বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য থেকে ভাগাভাগির কিছু নেই বরং ৯৭ ভাগ মুসলমানের এদেশে ইসলামী ঐতিহ্যই সংরক্ষণ জরুরী

সংখ্যা: ২১৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

সব প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ ও সালাম।

বিশ্বের সকল জাতির সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও বিকাশ নিশ্চিতকরণের নামে ইউনেস্কো ২০০৫ সালে ‘ঈড়হাবহঃরড়হ ড়হ ঃযব চৎড়ঃবপঃরড়হ ধহফ চৎড়সড়ঃরড়হ ড়ভ ঃযব উরাবৎংরঃু ড়ভ ঈঁষঃঁৎধষ ঊীঢ়ৎবংংরড়হং ২০০৫’ শীর্ষক কনভেনশন গ্রহণ করে। বাংলাদেশ ২০০৭ সালে কনভেনশনটিতে অনুস্বাক্ষর করে। এ পর্যন্ত বিশ্বের ১২৩টি দেশ এ কনভেনশনে অনুস্বাক্ষর করেছে।

এ কনভেনশনে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর অনুস্বাক্ষরের হার কম। বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের ৪৪টি দেশের মধ্যে মাত্র ১২টি দেশ কনভেনশনটিতে অনুস্বাক্ষর করেছে। কনভেনশনে প্রথম দিকে অনুস্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ কনভেনশনটিতে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্য দেশগুলোকে অনুস্বাক্ষরে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এ সম্মেলনের আয়োজন করছে।

গত ৯ মে ঢাকায় শুরু হয় ৩ দিন ব্যাপী ‘কালচারাল ডাইভার্সিটি মিনিস্টারিয়াল ফোরাম অব দ্য এশিয়া-প্যাসিফিক রিজিয়ন’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের যৌথ আয়োজক সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘের শিক্ষা ও শিল্প-সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। ৯ মে বুধবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সংস্কৃতিমন্ত্রী পর্যায়ের তিন দিনের এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলন উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের একে অপরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ভাগাভাগি করে আধুনিক বিশ্বের ভীতিকর সন্ত্রাসবাদ, মৌলবাদ এবং অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, একে অপরের সংস্কৃতি ভাগাভাগি করে আধুনিক বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করার কথা মূলত: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রযোজ্য হয়না। পাশাপাশি বিষয়টি সাংবিধানিকও হয়না। কারণ বাংলাদেশের সংবিধানে জাতীয় সংস্কৃতি বলে একটা কথা আছে। এবং তা সংরক্ষণের কথাও সংবিধানে বিধিবদ্ধ রয়েছে। সংবিধানের ২৫ নং ধারায় বলা হয়েছে-

“রাষ্ট্র জনগণের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার রক্ষণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন এবং জাতীয় ভাষা, সাহিত্য ও শিল্পকলাসমূহের এমন পরিপোষণ ও উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন, যাহাতে সর্বস্তরের জনগণ জাতীয় সংষ্কৃতির সমৃদ্ধিতে অবদান রাখিবার ও অংশগ্রহণ করিবার সুযোগ লাভ করিতে পারেন।”

বলাবাহুল্য উপরোক্ত অনুচ্ছেদে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার রক্ষণের জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। রাষ্ট্র কর্তৃক অপর দেশের সংস্কৃতি ভাগাভাগি করতে বলা হয়নি।

দেশের শীর্ষ নির্বাহী প্রধান যখন সংবিধানের খেলাফ বক্তব্য দেয় তখন বিষয়টি যুগপৎ দুঃখজনক ও লজ্জাজনক হয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রীর পরবর্তী বক্তব্যেও তার প্রতিফলন রয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার সংবিধান অনুযায়ী জনগণের অর্থনৈতিক এবং নান্দনিক বিকাশের জন্য আধুনিক বা ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তিসমূহ চিহ্নিতকরণ, সংরক্ষণ এবং ব্যবহারের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি বিষয়ক আন্তর্জাতিক সনদে অনুস্বাক্ষর করেছে।’ এ সময় প্রধানমন্ত্রী এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্য দেশগুলোকেও ইউনেস্কোর সনদে অনুস্বাক্ষর করার আহ্বান জানায়।

