বাংলাদেশকে অত্যাধুনিক অস্ত্র সরবরাহ করতে চায় তুরস্ক। ভারতীয় আগ্রাসন ও বার্মিজ উষ্কানির শক্ত জবাবের জন্য দেশের সামরিক খাতে শক্তিশালীকরণের বিকল্প নেই। সরকারের উচিত তুরস্কের অত্যাধুনিক অস্ত্র কেনার পাশাপাশি দেশেও স্বয়ংসম্পূর্ণ সামরিক শিল্প প্রতিষ্ঠা করা।

সংখ্যা: ২৮১তম সংখ্যা | বিভাগ:

সম্প্রতি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করে গেছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছে, তাদের অস্ত্র আমদানিকারকদের তালিকায় এখন বাংলাদেশকেও পেতে চাইছে তারা। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছে, তুরস্কের প্রতিরক্ষা পণ্যের গুনগত মান ভালো, দামে সুলভ এবং বিক্রির ক্ষেত্রে কোন আগাম শর্ত তারা দেয় না।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তুরস্কের ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পখাত। সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর দরকার এমন সব কিছুই তারা এখন তৈরি করে। বাংলাদেশ আগেও সমরাস্ত্র আমদানি করেছে তাদের কাছ থেকে। তাদের প্রযুক্তিও আধুনিক। স্থল বাহিনীর জন্য ট্যাংক, কামান-সহ যুদ্ধাস্ত্র, আর্টিলারি ইকুইপমেন্ট, গোয়েন্দা কার্যক্রম বা নজরদারিতে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে সব কিছু এবং নৌ বাহিনীর যুদ্ধজাহাজ থেকে সব কিছুই এখন তুরস্ক তৈরি করছে। কোন কোন ক্ষেত্রে কেবল অস্ত্র নয়, বরং অস্ত্র কেনার পর দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষুদ্রাংশ সরবরাহ এবং ব্যাকআপ সার্ভিস দিতে পারে তুরস্ক। এছাড়া, সামরিক কোন বিষয়ে প্রশিক্ষণের দরকার হলে, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া ক্ষেত্রেও তুরস্কের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। তাই বাংলাদেশ যদি নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তুরস্কের সহযোগীতা নেয় তাহলে তা বাংলাদেশের সামরিক খাতের জন্য অত্যন্ত সমযোপযোগী পদক্ষেপ।

উল্লেখ্য, তুরস্কের প্রতিরক্ষা পণ্যের গুনগত মান ভালো, দামে সুলভ এবং বিক্রির ক্ষেত্রে কোন আগাম শর্ত তারা দেন না। অথচ, মাত্র দু’দশক আগে ১৯৯৯ সালেও তুরস্ক ছিলো বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অস্ত্র আমদানীকারক দেশ, আর সেই দেশটিই ২০১৮ সালে এসে বিশ্বের ১৪তম বৃহত্তম অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বলেছে, বিমানবাহিনীকে আরো আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। আশা করি, একদিন বাংলাদেশ যুদ্ধবিমান, পরিবহন বিমান এবং হেলিকপ্টার তৈরি করতে সক্ষম হবে। আমরা মনে করি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণের জন্য বিমানবাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্রমাগ্রতির ধারায় আজ যা যুগোপযোগী বলে মনে হচ্ছে, কাল তাই অপ্রয়োজনীয় বলে প্রতিভাত হচ্ছে। যেসব দেশ এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে, তারাই এগিয়ে যাচ্ছে। অন্যরা পড়ে থাকছে পিছিয়ে। যুদ্ধবিমানের নতুন নতুন ভার্সন আসছে। আগের বিমান আর তেমন কাজে আসছে না। ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নত সংস্করণ আসায় আগের ক্ষেপণাস্ত্র পরিত্যক্ত হয়ে যাচ্ছে। ড্রোন আবিষ্কার প্রচলিত যুদ্ধব্যবস্থা ও কৌশলকেই পাল্টে দিয়েছে। ইদানিং যে কোনো যুদ্ধে ড্রোনের ব্যবহার হচ্ছে। এই ড্রোন ব্যবহার করে তুরস্ক মধ্যপ্রাচ্যে ও আর্মেনিয়া-আজারবাইজান যুদ্ধে ব্যাপক সাফল্য প্রদর্শন করেছে। ড্রোনকে বলা হয় আগামী দিনের যুদ্ধাস্ত্র। এ অস্ত্র ব্যবহারে বিশ্বে সবচেয়ে এগিয়ে তুরস্ক। তার টিবি-২ ড্রোনের প্রশংসা বিশ্বের সর্বত্র। এই ড্রোনের কাছে রাশিয়ার অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ধরাশায়ী হয়ে যাচ্ছে। তুরস্ক এখন সমুদ্রে মনুষ্যবিহীন নৌযান নিয়ে আসছে, যা দিয়ে সমুদ্র প্রতিরক্ষা হবে এবং দূর-দুরান্তে এই নৌযান দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা যাবে।

