বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে মুসলিম দেশগুলো। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও কুটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করলে মুসলিম দেশগুলোর  বিনিয়োগে লাভবান হবে বাংলাদেশ। পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বেও প্রতি ষড়যন্ত্রকারী  দেশগুলোর পরিবর্তে মুসলিম দেশের বিনিয়োগ গ্রহণ দেশের জন্য যুগপৎভাবে নিরাপদ ও সমৃদ্ধ।

সংখ্যা: ২৮৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।

দিন দিন বিনিয়োগের জন্য উৎকৃষ্টস্খল হয়ে উঠছে বাংলাদেশ। মুসলিম দেশ হিসেবে তাই তুরস্ক, মিশর, ব্রুনাইসহ বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশ বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর ফলশ্রুতিতে কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতদের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

বাংলাদেশের অর্থকরী প্রতিটি খাতেই নিত্যনতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হচ্ছে। বাড়ছে রফতানি সম্ভাবনাসহ কর্মসংস্থানের সুযোগ। আর এটি বিবেচনা করেই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তথা মুসলিম দেশগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করছে। এক্ষেত্রে  বাংলাদেশের সরকারের যতটা আগ্রহ ও গুরুত্ব দেয়া দরকার ছিলো ততটা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। বাংলাদেশে মুসলিম দেশগুলোর বিনিয়োগ নিয়ে আসতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধান করছে না। রয়েছে অর্থনৈতিক কুটনীতির অভাব। এতে করে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ বাংলাদেশের বিশাল অর্থনীতির আকারের বিবেচনায় অনেক কম। ২০২০ সালের প্রথম প্রান্তিকে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ৫৮ কোটি ২১ লাখ ডলার। যা গত বছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় যা প্রায় ৪৮% কম। বাংলাদেশের সরকার-সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন সময়ে তাদের বক্তৃতা-বিবৃতিতে শুধু বিদেশি বিনিয়োগেরই আহবান জানায়। কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করতে তারা প্রচেষ্টা চালায় না।

এক্ষেত্রে বিনিয়োগের সার্বিকভাবে ব্যাপক অস্বস্তি, অস্বচ্ছতা ও বিভ্রান্তি রয়েছে বাংলাদেশে। সক্ষমতার উন্নয়ন হচ্ছে ধীরগতিতে, যা কাঙ্খিত পরিমাণে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারছে না। বাংলাদেশে বন্দরের সমস্যা আছে। দেশের বন্দরব্যবস্থা এখনো অটোমেশন করা হয়নি। পাশাপাশি দেশের কাস্টমস অ্যাক্ট এবং ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেটরি অ্যাক্ট পুরনো। যার পরিবর্তন না আনা গেলে বিদেশি বিনিয়োগ বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোর বিনিয়োগ বাড়ানো চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিদেশীয় বিনিয়োগকারীরা অবকাঠামোগত সঙ্কটে ভোগে এবং ভ্যাট-ট্যাক্সগত নানা হয়রানিতেও ভোগে। এতে করে করে অন্যান্য দেশগুলোর কাছে দেশের বিনিয়োগব্যবস্থা নিয়ে খারাপ বার্তা যাচ্ছে।

এখানেই শেষ নয়, মুসলিম দেশগুলোর সাথে যাতে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিনিয়োগের দরজা খুলে না যায় এজন্য পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের ষড়যন্ত্রে এবং ক্ষমতাসীন সরকারের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা একশ্রেণী দালাল মুসলিম দেশগুলোর বিনিয়োগ গ্রহণে সরকারকে বিভিন্নভাবে বাধার সৃষ্টি করছে। যার একটি উদাহরণ হলো: সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্ক বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগে বাড়াতে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করতে চেয়েছিলো। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর সংশ্লিষ্টরা তুরস্ককে সেই অনুমতি দেয়নি। অথচ ভারতকে একতরফা চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাপী মুসলিম দেশগুলো নিয়ে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব পরিচালিত হচ্ছে এটা ওপেন সিক্রেট। বাংলাদেশও তার বাইরে নয়। কিন্তু এরপরও বাংলাদেশ সরকারকে এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তর মুসলিম রাষ্ট্র। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার যদি মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধে আবদ্ধ হয়ে সেসব বিনিয়োগ গ্রহণ করে তাহলে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি মুসলিম দেশগুলোর সাথে কুটনৈতিক সম্পর্কও শক্তিশালী হবে। আর বর্তমান বিশ্বরাজনীতির প্রেক্ষাপটে এটি বাংলাদেশকে আরো শক্তিশালী করে তুলবে।

