প্রবাসীরা ভালো নেই। সউদী শাসকরা বাংলাদেশীদের প্রতি করছে যুলুম; বাংলাদেশ দূতাবাস করছে বিমাতাসূলভ আচরণ। তারপরেও সরকারের নজরদারী নেই।

সংখ্যা: ২১১তম সংখ্যা | বিভাগ:

সব প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ ও সালাম।

সউদী আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার। এখানে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে প্রায় ২২ লাখ শ্রমিক কর্মরত। এখানে অধিকাংশ শ্রমিক ছোট বড় বিভিন্ন কোম্পানিতে কর্মরত। অনেকে আছে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। সউদী আরবে সউদী নাগরিক ছাড়া অন্য কেউ নিজের নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে পারে না। যারা ব্যবসা-বাণিজ্য করতে চায় তাদের সউদী নাগরিকের নামে ব্যবসা করতে হয়; যার বিনিময়ে ওই সউদী নাগরিককে মাসিক বা বাৎসরিক একটা মুনাফা দিতে হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে ভারত-পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের নিজস্ব প্রিন্ট মিডিয়া আছে। নাম মাত্র মূল্যে তারা পাচ্ছে তাদের কাঙিক্ষত সংবাদপত্র। সকাল হলেই তারা হাতে পায় তাদের নিজের ভাষায় ছাপানো পেপার। যেখানে উঠে আসে বাংলাদেশী শ্রমিকদের ছোট ছোট অপরাধগুলো বিশাল হয়ে। এক্ষেত্রে প্রতিবাদ করার মতো কোনো জায়গা বাংলাদেশীদের নেই। মুখ বুঁজে সহ্য করতে হয় তাদের মিথ্যা অপবাদ। মাঝে মধ্যে এই সব মিথ্যা খবরের প্রতিবাদ বাংলাদেশের ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার অফিসগুলোতে পাঠানো হলেও গুরুত্বসহকারে ছাপা বা প্রচার হয় না।

সউদী আরবের কয়েকটি পত্রিকায় পাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, এখানে দুর্নীতির এক নম্বর অবস্থানে আছে ইয়েমেনি নাগরিকরা, তারপর ভারত, পাকিস্তান। এখানে বাংলাদেশীদের অবস্থান এগার নম্বরে। অথচ ভারতের কেরালা প্রদেশের কিছু কিছু মিডিয়ার কারণে বাংলাদেশীরা এখানে বাংলাদেশের পরিচয় দিতে লজ্জা পায়।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশীদের বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, দেয়া হচ্ছে মিথ্যা অপবাদ তার জন্য একমাত্র বাংলাদেশী শ্রমিকরাই দায়ী এটা বলা ঠিক হবে না।

সউদী আরবে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশীদের শ্রমের মূল্য কম। সউদী আরবের বলদিয়ার (সিটি কর্পোরেশন) পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজে ৯৫% বাংলাদেশী। (আগে এসব জায়গায় ১০০% বাংলাদেশী কাজ করতো। এখন কিছু নেপালি একাজ করে)। এই চাকরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ট্রাভেলস এজেন্সিগুলোর প্রতারণার শিকার ৩০% শ্রমিক। তাদের দেশ থেকে পাঠানোর সময় বলে দেয়া হয় বেতন ৮০০ রিয়াল (১৬০০০ টাকা) থাকা-খাওয়া ফ্রি। কিন্তু এখানে আসার পর তাদের বেতন দেয়া হয় ৩৫০ রিয়াল (৭০০০ টাকা) থাকা ফ্রি হলেও খেতে হয় নিজের টাকায়। বর্তমান বিশ্ববাজারে দ্রব্যমূল্যের যে আকাশচুম্বী অবস্থা তাতে এখানে একজন লোকের মাসিক খাওয়া খরচ সর্বনিম্ন ১৫০/২০০ রিয়াল। এই বেতন বৈষম্যের কারণে অনেক শ্রমিক অবৈধ উপায়ে টাকা উপার্জন করতে গিয়ে বাংলাদেশীদের মুখে চুন-কালি লেপন করেছে। আবার অনেকে অন্য জায়গায় বেশি বেতনের আশায় কোম্পানি থেকে পালিয়ে গিয়ে অবৈধভাবে বসবাস করে।

এমন অনেক শ্রমিক আছে যাদের কাছ থেকে আকামা নবায়নের কথা বলে কফিল (কোম্পানি মালিক) টাকা নিয়ে সে টাকা আত্মসাৎ করে। এর কারণ জানতে চাইলে নানা রকম হুমকি ধমকি দেয়া হয় শ্রমিকদের।

বর্তমানে সউদী প্রবাসীদের বিরাট একটা অংশের আকামা সমস্যার মূল কারণ তাদের কফিল। এখানে কোম্পানিগুলোকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। লাল, হলুদ, সবুজ (সউদী সরকার বিভিন্ন দিক যেমন, বাৎসরিক যাকাত, লাইসেন্স নবায়ন ফি, কাজের পরিধি- এসব বিবেচনা করে এই তিনটি ক্যাটাগরি নির্ধারণ করেছে। যে সমস্ত কোম্পানি লাল ক্যাটাগরিতে আছে সে সমস্ত কোম্পানির শ্রমিকদের আকামা নবায়ন থেকে শুরু করে সকল ধরনের অফিসিয়াল কাগজপত্রের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই সমস্যার কী সমাধান বা কবে সমাধান হবে তা খোদ কোম্পানির মালিকই বলতে পারেন না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শতকরা ৭৫% কোম্পানিই এই লাল ক্যাটাগরিতে আছে। এছাড়া যে সমস্ত শ্রমিক ফ্রি ভিসায় এখানে আসছে তাদের প্রায় ৯৮% এই লাল ক্যাটাগরিতে আসছে।

