বরকতময় রোগমুক্ত শিফাদানকারী সুন্নতী খাদ্য “ভাত” (১)

সংখ্যা: ২৮৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

يَا أَيُّـهَا النَّاسُ كُلُوْا مِـمَّا فِي الْأَرْضِ حَلَالًا طَيِّــبًا

অর্থ: হে মানুষেরা তোমরা হালাল ও পবিত্র খাবারসমূহ খাও। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ১৬৮)

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো বলেন-

يَـا أَيُّـهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا كُلُوْا مِنْ طَيِّــبَاتِ مَا رَزَقْـنَاكُمْ

অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমাদের যা রিযিক হিসাবে দেয়া হয়েছে সেসব পবিত্র খাবার সমূহ গ্রহণ করো। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৭২)

মহান আল্লাহ পাক উনার প্রদত্ত পবিত্র ও সুন্নতী খাবার হচ্ছে ‘ভাত’। আমরা বাঙালী জাতী জন্মের পর থেকে ভাত খেয়ে আসছি। কিন্তু আমরা হয়তো জানিই না ভাত এমন একটা খাবার যা স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে খেয়েছেন এবং ভাত খাওয়ার ফযিলত বর্ণনা করেছেন। আরবীতে رُزٌّ (রুয্যু) শব্দের অর্থ হচ্ছে ভাত, চাল। বিভিন্ন আরবী বাংলা অভিধানে এ বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন- ‘আল মুনীর’ ১৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে, رُزّ – أرُزّ : চাউল, ধান, ভাত। ‘আল মুনীরে’ ৩৬১ পৃষ্ঠায় আরো লিখা আছে, أرْز ، أرُزّ ، رُزّ : চাউল। বিখ্যাত লুগাত ‘কামুসুল জাদীদ’ এর ৫৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, أَرُزّ : চাউল, চাল। ‘কামুসুল জাদীদ’ এর ৪৪৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, رُزّ : চাউল, ভাত, পোলাও। অনেক পরিচিত একটি লুগাত ‘আল মুজামুল ওয়াফী’ ৬৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, أَرُزّ ، أَرْز : চাউল, চাল, ধান, ভাত। ‘আল মুজামুল ওয়াফী’ ৫০৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,  رُزّ : চাউল, ধান, ভাত, পোলাও, ৎরপব.

ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত ‘আরবী বাংলা অভিধান’ ১ম খ- ১২১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, أَرُزٌّ : ধান, ধান গাছ, চাল, ভাত। ‘আরবী বাংলা অভিধান’ ১ম খ- ১০২৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, رُزٌّ : চাউল, ভাত। ‘মিছবাহুল লুগাতের’ ৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, الأَرُزُ و الارُزُ و الأرُزُّ و الرُّزُّ : ধান গাছ, ধান, চাউল।

এ শব্দের ব্যবহার ফিক্বহ বিশেষজ্ঞ বা মাযহাব উনার ইমামগণও করেছেন। শাফেয়ী মাযহাবের ইমাম, হযরত ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন,

وَيَـجْزِئُ فِـيْ كَفَّارَةِ الْيَمِيْـنِ مُدٌّ بِـمُدِّ النَّبِـيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ حِنْطَةٍ، وَإِنْ كَانَ أَهْلُ بَلَدٍ يُقْتَاتُوْنَ الذُّرَّةُ أَوِ الْأَرُزَّ ، أَوِ التَّمَرَ أَوِ الزَّبِيْبَ أُجْزًأ مِنْ كُلِّ وَاحِدٍ مِّنْ ذَا مُدٍّ

অর্থ: এক মুদ দ্বারা কসমের কাফফারা দেয়া জায়িয রয়েছে। সেই মুদ ছিলো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে পরিমাণ মুদের কথা বলেছেন সেটা। আর যেসব শহরবাসীরা জীবিকা নির্বাহ করে যেসব শস্য দ্বারা যেমন, ভূট্টা, চাল, খেজুর, কিছমিছ দ্বারা তাদের প্রতিটির এক মুদ যথেষ্ট হবে। (মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার-১৪/১৮১)

মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ঈসা রুহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার দুয়ার প্রেক্ষিতে যখন আসমান থেকে খাদ্য ভর্তি খাঞ্চা নাযিল করেছিলেন সেই খাঞ্চার মধ্যে اُرْزً ভাতও ছিলো। সুবহানাল্লাহ। তিনি দোয়া করেছিলেন-

