ভারতীয় টিভি সিরিজ দেখে হত্যা, ব্যাংক ডাকাতি, পরকিয়ার মতো অপরাধে বুঁদ হচ্ছে এ দেশবাসী। কিন্তু নাটক-সিনেমার ভয়াবহ কুফল রাষ্ট্র স্বীকার করতে পারছে না। ‘সিনেমা-নাটক তথা বেপর্দা-বেশরা সংস্কৃতি হারাম ও কবীরা গুনাহর কাজ’- এ কথা বলতে রাষ্ট্রদ্বীন ইসলাম উনার দেশের সরকার আর কতো দেরি করবে?

সংখ্যা: ২৮১তম সংখ্যা | বিভাগ:

বাংলাদেশ ৯৮ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হলেও বাংলাদেশে ভারতীয় অপসংস্কৃতি অনুপ্রবেশ করে দেশের মানুষের নৈতিকতা ধ্বংসের মুখে নিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ভারতীয় সিরিয়ালের কুপ্রভাবে বাংলাদেশে নিত্যনতুন অপরাধের সূচনা হচ্ছে।

সারাদেশে ভারতীয় সিরিয়ালগুলো দেখে মূলত অপরাধমূলক কর্মকান্ডে প্ররোচিত হচ্ছে কিশোর-তরুণরা। ‘ক্রাইম পেট্রল’ বা ‘সিআইডি’ নামক অনুষ্ঠানের কল্প কাহিনী থেকে অন্যায়-অপকর্মের কৌশল রপ্ত করছে মানুষ। কিশোর গ্যাং তৈরী, অপরাধ করার কৌশল, খুন-খারাবি ছাড়াও গৃহ বিবাদ সৃষ্টি করছে। এসব সিরিয়াল দেখে ঘরে-ঘরে বিরোধ, পরকীয়া চর্চা, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সন্দেহ-কলোহ সৃষ্টি, বৌ-শাশুড়ি মধ্যে বিবাদ বাধানোসহ ঘরে ঘরে অশান্তি সৃষ্টি করছে। ভেঙে যাচ্ছে সুখের সংসার। ভারতীয় এসব সিরিয়াল বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের মাঝে একধরণের আকর্ষণ বাড়াচ্ছে। কোনো কোনো ঘরে নেশায় পরিণত হয়েছে। এমনকি এসব সিরিয়ালের অনুকরণে এখন দেশের মিডিয়াগুলোও অনুষ্ঠান তৈরি করছে। ফলে সমাজে অবক্ষয় বাড়ছে।

সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতারের কয়েকজনের কাছ থেকে পুলিশ চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। পুলিশ, ঘটনার সাক্ষী, পরিবার, ঘটনার শিকার ব্যক্তি- এরকম বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলে ঘটনা যেভাবে ঘটেছে এসব বিষয় জানতে পেরেছে। স্বীকারোক্তিতে জানা গেছে, ভারতীয় সিরিয়াল দেখে একটা মানুষ খুনের পরিকল্পনা করছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া বেশকটি ঘটনা থেকে দেখা যাচ্ছে, অপরাধবিষয়ক তথ্যচিত্র শিশুদের মনে প্রভাব ফেলছে, বিশেষ করে কিশোরদের উপর। কিশোর বয়সে ভালো-মন্দের বিবেচনাবোধ না থাকায় মঞ্চস্থ ঘটনাগুলোকে উত্তেজনাকর মনে করে।

সম্প্রতি সাতক্ষীরার কলারোয়ায় একই পরিবারের চার জনকে গলা কেটে হত্যা করে রাহানুর নামের এক যুবক। গ্রেফতারের পর জবানবন্দিতে সে জানিয়েছে, ভারতীয় টিভি সিরিয়াল ‘ক্রাইম পেট্রোল’ দেখে তার নিজের ভাই, ভাবিসহ পুরো পরিবারকে হত্যা করতে প্ররোচিত হয়। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় ভারতীয় সিরিয়াল ‘ক্রাইম পেট্রল’ দেখে আরাফাত নামের এক শিশুকে হত্যাচেষ্টা চালায় তার কয়েক সহপাঠী। ভারতীয় সিরিয়াল দেখে উৎসাহিত হয়ে ২০১৯ সালের ১ জুন পিরোজপুরের ইন্দুরকানি উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের উমেদপুর গ্রামে অপহরণের পর পাড়েরহাট রাজলক্ষী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সালাহউদ্দিনকে হত্যা করা হয়। ২০১৮ সালের ৫ ডিসেম্বর গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় স্কুলছাত্র সাদমান ইকবাল রাকিনকে তারই শিক্ষক ভারতীয় সিরিয়াল দেখে হত্যা করে। ২০২০ সালের ১১ মে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার বাবুলচরা গ্রামে প্রথমে গলা টিপে হত্যা করেন ৯ মাসের শিশু আভিয়া খাতুনকে। পরে একটি মুরগির খামারের ডোবায় লাশ লুকিয়ে রাখে সাদিয়া নামের এক মেয়ে।

