ভারতের সাহারা গ্রুপের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ আবাসন শিল্প রক্ষা কমিটির প্রতিবাদ এ প্রতিবাদ বিস্তার লাভ করুক সর্র্ত্র সাহারা গ্রুপের স্বপ্ন হোক চুরমার

সংখ্যা: ২১৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

সব প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দরূদ ও সালাম।

ভারতের সাহারা গ্রুপকে সরকারিভাবে জমি বরাদ্দ দিয়ে বাংলাদেশের আবাসন খাতকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়ার প্রতিবাদে মাঠে নামছে বাংলাদেশ আবাসন শিল্প রক্ষা কমিটি। দেশের আবাসন খাতের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা এরই মধ্যে জোট বেঁধেছেন। গঠন করেছেন ‘বাংলাদেশ আবাসন শিল্প রক্ষা কমিটি’।

গত ১০ই জুন ২০১২ তারিখে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে রাজউকের নাম ভাঙ্গিয়ে বিদেশি একটি কোম্পানিকে ঢাকার আশপাশে চারটি স্যাটেলাইট শহর গড়ার যে চুক্তি করেছে সরকার তা অবিলম্বে জনসম্মুখে প্রকাশ করা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ আবাসন শিল্প রক্ষা কমিটি।

আবাসন শিল্প রক্ষা করতে হলে বিদেশি কোম্পানিকে এরতরফা সুযোগ না দিয়ে দেশের সকল হাউজিং কোম্পনিকে সমান সুযোগ দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে আবাসন মালিকরা রাজউকের একটি বিদেশি কোম্পানির সাথে চুক্তি নিয়ে রিহ্যাব ও বিএলডিএসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান স্ব স্ব অবস্থান জানিয়ে এ চুক্তির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

তারা বলেন, এই শিল্পকে বিদেশি কোন কোম্পানির হাতে তুলে দিলে এই শিল্পের সাথে জড়িত প্রায় ৫ হাজার ডেভেলপার এবং দুই কোটি লোকের ক্ষতি হবে।

বলা আবশ্যক বিদেশি এ কোম্পানির সাথে রাজউক সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে এতে সাধারণ মানুষ আগ্রহ থাকবে। রাজউকের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় এই বিদেশি কোম্পানির নির্মিতব্য আবাসন প্রকল্পে জনসাধারণ প্রতিযোগিতা করে প্লট, ফ্ল্যাট ক্রয়ে আগ্রহ দেখাবে। ফলে দেশীয় কোম্পানিগুলোর গ্রাহক দ্রুত হ্রাস পাবে।

এমএলএম কোম্পানি ও শেয়ার বাজার হটকারীর ন্যায় আলোচিত এই ভারতীয় কোম্পানি রাজউকের ইমেজ কাজে লাগিয়ে অগ্রিম বুকিংয়ের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা নিয়ে চলেও যেতে পারে।

আবাসন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু কোম্পানি এই বিদেশি কোম্পানিকে সহযোগিতা করছে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাব কন্ট্রাক্ট ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হওয়ার পাঁয়তারা করছে।

প্রসঙ্গত আবাসন শিল্প রক্ষা কমিটি নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারি ক্রয়নীতি কে পাশ কাটিয়ে যে চুক্তি হয়েছে তাতে মহা দুর্নীতি হবে। এসব চুক্তি দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করবে, সামাজিক অস্থিরতা বাড়বে।

তারা বলেন, রাজউক আর সাহারার মধ্যে যে চুক্তি হয়েছে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। কী নীতিমালার ভিত্তিতে এই চুক্তি হলো তাও জনগণকে জানাতে হবে।

এদিকে খোদ ভারতেই বিতর্কিত কোম্পানিকে এ দেশে আবাসন খাতে বিনিয়োগের জন্য ডেকে আনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাহারা ইন্ডিয়া পরিবারের প্রধান সুব্রত রায়ের নৈতিকতাকে ইতোমধ্যে প্রশ্নবিদ্ধ করে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আর ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের দুর্নীতি তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডাইরেকটোরেট তার বিরুদ্ধে ‘ব্লাকমেইলিং’-এর নির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে। বিতর্কিত এই কোম্পানির বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে ইতোমধ্যেই দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়েছে। অনেকে একে নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে তুলনা করেছেন। আবাসন ব্যবসায়ীরা বলছেন, যেখানে দেশে আবাসন কোম্পানিগুলো বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির অভাবে নির্মিত ফ্ল্যাট ও প্লট গ্রাহকের কাছে হস্তান্তর করতে পারছে না সেখানে বিদেশী একটি কোম্পানির সঙ্গে এমন চুক্তি দেশীয় এই শিল্পের উপর প্রভাব ফেলবে।

