ফ্রান্সে কট্টর ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী, চরম দুর্নীতিবাজ, চরিত্রহীন, ভোগবিলাসী সারকোজির ভরাডুবি। ইসলাম ও মুসলমানদের উপর আঘাতের পরিণতি কখনও শুভ হয়না

সংখ্যা: ২১৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

সব প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ ও সালাম।

গত ৬ই মে/২০১২ ঈসায়ী তারিখের নির্বাচনে ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ ৫২ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়। তার বিপরীতে প্রেসিডেন্ট সারকোজি পায় ৪৮ শতাংশ ভোট।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্বে সমাজবাদী প্রার্থী ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ বিজয়ী হয়ে দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছে।

ইউরো জোনে আর্থিক সংকট শুরু হবার পর নবম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ক্ষমতা হারালো সরকোজি। ফ্রান্সের গত ৩০ বছরের ইতিহাসে সারকোজিই প্রথম প্রেসিডেন্ট যে দ্বিতীয় মেয়াদে পুনঃনির্বাচিত হতে ব্যর্থ হলো। সারকোজি আশা করেছিলো মুসলিম বিদ্বেষী হিসেবে সফলতা অর্জনের কারণে ভোটাররা তাকে আবার ক্ষমতায় আনবে। কিন্তু সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো। আভ্যন্তরীণ আর্থিক সঙ্কটের কারণে ভোটাররা তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে বিপুল উৎসাহে গত ৬ই মে/২০১২ ঈসায়ী তারিখে ভোটগ্রহণ হয়। ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট দক্ষিণপন্ত্রী নিকোলা সারকোজি এবং সমাজবাদী প্রার্থী ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের মধ্যে নির্বাচনী লড়াই হয়। স্থানীয় সময় রাত ৮টায় (গ্রীনিচ মান সময় ১৮টায়) ভোট গ্রহণ শেষ হয়। এরপরে গনণা শুরু হয়। ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭২ শতাংশ। সমাজবাদী প্রার্থী ৫৭ বছর বয়সী ওলাঁদের এই নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনাই বেশি ছিল। গত ২২ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচনে ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছিলো। সেই নির্বাচনে ওলাঁদ প্রথম এবং সারকোজি দ্বিতীয় স্থান লাভ করে।

ফ্রান্সে সারকোজির আমলে গত ১০ই এপ্রিল ২০১১ থেকে নেকাব বা বোরকা পরার উপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানী প্যারিসের নটরডেম গির্জার সামনে বিক্ষোভ করার সময় ২ মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়।

সারকোজির আইন অনুযায়ী ফ্রান্সের নেকাব বিরোধী আইন মোতাবেক, নেকাব বা বোরখা পরা কোনো মহিলা যদি তার মুখম-ল দেখাতে না চান তবে পুলিশ তাকে সর্বোচ্চ দেড়শ’ ইউরো বা ২১৬ ডলার জরিমানা করতে পারবে। এ আইন মোতাবেক পার্ক ও রাস্তার মতো প্রকাশ্য স্থানে কোনো ফরাসি বা বিদেশি মহিলা নেকাব বা বোরকা পরলে ফরাসি পুলিশ তাকে চ্যালেঞ্জ করতে এবং জরিমানা করতে পারবে। ইউরোপের কয়েকটি দেশে বোরকা বা নেকাব পরার বিরুদ্ধে আইন থাকলেও তা জোরালোভাবে কার্যকর করা হয়নি। কিন্তু ইউরোপের সবচেয়ে বেশি মুসলমান অধিবাসীর দেশ ফ্রান্সে সারকোজি প্রথম এ ধরনের আইন কার্যকর করেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি দেশটির অভিবাসী ভোটারদের মন জয় করার লক্ষ্যে এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।

সম্প্রতি নির্বাচন পূর্বে ফরাসি প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি নির্বাচনী প্রচারের সময় মুসলিম অভিবাসীদের বিরুদ্ধে গৃহীত বিভিন্ন নীতি ও পদক্ষেপের কথা জোরেসোরে তুলে ধরেছে। গত মাসে এক নির্বাচনী জনসভায় সারকোজি বলেছে, সে মুসলিম অভিবাসীদের সংখ্যা কমাবে এবং স্কুলে মুসলমানদের জন্য হালাল গোশত সরবরাহের নিয়ম তুলে দেবে। পাশাপাশি সরকারি সুইমিং পুলগুলোতে মুসলিম নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়ারও ঘোষণা দিয়েছে সে। সারকোজি ইহুদিবাদীদের মন জয় করতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে এ সব বক্তব্য দিয়েছে। এছাড়া সারকোজির আমলে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের রাস্তায় মুসলমানদের জন্য নামায পড়া নিষিদ্ধ করা হয়।

সারকোজির আমলে ফ্রান্স সরকার সেদেশ থেকে মসজিদের তিন ইমামসহ পাঁচজন মুসলমানকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেয়। দেশটির জাতীয় স্বার্থের জন্য হুমকি সৃষ্টির কথিত অভিযোগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্লদ গ্যয়া এ নির্দেশ জারি করে। এছাড়া সারকোজির আমলে ফরাসি পুলিশ দেশটির মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রায়ই অভিযান চালাত।