শুধু আকাশ প্রতিরক্ষাই নয় এর পাশাপাশি, দেশটি শটগান, রাইফেল, স্নাইপার রাইফেল, লাইট মেশিন গান, হেভি মেশিনগান, ল্যান্ডমাইন, হ্যান্ড গ্রেনেড, রকেট, সেল্ফ প্রপেল্ড গ্রেনেড, অ্যান্টি এয়ারক্রাফট গান-সহ নানা ধরণের অস্ত্র ও সেন্সর তৈরি করে। আবার নিজেদের তৈরি করা ল্যান্ডমাইন ডিটেক্টর ব্যবহার করে সিরিয়ায় সাফল্য পাওয়ার দাবি করেন দেশটির সামরিক বিশ্লেষকরা। তাছাড়া তুরস্কের একটি কোম্পানি এন্টি ড্রোন ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক গান তৈরি করেছে, যা কম উচ্চতায় থাকা ড্রোনকে ভূপাতিত করতে সক্ষম। এককথায়, স্থল প্রতিরক্ষার পাশাপাশি আকাশ ও সমুদ্র প্রতিরক্ষায় যেভাবে দ্রুত অগ্রগতি ঘটছে, তার সঙ্গে সমান তালে এগুতে না পারলে জাতীয় প্রতিরক্ষায় বাংলাদেশ একপ্রকার পিছিয়ে থাকবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে দ্বিতীয় বৃহত্তর মুসলিম রাষ্ট্র। বাংলাদেশের ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলিম এবং বাংলাদেশের সংবিধানের রাষ্ট্রদ্বীন সম্মানিত ইসলাম। পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকার নিজেদের পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আদর্শ বাস্তবায়নকারী সরকার হিসেবে নিজেদের দাবী করে থাকে।

আর দেশ, সরকার ও জনগনের এই অবস্থান থেকে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকারের জন্য উচিত হবে মুসলিম দেশ হিসেবে তুরস্কের সাথে সামরিক সম্পর্ক ও ভ্রাতৃত্ববোধ স্থাপন করা। আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রগুলো যেভাবে বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম দেশগুলোতে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যেখানে নামধারী মুসলিম দেশগুলোর শাসন ইহুদীবাদী কুখ্যাত সন্ত্রাসীদের ফাঁদে পা দিয়ে মুসলিম বিশ্বের সাথে মুনাফেকী করে ইহুদীবাদী ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করছে সেখানে বাংলাদেশও এই ষড়যন্ত্রের থাবার মুখে রয়েছে। যা থেকে মুক্তির একমাত্র পথই হচ্ছে মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধ। যদি বিশ্বের তাবৎ মুসলিম দেশগুলো একজোট হতে পারে, সামরিক ও অর্থনৈতিক জোটবদ্ধতা গঠন করতে পারে, ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুন বিনিময় করতে পারে তাহলেই কেবল বর্তমান যুগে রাশিয়া-ইউরোপ-আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী মুসলিমবিরোধী শক্তিগুলোর মোকাবেলা করা সম্ভব।