দৈনিক আল ইহসানের অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৬ বছরে প্রায় ৬ হাজারেরও বেশি হত্যাকান্ড ঘটেছে। যেগুলো বেশিরভাগই নাটক সিনেমা দেখে প্ররোচিত হয়ে ঘটানো হয়েছে। সারা দেশে প্রতিনিয়ত যেসব আত্মহত্যা, হত্যা, নির্যাতন, সম্ভ্রমহরণ কিংবা অপহরণের ঘটনা ঘটছে, সেগুলোর তদন্ত করতে গিয়ে দেখা গেছে- দায়ী ব্যক্তি কোনো না কোনোভাবে সিনেমা বা নাটক থেকে এমন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক অপরাধগুলোকে মনে হয় অপরাধধর্মী নাটক ও সিনেমার অনুকরণ। বিশেষ করে, হত্যা, সম্ভ্রমহরণ বা পূর্বপরিকল্পিত কোনো অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে অপরাধীরা এসব নাটক ও সিনেমায় দেখা নানা কৌশল অবলম্বন করছে। অবাধ তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে আজ প্রায় সবাই সব কিছু দেখতে-জানতে পারছে। এটি যেমন ভালো, তেমনি ভয়ঙ্করও। কারণ এখন অপরাধ করার আগে অপরাধীরা আধুনিক কৌশল ও প্রযুক্তি ব্যবহার সম্পর্কে জানছে এসব মাধ্যমে। তাছাড়া ভারতীয় চ্যানেলগুলোতে দেখানো নানা সিরিয়াল দেখে নারীরা নানামুখী সম্পর্কের ব্যাপারে উৎসাহী হয়ে উঠছে। ফলে হত্যার মতো অপরাধ বাড়ছে।

উল্লেখ্য, ভারতীয়/হিন্দির কুপ্রভাব নিয়ে শহর-গ্রাম সর্বত্র এখন অভিভাবকরা ভীষণ উদ্বিগ্ন। প্রত্যন্ত গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে ডিশ সংস্কৃতি। অনেকে খুশির বশে ডিশ লাইন নিচ্ছে। অনেকে নিচ্ছে কথিত আভিজাত্য ফুটিয়ে তোলার জন্য। বাজারে, রাস্তার মোড়ে গড়ে উঠা ক্লাব, সমিতি ও দোকানে নেয়া হচ্ছে ডিশ লাইন। আর সব জায়গায় চলছে ভারতীয়/হিন্দি চ্যানেলের রাজত্ব। ছাত্ররা হচ্ছে পড়া-লেখা বিমুখ। কমছে স্কুল-কলেজে হাজিরার হার। খারাপ হচ্ছে পরীক্ষার রেজাল্ট। অনেকে জড়িয়ে পড়ছে নানা অপকর্মে। ভারতীয়/হিন্দির কুপ্রভাবে দশম শ্রেণীর ছাত্র অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীকে বিয়ে করার জন্য মায়ের গলায় ছুরি চালায়।

সারাবিশ্বে সংখ্যার বিচারে মুশরিক নিয়ন্ত্রিত ভারত এখন খুনের ঘটনায় শীর্ষে রয়েছে। আর সম্ভ্রমহরণে রয়েছে তৃতীয় অবস্থানে। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল ক্রাইম ২২টি অপরাধপ্রবণ দেশের উপর তথ্য সংগ্রহ করে এক একটি প্রতিবেদন করে।

