বেপর্দা-বেহায়াপনায় আক্রান্ত কলুষিত সমাজের নতুন আতঙ্ক ‘সেলফি’। সেলফি উন্মাদনায় সমাজে ব্যাপকভাবে বেড়েছে হত্যা, আত্মহত্যা, সম্ভ্রমহরণ, সড়ক দুর্ঘটনাসহ নানা অপরাধ। বিভিন্ন দেশে সেলফি’র উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও বাংলাদেশে কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সরকারের উচিত অপসংস্কৃতি এবং আত্মহত্যার মতো অপরাধ বন্ধ করতে অবিলম্বে সেলফি নিষিদ্ধ করা।

সংখ্যা: ২৫১তম সংখ্যা | বিভাগ:

ইদানীং মিডিয়ায়  ব্যাপক আলোচিত ও প্রচারিত শব্দ হচ্ছে সেলফি। ২০১২ সালের শেষের দিকে টাইম ম্যাগাজিনের দৃষ্টিতে ‘সেলফি’ শব্দটি বছরের আলোচিত সেরা দশ শব্দের অন্যতম শব্দ হিসাবে বিবেচিত হয়। ২০১৩ সালে অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারির অনলাইন ভার্সনে শব্দটি সংযোজিত হয়।

গুগলের এক জরিপে জানা গেছে, সোস্যাল মিডিয়া পোস্ট করা সেলফির মধ্যে ৩৭% আপলোড করে থাকে ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সের ছেলে-মেয়েরা। গুগলের পর্যালোচনায় দেখা যায়, উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েদের মধ্যে মোবাইলফোনের অ্যাপসে যারা বিভিন্ন সোসাল মিডিয়ায় ৮ থেকে ১০ ঘন্টা কাটায় তারা গড়ে ১৪টি সেলফি পোস্ট করে থাকে। স্মার্টফোন এবং ক্যামেরা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান স্যামসাংয়ের জরিপ অনুযায়ী, ১৮-২৪ বছর বয়সী মানুষের তোলা ছবির ৩০%ই সেলফি।

‘সেলফি’ শব্দটি ইংরেজি সেলফিশ থেকে এসেছে। সেলফি অর্থ প্রতিকৃতি। অক্সফোর্ড অভিধান মতে, “সেলফি হলো একটি ছবি (আলোকচিত্র), যা নিজের তোলা নিজের প্রতিকৃতি, যা সাধারণত স্মার্টফোন বা ওয়েবক্যামে ধারণকৃত এবং যেকোনো সামাজিক মাধ্যমে আপলোড (তুলে দেয়া) করা হয় থাকে।”

সেলফি’র উন্মাদনায় ব্যাপকভাবে বেড়েছে নানা ধরনের অপরাধ। বেড়েই চলেছে মৃত্যুর ঘটনা। ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত এমন মৃত্যুর সংখ্যা ৪৯। ওয়াশিংটন পোস্টের মতে, ২০১৫ সালে সারাবিশ্বে ২৭টি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। কয়েকটি দেশে সেলফি তুলতে গিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি রীতিমতো মাথাব্যথার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের ২৭টি মৃত্যুর মধ্যে প্রায় অর্ধেক হয়েছে ভারতে। রাশিয়াও পিছিয়ে নেই। গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ায় বিষয়টি জাতীয় উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। নভেম্বর (২০১৫ ঈসায়ী) মাসে ইউকে’র রয়্যাল সোসাইটি ফর প্রিভেনশন অব অ্যাক্সিডেন্টস স্থানীয়দের বাজে আবহাওয়ায় সেলফি না তুলতে সতর্ক করে দিয়েছে। স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে। টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে হাঙরের আঘাতের চেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে সেলফি তুলতে গিয়ে।

সেলফি’র কারণে কেউ গাড়ি চালানোর সময়, কেউ এগিয়ে আসা ট্রেনের সামনে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলতে গিয়ে মারা যাচ্ছে। পাইলট বিমান চালানোর সময় নিজের সেলফি তুলে যাত্রীসহ মারা যাচ্ছে, নিজেকে দুঃসাহসী প্রমাণ করতে কেউ উন্মত্ত ষাঁড়ের সাথে, কেউ ভাল্লুকের সাথে, কেউ সিংহের সাথে নিজের ছবি তুলতে গিয়ে হিংস্র  প্রাণীর হাতে জীবন দিচ্ছে। কেউ পিস্তল হাতে সেলফি তুলতে গিয়ে নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে দিচ্ছে, কেউ ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে সেলফি তুলতে গিয়ে নদীতে পড়ে মারা যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, পবিত্র হজ্জ এবং ওমরাহ করতে গিয়েও অনেকে পবিত্র কা’বা শরীফ, পবিত্র মদীনা শরীফ উনাদেরকে পেছনে রেখে সেলফি তুলছে। আবার তা ফেসবুকের মতো সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে দিচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ!

