ভারতের সাথে সমুদ্র সীমার রায়ে বাংলাদেশের বিজয় হয়েছে- সরকারের এ প্রচারণা নিছক প্রতারণা। সাগরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ভারতের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব আর বাংলাদেশ হারিয়েছে নিজস্ব ভূখ- তালপট্টি দ্বীপ। দেশপ্রেমিক জনগণ এ রায়ে সন্তুষ্ট নয়।

সংখ্যা: ২৩৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

সমস্ত প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।

বাংলাদেশ ও ভারতের সমুদ্রসীমা নির্ধারণের রায় গত ৭ জুলাই ২০১৪ ঈসায়ী ঘোষণা করা হয়েছে। নেদারল্যান্ডসের স্থায়ী সালিশী আদালত (পার্মানেন্ট কোর্ট অব আর্বিট্রেশন-পিসিএ) বাংলাদেশ সময় দুপুর আড়াইটায় এই রায় ঘোষণা করে। তবে রায়ের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে পরের দিন মঙ্গলবার। পিসিএ’র নিয়ম অনুযায়ী রায় ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা পর সেটা প্রকাশ করতে হয়।

দীর্ঘ ৪ বছর ৯ মাস আইনি লড়াইয়ের পর ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ মামলা নিষ্পত্তি হলেও দক্ষিণ তালপট্টি হারিয়েছে বাংলাদেশ। এ রায়ে বঙ্গোপসাগরের উপর টানা রেখায় দক্ষিণ তালপট্টি ভারতের অংশে পড়েছে।

দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপটি রেকর্ডপত্রে বাংলাদেশের। একাত্তরের স্বাধীনতার পর থেকে ভারত জোরপূর্বক তালপট্টি দখল করে রেখেছে।

১৯৭০ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের পর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার জানায়, চব্বিশ পরগনা জেলার হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনায় একটি নতুন দ্বীপের উৎপত্তি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ল্যান্ড রিসোর্স স্যাটেলাইট ১৯৭৪ সালে যে তথ্য প্রকাশ করে সে অনুযায়ী, ওই দ্বীপের আয়তন প্রায় আড়াই হাজার বর্গ কিলোমিটার, যা ভাটার সময় ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সীমানায় এ দ্বীপের মালিকানা দাবি করে এর নাম দেয়া হয় দক্ষিণ তালপট্টি। অন্যদিকে ভারতও নিজেদের মানচিত্রে এর অধিকার দাবি করে, নাম দেয় পূর্বাশা বা নিউমুর।

আশির দশকের শুরুতে এ দ্বীপের মালিকানা নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত টানাপড়েন নতুন মাত্রা পায়। বাংলাদেশ ১৯৭৯ সালে একটি যৌথ সমীক্ষার প্রস্তাব দিলেও ১৯৮১ সালে ভারত সামরিক বাহিনী পাঠিয়ে সেখানে নিজেদের পতাকা উড়ায়। এরপর ভারত প্রচারণা চালায় ১৯৮৫ সালে উড়িরচরে যে সাইক্লোন হয়, তাতে তা বিলীন হয়ে যায়। সে সময় থেকে এটা (দক্ষিণ তালপট্টি) আর নেই। ১৯৮৯ সালেও ভারত প্রচারণা চালায় নিউ মুর (তালপট্টি) দ্বীপ বলে কিছু নেই। ২০০৮ সালেও ভারত বলেছে, নিউমুর ইজ নো মোর।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পশ্চিমে সুন্দরবন সংলগ্ন দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপটি দীর্ঘদিন ধরে সুকৌশলে ভারত ভেঙে দেয়ার ষড়যন্ত্র করেছে। বাংলাদেশের সীমানায় বৃহৎ এ দ্বীপটি যাতে আর গড়ে উঠতে না পারে সেজন্য ভারত উজানে হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর স্রোত ও পলি নিয়ন্ত্রণ করেছে। ফলে নতুন করে পলি জমতে না পেরে তালপট্টি দ্বীপ আর উঁচু না হয়ে বরং সম্প্রতি সেখানে ভাঙন শুরু হয়েছে। ওদিকে ৪-৫ বছর আগে থেকে ভারত বিশ্বব্যাপী প্রচার শুরু করেছে যে, তালপট্টি দ্বীপটি বিলীন হয়ে গেছে। এর কোনো অস্তিত্ব বর্তমানে আর নেই। কিন্তু বাস্তবতা, দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপের অস্তিত্ব এখনো আছে এবং ভাটার সময়ে এর চূড়া সামান্য ভেসে উঠে। কিন্তু জোয়ারে পুরোপুরি ডুবে যায়। আগে যত দ্রুত দ্বীপটি গড়ে উঠছিল, বর্তমানে সেভাবে আর গড়ছে না। তবে বিলীন হয়নি। সাম্প্রতিককালেও গুগলের স্যাটেলাইট মানচিত্রে দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপটির অস্তিত্ব দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্ট মেরিটাইম বিশেষজ্ঞ এবং সমুদ্র সম্পদ পর্যবেক্ষকদের অভিমত, আয়তনের দিক থেকে দক্ষিণ তালপট্টি অত্যন্ত ক্ষুদ্র দ্বীপ হলেও ভূরাজনৈতিক নিরিখে দ্বীপটির গুরুত্ব অপরিসীম। উপকূলীয় দ্বীপটির মালিকানার সঙ্গে জড়িত রয়েছে বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরের বিশাল সমুদ্রাঞ্চলের সার্বভৌমত্বের স্বার্থ।