প্রসঙ্গত ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তিসমূহ যদি চিহ্নিতকরণের কথা বলতে হয় তাহলে এদেশের প্রেক্ষাপটে ৯৭ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত দেশের প্রেক্ষিতে ইসলামী সংস্কৃতি বা মূল্যবোধের কথাই উল্লেখ করতে হয়। অর্থাৎ ৯৭ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত এদেশে যাতে ইসলামের খেলাফ সংস্কৃতির চর্চা না হতে পারে বরং ইসলামী ঐতিহ্যের প্রতিফলন হতে পারে- সে কথাই প্রতিভাত হয়। এবং এ আঙ্গিকে আসলে কথিত এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সম্মেলন উদ্বোধন এবং পালন দুটোই অর্থহীন, অযৌক্তিক ও অনৈতিক হয়ে দাঁড়ায়। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কথিত পথটি যদি অবারিত রাখা হয় তাহলে এদেশেও অবাধে ঢুকবে লিভ-টুগেদার থেকে সমকামিতা। (নাঊযুবিল্লাহ) যা এদেশীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পক্ষে কোনোমতেই বরদাশতযোগ্য নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কী সে কুৎসিত ও কদর্যময় পথটিই প্রশস্ত করতে চাইছেন? (নাঊযুবিল্লাহ) এমনিতেই এখন অবারিত আকাশ সংস্কৃৃতির কারণে এদেশেও লিভ-টুগেদার থেকে এইডস বিস্তার লাভ করেছে। এখন যদি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এর অবাধ বিচরণ হয় তবে দেশ ও জাতি কোন রসাতলে যাবে? ৯৭ ভাগ মুসলিম মানস থেকে ইসলাম কীভাবে উবে যাবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

অপরদিকে, সংস্কৃতির সঙ্গে অর্থনীতির সম্পর্ক বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ডব্লিউআইপিওর সহায়তায় ঐতিহ্যগত সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তির উপর একটি সমীক্ষা চালিয়েছি। এতে দেখা গেছে, জামদানি অথবা নকশিকাঁথা, টাঙ্গাইল শাড়ি, মসলিন এবং বাউল বা সুফী গান এবং বিভিন্ন জাতিসত্তার জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে প্রভূত অবদান রাখছে।”

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বৃহৎ পরিসরে দৃষ্টি না দিয়ে ক্ষুদ্র গ-ীতে কেন আটকে গেলেন? বিষম প্রশ্ন জাগে। এদেশের ৯৭ ভাগ মুসলমানের মধ্যে যদি ইসলামী আদর্শের উজ্জীবন ঘটানো হয় তাহলে এদেশে সুদ-ঘুষ-অরাজকতা, সিন্ডিকেট, দুর্নীতি কিছুই থাকেনা। সেক্ষেত্রে দেশের অর্থনীতি কিরূপ সমৃদ্ধ হয় তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। সঙ্গতকারণেই আমরা কথিত এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈচিত্র্য সম্মেলনের প্রতি নিন্দাবাদ জ্ঞাপন করছি এবং ৯৭ ভাগ মুসলমানের দেশে ইসলামী আদর্শের প্রতিফলনের আহবান জানাচ্ছি।

মূলতঃ এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে ইসলামী অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা ফয়েজ, তাওয়াজ্জুহ। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবতেই সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের তা নছীব করুন। (আমীন)

-মুহম্মদ ওয়ালীউল্লাহ

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৮১

ভ্রান্ত ওহাবী মতবাদ প্রচারের নেপথ্যে-৩০

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-৪৯

আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী আলাইহিস সালাম তিনি নিঃসন্দেহে আল্লাহ পাক উনার খাছ ওলী উনার প্রতি অপবাদকারী জালিম গং নিঃসন্দেহে বাতিল, গুমরাহ, লানতপ্রাপ্ত, জাহান্নামী ও সুন্নী নামের কলঙ্ক  রেজাখানীরা আয়নায় নিজেদের কুৎসিত চেহারা দেখে নিক ॥ ইসলামী শরীয়ার আলোকে একটি দলীলভিত্তিক পর্যালোচনা-২

গোটা দেশবাসীকে সম্পূর্ণ অবহিত করে ট্রানজিট চুক্তি না করলে এবং দেশবাসীর সম্মতিতে না করলে কথিত ট্রানজিট চুক্তি হবে দেশবাসীর সাথে সম্পূর্ণ বিশ্বাসঘাতকতা করে দেশ বিক্রির শামিল যা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক এবং অগ্রহণযোগ্য