হলুদ কোম্পানির ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। এক্ষেত্রে কফিল (কোম্পানির মালিক) প্রভাবশালী হলে আকামা নবায়ন করা যায় কিন্তু শ্রমিকরা ছুটিতে যেতে পারে না। শতকরা ১৫% কোম্পানি এই হলুদ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত।

শতকরা ১০% কোম্পানি আছে সবুজ ক্যাটাগরির। এই কোম্পানিগুলো অনেক বড় এবং আধা সরকারি। এসব কোম্পানিতে বাংলাদেশী শ্রমিকের সংখ্যা খুব কম।

সউদী আরবে কর্মরত বাংলাদেশী শ্রমিকদের ভাষ্য: দূতাবাস ইচ্ছে করলে তাদের সকল অভিযোগগুলো শুনে লেবার কোর্টের মাধ্যমে আলোচনা করে বাংলাদেশী শ্রমিকদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারে। কিন্তু দূতাবাসের কাছে বাংলাদেশীরা কোনোও সহযোগিতা পান না। কোনো সমস্যা নিয়ে দূতাবাসে গেলে বাংলাদেশী অশিক্ষিত গরিব শ্রমিকদের প্রতি কুকুরের মতো ব্যবহার করা হয়। কন্স্যুলারের রুমের বারান্দাতেই যেতে দেয়া হয় না তাদের। সেজন্য তাদের শরণাপন্ন হয়েও বাংলাদেশী শ্রমিকরা কোনো উপকার পান না। তাই তারা নিজে যতটুকু সম্ভব পালিয়ে পালিয়ে বেড়ান যখন ধরা পড়েন তখন দেশে চলে যান।

আর এরপরেও যারা ‘দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন তাদেরকে সর্বোচ্চ ভালোভাবে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা ছাড়া বাংলাদেশী দূতাবাস কিছুই করতে পারে না (?)। তাই দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করতে বাংলাদেশী শ্রমিকরা আগ্রহী হন না।

তবে ভুক্তভোগী সকল শ্রমিকের বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আকুল আবেদন, সরকার যেন তাদের সব সমস্যাগুলো খতিয়ে দেখে এর দ্রুত সমাধান করে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদ- বস্ত্রখাত এবং প্রবাসীদের রেমিটেন্স। এখন বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরে এই দুইটি খাতের উপর ভিত্তি করে। প্রতি বছরের বাজেটের আয়ের উৎস থাকে বৈদেশিক রেমিটেন্স। আর এই রেমিটেন্স আসে প্রবাসীদের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের টাকায়। প্রবাসীরাও চায় দেশ এগিয়ে যাক তাদের অবদানে। কিন্তু হিতে বিপরীত! এই প্রবাসীরা পড়েছে বেকায়দায়। তারা আছে নানান সমস্যায় জর্জরিত। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ও মধ্যপ্রাচ্যে লাখ লাখ বাংলাদেশী শ্রমিক কাজ করছে।

তাদের পাঠানো রেমিটেন্স দিয়েই সরকার টিকে থাকলেও তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ সরকারের নেই! অথচ দেশকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই এ বিষয়ে সক্রিয় হওয়া জরুরী।

মূলত, কাঙ্খিত ও বাঞ্ছিত ইসলামী অনুভূতি ও ইলমের অভাবই আমাদেরকে দায়িত্বহীন ও অবিবেচক করে তোলে। এর থেকে উত্তরণ পেতে হলে চাই- নেক ছোহবত, রূহানী কুওওয়ত তথা ফয়েজ তাওয়াজ্জুহ। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ- মুজাদ্দিদে আ’যম উনার নেক ছোহবতেই কেবলমাত্র সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন!

-মুহম্মদ আশরাফুল মাহবূবে রব্বানী

প্রসঙ্গ: ইসরাইলি পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। ইসরাইলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধসহ কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা মুসলিম বিশ্বের এখন ফরযের উপর ফরয।

সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে বাজেটের ১১ শতাংশ। প্রত্যেক বছর বাজেটের আকার বাড়লেও এর সুফল পাচ্ছে না দেশ ও দেশের জনগণ। জনগণের উচিত সরকারকে বাধ্য করা- ঋণের ধারা থেকে সরে এসে অভ্যন্তরীণ অর্থ-সম্পদের দিকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটকে গণমুখী করার জন্য।

বাংলাদেশে জিএমও ফুড প্রচলনের সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে-২

পর্যবেক্ষক ও সমালোচক মহলের মতে- ভারতের কাছে দেশের স্বার্থ বিলিয়ে দেয়ার নিকৃষ্টতম উদাহরণ রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। মাত্র ১৫ ভাগ বিনিয়োগ করে ভারত মালিকানা পাবে ৫০ ভাগ। আর ধ্বংস হবে এদেশের সুন্দরবন। সুন্দরবনকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে (২)

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতোই রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ভয়াবহ। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে কিন্তু রূপপুর অজ্ঞতার আঁধারেই রয়ে গেছে? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়টি বিশেষভাবে আমলে নিতে হবে। প্রয়োজনে সচেতন জনগণকেই প্রতিহত করতে হবে (২)