দ্বীপটির দক্ষিণ, দক্ষিণপূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিমে হাজার হাজার বর্গকিলোমিটার সংরক্ষিত অর্থনৈতিক অঞ্চলে মৎস্য ও তেল-গ্যাস ক্ষেত্রসহ বিপুল পরিমাণ সামুদ্রিক সম্পদ রয়েছে। ওই এলাকার সমুদ্রতলে লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ, অ্যালুমিনিয়াম, তেজস্ক্রিয় ভারী খনিজ পদার্থ ইত্যাদির বিপুল সঞ্চয় রয়েছে। এর প্রমাণ পাওয়া গেছে বঙ্গোপসাগরের অগভীর মহীসোপান তলদেশে খনিজ তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় ধরনের সঞ্চয় আবিষ্কৃত হওয়ায়। এছাড়া বঙ্গোপসাগরের ওই সামুদ্রিক এলাকায় অর্থনৈতিক মৎস্য অঞ্চল গঠিত।

পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন, বঙ্গোপসাগরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিলো তালপট্টি দ্বীপ।

এদিকে বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপের কোনো অস্তিত্ব নেই বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। সালিশী আদালতে বাংলাদেশ নতুন অঞ্চল লাভ করলেও মূলত ‘সরকারের ইচ্ছাকৃত অবহেলা ও উদসীনতার কারণেই বঙ্গোপসাগরে তালপট্টি দ্বীপ হারাতে হয়েছে।

বাংলাদেশ শুনানিতে অংশ নিয়ে কোনো ম্যাপ দিয়েই দক্ষিণ তালপট্টির উপর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা: দীপু মনি ছিলো মামলার বাংলাদেশের পক্ষের এজেন্ট। আদালতে শুনানির সময়ই সে ভারতকে খুশি করতেই দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপের উপর বাংলাদেশের অধিকার দাবি এড়িয়ে গেছে। যদিও দক্ষিণ তালপট্টি বরাবরই বাংলাদেশ নিজের ভুখ- বলে দাবি করে এসেছে।

কাজেই কোনো দেশপ্রেমিক নাগরিক ভারতের সাথে সমুদ্র বিরোধের এই রায় মেনে নিতে পারে না। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, এ রায়ে বাংলাদেশের জয় হয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ তালপট্টি বিহীন কোনো রায়ে বাংলাদেশ জয়ী হতে পারে না। দেশপ্রেমিক নাগরিকদের তাই জোর অভিমত সরকারকে অনিবার্যভাবে দক্ষিণ তালপট্টিসহ সমুদ্র সীমা পেতে কার্যকরি আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

মূলত, এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র ঈমান ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাদের অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা মুবারক ফয়েজ, তাওয়াজ্জুহ। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবতেই সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)

-আল্লামা মুহম্মদ আরিফুল্লাহ,ঢাকা

কয়লা ধুলে যায় না ময়লা স্বাধীনতা উত্তর ৩৭ বছর গেলেও ৭১-এর খুনী ধর্ষক রাজাকারদের চরিত্র পাল্টায় না

জঙ্গিবাদী সংগঠন হিযবুত তাহরীর জামাতে মওদুদীরই সহযাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জঙ্গি বানানোই ওদের আসল উদ্দেশ্য ঢাবি-জাবি-রাবি-চবিসহ সব বিশ্ববিদ্যালয়েই ওদের নিষিদ্ধ করা এবং উচ্ছেদ করা সরকারের আশু কর্তব্য-১

“তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ‘তত্ত্ব’ ব্যর্থ স্বীকারের পর গণতন্ত্রের ‘তন্ত্র’ও যে ভুলমন্ত্র তথা মরিচিকা মাত্র এবং ইসলামের দৃষ্টিতে তাহা হারাম ও নাজায়িয”- সেইটা বুঝিতে দেশবাসী মুসলমানদের আর কতো দিন লাগিবে? (৩)

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৫৫

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-২৩