اللّٰهُمَّ رَبَّـنَا أَنزِلْ عَلَيْـنَا مَائِدَةً مِّنَ السَّمَاءِ تَكُوْنُ لَنَا عِيْدًا لِّأَوَّلِنَا وَاٰخِرِنَا وَاٰيَةً مِّنْكَ

অর্থ: হে মহান রব আল্লাহ পাক! আপনি আসমান থেকে আমাদের জন্য খাদ্য ভর্তি খাঞ্চা নাযিল করুন যেন সেই দিনটা আমাদের পূর্ববর্তী পরবর্তী সকলের জন্য ঈদের দিন হয় এবং আপনার তরফ থেকে সেটা একটা নিদর্শন হবে। (পবিত্র সূরা মা’য়িদা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১১৪)

উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে উল্লেখ করা হয়-

أَنزِلْ عَلَيْـنَا مَائِدَةً مِّنَ السَّمَاءِ قَالَ ……… اِنَّهٗ كَانَ خُبْـزًا وَاُرْزً

অর্থ : আসমান থেকে খাদ্য ভর্তি খাঞ্চা নাযিল করুন…. সেখানে রুটি ও ভাত ছিলো। (তাফসিরে ইবনে আবি হাতিম ৪/১২৪৬)

উক্ত আয়াত শরীফ উনার তাফসিরে বিখ্যাত তাফসির গ্রন্থ তাফসিরে ইবনে ‘আবি হাতিমে’ সনদসহ একটি বর্ণনা উল্লেখ আছে-

……. عَنْ عِكْرِمَةَ رَحـْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ  حَدَّثَهُ: أَنَّ الْـخُبْزَ الَّذِيْ أُنْزِلَ مَعَ الْمَائِدَةِ كَانَ مِنْ أُرْزٍ

অর্থ : …….হযরত ইকরামা রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, দস্তরখানায় যে রুটি নাযিল হয়েছিলো তা ছিলো চালের রুটি। (তাফসিরে ইবনে আবি হাতিম ৪/১২৪৬: হাদীছ শরীফ ৭০২৮)

সূতরাং বোঝা গেলো মহান আল্লাহ পাক আসমান থেকে যে খাবার পাঠিয়েছিলেন তার মধ্যে চালের রুটি, ভাতও ছিলো। رُزٌّ (রুয্যু) শব্দের অর্থ হচ্ছে ভাত। এই ভাত স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে গ্রহণ করেছেন। (চলবে)

-সাইয়্যিদ মুহম্মদ নূরুদ্দীন।

 

মুজাদ্দিদে আ’যম, ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মহাসম্মানিত হযরত মুরশিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত- সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আইনী কার্যক্রম ঐতিহাসিক এক অভূতপূর্ব আজিমুশ্বান তাজদীদ মুবারক (৪)

অপরাধের মাত্রা বাড়ার সাথে সাথে পাল্টাচ্ছে কিশোর অপরাধের ধরণ। মূল্যবোধের অবক্ষয় ও আকাশ সংস্কৃতিই মুখ্য কারণ।সরকারের উচিত- দেশের এই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে যুগপৎ উদ্যোগ গ্রহণ করা।

এনজিওগুলোর ক্ষুদ্রঋণের ফাঁদে প্রান্তিক ও গ্রামীণ এলাকার কোটি কোটি মানুষ সর্বস্বান্ত। ঋণের কিস্তির চাপে একের পর এক ঘটছে আত্মহত্যার ঘটনা। ‘ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র বিমোচন নয়, বরং দারিদ্রতা লালন করছে।’ এনজিগুলোর বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ চায় দেশের ৩০ কোটি মানুষ।

অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় খেলাপি ঋণ এখন ৩ লাখ কোটি টাকা। ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো তাদের দেয়া হচ্ছে সুযোগ সুবিধা। ব্যাংকের টাকা জনগণের টাকা। দেশের মালিক জনগণ। সরকার জনগণের টাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারেনা।

৭ বছরেও হয়নি পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নীতিমালা। প্রতিনিয়ত ঘটছে সন্তান কর্তৃক অসহায় পিতা-মাতাকে নির্যাতনের ঘটনা। দেশে বাড়ছে পশ্চিমা ‘ওল্ডহোম’ সংস্কৃতি।শুধু নীতিমালা বাস্তবায়নেই নয় বরং দ্বীন ইসলাম উনার আদর্শ প্রচার-প্রসারেই রয়েছে এর সুষ্ঠ সমাধান।