ফাদ্বলুল্লাহ, ফাতিহুন নূর, ফাখরুল আম্বিয়া, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের আত্মত্যাগ

সংখ্যা: ২২১তম সংখ্যা | বিভাগ:

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “ওই মহান আল্লাহ পাক উনার কছম! উনার হাত মুবারক উনার মধ্যে আমার রূহ মুবারক। তোমরা শুনে রাখ এবং জেনে রাখ, তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত মু’মিনে কামিল হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তোমাদের জান-মাল, পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততির চেয়ে আমাকে বেশি মুহব্বত করতে না পারবে।” (পবিত্র বুখারী শরীফ, পবিত্র মুসলিম শরীফ)

ঠিক এই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মেছদাক ছিলেন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা। উনারা উনাদের জান-মাল, পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততির থেকেও বেশি মুহব্বত করতেন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে।

একদিন আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র দরবার শরীফ-এ এক ব্যক্তি এসে হাযির হলেন এবং বললেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কিছুদিন পর আমার মেয়ের বিয়ে কিন্তু আমি অনেক গরীব, আমার মেয়েকে বিয়ে দেয়ার মতো আমার কোন সামর্থ্য নেই। দয়া করে আপনি আমাকে কিছু সাহায্য করুন।” যখন সে লোকটি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এ কথা বললেন, তখন তিনি বললেন, “হে ব্যক্তি তুমি এক কাজ কর, এই যামানার যিনি ধনী ব্যক্তি এবং আমার জলীলুল ক্বদর ছাহাবী হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার কাছে গিয়ে আমার কথা বলবে, আমি তোমাকে পাঠিয়েছি। তিনি যেন তোমাকে সাহায্য করেন।” তখন সেই ব্যক্তি হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার দরবারে এসে হাযির হলেন এবং তিনি সেখানে পৌঁছে দেখতে পেলেন যে, হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি উনার শরীকদার ব্যবসায়ীর নিকট থেকে এক পয়সার হিসাব বুঝে নিচ্ছেন। তখন সে ব্যক্তি মনে মনে চিন্তা করতে লাগলেন, যে ব্যক্তি এক পয়সার হিসাব নিতে পারেন তিনি আমাকে কিভাবে সাহায্য করবেন? একথা চিন্তা করে তিনি হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার দরবার শরীফ ত্যাগ করলেন এবং আবার গিয়ে হাযির হলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দরবার শরীফ-এ। সে ব্যক্তি হাযির হয়ে বললেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার নিকট গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখতে পেলাম তিনি এক ব্যক্তির কাছ থেকে এক পয়সার হিসাব বুঝে নিচ্ছেন। যিনি এক পয়সার হিসাব বুঝে নেন তিনি কিভাবে দান করতে পারেন?” নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “হে ব্যক্তি! তুমি উনার কাছে গিয়ে আমার কথা বলো, তাহলে তিনি তোমাকে সাহায্য করবেন।” তখন সেই ব্যক্তি আবার হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার দরবার শরীফ এ হাযির হলেন এবং বললেন, “হে জলীলুল ক্বদর ছাহাবী হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম! আমাকে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আপনার কাছে পাঠিয়েছেন। আপনি যেন আমাকে কিছু সাহায্য করেন।” তখন হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, “হে ব্যক্তি আপনি এক কাজ করুন। আপনি ওমুক পাহাড়ে গিয়ে দাঁড়ান, সেখানে কিছুক্ষণ পর দেখতে পাবেন সেই পাহাড়ের পিছন দিক থেকে আমার একটি উটের কাফেলা আসছে এবং সকল উঠের পিঠের উপর বোঝাই করা সম্পদ রয়েছে। সেখান থেকে আপনার যতটুকু ইচ্ছা ততটুকু সম্পদ আপনি নিয়ে যান।” সে ব্যক্তি হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার কথা অনুযায়ী সেই পাহাড়ে গিয়ে দাঁড়ালেন এবং ঠিক কিছুক্ষণ পরে দেখা গেলো সেই পাহাড়ের পিছন দিক থেকে বিরাট এক উটের কাফেলা আসছে এবং সমস্ত উটের পিঠে বোঝাই করা সম্পদ রয়েছে। অতঃপর উক্ত বিরাট কাফেলা সেই ব্যক্তির সম্মুখে আসলো। তখন সেই ব্যক্তি হাত উঁচু করে সেই উটের কাফেলাটিকে থামিয়ে দিলেন। তখন সেই কাফেলার যিনি সর্দার ছিলেন তিনি বললেন, “হে ব্যক্তি! আপনি কেন এই উটের কাফেলাটিকে থামিয়ে দিলেন।” তখন সেই ব্যক্তি বললেন, “হে কাফেলার সর্দার! হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, এই উটের কাফেলা থেকে আমার যে উটটি পছন্দ হয় সে উটটিই যেন সম্পদসহ নিয়ে যাই।”