উল্লেখ্য, কট্টর ইসলাম বিদ্বেষী সারকোজির মাঝে দেশদরদী মনোভাবও ছিলনা বরং ব্যক্তি স্বার্থ পূজারী সারকোজি প্রতিদিন কেবল খাবারের পেছনে ব্যয় করত ১০ হাজার মার্কিন ডলার। আর এলিসা প্রাসাদে সবসময় তার জন্য ১২৩টি গাড়ি প্রস্তুত থাকত। ইউরোপ যখন অর্থনৈতিক মন্দায় ডুবছে, তখন সারকোজি ভোগ-বিলাসে মত্ত ছিলো। এটাও ফরাসি জনগণের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।

প্রসঙ্গত আমরা মনে করি সারকোজির পতন থেকে নতুন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ-এর গভীর শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি এও উল্লেখ্য, সারকোজি যখন নেকাব বিরোধী কর্মকা- চালাচ্ছিল তখন ওলাঁদ-এর দল সারকোজির সাথে একমত হয়নি। স্মরণ করা যেতে পারে জনসমক্ষে বা প্রকাশ্য স্থানে মুখ ঢাকা বোরকা ও নেকাব নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে বিলের অনুমোদন হয়েছে ফরাসি পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে। বিলটির পক্ষে-বিপক্ষে ভোটাভুটি হয়। ৫৫৭ আসনের নিম্নকক্ষে ৩৩৫ ভোট পড়েছে বিলটির পক্ষে এবং বিপক্ষে মাত্র একটি। বাকি ২৪১ জন সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলো।

উল্লেখ্য, ফ্রান্সে নেকাব ও বোরকাকে নারী অধিকারের জন্য হুমকি এবং দেশের উদারপন্থী সংস্কৃতির পরিপন্থী হিসেবে খতিয়ে দেখার জন্য একটি কমিশন করার পক্ষে ছিলো বিরোধী সমাজতন্ত্রী, কমিউনিস্ট ও গ্রিন পার্টির সদস্যরা। আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এর সমাধান হবে না বলে তারা মনে করে। এ জন্য ভোটদানে তারা বিরত ছিলো।

প্রসঙ্গত আমরা মনে করি নির্বাচন পূর্ব অবস্থান থেকে বর্তমানে বামপন্থী প্রেসিডেন্ট ওলাঁদ ফ্রান্সে নেকাব বিরোধী এই মানবতা আইন তুলে দিবে। কারণ এটা মানুষের মনের উপর ধর্মের উপর আঘাত। যা কথিত ঐতিহ্যবাহী গণতান্ত্রিক দেশ ফ্রান্সের গৃহীত নীতি গণতন্ত্রেরও চরম খেলাফ।

উল্লেখ্য, বর্তমানে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক লোক মুসলমান। মুসলিম দেশের সংখ্যা প্রায় ষাটটি। পৃথিবীর মোট খনিজ সম্পদের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ মুসলিম দেশের। কাজেই মুসলমানরা যদি ঈমানে বলীয়ান থাকতেন তাহলে গোটা পৃথিবী তাদের ভয় পেত। তাহলে আজকে ফ্রান্স, ইতালী, অস্ট্রেলিয়া মুসলমানদের ধর্মের উপর আঘাত করতে পারতনা। পাশাপাশি মুসলমান যদি প্রতিবাদী হত তাহলে কাফেররা এতটা বাড়ন্ত হতনা। কাজেই ফ্রান্স সহ গোটা পৃথিবীর সব মুসলমানদেরই ঈমানী বলে উজ্জীবিত হওয়া উচিত। তাহলে তাদের ধর্মের উপর এবং ধর্ম পালনের উপর কোন আঘাত আসবে না বা আঘাত আসলেও খুব সহজেই তারা তা পরাস্ত করতে পারবেন।

মূলতঃ এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে ইসলামী অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা ফয়েজ, তাওয়াজ্জুহ। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম উনার নেক ছোহবতেই সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের তা নছীব করুন। (আমীন)

-মুহম্মদ মাহবুবুর রহমান

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৮১

ভ্রান্ত ওহাবী মতবাদ প্রচারের নেপথ্যে-৩০

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-৪৯

আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী আলাইহিস সালাম তিনি নিঃসন্দেহে আল্লাহ পাক উনার খাছ ওলী উনার প্রতি অপবাদকারী জালিম গং নিঃসন্দেহে বাতিল, গুমরাহ, লানতপ্রাপ্ত, জাহান্নামী ও সুন্নী নামের কলঙ্ক  রেজাখানীরা আয়নায় নিজেদের কুৎসিত চেহারা দেখে নিক ॥ ইসলামী শরীয়ার আলোকে একটি দলীলভিত্তিক পর্যালোচনা-২

গোটা দেশবাসীকে সম্পূর্ণ অবহিত করে ট্রানজিট চুক্তি না করলে এবং দেশবাসীর সম্মতিতে না করলে কথিত ট্রানজিট চুক্তি হবে দেশবাসীর সাথে সম্পূর্ণ বিশ্বাসঘাতকতা করে দেশ বিক্রির শামিল যা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক এবং অগ্রহণযোগ্য