বিশেষভাবে সরকারকে বুঝতে হবে, বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধই মুসলিম দেশগুলোকে, তাদের অর্থনীতিতে অটুট ও শক্তিশালী রাখতে পারবে। মুসলিম দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের ছোটখাট সমস্যা কিংবা মুসলিম বৃহৎ সংগঠনগুলোর কার্যক্রম দুর্বল হলেও বিভিন্ন সঙ্কটে ভারত কিংবা মিয়ানমার বা চীন বাংলাদেশের পাশে দাড়ায়নি। মুসলিম দেশগুলোই দাড়িয়েছে। অভিন্ন ভ্রাতৃত্ববোধ ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন কারণে স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু ইসলামি দেশগুলোর সংগঠন ওআইসির সম্মলনে, এমনকি পাকিস্তান যেতেও কুণ্ঠাবোধ করেনি। ওআইসির সদস্যপদ নেয়ার পর থেকে সেই পথচলা এখনও অক্ষুণ্ন রয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে ওআইসি, যার সর্বশেষ ও কার্যকর নজির রোহিঙ্গা ইস্যু। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও প্রতিবেশী ভারত-চীনের সহায়তা না পেলেও ওআইসি বাংলাদেশের পাশে রয়েছে, এমনকি আন্তর্জাতিক আদালতে এ সংক্রান্ত মামলা পরিচালনা করছে গাম্বিয়ার মাধ্যমে। ফলে মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন করে তাদের বিনিয়োগ বাংলাদেশে আনার কোনো বিকল্প নেই।

ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ বাংলাদেশে আনলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাও তৈরী হবে। কারণ একতরফা আভ্যন্তরিণ বিনিয়োগের ফলে কোনো জরুরী মুহুর্তে কিংবা সঙ্কটের সময় দেশীয় বিনিয়োগের ঘাটতি দেখা দেয়। এক্ষেত্রে যদি বিদেশি বিনিয়োগ বাংলাদেশে আনা যায় তাহলে আভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ সঙ্কটপূর্ণ সময়ে কাজে লাগানো সম্ভব হবে এবং অর্থনীতিকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে উদাহরণ মালেশিয়া। মালয়েশিয়ার অর্থনীতি শুরুর দিকে অনেকটাই রূগ্ন পর্যায়ে ছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে মালয়েশিয়া বিদেশি বিনিয়োগের প্রতি দৃষ্টি দেয়। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এতে করে বিশ্বের বুকে মালয়েশিয়া এখন একটি উন্নত অর্থনীতির দেশ হিসেবে সুপরিচিত।

সঙ্গতকারণেই, বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে মিসর, তুরস্ক, ব্রুনাইসহ মুসলিম দেশগুলোর বিনিয়োগ বাংলাদেশে আনার জন্য সকল প্রকার অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান করা, কুটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা। আভ্যন্তরিন বিনিয়োগের ভীতও শক্তিশালী করা। পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিরোধী দেশগুলোর বিনিয়োগ গ্রহণ না কওে মুসলিম দেশগুলোর বিনিয়োগকারীদের যথাযথ সুযোগ সুবিধা এবং স্বতঃস্ফূত পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা। দেশকে পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদেও জন্য ভ্রাতৃত্বমূলক ও নিরাপদ আবহ দেয়া।

ছাহিবু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ছাহিবে নেয়ামত, আল ওয়াসীলাতু ইলাল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সুলত্বানুন নাছীর, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বইয়ুমুয্যামান, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)

-মুহম্মদ হাবীবুর রহমান, ঢাকা।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মহাসম্মানিত হযরত মুরশিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত- সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আইনী কার্যক্রম ঐতিহাসিক এক অভূতপূর্ব আজিমুশ্বান তাজদীদ মুবারক (৪)

অপরাধের মাত্রা বাড়ার সাথে সাথে পাল্টাচ্ছে কিশোর অপরাধের ধরণ। মূল্যবোধের অবক্ষয় ও আকাশ সংস্কৃতিই মুখ্য কারণ।সরকারের উচিত- দেশের এই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে যুগপৎ উদ্যোগ গ্রহণ করা।

এনজিওগুলোর ক্ষুদ্রঋণের ফাঁদে প্রান্তিক ও গ্রামীণ এলাকার কোটি কোটি মানুষ সর্বস্বান্ত। ঋণের কিস্তির চাপে একের পর এক ঘটছে আত্মহত্যার ঘটনা। ‘ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র বিমোচন নয়, বরং দারিদ্রতা লালন করছে।’ এনজিগুলোর বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ চায় দেশের ৩০ কোটি মানুষ।

অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় খেলাপি ঋণ এখন ৩ লাখ কোটি টাকা। ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো তাদের দেয়া হচ্ছে সুযোগ সুবিধা। ব্যাংকের টাকা জনগণের টাকা। দেশের মালিক জনগণ। সরকার জনগণের টাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারেনা।

৭ বছরেও হয়নি পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নীতিমালা। প্রতিনিয়ত ঘটছে সন্তান কর্তৃক অসহায় পিতা-মাতাকে নির্যাতনের ঘটনা। দেশে বাড়ছে পশ্চিমা ‘ওল্ডহোম’ সংস্কৃতি।শুধু নীতিমালা বাস্তবায়নেই নয় বরং দ্বীন ইসলাম উনার আদর্শ প্রচার-প্রসারেই রয়েছে এর সুষ্ঠ সমাধান।