সাহারা পরিবারের কাছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া (‘সেবি’) আইন লঙ্ঘন করে জনগণের কাছ থেকে নেয়া ২৪ হাজার কোটি টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

উল্লেখ্য, উন্মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে হয় কিন্তু তার আগে দেশি কোম্পানির স্বার্থ রক্ষা অবশ্যই করণীয়। গ্যাস-বিদ্যুৎ সঙ্কটের কারণে দেশের ফ্ল্যাট ব্যবসায়ীরা হাজার হাজার ফ্ল্যাট হস্তান্তর করতে পারছে না। কিন্তু এ অবস্থার মধ্যেই সরকার বিদেশি কোম্পানিগুলোকে নানা ধরনের অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। সঙ্গতকারণেই তাহলে দেশি কোম্পানিগুলোকেও একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়া উচিত। তবেই একটি সুষ্ঠু ও সমপর্যায়ের প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে।

উল্লেখ্য, সাহারার চেয়ে বেশি বিনিয়োগ করার ক্ষমতা আছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ আবাসন শিল্প রক্ষা কমিটি বলেন, সাহারা যে পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করছে তার চেয়ে বেশি পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করার ক্ষমতা দেশের অনেক আবাসন কোম্পানির রয়েছে।

সঙ্গতকারণেই দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে সরকারের কিছু করা উচিত নয়। রাজউকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বাংলাদেশ আবাসন শিল্প রক্ষা কমিটির নেতারা বলেন, রাজউক এমনই একটি প্রতিষ্ঠান যারা মনে করে দেশে শুধু তারাই আরবানাইজেশন (নগরায়ন) করছে। আর দেশি আবাসন কোম্পানিগুলো কোনো জমি ডেভেলপের জন্য কিনলে রাজউক সে জমিকে জলাশয়, না হয় কৃষিজমি উল্লেখ করে। অথচ তারাই এখন উচ্চ ফলনশীল কৃষিজমি অধিগ্রহণ করে আবাসন প্রকল্প হাতে নিচ্ছে।

নেতারা বলেন, ঢাকার আশপাশে স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণে দেশের যেকোনো শিল্প পরিবার সাহারার চেয়ে বেশি বিনিয়োগ করতে সক্ষম।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য, দেশীয় বিনিয়োগ হলে দেশের টাকা দেশেই থাকবে, কিন্তু বিদেশী বিনিয়োগের ফলে দেশে বিপুল পরিমাণ টাকা বিদেশে চলে যাবে। রিহ্যাব সভাপতি বলেছেন, সরকার যদি দেশীয় কোম্পানিকে এক লাখ একর জমি দেয়, তাহলে আমরা আরও অত্যাধুনিক শহর নির্মাণ করতে পারবো। অতএব, বলার অপেক্ষা রাখেনা সরকারের উচিত হবে দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় বিবেচনা করে বিদেশী বিনিয়োগ অনুমোদন দেয়া।

মূলত এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে ইসলামী অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা ফয়েজ, তাওয়াজ্জুহ। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবতেই সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের তা নছীব করুন। (আমীন)

-মুহম্মদ লিসানুল্লাহ

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-৫১

জনগণের প্রতি আইনমন্ত্রীর মিথ্যা অভিযোগ; দেশের প্রতি ঘাদানিকের মিথ্যা অজুহাত; আর সংবিধান সংশোধন প্রশ্নে ৯৭ ভাগ অধিবাসী মুসলমান এবং দশ লাখ মসজিদ, লাখ লাখ মাদরাসা ও পাঁচ ওয়াক্ত আযান প্রসঙ্গে।

কালো টাকার প্রাদুর্ভাব এবং করের বিপরীতে যাকাত প্রদান প্রসঙ্গে

ষাট হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাথমিক শিক্ষা প্রকল্প? দুর্নীতিতে জরাগ্রস্ত প্রশাসন থেকে রাজনীতি তথা সর্বস্তরে দুর্নীতির অভিযোগ এবং প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিফলন (?) প্রসঙ্গে (১)

নির্বোধ রাষ্ট্রের অধীনে বোধশক্তিসম্পন্ন মানুষ বাস করতে পারে কিভাবে? কল্পিত রাষ্ট্র কথিত নির্বোধ বলেই পরকীয়া, খুন, সম্ভ্রমহরণ, ছিনতাই, রাহাজানি, পর্নোগ্রাফি, দুর্নীতি ইত্যাদির রহস্য বের করতে পারে না। আর সমাজে ব্যাপকহারে বেড়ে যাচ্ছে ওইসব অবক্ষয় জনিত ঘটনা। বোধশক্তিসম্পন্ন মানুষ আর কতকাল নির্বোধ রাষ্ট্রের অরাজকতা বরদাশত করবে? (১)