তবে, অন্যান্য দেশগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশকেই বেশি গুরুত্ব সহকারে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ বাংলাদেশ বর্তমানে একটি বড় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পড়ে গেছে। যার নাম রোহিঙ্গা সঙ্কট। একদিকে বার্মার জান্তা সন্ত্রাসীরা লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমানকে তাদের মাতৃভূমি থেকে তাড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করতে বাধ্য করেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশকে বন্ধরাষ্ট্র হিসেবে প্রচার করে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতই আবার মিয়ানমারকে নানাবিধ আধুনিক অস্ত্র নিয়ে সহযোগীতা করছে। ফলে কিছুদিন পর পর মিয়ানমারের মতো ভঙ্গুর রাষ্ট্র বাংলাদেশ সীমান্তে এসে যুদ্ধাংদেহি মনোভাব প্রদর্শন করছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ যদি মুসলিম দেশ তুরস্কের সাথে যুক্ত হয়ে আধুনিক অস্ত্রসস্ত্রে সুসজ্জিত হয়, সক্ষম হয় তাহলে মিয়ানমারের মতো সন্ত্রাসবাদী ভঙ্গুর দেশ বাংলাদেশের দিকে চোখ তুলে তাকাতেও দুবার ভাববে।

বলাবাহুল্য, মুসলিম দেশগুলো থেকে সামরিক প্রযুক্তি নেয়া পাশাপাশি বাংলাদেশকেও সামরিক খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে। যে তুরস্ক বাংলাদেশকে সামরিক সহযোগীতা করা ইচ্ছাপোষণ করেছে সে তুরস্কও একসময় সামরিক খাতে আমদানিনির্ভর ছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে একান্ত প্রচেষ্টায় তারা এখন বিশ্বের ১৪তম সামরিক অস্ত্র রফতানিকারক দেশ। তাই বাংলাদেশের উচিত হবে দেশে সামরিক গবেষণা খাত প্রতিষ্ঠা করা। বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণা ও উদ্ভাবনে বাংলাদেশের গবেষক ও উদ্ভাবকরা পিছিয়ে নেই। আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশিত এক গবেষণায় একটি তালিকা প্রকাশ হয়েছে, যাতে বাংলাদেশের ১৭টি প্রতিষ্ঠানের ২৬ জন গবেষকের নাম রয়েছে। যথাযথো সুযোগ-সুবিধা ও প্রাপ্ত পৃষ্টপোষকতা পেলে সামরিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ গবেষণায় বাংলাদেশিরা বেশি ও ব্যাপক অবদান রাখতে পারবে। ইনশাআল্লাহ! হতে পারবে বিশ্বের প্রথম সারির সমরাস্ত্র রফতানিকারক দেশ।

-আল্লামা মুহম্মদ আশিকুল্লাহ, ঢাকা।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মহাসম্মানিত হযরত মুরশিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত- সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আইনী কার্যক্রম ঐতিহাসিক এক অভূতপূর্ব আজিমুশ্বান তাজদীদ মুবারক (৪)

অপরাধের মাত্রা বাড়ার সাথে সাথে পাল্টাচ্ছে কিশোর অপরাধের ধরণ। মূল্যবোধের অবক্ষয় ও আকাশ সংস্কৃতিই মুখ্য কারণ।সরকারের উচিত- দেশের এই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে যুগপৎ উদ্যোগ গ্রহণ করা।

এনজিওগুলোর ক্ষুদ্রঋণের ফাঁদে প্রান্তিক ও গ্রামীণ এলাকার কোটি কোটি মানুষ সর্বস্বান্ত। ঋণের কিস্তির চাপে একের পর এক ঘটছে আত্মহত্যার ঘটনা। ‘ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র বিমোচন নয়, বরং দারিদ্রতা লালন করছে।’ এনজিগুলোর বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ চায় দেশের ৩০ কোটি মানুষ।

অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় খেলাপি ঋণ এখন ৩ লাখ কোটি টাকা। ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো তাদের দেয়া হচ্ছে সুযোগ সুবিধা। ব্যাংকের টাকা জনগণের টাকা। দেশের মালিক জনগণ। সরকার জনগণের টাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারেনা।

৭ বছরেও হয়নি পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নীতিমালা। প্রতিনিয়ত ঘটছে সন্তান কর্তৃক অসহায় পিতা-মাতাকে নির্যাতনের ঘটনা। দেশে বাড়ছে পশ্চিমা ‘ওল্ডহোম’ সংস্কৃতি।শুধু নীতিমালা বাস্তবায়নেই নয় বরং দ্বীন ইসলাম উনার আদর্শ প্রচার-প্রসারেই রয়েছে এর সুষ্ঠ সমাধান।