বাংলাদেশে ভারতীয় হিন্দি নাটক-সিনেমা-সিরিয়ালের ব্যাপক বিস্তার সম্পর্কে বলতে হয়- পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে যে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে সে সংস্কৃতিও নিয়ন্ত্রণ করে। এটিই সাংস্কৃতিক সা¤্রাজ্যবাদের বৈশিষ্ট্য। তাছাড়া ডিফিউশন তত্ত্ব অনুযায়ী একটি সংস্কৃতি শক্তিশালী হলে তার প্রভাব আশে-পাশের অঞ্চল বা দেশের উপরও পড়ে থাকে। এ অঞ্চলে মার্কিন সা¤্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য তারা এজেন্ট হিসাবে বেছে নিয়েছে ভারতকে। সে জন্য দেখা যায়- বিশ্বব্যাংক আইএমএফ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের স্বার্থে এক সুরে কথা বলে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এসব প্রতিষ্ঠানও ভারতে গ্যাস রফতানির কথা বলে, ট্রানজিট প্রদানের কথা বলে। ভারতের সাথে বাংলাদেশের এত তিক্ততা, ট্রানজিট, গ্যাস, করিডোর না দেয়ার দাবি থাকলেও বাংলাদেশে ভারতের হিন্দি/হিন্দু অপসংস্কৃতির আগ্রাসনের কুপ্রভাব নিয়ে কেউ কোনো কথা বলছে না।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ৯৮ ভাগ মুসলমান উনাদের দেশে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদ্বীন পবিত্র দ্বীন ইসলাম। আর সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরিচালিত হওয়ার কথা ছিলো সম্মানিত দ্বীন ইসলাম তথা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শ মোতাবেক। কারন একমাত্র সম্মানিত দ্বীন ইসলামই পারে রাষ্ট্রে শান্তি ও প্রশান্তি নিশ্চিত করতে। কিন্তু তা না হওয়ার কারনে এখন পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে হারাম টিভি, নাটক, সিনেমা বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে প্রভাব বিস্তার করছে। আর এক হারাম থেকে সৃষ্টি হচ্ছে আরো লাখো লাখো কোটি কোটি হারাম। হারামে ডুবে যাচ্ছে জাতি। এমতাবস্থায় যদি সরকার দেশের পরিচালনা পদ্ধতি ইসলামীকরণ করে তাহলেই কেবল এই বিশৃঙ্খলা অপসংস্কৃতি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার ভিত্তিতে রাষ্ট্র বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করলে এসব বিদেশী অপসংস্কৃতি বাংলাদেশে অবশ্যভাবে বর্জনীয় হবে।

-আল্লামা মুহম্মদ মাহবূবুল্লাহ, ঢাকা।

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৬৭

ভ্রান্ত ওহাবী মতবাদ প্রচারের নেপথ্যে-১৬

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-৩৫

বাতিল ফিরক্বা ওহাবীদের অখ্যাত মুখপত্র আল কাওসারের মিথ্যাচারিতার জবাব-২৫ হাদীছ জালিয়াতী, ইবারত কারচুপি ও কিতাব নকল করা ওহাবীদেরই জন্মগত বদ অভ্যাস ওহাবী ফিরক্বাসহ সবগুলো বাতিল ফিরক্বা ইহুদী-নাছারাদের আবিষ্কার! তাদের এক নম্বর দালাল

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ‘সংবিধানের প্রস্তাবনা’, ‘মৌলিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ ‘জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা’ এবং ‘জাতীয় সংস্কৃতি’ শীর্ষক অনুচ্ছেদের সাথে- থার্টি ফার্স্ট নাইট তথা ভ্যালেন্টাইন ডে পালন সরাসরি সাংঘর্ষিক ও সংঘাতপূর্ণ’। পাশাপাশি মোঘল সংস্কৃতির দান পহেলা বৈশাখ পালনও প্রশ্নবিদ্ধ।সংবিধানের বহু গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ স্পর্শকাতর অনুচ্ছেদের প্রেক্ষিতে ৯৫ ভাগ মুসলমানের এদেশে কোনভাবেই থার্টি ফার্স্ট নাইট ও ভ্যালেন্টাইন ডে পালিত হতে পারে না।পারেনা গরিবের রক্ত চোষক ব্র্যাকের ফজলে আবেদও ‘নাইট’ খেতাব গ্রহণ করতে। পারেনা তার  নামের সাথে ‘স্যার’ যুক্ত হতে। পাশাপাশি মোঘল সংস্কৃতির দান পহেলা বৈশাখ পালনও প্রশ্নবিদ্ধ।