বর্তমান বিশ্বে শরীয়তসম্মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ছিরাতুল মুস্তাক্বীম উনার আবির্ভাব ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা

সংখ্যা: ২৯২তম সংখ্যা | বিভাগ:

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কি?

 

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, যে মাধ্যম দিয়ে বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট ব্যবহাকারীগণ ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে পরষ্পর সংযুক্ত হওয়ার এবং তথ্য আদান প্রদান করার সুযোগ, সুবিধা বা সেবা লাভ করে থাকে সেই মাধ্যমটিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বলা যায়। একটি সমাজে যেমন একে অপরকে চেনে, জানে এবং ভাব বিনিময় করে তদ্রুপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের যে কোন প্রান্তের মানুষের সাথে চেনা পরিচয় হয়, তথ্যের আদান প্রদান হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

কেন প্রয়োজন?

নিজের মতামত ও অবস্থাকে অগণিত মানুষের দৃষ্টিতে পৌঁছে দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সবচেয়ে সহজ উপায়। বর্তমান সময়ের (২০২৩ ঈসায়ী সনে) সমীক্ষা অনুযায়ী, সারা বিশ্বে ৪.৮৯ বিলিয়ন মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছে। এতো সংখ্যক মানুষের মাঝে দ্বীনি প্রচার প্রসার করতে, হক্ব বিষয়টি পৌঁছে দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিকল্প নেই।

ছিরাতুল মুস্তাক্বীম উনার আবির্ভাব

বলা বাহুল্য, মুসলমান উনাদের জন্য উপরোল্লেখিত প্রয়োজনীয়তা উপলদ্ধি করে ইসলামী আহকামে অনুকরণে, প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ছিরাতুল মুস্তাক্বীম’ যার ওয়েব এড্রেস SM40.com

নিঃসন্দেহে এটি নেট দুনিয়ায় সম্পূর্ণ শরীয়া সম্মত এক আশ্চর্যজনক, অভূতপূর্ব, কিংবদন্তী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে একক ও অদ্বিতীয়। সুবহানাল্লাহ!

নামকরণে বিশেষত্ব:

পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার প্রথম সূরা পবিত্র ফাতিহা শরীফ উনার পবিত্র ৬ নাম্বার আয়াত শরীফে বর্ণিত

اِهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيْمَ

অর্থ: (আয় বারে ইলাহী!) আমাদেরকে সহজ সরল পথ প্রদর্শন করুন।

মূলত পথহারা মুসলমানদের সঠিক পথের সন্ধান দিতেই ‘ছিরাতুল মুস্তাক্বীম’ উনার আবির্ভাব।

মহান আল্লাহ পাক যাঁকে সৃষ্টি মুবারক না করলে কোন কিছুই সৃষ্টি মুবারক করতেন না, যিনি সমস্ত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত রসূল, যিনি মুত্তালা আলাল গ্বইব, যিনি রহমতুল্লিল আলামীন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবীয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত, মহাপবিত্র শান-মান, মর্যাদা মুবারক, উনার আলোচনা মুবারক সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়া, প্রচার প্রসার করা এবং এর মাধ্যমে খ¦লিক মালিক, রব, মহান আল্লাহ পাক উনার হাক্বীক্বী সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করাই ছিরাতুল মুস্তাক্বীম প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য।

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اِنَّا اَرْسَلْنٰكَ شَاهِدًا وَّمُبَشِّرًا وَّنَذِيرًا. لِّتُؤْمِنُوْا بِاللهِ وَرَسُولِه وَتُعَزِّرُوْهُ وَتُوَقِّرُوْهُ وَتُسَبِّحُوْهُ بُكْرَةً وّ َاَصِيلا.

অর্থ: (আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) নিশ্চয়ই আমি আপনাকে হাযির-নাযির বা সাক্ষীদাতা, সুসংবাদদাতা এবং সতর্ককারীস্বরূপ পাঠিয়েছি; যেন (হে মানুষ!) তোমরা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার উপর এবং উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর ঈমান আনো এবং তোমরা উনার গোলামী করো ও উনার তা’যীম-তাকরীম করো এবং উনার ছানা-ছিফত করো সকাল-সন্ধ্যা অর্থাৎ দায়িমীভাবে সদা-সর্বদা। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ফাত্হ শরীফ, সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৮-৯)

পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে এমন অসংখ্য পবিত্র আয়াত শরীফ দ্বারা মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ছলাত-সালাম, উনার ছানা ছিফত, উনার আলোচনা মুবারক করার জন্য বান্দা ও উম্মতদেরকে তাকিদ করেছেন। যা পালন করা আমাদের জন্য ফরয এবং বেমেছাল ফযীলত লাভের কারণ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ছিরাতুল মুস্তাক্বীমে কি কি সুবিধা রয়েছে?