২০১৫ সালে সেলফি তুলতে গিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সেলফিবাজরা নানারকম দুর্ঘটনা শিকার হয়। যেমন, জাপানের এক পর্যটক তাজমহলের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলতে গিয়ে উল্টে পড়ে গিয়ে নিহত হয়। স্পেনে এক ব্যক্তি ষাঁড় দৌড়ের সময় সেলফি তুলতে গিয়ে ষাঁড়ের গুঁতোয় নিহত হয়। রাশিয়ার এক তরুণ নয় (৯) তলা একটি ভবনের উপর থেকে ছবি তুলতে গিয়ে নিচে পড়ে মৃত্যু হয়। ২০ থেকে ২২ বছরের তিন ভারতীয় শিক্ষার্থী ট্রেন লাইনে চলমান ট্রেনের সামনে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলতে গিয়ে মারা যায়। রোমানিয়ায় ১৮ বছরের এক তরুণী চলমান ট্রেনের উপরে দাঁড়িয়ে ‘আলটিমেট সেলফি’ তোলার চেষ্টা করতে গিয়ে  বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মারা যায়।

ইন্দোনেশিয়ায় ২১ বছরের এক যুবক সেলফি তুলতে গিয়ে, জীবন্ত আগ্নেয়গিরি মাউন্ট মেরাপির খাদে পড়ে গিয়ে মারা যায়। সিঙ্গাপুরের এক পর্যটক ইন্দোনেশিয়ার বালির অদূরে নুসা লেমবোনগান দ্বীপে একটি পাহাড়ের উপর থেকে সেলফি তুলতে গিয়ে সমুদ্রে পড়ে যায় এবং তার মৃত্যু ঘটে।

শুধু তাই নয়, বাংলাদেশেও সেলফি তুলতে গিয়ে আহত-নিহত হচ্ছে লোকজন। কিছুদিন আগে চাচার সাথে যমুনা নদীর তীরে হাঁটার সময় সেলফি তুলতে গিয়ে নদীতে পড়ে তলিয়ে যায় এক যুবক। সম্প্রতি হাতিরঝিলে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলতে গিয়ে এক যুবক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়। গত পহেলা ফেব্রুয়ারি-২০১৬ ঈসায়ী বাসর ঘরে সেলফি তোলার কারণে সিদ্ধেশ্বরী কলেজের ছাত্রীর সাথে বিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে এলাকার তরুণ ব্যবসায়ী। সেলফি’র মরণ থাবা এখন বাংলাদেশে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। কিন্তু দেশের তরুণ-তরুণীদের রক্ষায় কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

অথচ ভারতের মুম্বাইয়ে ১৬টি এলাকায় নো সেলফি জোন ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ এ স্থানগুলোতে সেলফি তোলা নিষিদ্ধ। সম্প্রতি মুম্বইয়ের বান্দ্রায় সমুদ্র সৈকতে সেলফি তুলতে গিয়ে তলিয়ে যায় তিন কলেজ ছাত্রী। এরপর এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। দাদর, জুহু, বান্দ্রা বাসস্ট্যান্ডসহ ১৬টি সমুদ্র তীরবর্তী এলাকাকে হাই-রিস্ক এলাকা হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ইতঃমধ্যে এসব স্থানে সেলফি না তোলার সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে। এমনকি বাড়ানো হয়েছে পুলিশি নিরাপত্তা। নো সেলফি জোনে সেলফি তুললে জরিমানা গুনতে হবে ১২০০ রুপি। মুম্বাই পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিপজ্জনক এসব এলাকায় ভ্রমণকারীদের ছবি তোলার উপর নিষেধাজ্ঞা আছে। তাছাড়া সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের কুম্ভমেলায় সেলফি তোলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। চীনের রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের সম্মেলনে ‘সেলফি স্টিক’ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ব্রিটেনে ভোট দেয়ার পর নির্বাচনী কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে সেলফি তুললে পাঁচ হাজার পাউন্ড জরিমানা অথবা ছয়মাসের জেলের বিধানও রয়েছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সেলফি’র উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করলেও বাংলাদেশে কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সরকারের উচিত- অপসংস্কৃতি এবং আত্মহত্যার মতো অপরাধ বন্ধ করতে অবিলম্বে সেলফি নিষিদ্ধ করা।

-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান

 

 

“কুরআন সুন্নাহ’র বিরুদ্ধে কোন আইন পাশ হবে না” -এটি শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অথবা নির্বাচনী ইশতেহারের ঘোষণাই নয় বরং এটা অত্যন্ত সংবেদনশীল ও সাক্ষাত ওয়াদা ইসলামের দৃষ্টিতে যার গুরুত্ব ও গভীরতা চরম-পরম ও ভীষণ স্পর্শকাতর

আল্লাহ পাক, আল্লাহ পাক-এর আইন, আল্লাহ পাক-এর মালিকানা ও সার্বভৌমত্ব, আল্লাহ পাক-এর দ্বীন, ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব ইত্যাদি ঈমানী বিষয় নির্বাচনের জন্য কমমূল্যে বিক্রি করে ধর্মব্যবসায়ী জামাতীরা ইতিহাসের নিকৃষ্ট ও কলঙ্কিত অধ্যায় রচনা করেছে  ইসলামের নামে ধর্মব্যবসা করে তারা দ্বীন ও দুনিয়া দুটোই হারিয়েছে

আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইসলাম নয় জামাতে ইসলামী চায়- মওদুদীর ইসলাম

৩৭ বছরে বিচার হয়নি বলে এখনো বিচার করা যাবে না- এ কথা ভুয়া। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করলে মুক্তিযোদ্ধাই নয় গোটা দেশের প্রতিই সম্মান প্রদর্শন করা হবে॥ এর  জন্য ৭২-এর সংবিধান পুনঃজীবিত করার প্রয়োজন নেই। প্রচলিত আইনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্ভব। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হক্কুল ইবাদের অন্তর্ভুক্ত।

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৫৮