কোটি মানুষ।

অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় খেলাপি ঋণ এখন ৩ লাখ কোটি টাকা। ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো তাদের দেয়া হচ্ছে সুযোগ সুবিধা। ব্যাংকের টাকা জনগণের টাকা। দেশের মালিক জনগণ। সরকার জনগণের টাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারেনা।

৭ বছরেও হয়নি পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নীতিমালা। প্রতিনিয়ত ঘটছে সন্তান কর্তৃক অসহায় পিতা-মাতাকে নির্যাতনের ঘটনা। দেশে বাড়ছে পশ্চিমা ‘ওল্ডহোম’ সংস্কৃতি।শুধু নীতিমালা বাস্তবায়নেই নয় বরং দ্বীন ইসলাম উনার আদর্শ প্রচার-প্রসারেই রয়েছে এর সুষ্ঠ সমাধান।