একথা শুনে কাফেলার সর্দার বললেন, “ঠিক আছে, আপনার যে উটটি পছন্দ হয় সে উটটি সম্পদসহ নিয়ে যান।” তখন সেই ব্যক্তি সবার সামনের সবচেয়ে সুন্দর এবং সবচাইতে বেশি সম্পদ বোঝাই করা উটটিকে পছন্দ করলেন। তখন সেই কাফেলার সর্দার বললেন, “হে ব্যক্তি! আপনাকে এই উটটি দেয়া যাবে না। কেননা, উটের নিয়ম অনুযায়ী সামনের উট যেদিকে যায় পিছনের উটগুলোও তার পিছনে পিছনে সেদিকে যায়।” সেজন্য কাফেলার সর্দার সে ব্যক্তিকে সামনের উটটি দিতে চাচ্ছেন না। তখন দুজনে মিলে হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার কাছে গিয়ে হাযির হলেন এবং কাফেলার সর্দার বললেন, “হে হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম! আপনি কি এই ব্যক্তিকে আমাদের কাফেলা থেকে যে কোন একটি উট সম্পদসহ নিয়ে যেতে বলেছেন?” হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, “হ্যাঁ, আমি তা বলেছি।” তখন কাফেলার সর্দার বললেন, “হে হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম! এই ব্যক্তি আমাদের কাফেলার সর্বপ্রথম উটটিকে পছন্দ করেছেন। এখন যদি এ ব্যক্তিকে সেই উটটি দিয়ে দেয়া হয় তাহলে সমস্ত উটসহ সমস্ত সম্পদও চলে যাবে। তাহলে আমাদের কিছুই থাকবে না।” হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার চেহারা মুবারক লাল হয়ে গেল এবং তিনি বললেন, “হে কাফেলার সর্দার! তুমি কি জান, এই ব্যক্তিকে কে আমার কাছে পাঠিয়েছেন? তিনি হলেন, সরওয়ারে দোজাহান, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। কাজেই এ ব্যক্তি তো শুধু আমার উট এবং সম্পদ চেয়েছে। হে কাফেলার সর্দার! তুমি শুনে রাখ এবং জেনে রাখ! এই ব্যক্তি যদি আমাকেও চায় তাহলে আমি হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালামকেও তাঁর সঙ্গে চলে যেতে হবে।” সুবহানাল্লাহ!

তখন হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশে উক্ত কাফেলার এক হাজার উট খাদ্য-শস্যসহ সঙ্গে নিয়ে চলে গেলেন।

জান-মাল সবকিছু কুরবানী করার বিনিময়ে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা লাভ করেছেন খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের হাক্বীক্বী সন্তুষ্টি। সেই সন্তুষ্টি পেতে হলে আমাদেরকেও সবকিছু কুরবানী করে দিতে হবে। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সেই তাওফিক দান করুন। আমীন

-মুহম্মদ নাছিরুদ্দীন

সাইয়্যিদু উল্দে আদম, ছহিবু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, খতীবুল আম্বিয়া ওয়াল উমাম, ছহিবুল মি’রাজ, খতামুন্ নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বর্ণনা পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবে

মাআ’জামা শানূহু, ছহেবে আসমাউল হুসনা, সাইয়্যিদুল মাখদূম, ছহিবুল খাতাম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুবারক বিলাদতপূর্ব রবিউল আউয়ালের ফযীলতপূর্ণ বার রাত্রি

আর রসূলুল মুজাহিরু আলাদ্ দ্বীনি কুল্লিহ্, আফদ্বালুর রসূল, ছহিবু দ্বীনিল হক্ব, রসূলুম মুছাদ্দিক, রসূলুল খাল্ক, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফযীলত বর্ণনা হিন্দু ধর্ম গ্রন্থে

ছহেবে রফা’না লাকা যিক্রক, ছহিবুল ওহী ওয়াল কুরআন, যিক্রুল্লাহ্, জাওয়ামিউল কালিম, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পক্ষ হয়ে জবাব দিচ্ছেন স্বয়ং আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন

নবীউত্ তওবা, ছিরাতুল্লাহ্, ছহিবুর রিদ্বা, খলীলুল্লাহ্, আউয়ালুল মুসলিমীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এক আওলাদের খিদমত করার কারণে অগ্নিপূজকের ঈমান লাভ