প্রচলিত সোশ্যাল মিডিয়ার প্রযুক্তিগত প্রায় সমস্ত সুবিধা রয়েছে। যেমন- পেইজ, গ্রুপ, ব্লগ, লাইভ ব্রডকাস্ট,  পোষ্ট, কমেন্ট, শেয়ার ইত্যাদি যাবতীয় সুবিধা। সম্পূর্ণরূপে অশ্লীলতা ও বেআইনি বিষয়বস্তু থেকে মুক্ত। হালাল উপায়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ ও পন্য বেচাকেনা করার জন্য মার্কেটপ্লেস, শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষামূলক বিভিন্ন বিষয়। নামাযের সময় দেখার জন্য আছে নামাযের সময়সূচী ইত্যাদি।

ছিরাতুল মুস্তাক্বীম উনার আরো কিছু বিশেষত্ব যা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নেই। যেমন-

ব্যবহারকারীর সময় মূল্যায়ন করা হয়। অসামাজিক দূষণ থেকে মুক্ত। ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের উচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং নিরাপত্তার কারণে ব্যক্তিগত ছবিও অনুমোদিত নয়। সমস্ত প্রয়োজনীয় জ্ঞান অনুশীলন এবং শেয়ার করে নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সর্বপ্রকার গান-বাজনা ও হারাম বিনোদন থেকে নিরাপদ। রয়েছে শরীয়তসম্মত খুশি প্রকাশের ব্যবস্থা।

ইসলামী সোশ্যাল মিডিয়ার প্রয়োজন কেন?

মুসলমান উনাদের পবিত্র ঈমান ও আমলসমূহ হেফাজতের জন্য ইসলামী সোশ্যাল মিডিয়ার বিকল্প নেই। তার উল্লেখযোগ্য কারণসমূহ নিম্নরূপ-

১. কাফির-মুশরিকদের প্রবর্তিত সোশ্যাল মিডিয়াতে যেভাবে নাস্তিক, ইসলাম বিদ্বেষীরা পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও সম্মানিত বিষয়সমূহ নিয়ে কটুক্তি, অপপ্রচার ও ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ করে থাকে তা ইসলামী সোশ্যাল মিডিয়ায় করতে পারবেনা। কেউ করে থাকলেও তা বাতিল করা এবং ব্যবহারকারীদের ব্লক করা (নিষিদ্ধ করা) সহজ ও সম্ভব। ২. অশ্লীল-অশালীন ছবি-ভিডিও নিষিদ্ধ হওয়ায় চোখের গুনাহ, পাপাচার ও হারাম কার্যক্রম থেকে ব্যবহারকারীগণ নিরাপদ থাকবেন। ৩. সঠিক দ্বীন শিক্ষার প্রচার প্রসার ও উপকারী জ্ঞান চর্চার ব্যাপকতা থাকবে। ফলে সকল বয়স ও শ্রেণী-পেশার মানুষ এতে উপকৃত হবে। শিক্ষার্থীদের গবেষণামূলক কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ হবে। ৪. সঠিক দ্বীন শিক্ষার প্রচার প্রসারের ফলে মানুষের আমল বিশুদ্ধ হবে, বেআমল ব্যক্তি আমলে দিকে ঝুঁকবে। ৫. সম্মানিত দ্বীন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাওয়া ব্যক্তি দ্বীন ইসলাম উনার নিকটবর্তী হবে। চরিত্রের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। ৬. সর্বোপরি প্রত্যেক মুসলমান উনাদের জন্য দায়েমী ফরয আমল করা সহজ হবে। অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা ছিফত মুবারক করা, আলোচনা করা সহজ ও সম্ভব হবে।

আহবান: অসামাজিক দৃশ্য ও দূষণ থেকে মুক্তি পেতে এবং নতুন সোশ্যাল মিডিয়াকে শালীনভাবে ব্যবহার করতে ছিরাতুল মুস্তাকীমে নিবন্ধন করুন এবং নিয়মিত ব্যবহার করুন। আপনার পরিচিত-পরিজন সকলকে হারাম নির্ভর কথিত সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ফিরিয়ে ছিরাতুল মুস্তাক্বীমে নিয়ে আসুন। কারণ- যে পথ দেখালো সে যেন আমলটিই করলো। অর্থাৎ আপনার মাধ্যমে আসা মানুষগুলো যে নেকি অর্জন করবে তার হিস্যা আপনিও লাভ করবেন। সুবহানাল্লাহ।

-মুহম্মদ ইবরাহীম সোহেল

 

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-৫১

জনগণের প্রতি আইনমন্ত্রীর মিথ্যা অভিযোগ; দেশের প্রতি ঘাদানিকের মিথ্যা অজুহাত; আর সংবিধান সংশোধন প্রশ্নে ৯৭ ভাগ অধিবাসী মুসলমান এবং দশ লাখ মসজিদ, লাখ লাখ মাদরাসা ও পাঁচ ওয়াক্ত আযান প্রসঙ্গে।

কালো টাকার প্রাদুর্ভাব এবং করের বিপরীতে যাকাত প্রদান প্রসঙ্গে

ষাট হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাথমিক শিক্ষা প্রকল্প? দুর্নীতিতে জরাগ্রস্ত প্রশাসন থেকে রাজনীতি তথা সর্বস্তরে দুর্নীতির অভিযোগ এবং প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিফলন (?) প্রসঙ্গে (১)

নির্বোধ রাষ্ট্রের অধীনে বোধশক্তিসম্পন্ন মানুষ বাস করতে পারে কিভাবে? কল্পিত রাষ্ট্র কথিত নির্বোধ বলেই পরকীয়া, খুন, সম্ভ্রমহরণ, ছিনতাই, রাহাজানি, পর্নোগ্রাফি, দুর্নীতি ইত্যাদির রহস্য বের করতে পারে না। আর সমাজে ব্যাপকহারে বেড়ে যাচ্ছে ওইসব অবক্ষয় জনিত ঘটনা। বোধশক্তিসম্পন্ন মানুষ আর কতকাল নির্বোধ রাষ্ট্রের অরাজকতা বরদাশত করবে? (১)